মাস্ক পরার অভ্যেস গড়ে তোলা ও সচেতন হওয়ার আহবান কুমিল্লা জেলা পুলিশের

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় মাস্ক পরার অভ্যেস গড়ে তোলা ও সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আজিম উল আহসান বলেছেন, করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, একই সাথে বাড়ছে মৃত্যর হার। এরকম কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই আমাদের জীবন জীবিকা চালাতে হবে, চলতে হবে। তবে তার আগে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাপ প্রতিরোধে নিজেদের ধধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। আর এই সচেতনতা হচ্ছে সঠিক নিয়মে ভালোভাবে মাস্ক পরা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মধ্যে দুরত্ব বজায় রাখা, সাবান-পানি দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়া।

বুধবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্ক পরার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স মোড় থেকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, মার্কেট, শপিংমল পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ কার্যক্রম চলাকালে সাধারণ মানুষ যারা মাস্ক ছাড়া বের হয়েছেন তাদের মাঝে মাস্ক বিতরণসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আফজাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দপ্তর) নাজমুল হাসানসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আজিম উল আহসান আরও বলেন, ছোট বড় সবার জন্য মাস্ক পরাটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আমরা এটার শতভাগ বাস্তবায়ন চাই। আর তাই কুমিল্লা জেলা পুলিশ করোনা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে গত ২১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এক লাখের বেশি মাস্ক বিতরণ করেছে। নগরীর কান্দিরপাড়ে করোনা প্রতিরোধ স্থায়ী মঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে যারা মাস্ক ব্যবহার করছেন না তাদের বুঝিয়ে সচেতন করা এবং বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ ও মানুষ যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এজন্য সার্বক্ষণিক প্রচারণা চালাচ্ছে জেলা পুলিশ। কুমিল্লা জেলায় মানুষের মধ্যে মাস্ক ব্যবহারে বেশ সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কেট, শপিংমলগুলোতেও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই লোকজন কেনাকাটা করছে। এই অভ্যেস ধরে রাখতে হবে। কেননা করোনা প্রতিরোধে মাস্ক পরা ও স্বাস্ত্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার বিকল্প নেই।

ব্জ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় দুই চা শ্রমিক ও সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দুই ভাই।
বুধবার (২৮ এপ্রিল) সকালে বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।
জানা যায়, জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চা বাগান শ্রমিক শ্যামল ভূমিজের মেয়ে ললিতা ভূমিজ (১৪) ও নন্দ ভূমিজের ছেলে রমণ ভূমিজ (২৬) বজ্রপাতে মারা গেছেন।  ললিতা এবং পার্শ্ববর্তী ঘরের রমণ সকালে খারাপ আবহাওয়ার সময় কাজে যাবে বলে ঘরের বারান্দায় অপেক্ষা করছিলো। এসময় হঠাৎ প্রচন্ড বজ্রপাত হয়। বজ্রপাতের সাথে সাথে তাদের দু’জন মারত্মক আহত হন।
পরে পরিবারের সদস্যরা আহত অবস্থায় তাদের জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্মরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষনা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় চক্রবর্তী জানান, সকালে ঝড়-বৃষ্টির আভাস ছিলো। সেই সময় ললিতা ও রমণ বাড়ীর বারান্দায় বসে গল্প করছিলো। এ সময় বজ্রপাত হলে তারা গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেয়ার সময় তাদের মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, নিহতদের স্বাভাবিক নিয়মেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে, সুনামগঞ্জে দিরাইয়ে বজ্রপাতে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও তিনজন। বুধবার (২৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের মধুরাপুর গ্রামে হাওরে ধান কাটার সময় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন একই গ্রামের ফজলু ও ফখরুল।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান বলেন, হাওরে ধান কাটতে ক্ষেতে ছিল সে সময় বজ্রপাতে দুই ভাই মারা যান এবং তিন জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পূর্ব শত্রুতার সূত্রপাতকে কেন্দ্র করে কুপিয়ে হত্যা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে চাম্পারায় চা বাগানে সুমন গোয়ালা (৩২) নামে এক চা শ্রমিককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বাগানের ২৫ নম্বর সেকশনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন ওই চা বাগানের বিমল গোয়ালার ছেলে। সে বাগানের নিয়মিত চা শ্রমিক ছিল। স্থানীয় সূত্রে পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার আম পাড়া নিয়ে সুমন গোয়ালার সাথে তার চাচা মনোহর গোয়ালা ও তার দুই ছেলেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় সুমন চা বাগান অফিসে গিয়ে বিচার দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মনোহর গোয়ালা এবং তার দুই ছেলে বিশ্বজিৎ গোয়ালা ও সঞ্চিত গোয়ালা দা ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে সুমন গোয়ালাকে জখম করে।
এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সোহেল রানা জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নিহত সুমনের শরীরে বিভিন্ন স্থানে দা ও কুড়াল দিয়ে কুপানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে সদর মৌলভীবাজার হাসপাতালে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

রায়পু‌রে ২০০ অসহায় প‌রিবা‌র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী পেল

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পু‌রে মঙ্গলবার (২৭ এ‌প্রিল) ২০০ অসহায় প‌রিবা‌রের মা‌ঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখহা‌সিনা’র উপহার সামগ্রী বিতরন করা হ‌য়ে‌ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন জনাব মোঃ আনোয়ার হোছাইন আকন্দ, জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, লক্ষ্মীপুর মহোদয় । জেলা প্রশাসন, লক্ষ্মীপুর এর তদারকি ও বাস্তবায়নে এবং উপজেলা প্রশাসন, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর এর সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপ‌জেলা চেয়ারম্যান জনাব মামুনুর রশিদ, উপজেলা নির্বাহী অ‌ফিসার জনাব সাবরীন চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আক্তার জাহান সাথী সহকারী কমিশনার(ভূমি), উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, রায়পুর থানা ওসি (তদন্ত), পৌরসভার সম্মানিত কাউন্সিলরবৃন্দ, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

উল্লেখ্য, পৌরসভা এবং ইউনিয়নভিত্তিক জনপ্রতিনিধি ও ট্যাগ অফিসার কর্তৃক যাচাইয়ান্তে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ, অসহায়-দুঃস্থ ২০০টি পরিবারে বিতরণকৃত ত্রাণের প্রতিটি প্যাকেটে রয়েছে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি চিনি ও ১ লিটার সয়াবিন তেল।

কুমিল্লায় বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় মুনিয়া

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা: কুমিল্লায় বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে কলেজ ছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়াকে। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) বাদ আসর জানাযার নামাজ শেষে নগরীর টমছমব্রিজ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, ঢাকার একটি কলেজের ছাত্রী ছিলেন কুমিল্লার মেয়ে মোসারাত জাহান মুনিয়া। রাজধানীর গুলশানের ১২০ নম্বর রোডের একটি বাড়ির অভিজাত ফ্ল্যাটে গেল মাসের ১ তারিখে ভাড়া উঠেন তিনি। বাসাটির ভাড়া ছিল ১ লাখ টাকা। বাসায় একাই থাকতেন কলেজছাত্রী মুনিয়া। সোমবার সন্ধ্যায় ফ্ল্যাট থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে গুলশান থানা পুলিশ।

নিহতের বড় ভাই আশিকুর রহমান সবুজ জানান, দীর্ঘদিন নিয়মিত যোগাযোগ না থাকলেও মুনিয়া আত্মহত্যা করতে পারে এটা মনে হয় না। ঘটনাটি রহস্যজনক বলেই মনে হয়।

মুনিয়ার জানাজা শেষে স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, মুনিয়ার বাবা প্রয়াত মো. শফিকুর রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং কুমিল্লার আওয়ামী লীগ নেতা। দীর্ঘদিন ভাই আশিকুর রহমান সবুজের সাথে মুনিয়া ও তানিয়ার পারিবারিক বিরোধ চলছিল, যে কারণে কুমিল্লায় নিজ বাসায় তাদের যাতায়াত কম ছিল।

এর আগে সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গুলশানের একটি ভাড়া বাসা থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। গতমাসে ওই বাসা ভাড়া নেন তিনি। তার ওই বাসায় এক শিল্পপতি প্রায়ই যাতায়াত করতেন। পরে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর রাতে শিল্পপতিকে আসামি করে মামলা করেন মুনিয়ার বড় বোন।

করোনা মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে করোনা মহামারীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সরুপ ক্ষতিগ্রস্থ ও কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের চতুর্থ দিনে ২৭ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হরিজন সম্প্রদায়ের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজার মীর নাহিদ আহসান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া সুলতানা, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা, সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

উপহার সামগ্রীর প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ১০ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ২ কেজি পেয়াজ, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি লবন, ১ কেজি ছোলা এবং ১ লিটার খাওয়ার তৈল।

করোনায় কুবি দত্ত হল ছাত্রলীগের ‘জয় বাংলা জরুরি সেবা’

মনছুর আলম অন্তর, কুমিল্লা বিশ্ব বিদ্যালয়ঃ “পরোয়া করিনা জীবনের ভয়,করোনা জয়েই ছাত্রলীগের জয়।” এই স্লোগানকে ধারণ করে ক্যাম্পাসের আশেপাশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগ।

গেল সোমবার (২৬ এপ্রিল) জয় বাংলা জরুরি সেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্যাম্পাসের আশেপাশে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে শিক্ষা উপকরণ ও করোনা প্রতিরোধের লিফলেট বিতরণ করে রাফিউল আলম দীপ্ত সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা ।
এসময় শিক্ষা উপকরণের অংশ হিসেবে ৩ দিস্তা খাতা, একটি বই,২ টি কলম ও একটি স্কেল বিতরন করা হয়েছে।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলম দীপ্ত বলেন,”আমাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে করোনাকালীন সময়ে অসহায় ভুক্তভোগী জনসাধারণের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এই মহামারী পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। ইনশাআল্লাহ আমরা পৌঁছে যাবো প্রতিটি অসহায় মানুষের কাছে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার জন্য।”

এসময় দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ইমাম হোসাইন মাসুম, মাহদী হাসান ওভি,সালমান চৌধুরীসহ আরো অনেক নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগ করোনাকালীন নিয়মিত জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জয় বাংলা জরুরি সেবা চালু করেছে।

আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৪ সদস্য আটক ও মোটরসাইকেল উদ্ধার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পশ্চিম ঘোলসা গ্রাম থেকে প্রায় দেড়মাস পূর্বে চোরি যাওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গত (২৬ এপ্রিল) দিবাগত-রাত পৌরশহর থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা আন্ত:জেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বড়লেখা উপজেলার পানিধার-বরইতলী এলাকার বশারত আলীর ছেলে আলী হাসানাত, মুড়িরগুল এলাকার একরাম আলী চৌধুরীর ছেলে শাহ্ রিয়াজ চৌধুরী রুহিত, জুড়ী উপজেলার ভবানীপুর এলাকার আব্দুল মুনিমের ছেলে আল আমিন ও ভোগতেরা এলাকার মৃত রমজান আলীর ছেলে আফিয়ান আহমদ।

থানা পুলিশ ও এলাকাবাসীর বরাতে জানা যায়, গত ১২ মার্চ রাতে উপজেলার পশ্চিম ঘোলসা গ্রামের মাহতাব উদ্দিনের ছেলে মোক্তাদির হোসেন মুন্নার অনটেস্ট ১৫০ সিসির একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। চুরির ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করেন।

গত সোমবার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত-রাতে গোপন তথ্য ভিত্তিতে পৌরশহরের ডাকবাংলো রোড এলাকা থেকে এসআই ইয়াকুব হোসেন চুরি হওয়া মোটরসাইকেলসহ আলী হাসানাতকে আটক করেন।

পরে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী শাহ্ রিয়াজ চৌধুরী রুহিত, আল আমিন ও আফিয়ান আহমদকে আটক করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল মঙ্গলবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বড়লেখা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃতরা সকলেই আন্ত:জেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের সদস্য। আজ মঙ্গলবার বিকেলে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নীলফামারীর ডোমারে ৪র্থ দিনেই চাঞ্চল্যকর মাদক সম্রাট মিজানুর রহমান হত্যার রহস্য উদঘাটন

মো:মোশফিকুর ইসলাম, নীলফামারীঃ নীলফামারীর ডোমারে হত্যার ৪র্থ দিনের মধ্যে চাঞ্চল্যকর মাদক সম্রাট মিজানুর রহমান হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে ডোমার থানা পুলিশ। মাদক বিক্রয়ের টাকা ভাগ বাটোরা ও খাওয়াকে কেন্দ্র করে উক্ত হত্যাকান্ড ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে জানাগেছে।

মিজানুর রহমান পৌরসভা কাজিপাড়া এলাকার মৃত রেয়াজুল ইসলাম ভাদুর ছেলে।

পুলিশ মোবাইল কল লিস্টের সূত্র ধরে রবিবার(২৫ এপ্রিল) বিকালে আব্দুস ছালাম ওরফে পিনকোড বাবুকে তার বাড়ী থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে বাবু এক সময় মিজানুর রহমানকে হত্যার কথাটি স্বীকার করে। পরে ১৬৪ ধারায় আদালতের কাছে স্বীকার উক্তি মুলক জবানবন্দি দেয় সে। আব্দুস ছালাম ওরফে পিনকোড বাবু ডোমার পৌরসভা কাজিপাড়া গ্রামের রশিদুল ইসলাম ছানুর ছেলে।

ডোমার থানা মামলা সূত্রে জানাযায়, ২১ এপ্রিল বুধবার দুপুর দেড়টা হতে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার মধ্যে যে কোন সময়ে নিজ বাড়ীতে খুন হন মাদক সম্রাট মিজানুর রহমান। ২২এপ্রিল (বৃহষ্পতিবার) মৃত মিজানুর রহমানের মেয়ে মেঘলা মনি বাদী হয়ে আবু তালেব নামীয় একজন ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে ডোমার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই আবু তালেবকে তার বাড়ী হতে গ্রেফতার করে।

আবু তালেব ডোমার ছোটরাউতা গোডাউন পাড়া এলাকার হাকিম উদ্দিনের ছেলে।

ডোমার থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান জানান,পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান বিপিএম, পিপিএম ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার(ডোমার-ডিমলা সার্কেল)জয়ব্রত পালের নির্দেশনায় পুলিশের একটি চৌকস দল হত্যাকান্ডের পর থেকে ৪র্থ দিনের মধ্যে নিরলস ভাবে তদন্ত করে এই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেন। সোমবার বিকালে আব্দুস ছালাম ওরফে পিনকোড বাবু’কে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

মাওলানা মামুনুল হকের অ্যাকাউন্টে ৬ কোটি টাকার লেনদেন

সিএনবিডি ডেস্কঃ ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার হেফাজতে ইসলামের অর্থের যোগানদাতা হিসেবে ৩১৩ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করে জানিয়েছেন, সদ্য বিলুপ্ত হওয়া কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

আজ মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপি সদর দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর ছেলের বিয়েতেই সাবেক আমির আল্লামা শফীকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়। ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে মামুনুল হক, জুনায়েদ আল হাবিবসহ কয়েকজন নেতার বৈঠক হয়। আর সেই বৈঠকেই আল্লামা শফীকে সরিয়ে বাবুনগরীকে আমির করার পরিকল্পনা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক সহিংসতার ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের সংশ্লিষ্ট নেতাদের পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার করা হচ্ছে। সম্প্রতি নাশকতার অভিযোগে ঢাকাসহ সারাদেশে বেশ কিছু মামলা রুজু হয়। এর মধ্যে ঢাকায় ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া ২০১৩ সালে হেফাজতের শাপলা চত্বরে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতা নাশকতার ঘটনায় মোট ৫৩টি মামলা দায়ের হয়। ফলে এই মামলা গুলোসহ মোট ৬৪টি মামলা তদন্তাধীন আছে। এ পর্যন্ত হেফাজতে ইসলামের ১৬ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।যার ফলশ্রুতিতে এরই মধ্যে রবিবার (২৫ এপ্রিল) হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়। ১৯ এপ্রিল তাকে একটি মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ২৬ এপ্রিল তাকে আদালতে হাজির করে অন্য দুই মামলায় আরো ১০ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে পুলিশ জানায়, সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া হেফাজত নেতাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তানের ‘তেহেরিক-ই-লাব্বায়িক’ নামে সংগঠনের আদলে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে গঠন করে পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের মতো এ দেশকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন তারা।