নেত্রকোনায় বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন
মো.কামরুজ্জামান, নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের মৌজেবালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মৌজেবালী যুব সমাজের উদ্যাগে স্কুলের সকল শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করেন।
গত কাল রবিরার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত প্রায় ৫শত শিক্ষার্থীর বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জনাব রফিকুজ্জামান বাবু, সভাপতি বাংলাদেশ আওমীলীগ ৬ নং ওয়ার্ড। নূরজাহান বেগম, নুরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, রুবিনা আক্তার, সারোয়ার জাহান সানা, মাজহারু ইসলাম মোমেন, শফিকুল ইসলাম মাষ্টার, রাসেল,
লিফটন,মামুন,শাকিলসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, রাজন আহম্মেদ রক্তের বন্ধন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, আকিব, শিহাব, মাফুজ, ইউসুফ, শিমন, প্রিয়া, টুকু, মনি, মাহমুদুল, আসমাসহ আরো অনেকে।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, নূরজাহান বেগম প্রধান শিক্ষক মৌজেবালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রফিকুজ্জামান বাবু, নূরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, রুবিনা আক্তারসহ এলাকার অনেকেই।
প্রগ্রামে ল্যাব টেকনোলজিষ্ট হিসেবে ছিলেন, আতিকুল ইসলাম রাহাত, মুমতাহিনা তাঁজ লাবন্য।
এলাকাবাসী মৌজেবালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ জেনে খুবই আনন্দিত ও রক্তের বন্ধনের উদ্যোক্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
করোনায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে অরিজিতের ফেসবুক লাইভে কনসার্ট
বিনোদন ডেস্ক/S.H:
ভারতে চলমান করোনার মহামারীতে মানুষের জন্য এগিয়ে এসেছে অনেক শিল্পী। গতকাল রবিবার গিভ ইন্ডিয়ার সহযোগে ফেসবুকের লাইভে এসে কনসার্ট করেন বলিউডের এই সময়কার জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং। আগে জানিয়েছিলেন, অনলাইন কনসার্টের মাধ্যমে উঠে আসা সম্পূর্ণ অর্থ যাবে গ্রামের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নয়নে।
ভারতে চলমান মহামারীতে ভেঙ্গে পরেছে চিকিৎসার খাত। বিশেষ করে ভারতের গ্রামগঞ্জের চিকিৎসার খাত অবস্থা একেবারেই ভেঙ্গে গেছে। গ্রামের চিকিৎসার খাত উন্নয়নের জন্য ফেসবুক লাইভে কনসার্টের সিদ্ধান্ত নেন জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং। কনসার্ট থেকে আয়কৃত অর্থ সম্পূর্ণটাই ব্যবহার করা হবে এমআরআই, সিটি স্ক্যান-এর মত বিভিন্ন পরীক্ষার যন্ত্রপাতিতে। রবিবার ৬ জুন রাত ৮ টায় শুরু হয় অরিজিতের কনসার্ট এবং সোমবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত অনুদান জমা হয় ৭৭ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪১ টাকা। প্রায় ১৪ লক্ষ মানুষ অরিজিৎ সিং-এর কনসার্ট লাইভ দেখেছে।
কিছুদিন আগেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন অরিজিৎ সিং-এর মা। সেখানে ব্রেইন স্ট্রোক করে মারা যান তিনি। মায়ের মৃত্যুতে কাতর অরিজিৎ সিং নিজের এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে মুর্শিদাবাদ জেলার স্বাস্থ্য দফতরকে পাঁচটি হাই ফ্লো নেজাল অক্সিজেন থেরাপি মেশিন তুলে দেন। এরপরই তিনি সিদ্ধান্ত নেন ফেসবুক লাইভে কনসার্ট করার কথা।
নওগাঁয় উন্মুক্তভাবে বিনামুল্যে দিনব্যপী করোনার এ্যন্টিজেন পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত
কামাল উদ্দিন টগর,নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় পরীক্ষামুলকভা একদিনের জন্য বিনামুল্যে উন্মুক্ত করোনার এ্যন্টিজেন পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডাঃ এ বি এম আবু হানিফ বলেছেন, সমাজে লুকিয়ে থাকা লক্ষন বিহীন করোনা পরিজিটিভ ব্যক্তিদের শনাক্ত করন এবং এ থেকে মানুষকে নমুনা পরীক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।
নওগাঁ শহরের জেলা স্কুলে এবং অন্য ১০টি উপজেলায় একটি করে কেন্দ্রে ভ্রাম্যমান কর্মসূচীর মাধ্যমে এ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মঞ্জুর এ মোর্শেদ জানিয়েছেন নওগাঁ পৌরসভার সহযোগিতায় স্বাস্থ্য বিভাগ কর্ত্তৃক পরিচালিত জেলা সদরের এই ভ্রাম্যমান পরীক্ষা কেন্দ্রে বেলা ২টা পর্যন্ত ১৩৬ ব্যক্তির এ্যান্টিজেন পরীক্ষা করে রিপোর্ট প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে ৯ ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস
শনাক্ত হয়েছে।
তবে জেলার অন্য ১০টি উপজেলায় নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায় নি।
শিক্ষাঃ
আজিজুর রহমান প্রিন্স, ঢাকা, বাংলাদেশঃ শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। একটি জাতিকে সুষ্ঠভাবে গড়ে তুলতে শিক্ষার বিকল্প নেই। যে জাতি যত বেশী শিক্ষিত সে জাতি তত বেশী সমৃদ্ধ। ঘন বসতির বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যাটি হল সুশিক্ষা। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল জাতিকে শিক্ষিত জাতি হিসাবে গড়ে তোলার। পিতার সেই স্বপ্ন পুরন হয়নি ৫০ বছরেও। প্রতিবছর বাজেট পেশ হয় এবং সর্ব নিম্ন বরাদ্ধ ধরা হয় শিক্ষায়। এখন মাল্টি মিডিয়া শিক্ষা ব্যবস্থ্যায় কুশিক্ষাই বেশী হয়। কোচিং নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থায় লগ্নি বিধায়ক হয় মেধা শক্তির। দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থাটির করুন দশা। প্রান্তিক জনগোষ্ঠির শিক্ষা লুটপাটের আখড়া।
প্রতিবছর বিনামুল্যে বই দিয়েও প্রাথমিক মাধ্যমিক শিক্ষার করুন পরিনতি। অথচ দেশের মেধাবীরা গ্রাম থেকেই উঠে এসেছে বেশী। শহরের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলি হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বেঙ্গের ছাতার মত মহল্লায় মহল্লায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলি কোমলমতি শিশুদের মস্তিস্ক বিনষ্ট করছে লেখাপড়ার নামে। বিদেশী বইয়ের পাঠ্যসূচী দিয়ে শিশুদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। খেলাধুলা করারো সুযোগ নেই পড়ার চাপে। ক্লাশ ওয়ান পেরুতে সময় লাগে ৪ বছর। যে অর্থ ব্যয় হয় তা দিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে যাওয়ার কথা। দেশীয় কৃষ্টি এমনকি বাংলা ভাষাটিও তারা শিখেনা। ষষ্ঠ ঋতুর বাংলাদেশে শিশুরা হেলোইন পালন করে ৬ ঋতুর নাম জানেনা ( যাদের ছেলে মেয়ে ইংলিশ স্কুলে পড়ে, পরীক্ষা করে দেখতে পারেন)। এখন প্রাইভেট স্কুল কলেজ আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বহু। হাসপাতাল আর বিশ্ববিদ্যালয়ে লগ্নি খাটালেই বেশী মুনাফা হয়- শিক্ষা ব্যবস্থ্যায় নিয়ন্ত্রন নেই। উন্নত দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলেও শিক্ষার মান সমান। প্রতিবছর অংক বিজ্ঞান আর ভাষার উপর সব স্কুলের পঞ্চম অষ্টম আর দশম শ্রেনীর পরীক্ষা হয়। এই পরীক্ষাতেই মান নির্নয় হয় কে কতটুকু এগিয়ে কিংবা পিছিয়ে। শিক্ষার মান নির্নয়ে সরকার নিয়ন্ত্রক হয়।
আমাদের দেশে কিছু মানুষ কথায় কথায় বলেন বাংলাদেশকে অমুক দেশ বানাবেন। সেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাটির খবর রাখেন না। ভারতের কেরালা রাজ্যের শিক্ষার মান সবচেয়ে বেশী। শ্রীলঙ্কাতেও শিক্ষার মান ১০০℅ শিক্ষিত। সেই তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষার মান ৩০% শতাংশ অতিক্রম করতে পারেনি। অশিক্ষার পাশাপাশি কুশিক্ষাও গ্রাস করেছে বাংলাদেশে। আগে স্কুলের ভাল শিক্ষিকের সুনাম ছিল। এখন টিউটর খুলে বিশেষ সাব্জেক্টে পড়ান তারা। প্রাইভেট পড়তে না পরলে পরীক্ষা দেওয়া যায়না। দশম শ্রেনী থেকেই প্রাইভেট পড়তে হয় স্কুলে যেতে হয়না। পাসপোর্ট বানিয়ে অনেক টাকা ফি দিয়ে বিদেশের সিলেবাসে পরীক্ষা দিতে হয়। প্রতি সাব্জেক্টের ফি সাধারন মানুষের সমর্থের আওতায় নয়। স্কুলত কেবল পড়া শিখায়না, স্কুল মানুষ হওয়ার নিয়ম শিক্ষা দেয়। প্রাইভেট পড়েই যদি শিক্ষিত হওয়া যায় তহলে স্কুলের কি প্রয়োজন? ভার্চুয়াল ক্লাশ করে পড়া মুখস্থ করলেইত হয়ে যায়! আসলে শিক্ষা শুধু পুস্তক মূখস্থ করা না। শিক্ষা জীবন গড়ার পুর্নাঙ্গ ব্যবস্থা। বিষয়টি দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠিকে এবং সরকারকে ভাবতে হবে। অর্থ উৎপাদন নয় সত্যিকার শিক্ষিত জাতি গড়ার পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। আমরা একটি শিক্ষিত জাতি হতে চাই।
মুনিয়া হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি কুবি শিক্ষার্থীদের
গতকাল রোববার (৬ জুন) সকাল সাড়ে এগারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের পাদদেশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাসুমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও এ ঘটনায় অভিযুক্ত বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে গ্রেফতার করা হয়নি। অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করতে হবে। এ ঘটনায় মূল তথ্যকে আড়াল করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুনিয়া ও তার বোন নুসরাত জাহানকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে। অবিলম্বে ভিক্টিম ব্লেমিং ও সাইবার বুলিং বন্ধ করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, সম্প্রতি সায়েম সোবহান আনভীর শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। দেশব্যাপী আলোচিত এক মামলায় অভিযুক্ত একজন আসামিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যের নামে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার মাধ্যমে স্বয়ং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের অপমান করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। অবিলম্বে আনভীরকে এই পদ হতে অপসারণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানাই।
উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান বাদি হয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।
হাসপাতালে ভর্তি কালজয়ী অভিনেতা দিলীপ কুমার
বিনোদন ডেস্ক/S.H:
কিছুদিন ধরে শ্বাসকষ্টের সমস্যা ভুগছিলেন বলিউডের কালজয়ী অভিনেতা দিলীপ কুমার। রবিবার তা বেড়ে যাওয়া হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় ৯৮ বছর বয়সী এই অভিনেতাকে।
দিলীপ কুমারের স্ত্রী সায়রা বানু জানান, গত বেশ কিছু দিন ধরেই শরীর ভালো যাচ্ছেনা গুনি এই অভিনেতার। গত মাসেও তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। তিনি আরও জানান, অনেক দিন ধরেই শ্বাসকষ্টে ভুগছেন দিলীপ কুমার। গত রবিবার অবস্থা অবনতি হলে আবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে। মুম্বাইয়ের পিডি হিন্দুজা হাসপাতালে তাকে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ডাক্তার নীতিন গোখল ও ডাক্তার জালিল পার্কা তার চিকিৎসা করছেন। তিনি নন-কোভিড ওয়ার্ডে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিনেতার দ্রুত আরোগ্য কামনায় সকলের কাছে দোয়া চেয়েছে অভিনেত্রী সায়রা বানু।
গতবছর প্রয়াত হয় দিলীপ কুমারের দুই ভাই আসলাম খান ও এহশান খান। দিলীপ কুমার ১৯২২ সালে একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। উনার আসল নাম ছিল মুহাম্মাদ ইউসুফ খান। ১৯৪৪ সালে সিনেমার জন্য তিনি নাম পরিবর্তন করেন। উনার প্রথম সিনেমা ছিল জোয়ার -ভাটা। কালজয়ী সিনেমা মুঘল-ই-আজম, দেবদাসে তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। ছয় দশকের অধিক সময় ধরে তিনি ৬০ টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে গেছেন।
আজ ৭ ই জুনঃ
আজিজুর রহমান প্রিন্স, ঢাকা: এই দিনে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার মুক্ত সনদ ৬ দফা প্রস্তাব করেছিলেন। সেই প্রস্তাব পাকিস্তানের লাহোরে উত্থাপন করতে দেয়নি মুসলিম লীগের নেতারা। ঢাকায় ফিরে বঙ্গবন্ধু সভা করে জনতার কাছে দিয়েছিলেন। জনগন ৬ দফাকে বাংলার মুক্তিসনদ হিসাবে গ্রহন করে। পাকিস্তান পন্থিরা ৬ দফাকে অখন্ডতা ভঙ্গের দাবী করে শুধু বিরোধিতাই করেনি বঙ্গবন্ধুকে মামলা দিয়ে হত্যা করারও চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশেরও বহু নেতা ৬ দফার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল।আওয়ামী লীগের নেতাদের উপর নির্যাতন শুরু হয়েছিল ৬ দফার পক্ষে প্রচারনার জন্য। বঙ্গবন্ধুকে বার বার গ্রেপ্তার করে অবশেষে আগরতলা ষরযন্ত্র মামলায় ফাঁসি দেওয়ারও চেষ্টা হয়েছিল। কারন পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা বুঝে গিয়েছিল ৬ দফা বাস্তবায়ন হলে পাকিস্তান আর এক থাকবেনা। আজ যারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নানাভাবে কথা বলেন, যারা জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবী করেন। তাদের জানা উচিৎ স্বাধীনতার আন্দোলন একদিনে গড়ে উঠেনি। স্বাধীনতার ভিত্তি রচিত হয়েছিল ৬ দফার আন্দোলনের মাধ্যমে। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৭০ এর নির্বাচনে এ দেশের মানুষ ৬ দফা বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছিল। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। নির্বাচনের পরে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৬ দফা সংশোধন করে ক্ষমতা দিতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধু কোনরকম ছাড় দিতে রাজি হননি।
স্বাধীনতা যুদ্ধ হয় ৬ দফার ভিত্তিতে বাংলার মানূষের মুক্তির জন্য। স্বাধীন সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন রচিত হয়েছিল ৬ দফার ভিত্তিতে। এই সব আন্দোলনে কোন অখ্যত মেজরের নাম গন্ধও ছিলনা। স্বাধীনতা ঘোষনা করার পরেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে মিলিটিরিরা। নিয়ে যায় পাকিস্তানে। সেখানেও সামরিক আদালতে বিচার করে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। কবর খোঁড়া হয় জেলখানায়। কোন কিছুতেই মেজর জিয়ার কোনই সংশ্লিষ্ঠতা নেই। ৭৫ সালে জাতীর পিতাকে হত্যা করে হঠাৎ বলা শুরু হলো ড্রামের উপর দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা ঘোষনা করেছে জিয়া। তাই তিনি স্বাধীনতার ঘোষক। এমন উদ্ভট গল্প সাজিয়ে দেশের চরিত্রটি বদলে দিয়েছিল জিয়া সরকার। ৬ দফার বাস্তবায়ন জাতীয় সংবিধান বদলে ফেলে জিয়া সরকার। মোশতাক- জিয়া পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন করারও চেষ্টা করেছিল জাতীয় সঙ্গীত বদল করে। এই অপশক্তি পাকিস্তানি কায়দায় মৌলিবাদকে উষ্কে দিয়ে, জামাতকে রাজনীতিতে এনে রাজনীতিকেই বদলে দিয়েছে। ৭১ এ মোশতাক পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন করার যে ষরযন্ত্র করেছিল। মোশতাক- জিয়া মিলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সেই পরিকল্পনার রূপরেখা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়েছিল। জনগন তা হতে দেয়নি কিন্তু এই অপশক্তি এখনও স্বক্রিয় রয়েছে। আজকের দিনে ৬ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েই শত্রু শক্তিকে মোকাবেলা করা প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের কাছে ৬ দফার ইতিহাস পৌছানো দরকার। তাহলেই বঙ্গবন্ধু এবং ৬ দফাকে মূল্যায়ন করা হবে।