শ্রীমঙ্গল উপজেলার ডাঃ অবহেলায় কালীঘাট চা বাগানের পোষ্ট পিয়নের মৃত্যু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার: গত ২৩/০৪/২০২১ইং রোজ শুক্রবার সকাল ১০/৩০ ঘটিকা হইতে কালীঘাট চা বাগানের পোষ্ট অফিসের পিয়ন বাবু মিন্টু তাতী (৬০) কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কারনে কর্মবিরতির কর্মসূচি পালন করেছে পন্ঞায়েত সভাপতি অবান তাতী ও আওয়ামীলীগ কালীঘাট চা বাগানের ৪নং ওয়ার্ডের সভাপতি বাবু হরিচরণ কালোয়ার।

জানা যায় বিগত ২০/০৪/২০২১ ইং তারিখে সাময়িক অসুস্থ হয়ে মিন্টু তাতী বেলী চা শ্রমিক হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত ডাঃ নাদিরা বেগম ৪টা প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দিয়ে বিদায় করে দেন, পরে বিকেলে উনার অবস্থার অবনতি হইলে পুনরায় কয়েকটি ট্যাবলেট দিয়ে সহকারী ডাঃ অমলেস পুরকায়স্থ কে লকডাউন লিখা একখানা বোর্ড সহ পাটিয়ে দেন।

পরবর্তীতে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি ডাঃ নাদিরা বেগম এর সাথে যোগাযোগ করলে বলেন উনার করোনা আপনারা আশেপাশে যাবেন না। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এম্বুলেন্স চাইলে উনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

গত ২২/০২/২০২১ইং তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার কালীঘাট চা বাগানের হরিচরণ কালোয়ার ফোনালাপে বিস্তারিত বললে আমি ততক্ষনাত কালীঘাট চলে আসি, এসে দেখতে পাই উনার অবস্থা আসংকাজনক আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব নজরুল ইসলাম কে ফোন দিলে উনি এম্বুলেন্স পাঠান ও রোগীকে নিয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখার ৩ মিনিটের মধ্যে উনি মারা যান।

শুক্রবার ডাঃ নাদিরা বেগম এর অপসারণ না হলে কালীঘাট চা বাগানের শ্রমিক কর্মবিরতি পালন করবে বলে জানান এবং বিক্ষোভ করেন।

ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালা প্রত্যাখ্যান জবি শিক্ষক সমিতির

যুবায়ের ইবনে জহির, জবি প্রতিনিধিঃ সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদোন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক প্রণীত অভিন্ন নীতিমালা প্রত্যাখ্যান করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (জবিশিস)। একইসঙ্গে এই নীতিমালা প্রণয়নে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।

গেল শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিবৃতিতে তারা বলেন, গত ২৫ মার্চ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদোন্নয়নের যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণের নির্দেশিকা’ দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করে যা আমাদের গোচরীভূত হয়। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন পরিপন্থি ও প্রচলিত আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পথে অন্তরায়।

তাই গত ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় প্রদত্ত সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও আইনের পরিপন্থী হওয়ায় শিক্ষক সমিতি নির্দেশিকাটি গ্রহনযোগ্য নয় বলে মনে করছে এবং তা প্রত্যাখ্যান করছে। শিক্ষকদের স্বতন্ত্র পে-স্কেল প্রণয়ন এবং উচ্চ শিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত বৃত্তিসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

এসময় নীতিমালা ত্রুটিপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত নয় বিধায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি থেকে এ ধরণের নীতিমালা প্রণয়নের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

নওগাঁর ধামইরহাটে মাদকসহ আটক-২

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর ধামইরহাটে দুই বোতল ফেন্সিডিলসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গেল বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় উপজেলার কালুপাড়া বর্ডার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এই ঘটনায় ইয়ামাহা ফ্রেজার ১৫০ সিসি একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

আটকরা হলেন- নওগাঁ শহরের আরজী নওগাঁ (লাটাপাড়া) মহল্লার আবুল কালাম আজাদ এর ছেলে মাহবুব আলম রানা এবং শহরের ঘোষপাড়া মহল্লার সমরেশ কুমার এর ছেলে সঞ্জয় কুমার দাস (জয়)।

জানা গেছে, মাহবুব আলম রানা একজন মাদকসেবী। নিজেকে একটি পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার পরিচয় দিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে চৌসে বেড়ান। মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। মাহবুব আলম রানা মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে। ইতোপূর্বে একাধিকবার পুলিশ তাকে মাদকসহ আটক করেছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক ও ছিনতাইয়ের মামলায় রয়েছে। একাধিকবার হাজতবাস করেছে রানা।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় মাহবুব আলম রানা ও সঞ্জয় কুমার দাস জয় ফেন্সিডিল বহন করে নিয়ে উপজেলার রুপনারায়নপুর থেকে শল্পী বাজারের দিকে আসার পথে পুলিশ তাদের আটক করে।

ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মমিন বলেন, তারা সীমান্তের দিক থেকে ফেন্সিডিল বিক্রয়ের উদ্যেশ্যে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল। গোপন সংবাদে পুলিশ তাদের আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।পরে শুক্রবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ধান কাটা উৎসব

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, ছাত্র, জনতা ও রাজনৈতিক কর্মীরা মিলে হাইল হাওরে কৃষকের বোরো ধান কেটে দিয়েছেন। গেল বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকালে উপজেলার হাইল হাওরের কালাপুর ইউপি বরুনা গ্রামে এই ধান কাটা হয়।

ধান কাটায় যোগ দেন উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের ১৯ জন কর্মকর্তা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫০ জন শিক্ষক ও দপ্তরি, ৩০ জন ছাত্রলীগ কর্মী, সবুজবাগ ম্যারাথন গ্রুপের ১২ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয় চা সংসদের ৯ জন, উদ্ধীপ্ত তারুন্য সংঘঠনের ৭ জন ও স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা।

চলতি সপ্তাহে সিলেট অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনা থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গতকাল বুধবার (২১ এপ্রিল) উপজেলা প্রশাসনের ফেইসবুক পেইজে স্বেচ্ছাশ্রমে হাওরে কৃষকের ধান কেটে দেয়ার আহব্বান জানান।

উপজেলা প্রশাসনের ডাকেই সাড়া দিয়ে সবাই মিলে ধান কাটা উৎসবে নেমে পরেন। তারা বরুনা গ্রামের কৃষক রুবেল মিয়ার আড়াই কেয়ার ও জসিম উদ্দিনের দেড় কেয়ার ধান কেটে দেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি জানান, এবছর উপজেলায় ৯৬৫২ হেক্টর জমিতে বোর ধানের আবাদ হয়েছে। এরমধ্য ২৭২৭ হেক্টর জমি হাওরের নিম্নাঞ্চলে।

ইতিমধ্য ২০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। আর ও ২০ শতাংশ ধান কেটে ফেলতে পারলে আমাদের কোন প্রাকৃতিক ঝুঁকি থাকবে না।

কৃষক রুবেল মিয়া জানান, তিনি শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে পারছিলেন না। এই ধান কাটাতে তার পাঁচ হাজার টাকা খরচ হতো।

জসিম উদ্দিন জানান, দুর্যোগের পূর্বাভাস জেনে তিনি খুব চিন্তায় ছিলেন। তার জমির ধান কেটে দেয়ায় তিনি এখন নিশ্চিন্ত ও আনন্দিত।

বিশ্ববিদ্যালয় চা সংসদের সভাপতি মনোজ কুমার যাদব বলেন, উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পোষ্ট দেখে আমরা ইউএনও স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। কৃষকের ধান কেটে দিতে পারায় আমাদের খুব ভাল লাগছে।

আমাদের এ অঞ্চলের বোরো ফসল যদি বন্যার পানিতে ডুবে যায় তা হলে উৎপাদনের ২৫ শতাংশ ধান ক্ষতি হবে।

উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা আবহাওয়া অফিস থেকে তথ্য পেলাম সিলেট অঞ্চলে ২১ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে হাওর অঞ্চলে বর্ন্যা হয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যে হাওর অঞ্চলে ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে। যদি বন্যা হয় তাহলে সব ধান পানিতে তলিয়ে যাবে। এতে কৃষকদের যেমন ক্ষতি হবে, ঠিক তেমনি আমাদেরও ক্ষতি হবে। কারন পাকা ধান থেকে চাল হয়েই আমাদের আহার ও খাদ্যের যোগান দেয়। মূলত এজন্যই আমরা সেচ্চাশ্রমে কৃষকের ধান কেটে দেয়ার উদ্দ্যোগ নেই ও সকলের সাড়া মিলে কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছি।

দিন দুপুরে কয়েক লাখ টাকা ছিনতাই

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার শহরের কুসুমবাগ এলাকায় থেকে রিপন দেব নাথ (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করে ৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে ছিনতাইকারীরা।

বুধবার ২১ এপ্রিল সকাল ১১ টার দিকে কুসুমবাগ এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। রিপন দেব নাথ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২নং গিয়াসনগর ইউনিয়নের ভুজবল গ্রামের নীলমনি দেব নাথের ছেলে।

রিপন দেব নাথ বলেন সকালে তার মালিকানাধিন সমশেরগঞ্জ বাজারে অবস্থিত রেডিএন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন কিনার জন্য মৌলভীবাজার শহরের কুসুমবাগ শপিং সিটিতে অবস্থিত সিটি ব্যাংকে ৪ লক্ষ টাকা জমা দিতে যাই।

হঠাৎ একটি মোটরসাইকেলে ছিনতাইকারিরা এসে তাদের হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে তাঁর হাতে রাখা টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পরে আশেপাশের লোকজন রিপনকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) ইয়াসিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে আমারা তদন্ত করছি এবং যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অন্যায়কারী সে যেই হোক আইনের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

 

সাংবাদিক তানভীরের পিতাকে মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা!

মোঃ আমিন আহমেদ, সিলেটঃ বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সুলেমানপুর গ্রামে ৩৫ করছ গাছ কাটার অভিযোগে মামলা নেয় নি বনবিভাগ। সংবাদ প্রকাশ করায় গাছ কাটায় অভিযুক্ত সুলেমানপুর গ্রামের আক্তারুজ্জামান আলম ও বশির মিয়া ক্ষেপে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক তানভীর আহমেদের পিতা দিলোয়ার হোসেন কে গাছ কাটার মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন মাধ্যমে দিচ্ছে হুমকিও।

বৃহস্পতিবার ২২ই এপ্রিল বনবিভাগের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের সাথে সাংবাদিক তানভীর আহমেদ ফোনে আলাপ করলে তিনি বলেন যে, গাছ কাটায় স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজ মেম্বারের সাথে সাংবাদিক তানভীরের পিতাও ছিলো বলে অভিযোগ করছে গাছ কাটার অভিযুক্তরা। সাংবাদিক তানভীর আহমেদ জাতীয় দৈনিক পর্যবেক্ষণ পত্রিকার তাহিরপুর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। তিনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সুলেমানপুর (বড়বাড়ি) গ্রামের মোঃ দিলোয়ার হোসেনের প্রথম পুত্র।

জানা যায়, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সুলেমানপুর গ্রাম সংলগ্ন কবরস্থানের পাশে ৩৫ টি করছ গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে সুলেমানপুর গ্রামের আক্তারুজ্জামান আলম ও বশির মিয়ার বিরোদ্ধে। গত বুধবার ১৪ই এপ্রিল ২০২১ইং সকাল ১০ ঘটিকায় কবরস্থানের পাশের করছ গাছ গুলো আক্তারুজ্জামান আলমের নির্দেশনায় বশির মিয়ার পরিচালনাধীন গাছ গুলো কাটা হয়। বন বিভাগ কে না বলেই ক্ষমতার বলে প্রশাসন কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গাছ গুলো কেটে ফেলা হয়। পরে স্থানীয়রা বনবিভাগের কর্মকর্তা কে বিষয়টি জানায়। পরে বনবিভাগের কর্মকর্তা সরেজমিন এসে গাছ গুলো স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রেখে যান। জিম্মায় রাখার পর স্থানীয়দের কাছে বলরছেন পরিবেশের আইনে তাদের বিরোদ্ধে মামলা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয় কয়েকজন জানান বর্তমানে বিষয়টি দামা ছাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এবিষয়ে উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান,এটা রেকর্ড করে নিয়ে আসছি এটা মামলা হয়ে যাবে। গাছ কাটা পরিবেশের আইনে অপরাধ, এটা পরিবেশের আইনে মামলা হবে।

এ বিষয়ে সাংবাদিক তানভীর আহমেদের সাথে কথা বললে জানায়, আমি পহেলা বৈশাখ কবরস্থানের পাশ দিয়ে সুলেমানপুর বাজারে যাচ্ছি এমতাবস্থায় দেখি বশির মিয়ার নেতৃত্বে কবরস্থানের গাছ গুলো কাটা হচ্ছে। পরে আমি উপজেলার বনবিভাগের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন কে জানাই। পরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।স্থানীয় অদুদ মিয়ার সাক্ষী ও ইউপি সদস্যের জিম্মায় গাছ গুলো রেখে জান। এখন ঘটনার ৭দিন পার হলে বনবিভাগের কর্মকর্তা কে ফোন করলে তিনি বলেন যে অভিযুক্তরা অভিযোগ করতেছে আমার পিতাও গাছ কাটার সাথে জড়িত। কিন্তু এ গাছ কাটার বিষয়ে আমি, আমার পিতা বা আমার পরিবার জড়িত নয়। সংবাদ প্রকাশ করায় আমার পরিবারকে ফাঁসানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি আইনের সুদৃষ্টি কামনা করি। কিন্তুু উক্ত ঘটনার সাত দিন পেড়িয়ে গেলেও অভিযুক্ত আক্তারুজ্জামান আলম ও বশির মিয়া নামে মামলা নেয়নি বনবিভাগ।

রানীনগরে যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুকে নির্যাতন; ৯৯৯ ফোন দিয়ে উদ্ধার

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর রানীনগরে যৌতুকের দাবীতে নির্যাতনের ঘটনায় ‘জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯’ এ ফোন দিয়ে এক গৃহবধুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গেল মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) উপজেলার পারইল ইউনিয়নের করজগ্রাম থেকে সুরাইয়া বানু শিখা (২৪) ও তার মেয়েকে উদ্ধার করা হয়। তার বাবার বাড়ি একই ইউনিয়নের বড়গাছা গ্রামে।

গতকাল বুধবার দুপুরে (২১এপ্রিল) এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর বড় ভাই আবু সিফাত তার বোনের স্বামী, শশুর, শ্বাশুড়ি ও স্বামীর বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত চার বছর আগে উপজেলার করজগ্রাম গ্রামের সখিন আলী ছেলে রুবেল হোসেন এর সঙ্গে বড়গাছা গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের মেয়ে সুরাইয়া বানু শিখার সঙ্গে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ ২লাখ টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র দেওয়া হয়। এরই মধ্যে তাদের সংসারে সাত মায়ের মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পর থেকে রুবেল হোসেন সাত লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে বিভিন্ন সময় শিখার ওপর নির্যাতন করত। এছাড়া রুবেল হোসেন মোবাইলে বিভিন্ন মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রেম করে বলেও অভিযোগ করা হয়।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে গৃহবধু শিখা তার ভাইকে মোবাইলে ফোনে জানায় তাকে আবারও শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এছাড়া শশুরের সহযোগীতায় শ্বাশুড়ি রোকেয়া ও ভাসুর রফিকুল হোসেন হাত-পা ধরে এবং স্বামী রুবেল হাসুয়া দিয়ে তাকে জবাই করে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। তার ডাক চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর গৃহবধুর বড় ভাই আবু সিফাত ‘জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯’ নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশের সহযোগীতায় তার বোন ও ভাগ্নীকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রুবেল হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ন বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমাকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে ও পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানো চেষ্টা করা হচ্ছে।

রানীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুবেল হোসেন বলেন, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে যেতে চান। এরপর তার স্বামীর (রুবেল হোসেন)
কাছে জানতে চাই- তোমার স্ত্রীতো চলে যেতে চাই। উত্তরে সে বলে যাক। পরে গৃহবধু তার ভাইয়ের সঙ্গে চলে যান। তাদেরকে থানায় গিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন আকন্দ বলেন, এ ব্যাপরে থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চট্টগ্রামে রেড জোন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারনে চকবাজার থানার ওসি বদলি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ  বুধবার (২১ এপ্রিল) নগর পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর এক আদেশে চকবাজার থানার ওসিকে সরিয়ে দেন। তার স্থলে পদায়ন করেন পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আলমগীরকে। এছাড়া চকবাজার থানার ওসিকে পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের পরিদর্শক (অপারেশন) পদে পদায়ন করা হয়।

চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার একটি এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে গত সোমবার (১৯ এপ্রিল) সকালে একটি ব্যানার সাঁটিয়ে দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকারসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানাজানি হলে পুলিশের রেড জোন ঘোষণা নিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। এরপর একই দিন বিকেলে পুলিশ রেড জোন লিখিত ব্যানারটি সরিয়ে সেখানে উচ্চ সংক্রমণশীল এলাকা লিখিত আরেকটি ব্যানার সাঁটিয়ে দেন।

তবে বদলির বিষয়ে নগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের উপ-কমিশনার বিজয় বসাক বলেন, নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে চকবাজার থানার ওসিকে বদল করা হয়েছে।

পুলিশের রেড জোনের বিষয়টি জানতে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সচিব ডা. সেখ ফজলে রাব্বির কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে  বলেন, জেলায় একটা করোনা প্রতিরোধ কমিটি আছে। নিয়মানুযায়ী ওই কমিটির বৈঠকে উচ্চ সংক্রমণশীল এলাকা চিহ্নিত করা হয়। তারপর ওই এলাকাকে রেডজোন হিসেবে বাস্তবায়ন করা হয়। গতবারেও আমরা এলাকা চিহ্নিত করেছি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ সেটির বাস্তবায়ন করেছে। তবে এবারে এখন পর্যন্ত রেড জোনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি। পুলিশের রেড জোন ঘোষণার বিষয়টি আমরা জানি না। তবে কয়েকদিন আগে নগর পুলিশ আমাদের কাছ থেকে করোনা আক্রান্তের ডাটা নিয়েছিল। সম্ভবত ওইটার ভিত্তিতে তারা কিছু একটা করেছে।

সিলেটে আবার ও সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় ফাসাঁনোর হুমকি দিল-বেপরোয়া পলিথিন বিক্রেতা টোকেন নুরুল!

মোঃ আমিন আহমেদ, সিলেটঃ সিলেটে কঠোর লকডাউনের মধ্যে বন্ধ হয়নি শীর্ষ চাঁদাবাজ নুরুলের টোকেন বাণিজ্য। লকডাউন ও সকল নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে সিলেট জেলার জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট সড়কে প্রায় তিন হাজার অবৈধ রেজিস্ট্রেশন বিহীন (নম্বর বিহীন) সিএনজি চালিত অটোরিক্সা নুরুলের বিশেষ টোকেনের মাধ্যমে দেদারছে চলাচল করছে।

চাঁদাবাজ টোকেন নুরুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিউজ করায় অনুসন্ধান মূলক জাতীয় পত্রিকা অগ্রযাত্রার স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ও ক্রাইম সিলেট পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক মোঃ রায়হান হোসেন মান্নাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা ও প্রাণ নাশের হুমকি দেয় চাঁদাবাজ টোকেন নুরুল। পরে জনৈক সাংবাদিক নিজের নিরাপত্তা চেয়ে অদ্য ২০ এপ্রিল ২০২১ ইং তারিখে শাহপরাণ (রহঃ) থানায় সাধারণ ডায়রী করেন। যাহার ডায়রী নং ৯৪৫।

সাধারণ ডায়রী সুত্রে জানা গেছে, চলমান কঠোর লকডাউনের সোমবার গত (১৯ এপ্রিল) বটেশ্বর সদর শেষ সীমান্তে সিএনজি চালিত অটোরিক্সাসহ সকল ধরণের যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন এসএমপির ট্রাফিক পুলিশ। তখন জৈন্তাপুর থানার বালিপাড়া গ্রামের আব্দুল মনাফ উরফে গাছ মনাফের ছেলে তামাবিল মহাসড়কের টোকেন বানিজ্যর মূল হোতা নুরুল হকের টোকেনে চালিত কয়েকটি নম্বরবিহীন সিএনজি আটক করা হয়। অভিযান চলাকালীন সময়ে মোঃ রায়হান হোসেন মান্না ও সুরমা মেইল এবং দৈনিক পৃথিবীর কথা পত্রিকার সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের জন্য দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্টদের সাথে আলাপ করেন। ওই সময়ে আটককৃত নম্বরবিহীন সিএনজি গাড়ি গুলো ছাড়িয়ে নিতে বর্ণিত স্থানে উপস্থিত হয় টোকেন নুরুল। এক পর্যায়ে টোকেন নুরুল সাংবাদিকদের কর্তব্য কাজে বাঁধা প্রধান করে। এমনকি ডিউটিরত পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকদের সামনে আমাকে মারার জন্য ধাওয়া করে এর পর ডিউটিরত পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকদের একান্ত সহযোগিতায় সাংবাদিক মোঃ রায়হান হোসেন মান্না টোকেন নুরুল হকের হাত থেকে রক্ষা পান। ক্ষিপ্ত টোকেন নুরুল সাংবাদিক মোঃ রায়হান হোসেন মান্নাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি প্রধান করে শাসিয়ে যায়। যাহার ভিডিও ডকুমেন্টস সাংবাদিকদের কাছে সংগ্রহকৃত আছে।

ডায়রী সুত্রে আরো জানা গেছে, প্রকাশ থাকা আবশ্যক যে বিগত দিনে সাংবাদিক মোঃ রায়হান হোসেন মান্না এই টোকেন সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয় দৈনিক ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকা সহ বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় একাধিক নিউজ প্রকাশ করে থাকেন। সেই সময় থেকে নিউজ প্রকাশের জের-ধরে উনাকে বিগত দিনে এরকম প্রাণে মারার হুমকি-ধামকি প্রধান করিলে বিগত ০১/১১/২০২০ ইং তারিখে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে ওই টোকেন চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। টোকেন নুরুল হকের এহেন হুমকিতে উনার পরিবার সহ উনার ক্ষতিসহ প্রাণনাশের আশাঙ্কা রয়েছে।

অজ্ঞাত নারীর মৃত দেহ উদ্ধার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলাঃ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের উপজেলার চা বাগান থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। বুধবার (২১ এপ্রিল) সকালে শ্রীমঙ্গলের মৃত্তিঙ্গা চা বাগানের ১৭ নম্বর সেকশন থেকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) হুমায়ুন কবিরসহ শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ এবং পুলিশ ইনভেস্টিগেসন ব্যুরো (পিবিআই)। অজ্ঞাত ঐ নারীর কোন নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি তবে আনুমানিক ২২ বছর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার (তদন্ত) হুমায়ুন কবির জানান, মৃত্তিঙ্গা বাগানে যুবতী নারীর লাশ পড়ে আছে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। এসময় পিবিআই টিমও আমাদের সাথে ছিলেন। আমরা অজ্ঞাত যুবতী নারীর মৃত দেহ সনাক্ত করার জন্য এলাকাবাসীর সাহায্য নেই কিন্তু মৃত নারীকে সনাক্ত করতে পারেনি এলাকাবাসীর কোন বাসিন্দা।

পরে সুরতহাল প্রতিবেদন রেখে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে প্রেরন করি। অজ্ঞাত পরিচয়হীন যুবতী নারীর মৃত্যুর জন্য শ্রীমঙ্গল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।