৪ বছরের শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার উত্তর জয়চন্ডীতে পুকুরের পানিতে ডুবে মরিয়ম বেগম নামক ৪ বছরের এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশু মরিয়মের খালা আঙ্গুরী বেগমের বাড়িতে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার ২৫ এপ্রিল দুপুরে কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের নবীনগর এলাকার শাহীন মিয়ার স্ত্রী আফিয়া বেগম নিজের শিশু কন্যাকে নিয়ে শনিবার বিকালে জয়চন্ডী ইউনিয়নের উত্তর জয়চন্ডী গ্রামের রফিক মিয়া ও আঙ্গুরী বেগম দম্পত্তির বাড়িতে বেড়াতে আসেন। আঙ্গুরী বেগম নিহত শিশু মরিয়মের আপন বড় খালা। রোববার দুপুরে সকলের অগোচরে বদনা দিয়ে পুকুর থেকে পানি তুলতে গিয়ে পড়ে যায় শিশু মরিয়ম।
প্রায় এক ঘন্টা পর নিখোঁজ মরিয়মকে খুজতে গিয়ে পুকুরে তার দেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখান থেকে উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আসিফ হায়দার শিশু মরিয়মকে মৃত বলে জানান। তাৎক্ষণিক শিশু মরিয়মের মা-খালা ও আত্মীয়-স্বজনদের আর্তচিৎকারে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।
মরিয়মের খালু রফিক মিয়া বলেন, পুকুর পাড় দিয়ে তিনি কয়েকবার যাওয়া-আসা করেছেন। পানির নড়াচড়া এবং একটি বদনা পানিতে ভাসতেও তিনি দেখেছেন। কিন্তু তখন ও জানা নেই যে সেখানে শিশু বাচ্চাটি পড়ে আছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ লোকমান মিয়া পানিতে পড়ে শিশু মৃত্যুর বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

রাণীশংকৈলে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ট্রেড লাইসেন্স দেয়ার অভিযোগ

রাণীশংকৈল ( ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের  রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রামপুর গ্রামের  শামসুল হকের ছেলে আজমুল হক সাংবাদিকদেরকে অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান নিজ ক্ষমতায় ট্রেড লাইসেন্স নিজ লোকজনদেরকে দিচ্ছেন।এ ছাড়া অন্যদেরকে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না বরং হয়রানি করা হচ্ছে। আমি নিজে ট্রেড লাইসেন্স নেয়ার জন্য পাঁচ দিন কাউন্সিল অফিসে গেছি কিন্তু দিব দিব করে আমাকে দেয়নি। অথচ অন্যদেরকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে একদিনে  লাইসেন্স দিয়েছে।
সরেজমিনে রামপুর বাজারে  গিয়ে জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান জমিরুল ইসলাম ট্রেড লাইসেন্সের জন্য  দোকান প্রতি ৫০০ টাকা করে ফি নিয়েছেন।
জওগাঁও গ্রামের বকতিয়ার রহমানের ছেলে মাহমুদুর রহমান, রামপুর গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে মেহেদী হাসান, রামপুর গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে মিলন সহ স্থানীয় আরো অনেক দোকানদার অভিযোগ করে বলেন,এবার ট্রেড লাইসেন্স করতে আমাদের  কাছে  জন প্রতি৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে ।  কিন্তু গত বছরে আমরা এই লাইসেন্স  করেছিলাম ২২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে।
ট্রেড লাইসেন্সে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার ব্যাপারে রামপুর বাজারের দোকানদারদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে    তারা বলেন,আমরা চেয়ারম্যানকে প্রশ্ন করেছি, উত্তরে তিনি বলেছেন লাইসেন্সের জন্য ৫০০ টাকা করেই লাগবে। না দিলে লাইসেন্স দিব না, আপনারা কিভাবে দোকানঘর করবেন আমি দেখব।  এ সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে থাকা ফারুক আহমেদ অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টি সমর্থন করেন।
এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জমিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে  তিনি বলেন এবার ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্র ও খরচ বাবদ ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। চেয়ারম্যান আরো বলেন, আমার ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশরা এ  বিষয়টি ভালোভাবে বলতে পারবেন। ৫০০ টাকার ভাউচার দেওয়ার   বিষয়টি চেয়ারম্যান কৌশলে এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে গ্রামপুলিশ আবু তালেবের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন আমি চেয়ারম্যানের নির্দেশে ট্রেড লাইসেন্স দিচ্ছি। এখানে লাইসেন্স বাবদ ২৩০ টাকা, ৩০ টাকা ভ্যাট ও বাকী ২৪০ টাকা অন্যান্য খাতে নেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সহকারি কমিশনার (ভূমি) প্রীতম সাহা বলেন, দোকানদারদের ট্রেড লাইসেন্স দেয়ার বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানের এখতিয়ারে, তবে, রামপুর বাজারে লাইসেন্সধারি প্রকৃত দোকানদাররা যাতে ঘর বরাদ্দ পান সে বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করবো।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ মার্চ রামপুর বাজারে  অবৈধ ভাবে স্থাপিত দোকানগুলি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে মোট দোকান ছিল ৯০ টি।  ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট  ইউপি চেয়ারম্যান  প্রায় ১৫০ টিরও বেশি ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নওগাঁর আত্রাইয়ে উপজেলা প্রসাশনের মাস্ক ও জনসচেতনায় স্টিকার বিতরন

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ করোনার দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমন প্রতিরোধে নওগাঁর মাঠে নেমেছে আত্রাই উপজেলা প্রসাশন। সরকার ঘোষিত 18 দফা বাস্তবায়নে নানামূখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার(২৫ এপ্রিল) উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকতেখারুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলারহাট-বাজার, শপিংমল,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাটারিচালিত অটো রিস্কা, সিএনজি ষ্টান্ড অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে প্রতিটি ব্যাটারিচালিত অটো রিস্কা, সিএনজি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিজ হাতে গাড়ীতে ও দোকান গুলোতে “সচেতন হই, স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলি, মাস্ক পরিধান করুন, সেবা নিন, মাস্ক পরিধান করুন যাত্রী সেবা নিন,অনুরোধক্রমেঃ-উপজেলা নিবাহী অফিসার, আত্রাই নওগাঁ সম্বোলিত স্টিকার ও মাস্ক বিতরন করা হয়।এসময় ব্যাটারি চালিত অটো গাড়ী, সিএনজির যাত্রীদের সামাজিক দূরত্ব মানতে উদ্বুদ্ধ হওয়ার পরামশ দেওয়ার পাশাপাশিব্যাটারি চালিত অটো গাড়ী, সিএনজি গুলোতে করোনা সচেতনতামূলক লিফলেট, মাস্ক বিতরণ এবং স্টিকার লাগানো হয়।

এর আগে গত ২১ মার্চ করোনার দ্বিতীয় দফা সংক্রমন ঠেকাতে মাঠ পযায়ে কাজ শুরু করেছে নওগাঁর আত্রাই উপজেলা প্রসাশন। উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত দল বিভিন্ন যানবাহন ষ্টান্ড,বিভিন্ন মার্কেট, হাট-বাজার,স্টেশন বাজার,কাঁচা বাজার,বিভিন্ন রাস্তার মোড়সহ একাধিক পয়েন্টে নিরলস ভাবে কাজ করেছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকতেখারুলইসলাম বলেন, দ্বিতীয় ধাপে করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে ১৮ দফা বাস্তবায়নের নিদেশনা রয়েছে। সেই লক্ষে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। শুধু আত্রাই উপজেলাসদর নয়, উপজেলার আটটি ইউনিয়নে একই ভাবে কাজ করছে।

এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে করোনা প্রতিরোধে ভারচ্যুয়ালের মাধ্যমে আলোচনা সভাও করা হয়েছে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর সঙ্গে করোনা প্রতিরোধে অংশ নেন সহকারী কমিশনার ভূমি আত্রাই মোঃ মন্জুরুল আলম, আত্রাই থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি একেএম কামাল উদ্দিন টগর, আত্রাই বণিক ও মালিক সমিতির সভাপতি শেখ ইদ্রিস আলী, সাধারণ সম্পাদক মোরমেদ আলম পল্টু, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার মোয়াজ্জেম হোসেন, ব্যাটারিচালিত অটো রিস্কা, সিএনজি ষ্টান্ডএর চেইন মাষ্টার মোঃ হাসান আলী, ব্যবসায়ী শ্রী সঞ্জয় কুমার দাস সহ উপজেলার প্রশাসনের একাধীক কর্মকর্তাগন।

 

রাতের আঁধারে বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে করোনা আক্রান্ত পরিবার এবং ছিন্নমূল মানুষের কাছে ‘প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সামগ্রী উপহার’ পৌঁছে দিয়েছে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার: রোববার (২৫ মার্চ) রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় করোনা আক্রান্ত বিভিন্ন পরিবারের কাছে এবং ছিন্নমূল মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান।
এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহীজেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আসান বলেন, গত বছর লকডাউনে প্রত্যকটি শ্রেণি পেশার মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী ভেবেছেন এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবারের লকডাউনেও কর্মহীনদের পাশে প্রধানমন্ত্রী আছেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার পৌর মেয়র ফজলুর রহমান বলেছেন- এ ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকবে। অফিসার শরিফুল ইসলাম ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওইসময় সাথে ছিলেন।প্রতিটি প্যাকেটে রয়েছে চাল, ডাল, আলু, তৈলসহ ১৮ কেজির খাদ্য সামগ্রী।

রায়পুরে খাল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে খালে ভাসমান অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলম (৩২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার হায়দরগঞ্জ বাজার এলাকার বেড়ির বাঁধে খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে জাহাঙ্গীর সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সয়াবিন ক্ষেতে কাজ করেছেন। এরপর বাচ্চাদের সঙ্গে দুষ্টামি করে হাসিখুশি চেহারায় বাড়ি থেকে বের হন তিনি। জাহাঙ্গীর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের চর আবাবিল গ্রামের লাহাড়ী বাড়ির মৃত হোসেন আলী লাহাড়ীর ছেলে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জাহাঙ্গীর সয়াবিন ক্ষেতে কাজ করেছেন। এরপর বাড়ির বাচ্চাদের সঙ্গে দুষ্টামিও করেছেন। হাসিখুশি চেহারায় কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়। বিকেলে খালে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নাজমা বেগম জানান, তার স্বামীর সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা নেই। দুপুরে বাড়িতে বের হয়ে এসেছেন। কেন এমন হলো বুঝতে পারছি না।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর ঘটনা জানা যাবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপবৃত্তির টাকায় হিন্দু ভাই বোনে রোজাদারদের জন্য ইফতার সামগ্রী বিতরণ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ভবানীগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন জায়গায় গরিব, অসহায, খেটে খাওয়া, দিনমজুর মানুষের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন তাপস দাস।

তাপস দাস এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, এবছর করোনা মহামারীতে পুরো দেশ আক্রান্ত তার মাঝে নিরীহ মানুষ গুলো লকডাউনে আরো বেশি বেকায়দায় আছে। ইতোমধ্যে ছোট বোনের কলেজের সরকার কতৃক উপবৃত্তির নাম থাকায় টাকাটা ও চলে আসে গত ২১ এপ্রিল। এছাড়া  মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বছরের ন্যায় এবার ও পবিত্র মাহে রমজানে অসহায়, দিনমজুর, শ্রমিকদের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণের ইচ্ছা পুষন করলে আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে এবার অনেক সংশয়ের মধ্যে ছিলাম। ছোট বোন রুপালী দাস (নুপুর) দাদার এ মহৎ উদ্দ্যেশ্য ও ইচ্ছা কে বাস্তবে রুপ দিতে তাপস দাস কে নুপুর উপবৃত্তির সম্পূর্ন টাকা দিয়ে রমাদান করিম সিয়াম সাধনার মাসে দুস্ত, অসহায় মানুষের ইফতার সামগ্রী বিতরণে দান করে দেন।

মানবসেবা তাপস দাসের মতে এক অনন্য নেশা। সুযোগ পেলেই সমাজের অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিতদের সহায়তায় পাশে দাঁড়িয়ে সাধ্যমত মানবতার সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করে রাখে।

গত শুক্রবার ২৩ এপ্রিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে সকল রোজাদারদের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সহযোগী অরুপ, শাওন, রাজু, সাইফ, এনাম,অমিত, রোমান ও সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ৷

লোহাগাড়ায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২১ পালিত

মো: মিনহাজ উদ্দীন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ ‘খাদ্যের কথা ভাবলে, পুষ্টির কথা ভাবুন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের মত চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায়ও জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২১ পালিত হয়েছে।

রোববার(২৫ এপ্রিল) দিবসটি উপলক্ষে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর রুমে স্বাস্থ্য বিধি মেনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা স্বাস্ব্য প.প কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ হানিফের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মোঃ আহসান হাবীব জিতু।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্হিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ অমিত কুমার নাথসহ হাসপাতালের কর্মরত সকল চিকিৎসক ও কর্মকর্তা কর্মচারীগণ ।

আলোচনা সভা শেষে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে শতাধিক অসহায় দুস্থ মানুষের মাঝে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ করা হয়।

পুরুষ নির্যাতন বিরোধী সোসাইটি আহবায়ক কমিটি মৌলভীবাজারে

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার: এডভোকেট ফজলে এলাহী সেলিমকে আহ্বায়ক ও সাংবাদিক হারুনুর রশিদকে সদস্য সচিব করে ১১সদস্য বিশিষ্ট মৌলভীবাজার জেলার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ পুরুষ নির্যাতন বিরোধী সোসাইটি।

শুক্রবার (২৩এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভার্চ্যুয়ালের মাধ্যমে সংগঠনের প্রতিষ্টাতা সভাপতি মোঃ রাকিবুল ইসলাম শামীম ও সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র রোটারিয়ান জহুরুল ইসলাম তারেকের সাক্ষরিত ও অনুমোদিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন অত্র সংগঠনের প্রচার সম্পাদক ডাঃ মাওঃ আমির উদ্দিন কাশেম।

বাংলাদেশ পুনিবিস মৌলভীবাজার জেলার আহ্বায়ক কমিটিতে যারা স্থান পেলেন তারা হলেন মৌলভীবাজার জেলা জর্জ কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট ফজলে এলাহী সেলিম আহ্বায়ক, ও সাংবাদিক হারুনুর রশিদ, সদস্য সচিব সাংবাদিক এনামুল হক, তাফাজ্জুল আরাবি, কুলাউড়ার ডাঃ মামুন আল বারী, জুড়ি উপজেলার সাংবাদিক জাকির হোসেন, কটার কোনার সাংবাদিক মাওলানা মাহদী হাসান, মোঃ মাহিন মাহি, হাফেজ জামাল আহমদ, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মাওলানা মোঃ মারজান আহমেদ, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সাব্বির আহমদ সদস্য।

বাংলাদেশ পুনিবিস’র প্রচার সম্পাদক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ডাঃ মাওঃ আমির উদ্দিন কাশেম মৌলভীবাজার জেলার নব-নির্বাচিত আহবায়ক কমিটির সকল সদস্যদেরকে বাংলাদেশ পুরুষ নির্যাতন বিরোধী সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আমরা আশা করি আপনাদের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে মৌলভীবাজার জেলা ও তার আওতাধীন সকল উপজেলার জেলার পুর্নাঙ্গ কমিটি উপহার পাবো।
সকলে আন্তরিকতার সাথে সংগঠনের কাজে সাহায্য ও সহযোগিতা দেয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বানও জানান তিনি। সকলের সমন্বয়ে হতে পারে আগামীর সুন্দর পথচলা।

নওগাঁ জেলায় ১ লক্ষ ২ হাজার ৪শ ২৮ জন কৃষককে বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে কৃষি প্রনোদনা হিসেবে বীজ ও সার বিতরন

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলায় ১ লক্ষ ২ হাজার ৪শ ২৮ জন কৃষককে বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে সরকারী প্রনোদনা প্রদান করা হচ্ছে। প্রনোদনা হিসেবে বীজ এবং ডি এ পি সার এবং এম ও পি সার। এসব কৃষকদের মধ্যে জেলা প্রশাসক এবং স্বচস্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সার্বক্ষনিক পরামর্শ অনুযায়ী ফসলভিত্তিক পরিমাণ অনুযায়ী স্থানীয় কৃষি বিভাগের তত্বাবধানে বীজ ও সার বিতরন করা হচ্ছে।

নওগাঁ জেলার কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শামসুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন মোট ৮টি খাতে ২১টি ফসলের অনুকুলে এসব বীজ ও সার বিতরন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

খাতগুলো হচ্ছে মাসকলাই চাষে ৬শ জন কৃষক, শাকসব্জি চাষী ২ হাজার ২শ জন কৃষক, কৃষি পূনর্বাসন কর্মসূচীর আওতায় ৮টি ফসলের আওতায় ৩২ হাজার ৫শ জন কৃষক, কৃষি প্রনোদনা খাতে ৬টি ফসলের আওতায় ২০ হাজার ৪শ জন কৃষক, স্পেশাল পেঁয়াজ প্রনোদনা খাতে ৬শ জন কৃষক, বোরো হাইব্রীড বীজ সহায়তা খাতে ৪৫ হাজার জন কৃষক, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ব্রি কর্ত্তৃপক্ষ প্রদত্ত বীজ সহায়তা খাতে ৭৯৫ জন কৃষক এবং আমন ধানের কমিউনিটি বীজতলা তৈরী খাতে ৩৩৩ জন কৃষক।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শামসুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন প্রনেদাপ্রাপ্ত সকলেই প্রান্তিক চাষী। প্রত্যেককে ১ বিঘা জমির অনুকুলে এই প্রনোদনা প্রদান করা হচ্ছে।

সূত্রমতে, মাসকলাই চাষে ৬শ জন কৃষককে জন প্রতি ৫ কেজি করে বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও ৫ কেজি করে এমওপি সার প্রদান করা হয়।

শাকসব্জি চাষের ক্ষেত্রে ২ হাজার ২শ জন কৃষকের প্রত্যেককে ১ প্যাকেট করে সমন্বিত বীজ প্রদান করা হয়।

কৃষি প্রনর্বাসন কর্মসূচীর আওতায় মোট ৩২ হাজার ৫শ চাষীদের প্রত্যেক সরিষা চাষীদের ১ কেজি করে বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার, গমচাষীদের প্রত্যেককে ২০ কেজি করে বীজ, সূর্যমূখী চাষীদের প্রত্যেককে ১ কেজি করে বীজ, চিনাবাদাম চাষীদের প্রত্যেককে ১০ কেজি করে বীজ, মসুরডাল চাষীদের প্রত্যেককে ৫ কেজি করে বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও ৫ কেজি করে এমওপি সার, খেসারী চাষীদের প্রত্যেককে ৫ কেজি করে বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও ৫ কেজি করে এমওপি সার, টমেটো চাষীদের প্রত্যেককে ৫০ গ্রাম করে বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার এবং মরিচ চাষীদের প্রত্যেককে ৩শ গ্রাম করে বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও ৫ কেজি করে এমওপি সার।

কৃষি প্রনোদনা কর্মসূচীর আওতায় ২০ হাজার ৪শ জন কৃষকের মধ্যে বোরো চাসীদের প্রত্যেককে ১ কেজি করে বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার, গমচাষীদের প্রত্যেককে ২০ কেজি করে বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার, ভুট্টাচাষীদের প্রত্যেককে ২ কেজি করে বীজ, ২০ কেজি করে ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার, সরিষা চাষীদের প্রত্যেককে ১ কেজি করে বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার, সূর্যমুখী চাষীদের প্রত্যেককে ১ কেজি করে বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার, চীনাবাদাম চাষীদের প্রত্যেককে ১০ কেজি করে বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও ৫ কেজি করে এমওপি সার, মুগডাল চাষীদের প্রত্যেককে ৫ কেজি করে বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও ৫ কেজি করে এমওপি সার এবং পেঁয়াজ চাষীদের প্রত্যেককে ২৫০ গ্রাম করে বীজ, ৫ কেজি করে ডিএপি ও ৫ কেজি করে এমওপি সার, ৬শ জন স্পেশাল পেঁয়াজ চাষীদের প্রত্যেককে ৭৫০ গ্রাম করে বীজ, ২০ কেজি করে ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার বিতরন করা হয়।

বোরো হাইব্রীড বীজ সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় জেলার ৪৫ হাজার কৃষকের প্রত্যেককে শুধু ২ কেজি করে বীজ প্রদান করা হয়।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ব্রি কর্ত্তৃক প্রদত্ত ৭৯৫ জন ক্রষকের প্রত্যেককে ৪ কে জি করে বীজ সহায়তা করা হয়। এ ছাড়াও আমন ফসলের জন্য কমিউনিটি বীজতলা তৈরী কর্মসূচীর আওতায় ৩৩৩ জন ক্রষকের প্রত্যেককে ১ বিঘা জমিতে ধান রোপনের প্রয়োজনীয় বীজতলা তৈরী কের দেয়া হয়।

কর্মহীন ৫ হাজার ব্যক্তি পেল আমিনুল ইসলামের ইফতার সামগ্রী

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় চলমান লকডাউনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের উদ্যোগে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার ৫ হাজার কর্মহীন হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে দ্বিতীয় দফায় ইফতার ও সেহেরী সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে ।

শনিবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় সাতকানিয়া উপজেলার বারদোনাস্থ আমিনুল ইসলামের গ্রামের বাড়ী থেকে এ ইফতার ও সেহেরী সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্টানিকভাবে শুরু হয়।

ইফতার বিতরণ অনুষ্টানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী। এতে উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো : শাহজাহান, কার্যনির্বাহী সদস্য নাজিম উদ্দিন, সাতকানিয়া সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নছিমুল করিম সিকদার, ছদাহা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, কাঞ্চনা ইউপি চেয়ারম্যান রমজান আলী, ঢেমশা ইউপি চেয়ারম্যান রিদুয়ান উদ্দিন, সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক এসএম আজিজ, আমিনুল ইসলামের ব্যক্তিগত সচিব মিরান হোসেন মিজান, ছদাহা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, স্থানীয় ইউপি মেম্বার সেলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন ও সাতকানিয়া সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো: এমরান প্রমুখ।

এ সময় কর্মহীন হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণের জন্য সাতকানিয়ার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যানগণের হাতে এসব ইফতার-সেহেরী সামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, দেশে দ্বিতীয় দফা করোনায় দিন দিন আক্রান্ত ও মুত্যেুর মিছিল বাড়ছে। করোনার সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া গ্রামের দিনমজুর, অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি। তাই পবিত্র এ রমজানে দ্বিতীয় দফায় সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার ৫ হাজার কর্মহীন হতদরিদ্রদের মাঝে ইফতার ও সেহেরী সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু করলাম।