রংপুর থেকে ১৩ হাজার কেজি সুগন্ধি আতপ চাল উদ্ধার, আটক ২
একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ চালকের ভুয়া পরিচয় দিয়ে নওগাঁ’র মহাদেবপুর থেকে নারায়নগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ মোকামে পৌঁছে দেয়ার নামে এসিআই ফুডস লিঃ এর সাড়ে ১৪ লক্ষ টাকা মুল্যের ১৩ হাজার কে জি সুগন্ধি আতপ চাল প্রতারনা করে আত্মসাতের ১৫ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মহাদেবপুর থানা পুলিশ সোমবার আত্মসাৎকৃত চালের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার কেজি চাল এবং প্রতারক চক্রের মুল হোতাসহ ২ জনকে আটক করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে আটক আসামীদের কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছে।
মহাদেবপুর থনার অফিসার ইনচার্জ আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, গত ১৮ এপ্রিল মহাদেবপুর উপজেলার সরস্বতিপুর বাজারে অবস্থিত এসিআই ফুডস লিঃ এর উক্ত ১৩ হাজার কেজি সুগন্ধি আতপ চাল নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ বাজারে আব্দুল্লাহ ষ্টোরে সরবরাহ করতে মহাদেবপুর ভাই ভাই ট্রান্সপোর্টকে একটি ট্রাক করার অনুরোধ জানায়। এরই প্রেক্ষিতে ভাই ভাই ট্রান্সপোর্ট ঐ দিন ঢাকা আশুলিয়া বেরী বাঁধ এলাকার জনৈক আইনুল শেখ-এর পুত্র স্বপন পরিচয়ধারী একজন চালককে তার ট্রাক নং ঢাকা-মেট্রো-ট-২০-১২৫৪ ট্রাকটি নিয়ে এসিআই ফুডস লিমিটেড-এ পাঠায়। ১৮ এপ্রিল ২০২১ তারিখ দুপুর ২টা ৪ মিনিটে উক্ত ১৩ হাজার কেজি চিনিগুড়া চাল নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু উক্ত চাল মোকামে পৌছায় না এবং চালক এবং হেলপারের দেয়া মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ থাকায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ট্রান্সপোর্ট এবং এসিআই ফুডস-এর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
পরে ২১ এপ্রিল ভাই ভাই ট্রান্সপোর্ট-এর পক্ষে সুশান্ত কুমার চক্রবর্তী এবং এসিআই ফুডস-এর পক্ষে স্থানীয় ম্যানেজার এম এ সাত্তার পৃথক পৃথক ভাবে মহাদেবপুর থানায় দু’টি সাধারন ডাইরী দায়ের করেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি মহদেবপুর থানায় মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয় যার নম্বর ১ তারিখ ০১-০৫-২০২১ইং ধারা ৪০৬/৪২০/৩৪ পেনাল কোড। খোঁজা খুজির এক পর্যায়ে উক্ত ড্রাইভার ও হেলপারের দেয়া ঠিকানা ভুয়া বলে প্রমানিত হয়। পুলিশ তদন্তের এক পর্যায়ে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলাধীন সদর হাসরা গ্রামের সাবেক মেম্বর মোঃ হেলাল উদ্দিন মন্ডলের সম্পৃক্ততা থাকার সম্ভাবনা খুজে পান। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মান্নান মিয়ার সার্বক্ষনিক নির্দেশনায় এবং ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদের তত্বাবধানে সংগীয় ফোর্স সহ গত ৩ এপ্রিল দুপুরে উক্ত হেলালকে নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক ঐ রাতেই রঙপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলা সদরের মেসার্স নাইম ট্রেডার্স থেকে প্রতারনার মাধ্যমে চুরি যাওয়া চালের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার কেজি চাল উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে মেসার্স নাইম ট্রেডার্সের ম্যানেজার লেবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারকৃত চালসহ আটককৃতদের মহাদেবপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যাদি মেষ করে আসামীদের কোর্টে সোপর্দ করা হয়।
মহাদেবপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, এটি একটি প্রতারক চক্রের কাজ। আটক হেলাল উদ্দিন মন্ডল এই চক্রের মুল হোতা। তার বিরুদ্ধে বগুড়ার শেরপুর, ধুনট ও ঠাকুরগাঁও সদর থানায় চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং প্রতরনার মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে ৬টি মামলা রয়েছে।
রাণীশংকৈলে হ্যালো নার্সিং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৪০০ পরিবারের মাঝে ইফতার ও বস্ত্র বিতরণ
হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ২০ রমজান গত ৩ মে সোমবার বিকালে ৪০০ গরিব অসহায় পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী ও ২০ জন হতদরিদ্রদের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেন।
উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের উত্তরগাঁও নামক স্থানে হ্যালো নার্সিং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন হোসেনগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আলম, হ্যালো নার্সিং বাংলাদেশের সদস্য ও বরিশাল নাসিং কলেজের বিএসসি তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সুমা আক্তার ও সদস্য দিনাজপুর নার্সিং ইন্সিটিটিউড ছাত্রী ইয়াসমিন আত্তার।
এছাড়াও রাণীশংকৈল প্রেসক্লাব (পুরাতনের) সহ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুজন, সদস্য মাহাবুব আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আলম বলেন, হ্যালো নার্সিং বাংলাদেশ এর মহৎ উদ্যোগকে আমার ইউনিয় পরিষদের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই। আমি এ কার্যক্রমে সহোযোগিতা করেছি এবং আমার পক্ষ থেকে পরবর্তীতে আরও সহযোগিতা করবো।
প্রত্যন্ত এলাকায় এরকম মহৎ উদ্যোগে গরিব অসহায় দরিদ্র মানুষেরা ইফতার সামগ্রী ও ঈদ উপহার পেয়ে হ্যলো নার্সিং বাংলাদেশকে অনেক ধন্যবাদ জানান এবং এই সংগঠনটির সফলতা কামনা করেন।
শ্রীমঙ্গলে চলতি বোরো ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠান

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরকে যুব রেড ক্রিসেন্ট ঈদবস্ত্র ও ইফতার প্রদান
ঠাকুরগাঁওয়ে ঈদকে সামনে রেখে দোকানগুলোতে ভিড়; স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন সপিংমল ও বিপণি বিতানগুলোতে গত সোমবার ৩ মে ক্রেতার অনেক ভিড় লক্ষ করা গেছে। দেশের চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সরকার কর্তৃক আরোপিত বিধি নিষেধ মানছেন না ক্রেতা ও বিক্রেতারা। এতে চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। এবং সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে মায়ের কোলে মার্কেটে আসা নবজাতক শিশু ও ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা। এদিন দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতান গুলোতে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
বিচার নিয়ে সংশয় কেন?

গুলশানে নিহত মুনিয়া হত্যার সাথে নাম জড়িয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের এম ডি আনভির সোবাহানের। এতেই কিন জানিনা গনমাধ্যম নিরব হয়ে পরেছে। অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সঠিক তদন্ত এবং বিচার হবে কিনা! ধনাঢ্য ব্যক্তিরা অসীম ক্ষমতার অধিকারী হয় বাংলাদেশে। সাংসদ হাজী সেলিমের পুত্র জামিন পেয়ে গেছে। জেল থেকে বেড় হতেই ফুলের মালা দিয়ে অভ্যর্থনা জানিয়েছে ভক্তরা। টাকার কাছে নিরব হয়ে যায় প্রশাসনের কর্ত্তাব্যক্তিরা। পুলিশও এর বাইরে নয়। সোবাহান পরিবারের বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যাকান্ডের খবর বেড়িয়েছিল। এত বছর পর এখন গনমাধ্যম খবর দিল ২১ কোটি টাকার বিনিময়ে তা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং তৎকালিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নীজেই ঘুষ নিয়েছেন। বেকসুর খালাস পেয়ে আসামীরা ভাল মানুষ হয়েগেছে।
বিত্ত্ববান ব্যক্তিদের এমন ক্ষমতা দেশের আইন এবং প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বৈকি! মুনিয়ার মৃত্যুর রহস্য সে পথেই যাচ্ছে কিনা কে জানে! তবে গনমাধ্যম সংবাদ দিয়েছে কথিত প্রেমিক আনভির সোবাহান দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তার পরিবারও দুবাইতে চলে গেছে বলে সংবাদ বেড়িয়েছে। যার বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সে বিমান বন্দর দিয়ে বিদেশে যায় কিভাবে? সেখানেওকি অর্থ বিনিময় হয়েছে? কয়েকটি ডাইরি পুলিশ জব্দ করেছে। সেই ডাইরিতে কি আছে পুলিশ তা প্রকাশ করেনি এখনো। এক সপ্তাহ পার হলেও মৃতের সুরত হাল বা আর কোন তথ্য পুলিশ প্রকাশ করেনি। এই জন্যই মানূষের মনে সন্দেহ দানা বেধেছে। কথায় আছে, “Justice delayed justice denied”। মুনিয়া হত্যা রহস্য সেই দিকেই যাচ্ছে কিনা কে জানে! সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনেকের সংগেই বসুন্ধরা গ্রুপের কর্ত্তাব্যক্তিদের সখ্যাতের খবর ছাপা হয়েছে। মুনিয়া হত্যার সুষ্ঠ তদন্ত না হলে জনমনে এই সখ্যতা নিয়েও সন্দেহ করবে ( ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে)। এর প্রভাব রাজনৈতিক ভাবেও প্রতিফলিত হতে পারে।
বর্তমান সরকার দেশে অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছে। জনগন সরকারের সাফল্যে তুষ্ট। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবী ছিল বহুদিন ধরেই। তা নিশ্চিত করতে পারলে সরকারের গ্রহনযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে। হেফাজতের নেতাদের গ্রেপ্তারের পর অনেক না জানা তথ্য বেড়িয়ে আসছে। মামুনুল হক নাকি প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন আর বাবুনগরী রাষ্ট্রপতি। মুনিয়া হত্যায় জড়িত আসামীরা গ্রেপ্তার হলেও অনেক রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। কিন্তু এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি বলে সন্দেহ বেড়েই চলেছে। যে যত ক্ষমতাশালীই হউক দেশের আইন সবার জন্য সমান এ কথা জনগনকে বোঝাতে হবে। না হয় অপরাধ এবং অপরাধী প্রশ্রয় পাবে যা কোনভাবেই কাম্য নয়। মুনিয়া হত্যার বিচার নিয়ে জনমনে যে সংশয় দেখা দিয়েছে তা সরকারই পারে নিশ্চিত করতে। প্রত্যাশা রইলো আইন তার নিজস্ব্ পথেই এগুবে এবং টাকার কাছে অন্যায় প্রশ্রয় পাবেনা।