হেফাজত ইসলামের ডাকে আর মাঠে নামবে না কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা

সিএনবিডি ডেস্কঃ হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের ডাকে ভবিষ্যতে আর কোন আন্দোলনে না নামার কথা জানিয়েছে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।মাদ্রাসা হুজুরদের একের পর এক বলাৎকার- এর খবর, আন্দোলনের নাম করে শিক্ষার্থীদের মাঠে নামিয়ে সিনিয়র নেতাদের আরাম আয়েশের জীবনের ঘটনা জনসম্মুলখে সামনে আসার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

দেশের অন্তত ২৩ টি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা হেফাজতের নেতা এবং মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাদ্রাসাগুলোর ভবিষ্যৎ এবং মাদ্রাসা বন্ধ হলে করণীয় নিয়ে তারা আলোচনা করতে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছে।এই আলোচনায় তারা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন যে, তাদের মাদ্রাসাগুলো যেন বন্ধ না করে দেওয়া হয় এবং হেফাজতের আন্দোলনে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আর অংশগ্রহণ করবে না। এইসব সমাবেশগুলোতে হেফাজতের কঠোর সমালোচনা করা হয় এবং কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদেরকে হেফাজতের নেতারা তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ব্যবহার করেন এরকম অভিমতও ব্যক্ত করা হয়।

ঢাকা এবং কেরানীগঞ্জের ১০টি মাদ্রাসায় এরকম মাদ্রাসা ছাত্রদের কর্মীসভার কথা বলা হয়। কর্মীসভা না বলে তারা এটাকে করণীয় নিয়ে আলোচনা সভা বলছেন। একজন মাদ্রাসার ছাত্র বলেছে যে, মাদ্রাসা হুজুররা ছোট ছোট বাচ্চাদের উপর যে অত্যাচার চালায়, বলাৎকারের ঘটনা, সেই সাথে আবাসিক ছাত্রদের কোনরকম খাওয়া দাওয়া দিয়ে নিজেরা আরাম আয়েশের জীবন উপভোগ করেন এইগুলা আর মেনে নেয়া যায় না। একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের এই সব অপকর্মের বিরুদ্ধে দাড়াতে হবে। মাদ্রাসার এতিম বাচ্চাদেরকে ব্যবহার করে হেফাজতের নেতারা দেশে অশান্তির সৃষ্টি করেছে এবং এখানে বদনাম হচ্ছে মাদ্রাসাগুলোর। আর এই কারনেই এই ১০টি মাদ্রাসায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, তারা ভবিষ্যতে হেফাজতের ডাকা কোনো আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবে না। শুধু ঢাকায় নয় চট্টগ্রামেও একাধিক মাদ্রাসায় একইরকমের বৈঠক হয়েছে। এরকম বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে বরিশাল এবং কুমিল্লাতেও।

 

মুরাদনগরে ওসি সাদেকুর রহমানের নেতৃত্বে চোর চক্রের চার সদস্য গ্রেফাতার

মোঃ খোরশেদ আলম, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার মুরাদনগরে ওসি সাদেকুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মুরাদনগর থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি অটোরিক্সা, তিনটি ভ্যান গাড়ি, একটি বাই সাইকেল ও চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।

গেল শনিবার দিবাগত রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- উপজেলার নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের বাখরনগর গ্রামের মোঃ বারু সওদাগরের ছেলে বদিউল আলম (৪০), একই গ্রামের মোঃ গফুর মিয়ার ছেলে নুরুন নবী (২৫), মোঃ বারু সওদাগরের ছেলে খোরশেদ আলম (৩০) ও মহরম আলীর ছেলে সাব্বির হোসেন (২১)।

রবিবার বিকেলে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাদেকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন সময়ে মুরাদনগর থানা এলাকার পাড়া-মহল্লায় বাড়ি ও দোকানঘর থেকে চুরির ঘটনা ঘটে। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর আবিদুর রহমানের নির্দেশনায় শনিবার দিবাগত রাতে অফিসার ইনচার্জ সাদেকুর রহমান এসআই আবু হেনা মোস্তফা রেজা ও এএসআই হানিফ সঙ্গীয়ফোর্স নিয়ে উপজেলার বাখরনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের সদস্য বদিউল আলমকে আটক করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্য মতে রবিবার দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুইটি অটোরিক্সা, তিনটি ভ্যান গাড়ি, একটি বাই সাইকেল ও চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।

নওগাঁর আত্রাইয়ে বোরো ধানে ব্লাস্ট রোগের আক্রমন- দিশেহারা কৃষক

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ কৃষি প্রধান আত্রাই সাহেবগঞ্জ-নবাবেরতাম্বু অধ্যাষিত আত্রাই উপজেলায় এবার রোরো ধানের বাম্পার ফলন কিন্তু কিছু জমিতে ধান কাটা শুরু হলেও আগামী সপ্তাহে পুরোদমে শুরু হবে ধান কাটা।এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় খুশি কৃষকরা। যে সময় জমি থেকে ধান কেটে ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারাঠিক সেই সময়েই দমন করা যাচ্ছে না পোকার আক্রমন। এক জমি থেকে আরেক জমিতে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয় কৃষক এই পোকার নাম কারেন্ট পোকা বললেও উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে এটা ব্লাস্ট রোগ।

মূলত পাকা ধানেই এই পোকা প্রথমে ধান শীষের কচি ডগার রস চুষে খায়।ফলে ওই ধানের শীষ দুই/তিন দিনের মধ্যেই মরে সাদা হয়ে ওঠে। উপজেলার সাহেবগঞ্জ,খঞ্জর, জয়সাড়া, নবাবের তাম্বু, মালি পুকুর, পাঁচুপুর, গুড়নইও পাঁচুপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মাঠে সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের এমন দুঃখ-দূদশার চিত্র দেখা যায়। এসময় কথা হয় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন কৃষকের সাথে।

সাহেবগঞ্জ সরদার পাড়া গ্রামের কৃষকসেন্টু হোসেন বলেন, আমার ১০বিঘা জমিতে ব্রি-৮১ জাতের ধান রোপন করেছেন।তার সব জমিতেই ব্লাস্ট রোগ আক্রমন করেছে।কীটনাশক স্প্রে করেছি কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।

আলহাজ্ব আবদার হোসেন সরদার বলেন,আমার তিন বিঘা জমিতে ব্রি-৮১ ধানের ব্লাস্ট রোগ ধরেছ্ বিভিন্ন প্রকার কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন প্রতিকার করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কেএম কাওছার হোসেন বলেন, বোরো মৌসুমে শুরু থেকে আবহাওয়া ভালোই ছিল। মাঝে কিছুটা প্রতিকুলআবহাওয়ার কারনে ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছেএবং প্রতকারে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। সেই সাথে যেসব ধান ৮০ ভাগ থেকে পড়ে গেছে ওই ধানগুলো দ্রুত কেটে নেয়ার জন্য কৃষকদের পরামশ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যে সকল স্থানে জমিতে পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে সেখানে কীটনাশক স্প্রে করার পরামশ দেয়া হচ্ছে।আশা করা যায় তাতে কৃষকরা খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।

 

অবশেষে গ্রেফতার মাওলানা মামুনুল হক

রোববার (১৮ এপ্রিল) হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রহমানিয়া জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এসে তাকে আটক করে। মামুনুল হক গত কয়েকদিন ধরেই ওই মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলেন।

তেজগাঁও জোনের ডিসি হারুন অর রশিদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেফতারের পর তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনারের কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।

মামুনুল হক হেফাজতে ইসলামের পাশাপাশি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব। শনিবার ওই দলটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদকে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। এছাড়া শনিবার বারিধারা মাদ্রাসা থেকে হেফাজতের আরেক নেতা জুনায়েদ আল হাবীবকেও গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এ নিয়ে গত কয়েকদিনে হেফাজতের প্রায় ১০ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেফতার করা হল।

এদিকে গ্রেফতার নিয়ে শনিবার মাওলানা মামুনুল হক তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লেখেন- সহিংসতার দায় হেফাজতের উপর চাপানো উদোর পিন্ডি বুদোর ঘারে চাপানোর নামান্তর ! তিনি বলেণ, ২৭ মার্চ থেকে ২রা এপ্রিল বিক্ষোভ, হরতাল, দোয়া ও প্রতিবাদ সমাবেশ হেফাজতে ইসলাম আহুত প্রতিটি কর্মসূচী পালিত হয়েছে প্রশাসনের অনুমোদন স্বাপেক্ষে এবং শান্তিপূর্ণভাবে। ২৬শে মার্চের গন্ডগোলের দায় কোনোভাবেই হেফাজতের উপর বর্তায় না । এ দায় হেফাজতের উপর চাপানো সুস্পষ্ট অন্যায় । হরতালের পূর্বাপর বি.বাড়িয়ায় সংঘটিত সহিংসতার সাথে হেফাজতের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা কতটুকু, সেটা প্রশ্ন স্বাপেক্ষ । সেখানে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কোন্দল ও তাদের কর্তৃক হামলার কথা খোদ প্রশাসনও অস্বীকার করে না। সুতরাং বি.বাড়িয়ার সহিংসতা ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের দায় হেফাজতের উপর চাপিয়ে দেয়াও উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানো বৈ কিছুই নয় । হেফাজতের কর্মসূচী চলাকালীন ৪ দিনে ঢাকায় তো একটা ইট-পাটকেলও ছোড়া হয়নি । পুলিশের নিরাপত্তা ও বেষ্টনীর মধ্যেই সবগুলো কর্মসূচী পালিত হয়েছে । তাহলে রোযা-রমযানের দিন ঢাকায় কেন ধরপাকড় চলছে ।

আজিজুল হক ইসলামাবাদী কাকে আঘাত করেছে? মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী কোথায় হামলা করেছে? মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাযী কার মাথায় বাড়ি মেরেছে? মাওলানা যুবায়ের আহমদ কার বারাভাতে ছাই দিয়েছে? মাওলানা ইলিয়াস হামিদী, মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী, মুফতী বশিরুল্লাহ, মাওলানা শরিফুল্লাহরা কোথায় কার উপর হাত তুলেছে?

করোনা পরিস্থিতির ভয়বহতায় লক-ডাউনের সময় এভাবে আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে গ্রেফতার অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয় ।

নিজ দেশে যারা পরবাসীর মত থাকতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন, তাদের কথা ভিন্ন। অন্যথায় আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ঈমানদারগণ এটা নিরবে মেনে নিতে পারে না । এই পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে জুলুমের মুক্ত বাতাস থেকে প্রতিবাদের বন্দিত্বই হাজার গুনে শ্রেষ্ঠ !

বাচ্চাদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে গৃহবধূ খুন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারে জেলার বড়লেখা উপজেলায় দায়ের আঘাতে রবিতা বাকক্তি নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) রাত ৯টায় উপজেলার নিউ সমনবাগ চা বাগানে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বড়লেখা থানা পুলিশ অভিযুক্ত প্রদীপ বাকক্তি মিঠুনকে (৩০) আটক করেছে।

নিহত রবিতা বাকক্তি(৩২) উপজেলার নিউ সমনবাগ চা বাগানের বাসিন্দা অটোরিকশা চালক সুষেন বাকক্তির স্ত্রী।

আটক প্রদীপ বাকক্তি শনিবার (১৭ এপ্রিল) হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে চা শ্রমিক প্রদীপ বাকক্তি মিঠুন মামা (রবিতার শ্বশুর) ভাগ্য বাকক্তির সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে। একপর্যায়ে সে তার মামার ওপর হামলার চেষ্টা করে। এসময় রবিতা বাকক্তি শ্বশুরকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে মিঠুন তার হাতে থাকা দা দিয়ে রবিতার পেটে আঘাত করে।

এতে রবিতা গুরুতর আহত হন। পরে রবিতাকে উদ্ধার করে চা বাগানের হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা প্রদীপ বাকক্তি মিঠুনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং প্রদীপ কে আটক করে।

বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রতন দেবনাথ শনিবার বিকেলে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রদীপকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় নিহত রবিতার স্বামী সুষেন বাকক্তি প্রদীপের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন এবং হত্যা মামলার অপরাধে আজ ১৭ এপ্রিল বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করেন বলে নিশ্চিত করেন।

রাণীশংকৈলে স্বামী- স্ত্রী ও শিশুকন্যার একসঙ্গে বিষপান, কন্যার মৃত্যু

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার পদমপুর-উমরাডাঙ্গি গ্রামে গত ১৬ এপ্রিল শুক্রবার রাতে স্বামী-স্ত্রী ও শিশুকন্যার একসঙ্গে বিষপানে কন্যার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃত শিশুকন্যার নাম ইসরাত জাহান(৫ মাস)।তার পিতা ইয়াসিন আলি ও মাতা সুমি আকতার।দুজনে বর্তমানে দিনাজপুর আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, রানীশংকৈল উপজেলার পদমপুর-উমরাডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ইয়াসিন আলি তার স্ত্রী সুমি আকতার ও শিশুকন্যা ইসরাতকে নিয়ে গত ১৬ এপ্রিল শুক্রবার রাতে তাদের ঘরে অবস্থান করছিল। পারিবারিক কলহের জের ধওে রাত ১০টার দিকে ইয়াসিন ও তার স্ত্রী প্রথমে তাদের শিশুকন্যাটিকে বিষ খাইয়ে নিজেরাও বিষপান করে। বাড়ির লোকজন ঘটনা জানতে পেরে ইয়াসিনের ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। গুরুতর অসুস্থ তিনজনকে তাৎক্ষণিক রাণীশংকৈল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাদেরকে ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে রাত ১২টার দিকে শিশুকন্যাটি মারা যায়। অসুস্থ ইয়াসিন ও তার স্ত্রীকে দিনাজপুর আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরদিন ১৭ এপ্রিল শনিবার সকালে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার কামাল হোসেন, ওসি এস এম জাহিদ ইকবাল, ওসি(তদন্ত) আব্দুল লতিফ শেখ, এস আই আহসান হাবিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে মর্মে পুলিশ নিশ্চিত করেন। শিশুটির মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে মর্মে ওসি জানান। এ নিয়ে রাণীশংকৈল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

মুরাদনগরের বাঙ্গরাবাজার থানাধীন মেটংগর এলাকায় গাঁজাসহ আটক ২

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরাবাজার থানাধীন মেটংগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক পাচারকারীকে আটক করেছে বাংগরাবাজার থানা পুলিশ।১৭ এপ্রিল শনিবার রাত ৩.১৫টায় তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার অন্তর্গত বাংগরাবাজার থানার সাহেবনগর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে মো. সোহাগ মিয়া(২৫) ও একই থানার হায়দরাবাদ গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে তুষার (২২)।

আটককৃতদের ভাষ্যমতে, তারা উল্লেখিত থানার হায়দরাবাদ গ্রামের মৃত খলিল মিয়ার ছেলে রবিউল আউয়াল(৩০) এর কাছ থেকে উক্ত গাঁজা ক্রয় করে।

এ বিষয়ে বাঙ্গরাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, ‘আজ শনিবার রাত ৩.১৫টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাব ইন্সপেক্টর মো.শাহনেওয়াজ ও মো. জুয়েল সঙ্গীয় ফোর্সসহ বাংগরাবাজার থানার মেটংগর সিএনজি স্টেশনে অভিযান চালায়। মাদকদ্রব্য পাচারকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি সাদা গাড়িতে করে পালাবার চেষ্টা করে। পুলিশের সন্দেহ হলে তাদেরকে আটক করে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিকালে তাদের সাথে প্রায় ১০ কেজি গাঁজার একটি প্যাকেট পাওয়া যায়। দুজনকে আটক করে গাড়ি ও গাঁজাসহ থানায় নিয়ে আসে’।

সাব ইন্সপেক্টর মো. শাহনেওয়াজ জানান, হায়দরাবাদ এলাকা থেকে মাদক নিয়ে ঢাকায় যেতে পারে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেটংগরের সিএনজি স্টেশনে অভিযান চালাই। পুলিশ দেখে আটককৃতরা চট্ট -গ-১২-৬৫৫৩ নম্বরের গাড়িতে করে পালাবার চেষ্টা করে। এসময় আটককৃতদের ব্যাগ তল্লাশি করে ১০কেজি গাঁজা উদ্ধার করি। গাড়ি ও গাঁজাসহ তাদের দুজনকে বাংগরাবাজার থানায় নিয়ে আসি।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং(০৫) তারিখ ১৭/৪/২০২১। তাদরকে আজ রবিবার আদালতে প্রেরণ করা হবে।

লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় নওগাঁয় মামলা-জরিমানা নওগাঁয় গত ৪ দিনে ৩৯টি মামলায় ২০৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে জরিমানা

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁয় করোনাভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ রোধে সর্বাত্মক লকডাউনের চতুর্থ দিন গতকাল শনিবার পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধিসহ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত বিভিন্ন বিধি নিষেধ অমান্য করার কারনে জেলায় ভ্রাম্যমান আদালতে মোট ৩৯টি মামলায় ২০৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৪১ হাজার ৭শ ৯০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রাজিয়া সুলতানা বলেছেন জেলা করোনা প্রতিরোধে কঠোরভাবে লকডাউন মানতে সাধারন মানুষকে বাধ্য করতে জেলা প্রশাসক মোঃ হারুন-অর-রশিদের নির্দেশে এসব ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জানিয়েছেন মাস্ক না পড়া, সামাজিক দুরত্ব না মানা, সরকার ঘোষিত যেসব দোকানপাট বন্ধ রাখার কথা
সেগুলো খুলে রাখাসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ না মানার কারনে এসব মামলা এবং জরিমানা করা হয়েছে। তিনি জানান লক ডাউনের প্রথম দিনে ১৪ এপ্রিল বুধবার জেলায় ১টি মামলায় ২ জনের মোট ৪০০ টাকা জরিমানা করা হয়। দ্বিতীয় দিন ১৫ এপ্রিল বৃহষ্পতিবার জেলায় ১৩টি মামলায় মোট ৭১ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৬ হাজার ৭শ টাকা জরিমানা করা হয়। তৃতীয় দিন শুক্রবার ১৬ এপ্রিল জেলায় ১৬টি মামলায় মোট ৮৭ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৭ হাজার ৯শ ৪০ টাকা এবং চতুর্থ দিন ১৭ এপ্রিল শনিবার ৯টি মামলায় মোট ৪৯ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৬ হাজার ৭শ ৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজেস্ট্রেট রাজিয়া সুলতানা বলেন, লকডাউনের জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।
স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ১৬টি দল কাজ করছে। তিনি বলেন মানুষ যদি সচেতন না হয়, তাহলে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধির সাফল্য আসবে না। একজনকে অর্থদন্ড দেওয়ার মানে তাঁর আশপাশের মানুষ যেন আরও সচেতন হোন।

 

ইফতার বিক্রিকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গলে পুলিশ সহ ৫ জন আহত

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট রোডে অবস্থিত রিপন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে ইফতারি বিক্রয়কে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের  সংঘর্ষে ৪/৫ পুলিশসহ আহত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় একলোক রিপন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট থেকে ইফতারি ক্রয় করে,বাসায় গিয়ে ইফতারি বাসি হওয়ায় হোটেলের মালিককে অভিযোগ করলে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে হাতাহাতি এবং মারামারি পরিনত হয়।

খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে এলাকার বাসিন্দা উজ্জ্বল নামের এক যুবককে পুলিশ থানায় নিয়ে যেতে চাইলে কতিপয় এলাকার লোকজন উত্তেজিত হয়ে মারমুখী হয়ে পুলিশের গাড়ী আটকিয়ে উজ্জ্বলকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে তখন পুলিশ ও কতিপয় উশৃংখল ব্যক্তি কর্তৃক ইট পাটকেল নিক্ষেপে উপ-পরিদর্শক আসাদুর রহমান সহ আরো ও  কিছু লোক আহত হয়।আহত অবস্থায় উপ-পরিদর্শক আসাদুর রহমান উদ্ধতনো কর্মকর্তাদের অবগত করলে ঘটনা স্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পৌঁছে আহত পুলিশ কর্মকর্তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে নিয়ে যায় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।