যুক্তরাজ্যে রেডব্রিজ কাউন্সিলর হলেন মৌলভীবাজারের কন্যা পুস্পিতা গুপ্তা

তিমির বনিকঃ লন্ডনের রেডব্রিজ কাউন্সিলের সেভেন কিংস এর কাউন্সিলর হিসেবে লেবার পার্টি থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন পুষ্পিতা গুপ্তা। প্রাক্তন কাউন্সিলর স্টুয়ার্ট বেলউডের মৃত্যুর পর সেখানে গত ৬ মে পুণঃনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বিজয়ী হয়ে পুষ্পিতা স্টুয়ার্টের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, অত্যন্ত পরিশ্রমী কাউন্সিলর ছিলেন বেলউড। তার প্রতি অনেক সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাই।

পুষ্পিতা গুপ্ত সেক্যুলার বাংলাদেশ মুভমেন্ট, যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বহুমুখী কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত। নিজ পেশার পাশাপাশি নিয়মিত সমাজসেবা ও মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন পুষ্পিতা। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য কাজ করেন তিনি। সেখানকার একটি স্কুলের ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। যেখানে কাজ করতে গিয়ে পুষ্পিতা সমাজে শিশুরা সমাজ ও পরিবারে যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় তা বেশ দারুণভাবে উপলব্ধি করছেন। এই কাজে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে, কীভাবে পরামর্শের মাধ্যমে পরিবারে পিতা-মাতাদের অনেক সমস্যা সমাধান সম্ভব।

সমাজের একজন সদস্য হিসেবে, সেভেন কিংসে পরিবর্তনের ধারা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আশা পোষণ করে তিনি বলেন, আমি বাংলা, হিন্দি, উর্দু ভাষা আয়ত্ত করেছি। ফলে নানান ভাষাভাষীর মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখতে সক্ষম হবো।

প্রথম দিকের করোনা মহামারীর লকডাউনে পুষ্পিতা কিংস জর্জ হাসপাতালের কর্মীদের জন্য খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহ করেছেন। সম্প্রতি তিনি রেডব্রিজ কাউন্সিলের দাতব্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গৃহহীন ও অভাবী লোকদের জন্য সপ্তাহে ১০০ গরম খাবার নিজ হাতে প্রস্তুত ও বিতরণ করেছেন। তিনি মনে করেন, গৃহীনতার অবসান ঘটাতে হবে এবং এটি সমাধানে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

পাশাপাশি ইলফোর্ড নর্থ শহরের হেইনল্ট ব্রাঞ্চ এ্যন্ড চেয়ার অব হেইনল্ট পুলিশ ওয়ার্ডে পুষ্পিতা গুপ্তা একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করছেন, যা থেকে তিনি স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগ রক্ষা ও তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার গুরুত্ব উপলব্ধি করছেন।

একজন সমাজকর্মী হিসেবে বিভিন্ন সময়ে তিনি সমাজের সম্প্রদায় এবং প্রতিনিধিদের মাঝে সমন্বয় সাধনসহ অপরাধমূলক ও সমাজবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নির্মুলের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি পূর্ব লন্ডন এবং রেডব্রিজের প্রতিটি নির্বাচনেই তিনি লেবার পার্টির হয়ে কাজ করেছেন।

স্থানীয় মহিলা কাউন্সিলর, নেতাকর্মী এবং স্থানীয়ভাবে পার্টিতে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণে নারীদের উৎসাহিত করার জন্য তিনটি সফল আন্তর্জাতিক নারী দিবস আয়োজন করেছেন পুষ্পিতা গুপ্ত। সেই সঙ্গে নারী অগ্রগতিতে তহবিল সংগ্রহে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। পুষ্পিতা গুপ্ত অন্যদের সাহায্য করতে ভালোবাসেন। তিনি ধারাবাহিকভাবে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চান। তার অর্জিত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান সেভেন কিংসের লোকদের জীবনমানের উন্নতি ভূমিকা রাখবে বলেই প্রত্যাশা করেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

পুষ্পিতা গুপ্তের জন্ম মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার করিম্বপুর চা বাগানে৷ তিনি দু’কন্যার জননী ও স্বামী জ্ঞান দাস প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন একটি আন্তর্জাতিক কোম্পানিতে। স্বামীর বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাল্লা জগন্নাথপুর গ্রামে। বাংলাদেশে ও মানবাধিকার ও দরিদ্রদের সাহায্যার্থে  দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন পুষ্পিতা।

বেগম জিয়া এবং করোনাঃ

আজিজুর রহমান প্রিন্স, টরন্টো, কানাডা: বিষয়টি দুদিন আগেই আমি লিখেছিলাম। কোন দেশ করোনা রোগীকে সেই দেশে যাওয়ার অনুমুতি দিবে কিনা! কোন বিমান সংস্থাও এমন রোগী বহন করবে কিনা! আইনি জটিলতাটিও অগ্রাহ্য করার উপায় নেই কারন বেগম জিয়া একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামী। জামিনে রয়েছেন। এমন কাউকে বিদেশে যাওয়ার অনুমুতি দেওয়ার এখতিয়ার সরকারের আছে কিনা জানা নেই! বিশেষ সুবিধায় যদি বেগম জিয়াকে এই অনুমুতি দেওয়া হয় তবে তা আইন হয়ে যাবে। অন্য আসামীরা একই ভাবে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার আবেদন করলে সেই সুবিধা তাদের দিতে হবে। তবে বেগম জিয়ার ব্যপারে একটি সহমর্মিতা জাগ্রত হয়েছে জনমনে।

গনমাধ্যমে সরকারের নমনীয় মনোভাবের খবরও প্রচার হয়েছে। অনেকেই আশা করেছে বেগম জিয়ার বিদেশ গমন এখন সময়ের ব্যপার মাত্র। এই বয়সে জেল খেটে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যত এখন আর নেই। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে বেগম জিয়াকে মুক্তি দিলে তা হবে সরকার মহত্ত্ব। কিন্তু বেগম জিয়ার বিদেশ ভ্রমন আইনগতভাবে সম্ভব নয় জানিয়ে দিয়েছেন আইনমন্ত্রী। দ্বিতীয় কথা বেগম জিয়া করোনায় আক্রান্ত। করোনা মুক্ত হলেও নিদৃষ্ট সময়ের আগে বিদেশ ভ্রমন সম্ভব নয়। পৃথিবীর কোন দেশই এমন রোগীকে সেই দেশে প্রবেশের অনুমুতি দিবেনা। এমন বাস্তবতা জেনেও বি এন পি নেতারা বেগম জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার আবেদন করেছেন। এখানেই অনেকের মনে সন্দেহ দানা বেধেছে। দুই বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়া দেশের সর্ব্বোচ্চ চিকিৎসার সুযোগ পাবেন এটাই প্রত্যাশিত। সরকার তা নিশ্চিত করবে জনগন তা আশা করে। তবে আইনের বিষয়টিকে সকলকেই বিবেচনায় রাখতে হবে। করোনার স্বাস্থ্যবিধি মানাও জরুরী।

নওগাঁয় এফবিসিসিআই পরিচালক কর্ত্তৃক সাড়ে ৩ হাজার পরিবারের মধ্যে ৫ লক্ষ টাকার ঈদ সামগ্রী বিতরন

কামাল উদ্দিন টগর,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: এফবিসিসিআই’র পরিচালক ও নওগাঁয় চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ-এর সভাপতি ইকবাল শাহরিয়ার রাসেল তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা মুল্যের ঈদ সামগ্রী বিতরন করেছেন। তাঁর ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ইথেন এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে নওগাঁ শহরের বরুনকান্দি, বোয়ালিয়াসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে সাড়ে ৩ হাজার মানুষের মধ্যে এসব উপহার বিতরন করা হয়েছে।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় পৌরসভার বরুনকান্দি মহল্লায় এবং বেলা সাড়ে ১২টায় বোয়ালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে ইকবাল
শাহরিয়ার রাসেল উপস্থিত থেকে বিতরন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোঃ কায়েস উদ্দিন, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা বজলুর রহমান দুলাল, উপসহকারী ভুমি কর্মকর্তা মাহবুব সারোয়ার চায়নাত ও ইসলাম এন্টারপ্রাইজের নির্বাহী পরিচালক মোঃ সোহেল রানা।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারের মধ্যে মোটা চাল, আতপ চাল, সেমাই, সয়াবিন তেল, চিনি, দুধ, ছোলা এবং ডাল
বিতরন করা হয়।

অপরদিকে স্থানীয় সুরমা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি নওগাঁ শহরের রজাকপুর, বাঙ্গাবাড়িয়া বিহারী কলোনী. মান্দা উপজেলার পাঁজরভাঙ্গা এবং পতœীতলা উপজেলার নজিপুরে প্রায় ৪ হাজার পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে
সেমাই, চিনি, গুড়ো দুধ, মুড়ি ও আটা বিতরন করেছে।

সংগঠনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম সবেদুল ইসলাম রনি এসব বিতরন করেন। এ সময় নওগাঁ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান সাগর, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ফাতেমা খাতুন, সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব সোহেল রানা উপস্থিত ছিলেন।

রাণীশংকৈলে জরিমানা খেয়ে মুচলেকা দিলেন হাট ইজারাদার

মায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় গত রবিবার ৯ মে উপজেলার সবচেয়ে বড় নেকমরদ পশুর হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অপরাধে ইজারাদারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় হাটে আসা শতাধিক যে সকল গরু ছাগল ক্রেতার কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হয়েছিল, ভ্রাম্যমাণ আদালত হাট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদেরকে ফেরত দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট  প্রীতম সাহা।
জানা গেছে এ দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত নেকমরদ হাটে গিয়ে সরকারি বিধি মোতাবেক গরু প্রতি ২৩০ টাকা এবং ছাগল প্রতি ৯০ টাকা নেওয়ায় নিয়ম থাকলেও তা তোয়াক্কা না করে এবং করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে, নিজ ক্ষমতার দাপটে হাট ইজারাদার মোমিন গরু প্রতি ৩২০ টাকা ও ছাগল প্রতি ১২০ টাকা টোল আদায় করছিলেন। তাই ভোক্তা অধিকার আইনে এ জরিমানা করা হয়।
এ ব্যাপারে এসিল্যান্ড প্রীতম সাহা বলেন সরকারি বিধি মোতাবেক নির্ধারিত টাকার অতিরিক্ত টোল আদায়ের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে হাট ইজারাদারকে জরিমানা করা হয়েছে। এবং পরবর্তী হাটে আর অতিরিক্ত টোল আদায় করবেনা বলে হাট ইজরাদারের  লিখিত অঙ্গীকার দেন।

নওগাঁয় সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

একে এম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁ’র মহাদেবপুরে বরেন্দ্রভুমি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (বিএসডিও)’র নির্বাহী পরিচালকের আদেশে এক মন্দির চত্বরে গরু জবাই কারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে সেই দায় সংস্থার এক অধঃস্তন কর্মচারীর উপর চাপিয়ে দিয়ে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে সংস্থাটির অবস্থান এলাকায় সাধারন মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টিসহ ক্ষোভ সঞ্চারিত হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মচারী সমন্বয়ক অর্থ ও প্রশাসন মোঃ আজিজার রহমান গতকাল সোমবার দুপুরে নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেছেন যে, রমজান শুরুর পূর্বের দিন ১৩ এপ্রিল সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারীরা বরাবরের মত মাংস ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য একটি গরু ক্রয় করা হয়। গরুটি কোথায় জবাই করা হবে এ নিয়ে শলা পরামর্শ করার এক পর্যায় সংস্থার
উর্ধতন জনৈক কর্মকর্তা মোঃ আতাউর রহমানের মৌখিক কথা মত মন্দিরের স্থানে গরু জবাই করার সিদ্ধান্তের কথা নির্বাহী পরিচালক মোঃ আব্দুর রউফকে জানিয়ে তাঁর মতামতের ভিত্তিতে সেখানে গরু জবাই করা হয়।

পরবর্তীতে এ নিয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়ায় উক্ত নির্বাহী পরিচালক এবং ঐ কর্মকর্তা সম্পূর্নভাবে সমন্বয়ক অর্থ ও প্রশাসনকে দায়ী করে নিজেরা দায়মুক্ত হন এবং তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য উক্ত আজিজার রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। উক্ত আজিজার রহমান একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সংস্থাটির জন্মলগ্ন থেকে সম্পৃক্ত রয়েছেন। যার কারনে এলাকার সাধারন মানুষ তার প্রতি অত্যন্ত সহনশীল।

নির্বাহী পরিচালক এবং ঐ কর্মকর্তা দাবী করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক স্থানীয় জনৈক সুকেশ চন্দ্রকে বিষয়টি সাংবাদিকদের নিকট বলতে এবং সাম্প্রদায়িক ইস্যু তৈরী করতে চাপ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত থেকে উক্ত ইউপি সদস্য এ কথা অস্বীকার করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঐ লিখিত বক্তব্যে বিএসডিও’র নানা অনিয়ম দুর্নীতি তুলে ধরা হয়। তুচ্ছ কারন দেখিয়ে তাঁর ইচ্ছামত যখন তখন যাকে তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়। এমন কি চাকুরীচ্যুত হওয়ার পর তাদের নায্য পাওয়া পর্যন্ত পরিশোধ করা হয় না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গ্রামবাসীদের মধ্যে বেলাল হোসেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পূজা কমিটির সাধারন সম্পাদক ও আওয়ামীলীগ নেতা কনক কুমার মন্ডল, আবউদল খালেক সরদার, এস এম জাফর সাদেকসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন। উক্ত কনক কুমার মন্ডল দাবী করেছেন আজিজার রহমান হিন্দ্র সম্প্রদায়ের নিকট অতি প্রিয় মানুষ। তিনি এই কাজ করতে পারেন না। নির্বাহী পরিচালকের নির্দেশেই সেখানে গরু জবাই করা হয়েছে।

এ ব্যপারে মোবাইল ফোনে এসডিও’র নির্বাহী পরিচালক উক্ত আব্দরু রউফ এবং সংস্লিষ্ট কর্মকর্তা মোঃ আতাউর রহমান মন্দিরের জায়গায় গরু জবাই করতে কোন মতামত দেন নি। বরং উক্ত আজিজার রহমান তার নিজের মতেই এই কাজ করেছেন।

 

আজ হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী পবিত্র ‘লাইলাতুল কদর’

সিএনবিডি ডেস্কঃ আজ ৯ মে রবিবার দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। মুসলমানদের কাছে শবে কদর অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত। এই রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয় এবং এই রাতকে কেন্দ্র করে ‘আল-কদর’ নামে একটি সুরাও নাজিল হয়। এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি করে আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফের জন্য প্রার্থনা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

‘শবে কদর’ কথাটি ফারসি। শব মানে রাত বা রজনী আর কদর মানে সম্মান, মর্যাদা, গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। শবে কদর অর্থ হলো মর্যাদার রাত বা ভাগ্যরজনী। শবে কদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত। যে রাতে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে, সে রাতই লাইলাতুল কদর।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এবার ঘরে থেকেই রাত জেগে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারের মধ্য দিয়ে পবিত্র শবে কদর পালন করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে, অন্যান্য সময়ে এক হাজার মাস ইবাদত করলে যে সওয়াব পাওয়া যায়, শবে কদরের রাতে ইবাদত করলে তার চেয়ে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। এই রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে এই রাত অতীব পুণ্যময় ও মহিমান্বিত।

লাইলাতুল কদর কবে?

লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট কোনও তারিখ নেই। অনেকেই মনে করেন ২৭ রমজানই লাইলাতুল কদরের রাত। আসলে এ ধারণাটি সঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনও বলেন নি যে, ২৭ রমজানের রাত কদরের রাত। তবে ২১ রমজান থেকে নিয়ে ২৯ রমজন পর্যন্ত বেজোড় যে কোন রাতই শবে কদর হতে পারে। লাইলাতুল কদরের তারিখের ব্যাপারে নবী করীম (সা.) এরশাদ করেন, আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে, অতঃপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশ রাতের বেজোড় রাতসমুহে তা খোঁজ করবে। (বুখারি, হাদিস নং :৭০৯)।

রাসূল (সা.) আরও বলেন, ‘রমজানের শেষ দশদিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর। (মুসলিম, হাদিস নং: ১১৬৯)।

একদা হজরত উবায়দা (রা.) নবী করীম (সা.) কে লাইলাতুল কদরের রাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তখন নবীজী সেই সাহাবিকে বললেন রমজানের বেজোড় শেষের দশ দিনের রাতগুলোকে তালাশ করো। (বুখারি, হাদিস নং: ২০১৭)।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যদি কেউ লাইলাতুল কদর খুঁজতে চায় তবে সে যেন তা রমজনের শেষ দশ রাত্রিতে খোঁজ করে। (মুসলিম, হাদিস নং : ৮২৩)। তাই ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ রমজানের রাতগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

ইবনে মাজাহ শরিফে উল্লেখ রয়েছে, হজরত রাসূল (সা.) বলেন, যে লোক শবে কদর থেকে বঞ্চিত হয় সে যেন সমগ্র কল্যাণ থেকে পরিপূর্ণ বঞ্চিত হল। আবু দাউদ শরিফে উল্লেখ রয়েছে, হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর পেলো কিন্তু ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে কাটাতে পারলো না, তার মতো হতভাগা দুনিয়াতে আর কেউ নেই। কদরের রাতের ইবাদতের সুযোগ যাতে হাতছাড়া হয়ে না যায় সেজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামশেষ দশদিনের পুরো সময়টাতে ইতেকাফরত থাকতেন। (মুসলিম, হাদিস নং : ১১৬৭)।

শবে কদরে কী করব?

রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে ‘লাইলাতুল কদর’ লাভ করার জন্য রমজানের শেষ দশরাত জাগ্রত থেকে ইবাদতে কাটিয়েছেন এবং উম্মতে মুহাম্মাদীকেও সারা রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূল (সা.) বলেন, শবে কদরকে নির্দিষ্ট না করার কারণ হচ্ছে যাতে বান্দা কেবল একটি রাত জাগরণ ও কিয়াম করেই যেন ক্ষান্ত না হয়ে যায় এবং সেই রাতের ফজিলতের উপর নির্ভর করে অন্য রাতের ইবাদত ত্যাগ করে না বসে। তাই বান্দার উচিত শেষ দশকের কোন রাতকেই কম গুরুত্ব না দেয়া এবং পুরোটাই ইবাদাতের মাধ্যমে শবে কদর অন্বেষণ করা।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা আমি রাসূল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম হে আল্লাহর রাসূল আমি যদি কদরের রাত সম্পর্কে অবহিত হতে পারি তবে আমি কি করব? তখন রাসূল (সা.) আমাকে এই দুয়া পাঠ করার জন্য বললেন। ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি’। (তিরমিজি, হাদিস নং : ৩৫১)।

শবে কদরের নামাজের নিয়তঃ

‘নাওয়াইতু আন্‌ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকআতাই সালাতিল লাইলাতিল কাদ্‌রি নফ্‌লে মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি- আল্লাহু আকবর।’

অর্থ: আমি কাবামুখী হয়ে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্য শবে কদরের দুই রাকআত নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম- আল্লাহু আকবর।

শবে কদরের নামাজ পড়ার নিয়মঃ

শবে কদরের নামাজ দুই রাকআত করে চার রাকআত পড়তে হয়। এরপর যত ইচ্ছা নফল নামাজ পড়া যায়। এই নামাজের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পর একবার সূরা কদর ও তিনবার সূরা ইখ্‌লাস পড়তে হয়।

নামাজ শেষে নিচের দোয়াটি কমপক্ষে ১০০ বার পড়া উত্তমঃ

‘সুব্‌হানাল্লাহি ওয়াল হাম্‌দু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর, লা হা’ওলা কুয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহিল্‌ আলীয়্যিল আযীম।’

লাইলাতুল কদরের ফজিলত অপরিসীম। তাই সারা রাত জাগরণ করে সঠিকভাবে ইবাদত-বন্দেগীতে মনোনিবেশ করা কর্তব্য। বেশি বেশি নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, সালাতুস তাসবিহ, উমরী কাজা নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সাদকা, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইসতেগফার, দুয়া-দুরূদসহ ইত্যাদি নফল আমলের প্রতি মনযোগী হওয়া একান্ত জরুরি।

ডিজিটাল বাংলা নিউজ/ ডিআর / মোস্তাফিজুর রহমান

আজ বিশ্ব মা দিবস

তিমির বনিক: যার জন্য পৃথিবীর আলোর মুখ দেখে প্রতিটি সন্তান, পৃথিবীতে যিনি নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসতে পারেন, দুঃখে ও সুখে প্রতিটি সময় যিনি স্নেহ ভালোবাসায় পাশে থাকেন, তিনি হলেন মা। আর মায়ের ভালবাসা পেতে কখনো প্রয়োজন হয় না ভালবাসি বলা। আর সেই মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্ববাসী আজ পালন করছে বিশ্ব মা দিবস।
প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্ব মা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। যদিও মাকে ভালোবাসা-শ্রদ্ধা জানানোর কোনো দিনক্ষণ ঠিক করে হয় না- তবুও মাকে গভীর মমতায় স্মরণ করার দিন আজ।
জন্মদাত্রী হিসেবে সকলের জীবনে মায়ের স্থান সবার ওপরে। তাই তাঁকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা জানানোর জন্য একটি বিশেষ দিনের হয়ত কোনো প্রয়োজন নেই। তারপরও আধুনিক বিশ্বে ‘মা দিবস’ পালন হচ্ছে। সঙ্গে উপহার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সাদা কার্নেশন ফুল।
দিবসটিতে মাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান সন্তানেরা। কেউ মাকে ফুল দেন। কেউ দেন কার্ড। মাকে উপহারও দেন কেউ কেউ। মাকে সঙ্গে নিয়ে কেক কাটা বা বিশেষ অনুষ্ঠানও করেন অনেকে। কেউবা এসব না করে শুধুই বলেন, ‘মা, তোমায় অনেক ভালোবাসি।’ অনেকে আবার একটি দিনকে ঘিরে মা দিবস পালনের বিরোধিতা করছেন। তাঁরা বলছেন, মায়ের প্রতি সন্তানের অকৃত্রিম ভালোবাসা কোনো একটি দিনের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকতে পারে না। আর মাকে শ্রদ্ধা জানাতে কোনো আনুষ্ঠানিকতার দরকার হয় না। যে কেউ ভাবতেই পারেন, মায়েদের কি আলাদা করে কোনো উপহারের প্রয়োজন পড়ে? তাঁরা যে সন্তানের মুখে শুধুমাত্র ‘মা’ ডাক শুনতে পেলেই হৃদয়ের প্রিয় উপহার পেয়ে যান।
প্রথম মা দিবস উদযাপন শুরু হয় গ্রিসে। গ্রিকরা তাদের মাতা-দেবি ‘রেয়া’র নামে পূজা করত। তবে আধুনিক কালে মা দিবস উদযাপনের প্রথম ভাবনাটি এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে এক সমাজকর্মীর মাথা থেকে। ১৯০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আনা জারভিস নামের নারী মারা গেলে তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সচেষ্ট হন। ওই বছর তিনি তার সান ডে স্কুলে প্রথম এ দিনটি মাতৃদিবস হিসেবে পালন করেন। ১৯০৭ সালের এক রবিবার আনা মারিয়া স্কুলের বক্তব্যে মায়ের জন্য একটি দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। দিবসটির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য তিনি লড়াই করতে থাকেন। অবশেষে ১৯১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস মা দিবসকে সরকারিভাবে পালনের অনুমতি দেয়। এভাবেই শুরু হয় মা দিবসের যাত্রা। এরই ধারাবাহিকতায় মা দিবস এখন বাংলাদেশসহ অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, রাশিয়া ও জার্মানসহ শতাধিক দেশে মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়। যদিও করোনার কারণে এবার দিবসটিতে কোন আনুষ্ঠানিকতা দেখা যাবে না। তাই বলে ঘরে ঘরে মায়ের ভালবাসা কুড়াতে কার্পণ্য করবে না, কোন সন্তান।
কোনো মা, তা তিনি যে পেশাতেই থাকুন না কেন, যত কুশ্রীই হন না কেন, সন্তানের কাছে তিনিই সবচেয়ে প্রিয়। হিন্দু ধর্মে মা সন্তানের কাছে দেবীর মতোই। আর শুধু হিন্দু ধর্মে কেন? ইসলামে ‘মায়ের পায়ের নীচে বেহেস্ত’ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। খ্রিষ্টধর্মেও রয়েছে ‘মাদার মেরির’ বিশেষ তাৎপর্য। সেই মায়ের জন্য কিনা বছরে একটা মাত্র দিন! এভাবে ভাবলে দিবসটি ঘিরে অবশ্য একটা তাচ্ছিল্য ভাব সামনে আসে। তবে এভাবে ভাবা আসলে ঠিক নয়। অন্তত একটা দিন তো মায়ের কথা, তাঁর সুখ-দুঃখ, চাওয়া-পাওয়ার কথা ভাবেন বিশ্ববাসী।
আবার অনেকেই বলেন, লোকদেখানো, অহেতুক আড়ম্বর, ঘটা করে কিছু করা তেমন ভালো লাগে না, বিশেষ করে সেটা যদি নিজের জন্মদাত্রী মায়ের জন্য হয়। আজকাল কত ছেলে-মেয়ে, পুত্রবধুকে দেখা যায় মায়েদের অযত্ন-অবহেলা করতে। তখন খুব খারাপ লাগে। যে মা-বাবা আমাদের আঙুল ধরে হাঁটতে শিখিয়েছে, কথা বলতে শিখিয়েছে, মুখে তুলে দিয়েছে অন্ন, সেই বাবা-মা বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে, তাঁদের হাতে গড়া সন্তানটি ছোটবেলার কথা ভুলে বাবা-মা কে পাঠিয়ে দিচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে।
আপনি হয়তো বলবেন পশ্চিমা দেশগুলোর কথা। কিন্তু সেসব দেশে সমাজব্যবস্থা ভিন্ন, রীতি-নীতিও আলাদা। সামাজিক নিরাপত্তাও পাশ্চাত্য দেশগুলিতে অনেক বেশি। পশ্চিমা দেশগুলোতে বৃদ্ধ মা বাবারা সরকারি ভাতাও পেয়ে থাকেন। কিন্তু, আমাদের দেশে? আমরা তো দেশকেও ‘মা’ বলে ডাকি। দেশের মাটিকে মা জ্ঞান করে তাঁর পায়ে মাথা ঠেকাই আমরা। বড় গলায় গর্ব করি দেশমাতৃকার জন্য।
কিন্তু নিজের মায়ের বেলায়? বেঁচে থাকতে কতদিন, কতবার তাঁকে আদর করে বলেছি ‘মা, তোমায় ভালোবাসি’? জীবনচক্রের ঘূর্ণন শুরু হয় সেই জন্মলগ্ন থেকে। এরপর ছোটবেলা কাটিয়ে উঠে ক্রমে কৈশোর, যৌবন, প্রৌঢ়ত্ব ও বার্ধক্য। সবশেষে অনিবার্য মৃত্যু। এই ধ্রুব সত্যের চক্রটি সবার জন্য। তাই যতদিন ‘মা’ বেঁচে আছেন, ততদিন প্রতিটি দিনই হয়ে উঠুক ‘মা দিবস’।

লোহাগাড়ায় কৃষকের ধান কেটে দিল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ

লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় দুই কৃষকের পাকা ধান কেটে দিয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শনিবার (৮ মে ) উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের রাজঘাটা গ্রামের দুই কৃষকের ৪০ শতক জমির ধান বিনাপারিশ্রমিকে কেটে দেন তারা।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাস মহামারিতে চলমান লকডাউনে শ্রমিক সঙ্কটে কারণে ঐ এলাকার দুই কৃষক মোক্তার ও শোয়াইবের পাকা ধান কাটতে পারছিলেন না। এ খবর পেয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্হপনা সম্পাদক মোঃ রাকিবুল হাসান ওই কৃষকদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

এই সময় তার সাথে ছিলেন উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিবুল হাসান বিজয়, ছাত্রলীগ নেতা ইয়াসিন, আব্দুল্লাহ, সাহেদ, মোনতাসির, ইহাব প্রমুখ।

লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়ন রাজঘাটা গ্রামের কৃষক মোক্তার ও শোয়াইব জানান, কয়েকদিন আগে তার ধান পেকে গেলেও করোনার কারণে শ্রমিক না পেয়ে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছিলেন না। মাঠে ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় গত কয়েকদিন ধরে কোনো উপায় পাচ্ছিলেন না তিনি। এ খবর পেয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এগিয়ে এসে বিনা পারিশ্রমিকে তার ধান কেটে দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্হপনা সম্পাদক মোঃ রাকিবুল হাসান জানান, দেশের যে কোনো দুর্যোগ বা ক্রান্তিলগ্নে সাধারণ মানুষ ছাত্রলীগকে পাশে পেয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের নির্দেশে বর্তমান করোনা সঙ্কট মোকাবেলাসহ যে কোনো মানবিক শঙ্কটে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ওই চেতনা থেকেই কৃষকদের ধান কেটে দেয়া হয়েছে।

নবীগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পিতাকে খুন করলো পুত্র, রহস্য উদঘাটনে পুরস্কার পেল পুলিশ কর্মকর্তা

মোঃ আমিন আহমেদ, সিলেট: প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে সহযোগিদের নিয়ে বাবাকে খুন করলো পুত্র। এমনই এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে।

নবীগঞ্জ উপজেলার ৯নং বাউশা ইউনিয়নের দেবপাড়া (বাশডর) গ্রামের দুটি গোষ্ঠির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিজনা নদীর জল মহাল সহ বিভিন্ন বিষয়াদী নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এতে দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজমান থাকে। এতে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ একাধিকবার আপ্রাণ চেষ্টা করেও পুরোপুরি নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হয়। শুধু মাত্র উভয় পক্ষের আন্তরিকতার কারণে। কিন্তু পুলিশ বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছিল।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, গত বছর জুলাই মাসের ১৫ তারিখ দিবাগত রাতে নবীগঞ্জ থানায় সংবাদ আসে যে, আগামীকাল সকালে বিজনা নদীর লিজকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হতে পারে। সংবাদ পেয়ে নবীগঞ্জ সার্কেলের নির্দেশনায় নবীগঞ্জ থানা থেকে পুলিশের একটি টীম ঐদিন খুব সকালেই বাশডর গ্রামে অবস্থান নেয় পুলিশ। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পুলিশ চলে আসে থানায়।

পুলিশ থানায় পৌছার পরই আবার খবর আসে যে, উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা শুরু হয়েছে। এতে দ্রুত পুলিশ পূর্ণরায় বাশডর গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পথিমধ্যেই খবর আসে জাহের আলী (৭৫) নামের একজন বৃদ্ধ লোক প্রতিপক্ষের ফিকলের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষ বন্ধ করে নিহত জাহের আলী’র বাড়িতে উপস্থিত লোকজনের সামনে রক্তমাখা জামা মৃতদেহ যে খাটে পড়েছিল তার নিচ থেকে ফিকলের রক্তমাখা সুচালো অগ্রভাগের অংশ উদ্ধার করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় নিহতে বড় ছেলে আরশ আলী গত বছর ১৭জুলাইয়ে  ৯২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামী করে নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়ীত্ব দেয়া হয় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলামকে।

হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার বিপিএম, পিপিএম মোহাম্মদ উল্ল্যাহ’র সার্বিক নির্দেশনায় ও নবীগঞ্জ- বাহুবল সার্কেল পারভেজ আলম এর নেতৃত্বে এ চাঞ্চচল্যকর হত্যা মামলার আসল রহস্য উদঘাটন ও আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে একটি টীম ঘটন করা হয়।

এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, নিহত জাহের আলী (৭৫) উভয় পক্ষের দাঙ্গা চলাকালীন সময়ে ঘটনাস্থলেই ছিলনা। সে একজন পান বিক্রেতা। পান বিক্রির জন্য গ্রামের অদূরের পশ্চিম হাটিতে গিয়েছিল। হামলা শেষ হওয়ার প্রায় ৩০/৪০ মিনিট পর সে বাড়িতে এসে তার ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে।

গত বছর ২২ এপ্রিল বাদীপক্ষের একই গোষ্ঠীর লোক মিছবাহ উদ্দীনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে এক পর্যায়ে জাহের আলীকে ফিকল দিয়ে নৃশংস হত্যাকান্ডের আসল ঘটনাটি স্বীকার করে। সে আরো জানায়, জাহের আলীর নিজের বড় ছেলে আরশ আলী তার বাবার মামলার সাক্ষীদের নিয়ে এ হত্যার পরিকল্পনা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে!

মৃত জাহের আলীর বড় ছেলে আরশ আলীর নেতৃত্বে আরও ৫ জন খাটে ঘুমন্ত অবস্থায় জাহের আলীর পেটে ফিকল ডুকিয়ে হত্যা করে। পরে সে নিজেই বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এতে পুলিশ আসামী মিছবাহ উদ্দিন, শামছুল মিয়া ও জিলু মিয়াদেরকে গ্রেফতার করে।বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তাদের নিজেদের দোষ স্বীকার করে।

এই সাফল্যের জন্য গতকাল শনিবার দুপুরে ঐ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নবীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলামকে পুরস্কার প্রদান করেন, হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বিপিএম, পিপিএম ও নবীগঞ্জ- বাহুবল সার্কেল পারভেজ আলম।

করোনা নেগেটিভ সাকিব আল হাসান

স্পোর্টস ডেস্ক/ S.H:

আইপিএল থেকে ফিরে কোয়ারেন্টিনে রয়েছে সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান ।

করোনার প্রকপ থেকে রক্ষা পায়নি আইপিএল । আইপিএল স্থগিত হওয়া নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও রাজস্থান রয়েলসের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। গুলশানের একটি হোটেলে সাকিব আর কারওয়ান বাজারের মোস্তাফিজ একটি পাঁচতারকা হোটেলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন।

আইপিএলে চারটি দলের সদস্য আক্রান্ত হয় এই মহামারি রোগে । ফলে ভারত থেকে ফিরে আসে সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান। সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান দুইজনের ব্যাপারে বাড়তি সতর্ক বিসিবির। শনিবার প্রথম টেস্টে নেগেটিভ ফল আসে সাকিব আল হাসানের। দ্বিতীয় টেস্টেও করোনা নেগেটিভ আসে ভারত ফেরত বাংলাদেশি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। নেগেটিভ হলেও এখনই কোয়ারেন্টিনমুক্ত হতে পারবেন না সাকিব। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবির ডাক্তার মঞ্জুর হোসেন চৌধুরী।