নীলফামারীর ডোমারে আগুনে পুড়ে ভিক্ষুকের মৃত্যু

মোঃ মোশফিকুর ইসলাম, নীলফামারীঃ নীলফামারীর ডোমারে ভিক্ষুকের ঝুপড়ি ঘরে আগুন লেগে জবেদা খাতুন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ডোমার প্রেস ক্লাব সংলগ্ন রেললাইনের ধারে জবেদা খাতুন এর ঘরে আগুন লাগে। ডোমার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ডোমার  থানা পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার  করে। সকালে ময়না তদন্তের জন্য লাশ জেলা মর্গে পাঠানো হবে।
ডোমার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর (ভারপ্রাপ্ত) স্টেশন অফিসার শাহাজান আলী জানান, মশার কয়েল থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল, থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান।
পৌর কাউন্সিলর আখতারুজ্জামান সুমন  জানান, ওই ভিক্ষুক রেললাইনের ধারে একটি ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত বসবাস করছে।

কুবির নিরাপত্তাকর্মীদেরই নিরাপত্তা নেই

মনসুর আলম অন্তর, কুবিঃ করোনার অভিঘাতে গেলবছরের মার্চে বন্ধ হয়ে যায় দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরকার ঘোষিত নির্দেশনা মোতাবেক বন্ধ রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ছুটিতে রয়েছে, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই।কিন্তু ফাঁকা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রক্ষীদের মেলেনি ছুটি। করোনাকালীন তারা পায়নি কোন স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী।

খোজঁ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে করোনার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেলে বন্ধ হয়ে যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই বাড়ি ফিরে যাওয়ায় জনমানবশূন্য ক্যাম্পাসে দেখা দেয় নিরাপত্তাহীনতা। তাই ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩১ জন সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্থ নিরাপত্তা প্রহরী ২৩ জন নিরাপত্তাকর্মীর ছুটি মেলেনি।

জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও তারা পায়নি কোন নিরাপত্তা সুরক্ষা সামগ্রী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শুরুতে মাস্ক, গ্লাভস, হ্যান্ড সেনিটাইজার দেওয়ার কথা থাকলেও এক বছরেও পায়নি করোনা সুরক্ষা সামগ্রী। এসময়ে অনেকে ওভার টাইম দায়িত্ব পালন করলেও মেলেনা ওভার টাইম ভাতা। এছাড়া পুরো ১ বছর করোনাকালীন সময়ে দায়িত্ব পালন করলেও আনসার সদস্যরা পায়নি ঝুকিঁভাতা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিরাপত্তাকর্মীরা।

কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে। তারা বলেন, ক্যাম্পাস বন্ধের সাথে সাথে সবাই বাড়ি ফিরলেও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকায় তা আমরা যেতে পারিনি। আমরা ছোট চাকুরি করতে পারি, কিন্তু দায়িত্ব অনেক বড়। আপনারা চলে গেলেও আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। কিন্তু গত এক বছরের অধিক সময় ধরে করোনায় জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে কাজ করছি আমরা। তবুও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের জীবনের সুরক্ষার জন্য মাস্ক, গ্লাভসের হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করেনি। আমরা অল্প বেতনের চাকরি করি। প্রতিদিন এগুলা কিনা ব্যবহার করা তো সম্ভব হয়না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথমদিকের লকডাউনে সুরক্ষা সামগ্রী দেয়ার কথা বলেছিল অথচ তা আমরা এখনো পায়নি। এবিষয়ে কেউ কখনো কথাও বলেনি আমাদের সাথে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আনসার সদস্য বলেন, শুরুতে মাস্ক, স্যানিটাইজার দেয়া হয়েছিল। পরে আর দেওয়া হয়নি। আমরা নিজেরা মাস্ক কিনে ব্যবহার করি।

বিশ্ববিদ্যালয় আনসার প্লাটুনের কমান্ডার আজিজুর রহমান বলেন, পূর্বে এগুলো দেওয়া হয়েছে কিনা জানিনা। তবে আমি আসার পরে দেওয়া হয়নি। তবে গতকাল একটা সভা হয়েছে নিরাপত্তা শাখার স্যারের সাথে, সেখানে সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়ার জন্য সিকিউরিটি অফিসারেরা প্রশাসনকে বলছে। তবে কোনকিছু দেওয়া হয় নাই, দিবে বলে কোন আশ্বাসও দেয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, আমি যতটুকু জানি নিরাপত্তা প্রহরীদের সেরকম কিছু দেওয়া হয়নি। শুরু থেকে দিবে বলছিল তবে দেয়নি। আমাদের পরিষদ থেকে আবেদন করব আবার।

এবিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপত্তা শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মো. ছাদেক হোসেন মজুমদার বলেন, নিরাপত্তাকর্মীদের সুরক্ষা সামগ্রী একেবারে দিয়নি বললে ভুল হবে। আমরা এক দুই বার দিয়েছে, তবে সেটা নিয়মিত দিতে পারি নি। আমরা নতুনভাবে আবার মাস্ক, স্যানিটাইজার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওভার টাইম করার পরও কেন প্রহরীরা ওভার টাইম ভাতা পাচ্ছেনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওভারটাইম নিয়ে একটু সমস্যা আছে। এখন ঘন্টা অনুপাতে টাকা দেওয়া হবে। যেহেতু আগের নিয়মে পেমেন্ট করা সম্ভব হচ্ছেনা, তাই একটু দেরি হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট আবেদন করা আছে, প্রশাসন অনুমোধন করলে তারা একসাথে টাকা নিতে পারবে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, সিকিউরিটি অফিসার কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী কিনে দিতে, তবে তারা তা কিনেছেন কিনা নিশ্চিত নয়। নিরাপত্তা যেহেতু জরুরি সেবার মধ্যে একটি অবশ্যই তাদের মাস্ক, স্যানিটাইজার প্রয়োজন। ওভার টাইমের টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আগে নিয়মবহির্ভূত ভাবে বেসিক হিসাবে ওভারটাইম দেয়া হতো, কিন্তু ইউজিসি সহ বেশীর ভাগ অফিস ঘন্টা হিসাবে দেওয়া হবে। তারা দাবি জানিয়েছে সে বিষয়ে উপাচার্যের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নওগাঁ জেলায় চলতি বোরো মওসুমের ধান কাটা শুরু, ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯২ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের প্রত্যাশা

একে এম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: উদ্বৃত্ত ধান উৎপাদনের জেলা নওগাঁয় চলতি মওসুৃমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে এ বছর জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারন অধিপ্তর নওগাঁ’র উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শামসুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন বর্তমানে জেলার আত্রাই, রানীনগর উপজেলায় এবং সদর উপজেলার দক্ষিনে বিলাঞ্চলে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এসব এলাকার কর্ত্তৃনকৃত ধানের হিসেবে প্রতি হেক্টরে চালের আকারে ৪ দশমিক ২০ মেট্রিক টন ফলনের প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ। আর আগামী ১০ দিনের মধ্যে জেলায় পুরোদমে ধান কর্ত্তন শুরু হবে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

কৃষি বিভাগের সুত্র অনুযায়ী এ বছর জেলায় মোট ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৭শ ৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৭ হাজার ৯শ ৯০ হেক্টর, রানীনগর উপজেলায় ১৮ হাজার ৮শ হেক্টর, আত্রাই উপজেলায় ১৮ হাজার ৪শ হেক্টর, বদলগাছি উপজেলায় ১১ হাজার ৭শ ৫০ হেক্টর, মহাদেবপুর উপজেলায় ২৮ হাজার ৩শ ৭০ হেক্টর, পত্নীতলা উপজেলায় ১৯ হাজার ৬শ ৫০ মেট্রিক টন, ধামইরহাট উপজেলায় ১৮ হাজার ৬শ ৫ হেক্টর, সাপাহার উপজেলায় ৫ হাজার ২শ ৩০ হেক্টর, পোরশা উপজেলায় ৮ হাজার ৫০ হেক্টর, মান্দা উপজেলায় ১৯ হাজার ৯শ ৩০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ২০ হাজার ৯শ ৮৫
হেক্টর।

জেলায় চলতি বছর উন্নত ফলনশীল জাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসেবে জিরাশাইল, ব্রি ধান-২৮, ব্রিধান-২৯, ব্রিধান-৮১, ব্রি ধান-৫৮, কাটারীভোগসহ প্রায় ২৬ জাতের ধান চাষ করেছেন। অপরদিকে হাইব্রীড জাতের মধ্যে তেজ, এস এল-৮ এইচ, হিরনা-২,
হিরা-৬ ও ঝলকসহ প্রায় ২৮ জাতের ধান চাষ করেছেন।

কৃষি বিভাগের সুত্র মতে, হেক্টর প্রতি ৪ দশমিক ২০ মেট্রিক টন হিসেবে এ বছর জেলায় মোট ৭ লক্ষ ৮৮ হাজার ৫শ ৯২ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হবে বলে প্রত্যাশা করা যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানিয়েছেন জেলার পুরো ধান কর্ত্তন করতে মোট ৪ লাখ ২৫ হাজার ৪০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন। নওগাঁ জেলায় স্থানীয়ভাবে শ্রমিক রয়েছেন ৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ১শ ৮৫ জন। ঘাটতি ৭৮ হাজার ৮শ ৫৫ জন শ্রমিক অন্য
জেলা থেকে নিয়ে আসতে হবে।

লকডাউনের এই পরিস্থিতিতে শ্রমিক সংকট হবে কিনা এ ব্যপারে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল ওয়াদুদ জানান ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সাথে পরামর্শ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ তাঁদের স্ব স্ব উপজেলায় শ্রমিকরে চাহিদাপত্র প্রেরন করছেন। চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক দেশের অন্যান্য জেলা থেকে আনয়নের পদক্ষেপ ইতিমধ্যে প্রহণ করা হয়েছে। ধান কর্ত্তনের জন্য শ্রমিক সংকট হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

হেফাজত ইসলাম কমিটি গঠনে বাঁধা দিলে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের উপর হামলা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কালাপুর গ্রামবাসী প্রত্যেক দিনের মত গত ১৬ এপ্রিল নামায আদায় করতে মসজিদে আসেন। কিন্তু জুম্মা দিন সব সময়ের অধিক মুসল্লি উপস্থিতি ঘটবে জেনে শুনে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহজালাল জামে মসজিদে নামাজ শেষে খুতবার পূর্বে হেফাজত ইসলামের কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে নাশকতা বিশৃঙ্খলা ঘটে এমন কর্মকান্ডের পরিকল্পনার আলোচনায় বাঁধা হয়ে দাঁড়ান শামীম নামে এক যুবক। বাঁধা দিয়ে সময়ক্ষেপন হয়নি চলে বেধড়ক মারধর।

তথ্য সূত্রের বরাতে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এম এ মনিরের সন্তান যুবলীগ কর্মী শামীম আহমেদ।

এ ব্যাপারে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মসজিদের ভিতরে হেফাজত ইসলামের কমিটি নিয়ে শামীম আহমদের সাথে কথা কাটাকাটি একপর্যায়ে নামাজ শেষে উৎ-পেতে থাকা বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

পরে মসজিদে নামাজে আসা ও এলাকাবাসী মুসল্লিদের সহযোগিতায় যুবলীগ কর্মী শামীমকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ সম্পর্কে মসজিদের মোয়াজ্জেম গোলাম মোস্তফা (৬৫) কে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে পাওয়া যায়নি।

শামীম আহমেদ বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশ তদন্ত করে তার সত্যতা পাওয়া যায় বলে তদন্ত অছি হুমায়ুন কবির তা নিশ্চিত করেন। আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রাণীশংকৈলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ জনকে জরিমানা

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে গতকাল সোমবার (১৯ এপ্রিল) চলমান করোনা ভাইরাস রোধে সরকারি নিষেধ অমান্যকরে লকডাউনের সময় দোকান পাট খোলা রাখায় ৫ দোকানদারকে ও মাস্ক ব্যাবহার না করার অপরাধে ১ জন গাড়ি চালকসহ ৬ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়।

এ উপলক্ষে এদিন বিকালে পৌর শহরে অভিযান চালিয়ে ৫ টি দোকানে ও একজন চালককে মাস্ক না পরায় ৬ টি মামলায় ৩৬০০ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ।

পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে গরীর ,অসহায় ও প্রতিবন্ধী পথচারীদের মাঝে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ।

এ সময় ইউএনও অফিসের কর্মচারি, আনসার সদস্য ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

গৃহহীনদের জমি দখল করে মাদকের স্বর্গরাজ্য তৈরি

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সরকারী ভুমি দখল করে গৃহ নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবৈধ নির্মিত গৃহে প্রতিদিন অবৈধ মাদক সেবনের আখড়া বসার পাশাপশি মাদক বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়,উপজেলার শ্রীমঙ্গল-শমসেরনগর সড়কের কমলগঞ্জ থানা থেকে প্রায় ৬শ গজ পশ্চিমে ধলাই ব্রীজের পার্শ্বে সরকারী জমিতে অস্থায়ী গৃহ নির্মান করেন ও কিছু অসাধু  ব্যক্তিবর্গ। অস্থায়ী গৃহ নির্মাণকারী ভূমিহীন বলে আবেদন করেই অবৈধভাবে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অস্থায়ী ভাবে গৃহ নির্মাণ করে। সেই গৃহে প্রায় প্রতিদিনই মাদক সেবনের জমজমাট আখড়া বসে।
এছাড়া এখান থেকে মাদক বিক্রি সহ নানান অপকর্ম  করা হয়ে থাকে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা মাদকসেবীদের উৎপাতে অতিষ্ট হয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে ও অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে কোন রকম ব্যবস্থা নেয়া যায়নি।
এই বিষয় জানতে চাইলে  কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাসরিন চৌধুরী বলেন, তিনি এই বিষয় জানতেন না, এখন জানতে পারলাম যখন অবশ্যই এই অপরাধ মূলক বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা প্রদান করেন।

নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের কৃষকের কাটছে না আতঙ্ক, তড়িঘড়ি করে বাঁধের সংস্কার কাজ

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের মাঠে মাঠে সবুজের সমারোহ।কৃষকের মূখে ছিল হাঁসির ঝিলিক।কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল গরম হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে।তড়িগড়ি করে হাওরাঞ্চলে ফসলরক্ষা বাঁধের সংস্কার কাজ করা হয়েছে।বাঁধ সংস্কার কাজে রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ।ফসলহানীর আশংকায় হাওরপাড়ের কৃষকরা কাঁচা পাকা ধান কেটে ঘরে তুলছেন।

নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার খালিয়াজুরী, মদন, মোহনগঞ্জ হাওরাঞ্চল।এছাড়া কলমাকান্দা ও বারহাট্টা উপজেলায় আংশিক এলাকা হাওরাঞ্চল রয়েছে।এসব হাওরের সারা বছরের একমাত্র ফসল বোরো।জেলায় ছোট বড় ১৩৪টি হাওর রয়েছে।এর মধ্যে খালিয়াজুরীতেই আছে ৮৯টি হাওর।হাওরাঞ্চলে ৩১০ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্তায়ী) বাঁধ।বাঁধের ওপর স্থানীয় কৃষকদের ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো ফসলের আবাদ নির্ভর করে।এবার জেলায় ফসল রক্ষার জন্য ১৬১টি পিআইসির গঠন করা হয়।এর মধ্যে কলমাকান্দায় ৯টি, বারহাট্টায় তিনটি, আটপাড়ায় একটি, মদনে ২৪টি, মোহনগঞ্জে ১৮টি ও খালিয়াজুরীতে ১০৬টি পিআইসি আছে।ওই সমস্ত পিআইসিগুলোর আওতায় ১৪৬ দশমিক ৬ কিলোমিটার বাঁধে মাটি কাটার কাজ করা হয়েছে।ওই সমস্ত প্রকল্পের বেশীরভাগ কাজ করছেন স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাকর্মী, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং তাদের লোকজন।বিলম্বে কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের পর শেষের দিকে তড়িগড়ি করে কাজ শেষ করেন তারা।এতে করে বৃষ্টি হলে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, মদন উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ ঘুরে দেখা গেছে, ওই সমস্ত বাঁধে মাটি কাটা হলেও কোনটিতে নিয়মত ড্রেসিং করা হয়নি।আবার কোনটিতে মাটি দেয়া হয়েছে কম।মাটি ধরে রাখার জন্য ঠিকমত দুবরা ঘাস লাগানো হয়নি।বাঁধের নীচ থেকে বোকো দিয়ে মাটি কেটে বাঁধে দেওয়া হয়েছে।বাঁধের বিভিন্ন স্থানে মাটির পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে বালি।খালিয়াজুরীর মেন্দিপুর ইউনিয়নের ঢালার হাওরের কাজ সম্পন্ন হয়নি। অনেকটা জায়াগয় মাটি ফেলা হয়নি।এতে করে হাওরে পানি প্রবেশ করলে ওই বাঁধের আওতায় জগন্নাথপুর, মেন্দিপুর, রসুলপুর, ইসলামপুরের বিস্তৃর্ণ এলাকার ফসলের ক্ষতি হবে। এমনকি মদন পর্যন্ত পানি প্রবেশ করে ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে।

এলাকার একাধিক কৃষক জানান, জেলার হাওরাঞ্চল হিসেবে খ্যাত খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, মদন উপজেলা।ওই তিন উপজেলায় বোরোই একমাত্র ফসল।ওই ফসলেই হাওরাঞ্চলের কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ, চিকিৎসা, সন্তানদের পড়ালেখা ও আচার অনুষ্ঠান চলে।আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার জেলার খালিয়াজুরী, মদন, মোহনগঞ্জসহ ১০ উপজেলায় বোরো ফসলের আবাদ ভালই হয়েছিল।হাওরাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ফসলের মাঠে সবুজের সমারোহ ছিল।হঠাৎ করে গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যা রাতে জেলার ১০ উপজেলার ওপর দিয়ে দমকা গরম হাওয়া বয়ে যায়। এতে খালিযাজুরী, মদন, মোহনগঞ্জ উপজেলার উঠতি বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।জেলায় ১৫ হাজার হেক্টরের অধিক বোরো ফসলি জমির ধান নষ্ট হয়ে যায়।এর দু’দিন পরই ফের জেলার বিভিন্ন উপজেলার ওপর দিয়ে শিলাবৃষ্টি বয়ে যায়।এতে করে জেলার কলমাকান্দা, বারহাট্টা, মোহনগঞ্জে বোরো ফসলি জমির ক্ষতি হয়।কৃষকরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন।তারা বহুকষ্টে উৎপাদিত একমাত্র বোরো ফসল আর হারাতে চান না।জমিতে থাকা পাকা আধাপাকা ধান কেটে ফেলছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট অফিসের স্থানীয় কর্মচারীদের আস্থায়ী, এলাকার সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতারা নিজের নামে ও অন্যের নামে একাধিক প্রকল্প নিয়ে যেনতেনভাবে বাঁধের সংস্কার কাজ করেছেন।তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না।হাওরে পানি প্রবেশ করলে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্ছা যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে জরিপকাজ চালানোর পর প্রাক্কলন ও পিআইসি গঠন করতে হয়।আর ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করে তা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা।কিন্তু এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি।

পরে তড়িগড়ি করে বাঁধের সংস্কার কাজ করা হয়।বাঁধগুলো সংস্কারের জন্য এ বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ১০ কোটি ৯৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

খালিয়াজুরীর মেন্দিপুর গ্রামের কৃষক হক মিয়া বলেন, আমাদের ঢালার হাওরের বাঁধ সম্পূর্ন না হওয়ায় হাওরে পানি ঢুকলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।তলিয়ে যাবে আমাদের বহু কষ্টে উৎপাদিত ফসলের জমি। উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক আসন আলী ও কৃষাণী সবুরী বলেন, ‘আমাদের ক্ষতি হলে কার কি আসে যায়। সরকার আমাদের জন্য টাকা দেয়, পেট ভরে নেতারার।সরকারের দেওয়া সুবিধা আমাদের মত মানুষের কোন কাজে আসে না।’

মোহনগঞ্জের মোহনপুর গ্রামের কৃষক কামাল মিয়া বলেন, ‘গরম হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে দুই দফা আমাদের ফসল নস্ট হয়ে গেছে।আমরা আর ফসল হারাতে চাই না।মাঠের কাঁচা পাকা ধান কেটে ঘরে তুলছি। আবার যদি বন্যা এসে বাকি ফসল পানিতে তলিয়ে যায় এই ভয়ে।’

খালিযাজুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, ফসল রক্ষা বাঁধের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে।জমিতে আগাম লাগানো ধান কাটাও শুরু হয়ে গেছে। তবে গরম হাওয়ায় ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে তা কোন কিছুর বিনিময়ে পূরন করা যাবে না।

নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত জানান, হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। হাওরাঞ্চলে ফসল কাটা শুরু হয়ে গেছে।এরই মধ্যে মোহনগঞ্জে ৫০ ভাগ ফসল কাটা হয়ে গেছে। আগাম বন্যায় ফসলহানীর আশঙ্কা খুবই কম।নেত্রকোণার ফসল রক্ষা বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান জানান, ‘ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভাল হয়েছে।তবে কিছুকিছু জায়গায় ত্রুটি আছে।এরই মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের সংস্কার কাজ পরিদর্শণ করা হয়েছে।

 

গাছ চোর ৩জনসহ ২টি পিক-আপ ভ্যান ও ২টি ইজিবাইক আটক

তিমির বনিক,মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবৈধ ভাবে বন উজাড় করে গাছ চোর সহ কেটে ফেলা গাছ আটক করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সাড়ে ৬ ঘটিকায় ১৮ এপ্রিল আশিদ্রোন ইউনিয়নের খাস গাঁও নামক কাকিয়ায় পুল হতে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের ইনচার্জ আব্দুস ছালিক এর তথ্য মতে, তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির এর টিমে এসআই মোঃ আলমগীর, এএসআই মোঃ সারোয়ার সহ অভিজ্ঞ টিম তৈরি মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান পরিচালনা করে কাকিয়ার পুল নজির মিয়ার জে কে ফুডস্ এন্ড কনজুমার ফ্যাক্টরীর সামনে হতে  ৪৯.২৫ ঘনফুট গোলফুট গাছ আনুমানিক বাজার মূল্য ১৪,১০০ টাকা। কাটা গাছ গুলো বহনকারী ২টি পিকআপ ভ্যান ও ২টি ইজিবাইক সহ আটক করা হয়।
অভিযুক্ত ব্যক্তি তোফায়েল আহমেদ(২১) মোঃ রমজান মিয়া(২৮)ও মোঃ সহিদ মিয়া(৪০)।
সিন্দুরখান ইউনিয়নের কুঞ্জবন গ্রামেরঃতুরুক মিয়ার ছেলে। অন্য সিন্দুরখান ইউনিয়নের হুগলিয়া বীরবস্তি গ্রামের মোঃ মুন্নাফ মিয়ার ছেলে রমজান মিয়া। একই ইউনিয়নের বেলতলী গ্রামের মৃত সুরত আলীর ছেলে। আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা সম্পন্ন করে আজ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়।
গাছ চোর ৩জনসহ ২টি পিক-আপ ভ্যান ও ২টি ইজিবাইক আটক
এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অফিসার তদন্ত হুমায়ুন কবির তা নিশ্চিত করেন এবং আইনের অন্তভুক্ত কার্যাদি সম্পন্ন করে আদালতে প্রেরন করা হয় বলে নিশ্চিত করেন।

সিলেটের জাফলং তামাবিল জামে মসজিদের সামনে থেকে ১২৬ বোতল বিদেশী মদসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

মোঃ আমিন আহমেদ, সিলেটঃ সিলেটের জাফলং তামাবিল এলাকা তেকে ১২৬ বোতল বিদেশী মদসহ রাজু আহম্মেদ (২৫) নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। সে উপজেলার সোনাটিলা এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে।

গত শনিবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার তামাবিল এলাকা থেকে মদসহ তাকে আটক করেছে র‌্যাব ৯ এর একটি অভিযানিক দল। গতকাল রোববার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে র‌্যাব-৯ এর গণমাধ্যম বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়,শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯, সিপিএসসি (ইসলামপুর ক্যাম্প) এর একটি আভিযানিক দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামিউল আলম ও জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানার তামাবিল জামে মসজিদ এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় ১২৬ বোতল বিদেশী মদসহ জব্দসহ মাদক কারবারি রাজু আহম্মেদকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় গোয়াইনগাট থানায় র‌্যাব বাদী হয়ে মাদক আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

রাণীশংকৈলে প্রতিবন্ধিকে বাড়িতে গিয়ে হুইলচেয়ার দিলেন ইউএনও’র প্রতিনিধি এসিল্যান্ড

রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌর শহরের ভান্ডারা গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী  প্রতিবন্ধী আকলিমা বেগম (৬০) কে হুইল চেয়ার ও নগদ অর্থ দিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ ।

১৮ এপ্রিল রবিবার বিকালে নিজ বাড়িতে ইউএনও’র প্রতিনিধি হয়ে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধাকে হুইল চেয়ারটি প্রদান করেন উপজেলা সহকারি কমিশনার  (ভূমি) ও এক্সিকিটিভ ম্যাজিস্ট্রেট  প্রীতম সাহা।

এসময় সহকারি ভূমি কর্মকর্তা জাহিরুল ইসলাম, ইএসডিও ম্যানজার খাইরুল আলম ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে ইউএনও স্টিভ কবির বলেন, “প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা আকলিমা বেগম ৬ মাস আগে তার পা হারিয়েছ। অনেক দিন ধরে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে ছিল। তিনি আগে মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন ।বর্তমানে তিনি একটি কুঁড়ে ঘরে একা  বসবাস করে। স্বামী মৃত ছেলে মেয়েরা পেটের দায়ে ঢাকায় থাকে ।

তিনি আরও বলেন, সকালে ঐ প্রতিবন্ধী আকলিমা বেগম আমার দপ্তরে সাহায‍্যের জন‍্য আসে। তার চলা ফেরার জন্য তাৎক্ষনিক একটি হুইল চেয়ার কিনে এসিল্যন্ডের মাধ্যমে তার বাড়িতে পৌচ্ছে দেয়ার ব্যবস্থা করি।”

সুবিধাভোগী আকলিমা বেগম হুইলচেয়ার পেয়ে খুশি ও আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, ইউএনও স্যার খুব ভালো মানুষ।  সকালে হুইলচেয়ার চাইলাম বিকালেই পেয়ে গেলাম। আল্লাহ স্যারের ভালো করুক।