নিহত সাহেরুদ্দীন খোলড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।
লকডাউন বাতিল চেয়ে ব্যবসায়ীদের স্মারকলিপি প্রদান
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা সংবাদকর্মী: লকডাউন বাতিল করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুলাউড়ার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দরা।
বুধবার ৭ এপ্রিল দুপুরে ব্যবসায়ীদের পক্ষে কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বদরুজ্জামান সজল ও সম্পাদক আতিকুর রহমান আখই স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রী বরাবরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী মাধ্যমে প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিতে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দরা উল্লেখ করেন, করোনা সংক্রমণ রোধে ২০২০ সালের মার্চ থেকে দেশে লকডাউন দেওয়া হয়। এ সময় সারাদেশের ন্যায় কুলাউড়ারও সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সকলের ন্যায় দেড়মাস বন্ধ রাখা হয়। এখন সময় রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে কুলাউড়া বাজারের বস্ত্র কসমেটিক্স এবং জুতার ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ করে দোকানে পণ্য তুলেন। কিন্তু লকডাউনে ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হোন। সরকার রমজানের ঈদের আগে লকডাউন সীমিত করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশ দিলে কয়েকদিন কুলাউড়ায় ব্যবসা করলেও লোকসান পোষাতে পারেন নি। লকডাউন ও করোনার প্রভাবে লোকসান পোষাতে ব্যবসায়ীরা এবারে রোজা ও ঈদকে লক্ষ্য করে আবারও ধার দেনা করে দোকানে পণ্য তুলেছিলেন।
কিন্তু ৫ এপ্রিল থেকে দেশে ফের লকডাউন দেওয়ায় কুলাউড়া বাজারের প্রায় ৫ শতাধিক দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে শিল্প কারখানা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা থাকায় মানুষ ঘরের বাহিরে ঘোরাফেরা করছেন। এতে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে যে লকডাউন দেওয়া হয়েছে সেটা কোন কাজেই আসছেনা। উল্টো আরও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে লকডাউন বাতিল করে স্বাস্থ্যবিধি নির্দেশনা দিয়ে সীমিত পরিসরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেন।
স্মারকলিপি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছাবেন বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী নিশ্চিত করেন ও আশার বানী দেন।
বাংলাদেশ গেমসে জবির ২ শিক্ষার্থীর স্বর্ণপদক জয়
ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা লাঞ্ছিতের ঘটনায় ধর্মপাশা থানার ওসি প্রত্যাহার ও আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার
মোঃ আমিন আহমেদ, সিলেট প্রতিনিধিঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রলীগ নেতা আফজাল খানকে লাঞ্ছিত ও হাতকড়া পরিয়ে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার ঘটনায় সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে। এরআগে এই ঘটনায় আরও দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক আবুল হাসেম আলমকে বহিস্কার করা হয়। এবং পরে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার রাতে ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনকে প্রত্যাহার করে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। পুলিশের দুইজন সদস্যের সামনে ঢাবি শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠায় ও দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ওই ওসিকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
এর আগে মঙ্গলবার রাতেই ঢাবি শিক্ষার্থী ঘটনাটি পুলিশ সুপারকে অবগত করার পরপরই মঙ্গলবার রাতে ধর্মপাশা থানার অভিযুক্ত থানার এসআই জহিরুল ইসলাম ও এএসআই আনোয়ার হোসেনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এই ঘটনায় বহিস্কৃত জয়শ্রী ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বহিষ্কার করার এক ঘণ্টার মাথায় বুধবার বিকাল ৫ টায় আবুল হাসেম আলমকে জয়শ্রী বাজার থেকে আটক করে পুলিশ। এর আগে বুধবার বিকাল ৪ টায় ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় আবুল হাসেম আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করে উপজেলা আওয়ামী লীগ।
এদিকে আবুল হাসেম আলম, তার ছেলে আল মুজাহিদসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ২৫ জনের বিরুদ্ধে বুধবার রাত ৮ টায় ধর্মপাশা থানায় হত্যা চেষ্টার মামলা দাখিল করেছেন ছাত্রলীগ নেতা আফজাল খান। থানায় অভিযোগ দাখিল করার পর আটকৃকৃত আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। থানার অভিযোগে প্রধান আসামী আলমের ছেলে আল মুজাহিদ, দ্বিতীয় আসামী আবুল হাসেম আলম।
ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিছ বলেন, ‘দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে জয়শ্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্তটি অনুমোদনের জন্য জেলা কমিটিতে পাঠানো হবে। আলম অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেনি। ঘটনার জন্য জয়শ্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম আলম ও তার ছেলে আল মুজাহিদ দায়ী। আলমের উপস্থিতিতে তার ছেলে আল মুজাহিদের নেতৃত্বে বেশ কিছু লোক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা আফজাল খানকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল এবং লাঞ্ছিত করা হয়েছে। ’
প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের জয়শ্রী বাজারে লাঞ্ছনার শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আফজাল খান (২৪)। আফজাল খানের বাড়ি উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আফজাল গত ২৯ মার্চ দুপুরে ফেসবুকে হেফাজতে ইসলামের সহিংসতার ছবি দিয়ে একটি পোস্ট দেন। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় আফজাল নিজ গ্রাম মহেশপুর থেকে জয়শ্রী বাজারে গেলে জয়শ্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম আলমের ছেলে আল মুজাহিদ (২৫) কয়েকজনকে নিয়ে আফজালের কাছে ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। আফজাল বলেন, হেফাজতে ইসলামকে ব্যঙ্গ করে কোনো পোস্ট দেননি। তবে হেফাজতের আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক কাজের প্রতিবাদে একটি পোস্ট দিয়েছেন। এ নিয়ে আফজাল ও মুজাহিদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে মুজাহিদের পক্ষের লোকজন আফজালকে বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আটকে রাখেন। পরে ধর্মপাশা থানার এসআই জহিরুল ইসলাম ও এএসআই আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর সেখানে উপস্থিত হন ধর্মপাশা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন।
এ বিষয়ে জয়শ্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম আলম ও তার ছেলে আল মুজাহিদ বলেন, হেফাজতকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছি। ছাত্রলীগ নেতা তখন ইসলাম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। ধর্ম নিয়ে মন্তব্য করায় পুলিশকে ঘটনাটি জানিয়ে স্থানীয় লোকজন তাকে দলীয় কার্যালয়ে আটকে রেখেছিল। তাকে মারধর বা লাঞ্ছিত করা হয়নি। তবে আফজালের দাবি, ধর্মপাশা থানার ওসির নির্দেশে তাকে হাতকড়া পরানো হয়েছিল এবং উপস্থিত লোকজনের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার বিবরণ সাদা কাগজে লিখে তাতে সই রেখে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
দেবীদ্বার আল ইসলাম হাসপাতাল এন্ড ডায়গনিষ্টক সেন্টারে সিজারের ৫ মাস পর পেট থেকে বের করা হলো এক পোটলা ‘গজ’
মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লাঃ কুমিল্লার দেবীদ্বারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রায় পাঁচ মাস পর এক নারীর পেট থেকে বের করা হলো এক পোটলা গজ (ব্যান্ডেজ)। এই দীর্ঘ সময়ে গজটি ওই নারীর পেটে থাকায় তাতে পচন ধরে তাঁর জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল।
রোগীর ভাই মোঃ রুহুল আমিন জানান, প্রায় পাঁচ মাস পূর্বে অর্থাৎ গত বছরে ৫ নভেম্বর মুরাদনগর উপজেলার মোগসাইর গ্রামের মোঃ রাসেল মিয়ার স্ত্রী মোসাঃ শারমিন আক্তার (২৫) প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে দেবীদ্বারের আল ইসলাম হাসপাতাল এন্ড ডায়গনিষ্টক সেন্টার’র ৩০৩ নং ক্যাবিনে ভর্তি হন। ওই হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী ভর্তি রোগির রেজিষ্টার্ড নং ছিল ১৮৫। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ রোজিনা আক্তার তাকে দেখে জরুরী সিজার করতে পরামর্শ দেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সিজারে সম্মতি দিলে ওইদিনই ডাক্তার রোজিনা আক্তার ও দেবীদ্বারের আল ইসলাম হাসপাতাল এন্ড ডায়গনিষ্টক সেন্টার’র সার্বক্ষনিক চিকিৎসক ডা. শামীমা আক্তার লিন্টা তার সিজার করেন। এতে একটি ছেলে সন্তান জন্ম হয় শারমিনের।
অপারেশেনের কিছুদিন পর থেকে শারমিনের পেটে ব্যাথা ও ক্ষত থেকে পুঁজ বের হতে থাকে। পরে তাকে দেবীদ্বার ইবনেসিনা হাসপাতালে আল্টা করানো হয়। আল্ট্রার রিপোর্টে পেটে পানি জমে তাকার কথা বলা হয়। পরে ঢাকায় ‘বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে নেয়া হয়, ওখানেও আল্ট্রা রিপোর্টে পানি দেখা যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পানি কমার ঔষধ দেন। পানিকমে আসলেও ব্যাথা কমেনি। সর্বশেষ কুমিল্লা ‘ময়নামতি জেনারেল হাসপাতাল’র চিকিৎসক ডা. কর্ণেল আবু দাউদ মো. শরীফুল ইসলাম’র স্মরনাপন্ন হই, তিনি নিজেই আল্টা করেন এবং পেটে একটা কিছু আছে বলে জানান এবং তিনিই গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শারমিনকে অপারেশন করেন। অপারেশনের পরই বের করা হয় ‘গজ’ বা ব্যান্ডেজ’র কিছু অংশ।
ভুক্তভোগী শারমিনের বড় ভাই রহুল আমিন আরো জানান, শারমিনের আগেও একটি তিন বছরের মেয়ে সন্তান রয়েছে। তার প্রথম সন্তানও সিজারে হয়েছে। দ্বিতীয় সন্তান ও সিজার করার পর থেকে তার পেটে অনেক ব্যাথা ও পুঁজ পড়তে থাকে।
অবশেষে তাকে ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পর সেখানে ডা.কর্ণেল আবু দাউদ মো. শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক তার পেটে অপারেশন করে আস্ত গজ (ব্যান্ডেজ) বের করেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযো মাধ্যমে তোলপাড় চলছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত গাইনি চিকিৎসক ডা. রোজিনার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহম্মেদ কবির জানান, এ বিষয়ে প্যাসেন্টের পক্ষথেকে কোন অভিযোগ পাইনি। সাংবাদিকদের কাছ থেকেই এ ঘটনা জানতে পেরেছি। ডাঃ রোজিনা আক্তার গাইনীর উপর ডিপ্লোমা করা আছে, ভালো ডাক্তার হিসেবে তাকে জানি। এ বিষয়ে ডাঃ রোজিনাকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় রোগির এমন অবস্থা আমাকেতো রোগীর পক্ষ থেকে ফলোআপ করেনি। আমি আজই জানতে পারলাম। ডাঃ আহমেদ কবির আরো জানান, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা যেত, আসলে সত্য ঘটনাটি কি?
দেবীদ্বার আল ইসলাম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ মোহাম্মদ হোসেন (এনাম) বলেন, রোগির পেটে গজ থেকে যাওয়ার বিষয়টি আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি। ঘটনাটি পাঁচ মাস আগের। এরপর রোগীর স্বজনরা আমাদের সাথে আর যোগাযোগ করেনি। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে আমরা অনুতপ্ত।
ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কর্ণেল আবু দাউদ মো. শরীফুল ইসলাম এর সেল ফোনেও বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। ওই ডাক্তারের বরাত দিয়ে ভুক্তভোগী শারমিনের বড় ভাই রহুল আমিন বলেন, তিনি সবার সাথে কথা বলেন না, তিনি ওই ডাক্তারের বক্তব্য তুলে ধরতে যেয়ে বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় অপারেশনের মাধ্যমে পেট থেকে রক্তাক্ত গজ বের করা হয়। ব্যান্ডেজের সূতাগুলো নাড়ীর সাথে আটকে যাওয়ায় ২টি নাড়ী কেটে যায়, সেগুলো জোড়া লাগানো হয়েছে, সেগুলো কার্যকর হবে কিনা এমূহুর্তে বলা যাচ্ছেনা। বর্তমানে রোগী সংকটাপন্ন রয়েছে। ৪/৫দিন গেলে অবস্থা বুঝা যাবে।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতালের নাম উল্লেখ করে স্বজনরা যদি লিখিত অভিযোগ করে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আটক ‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হতে পারে
মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি: রাষ্ট্রবিরোধী, উসকানিমূলক এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাশাপাশি রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে ‘শিশুবক্তা’ হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশের এলিট ফোর্স র্যাব। এসব অভিযোগে রফিকুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এলিট ফোর্স বাহিনী।
গতকাল বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে নেত্রকোনার তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আমাদেরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত ২৫ মার্চ মতিঝিল এলাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরবিরোধী মিছিল ও ভাঙচুরের সময় রফিকুলকে আটক করেছিল পুলিশ। তবে কয়েক ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘রফিকুল ইসলামকে রাষ্ট্রবিরোধী, উসকানিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এবার তাকে ছেড়ে দেয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আটক রফিকুল ইসলামের নামে এর আগে কোথাও কোনো অভিযোগ কিংবা মামলা ছিলা কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী (রাষ্ট্রদ্রোহী) মামলা হতে পারে। মামলার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তাকে ঢাকায় আনা হবে কি-না।’
রফিকুলের বিরুদ্ধে কোন থানায় মামলা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে এই র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘মামলা প্রক্রিয়াধীন। কিছুক্ষণ পরে র্যাবের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হবে।’ রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা জেলার পশ্চিম বিলাশপুর সাওতুল হেরা মাদরাসার পরিচালক। তিনি ‘শিশুবক্তা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
তিনি রাজধানীর জামিয়া মাদানীয়া বারিধারা মাদরাসায় লেখাপড়া করেন। শারীরিক আকৃতিতে ছোট হওয়ায় তাকে সবাই ‘শিশুবক্তা’ বলেন এবং এ হিসেবেই পরিচিতি পান তিনি। নেত্রকোনা জেলার পশ্চিম বিলাশপুর সাওতুল হেরা মাদরাসার পরিচালক রফিকুল ইসলাম ২০ দলীয় জোটভুক্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও রাবেতাতুল ওয়ায়েজিনের সঙ্গে যুক্ত আছেন বলেও জানা যায়।
মাওলানা মামুনুল হক কে আটক করেছে ডিবি
হেফাজত ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হককে আটক করেছে ডিবি। মোহাম্মদপুর মাদ্রাসা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানা যায়। এর আগে নারায়ণগঞ্জের এর একটি রিসোর্টে নারি সহ তাকে আটক করা হলেও পরবর্তিতে হোটেলে ভাঙ্গচুর চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় মাদ্রাসা ছাত্ররা।
তাকে এখন বর্তমানে ডিবি অফিসে রাখা হয়েছে বলে জানা যায়
বাংলাদেশ টিকাদানে বিশ্বের প্রথম ২০ দেশের তালিকায়: প্রধানমন্ত্রী
সিএনবিডি ডেস্কঃ দেশ্রত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বের অনেক দেশের আগেই বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ কোটি ২ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে আনা হয়েছে। করোনাভাইরাসের টিকাদানে বিশ্বের প্রথম সারির ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ চলে এসেছে।
আজ বুধবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস-২০২১ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষে আমি সবাইকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। এবারের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বিল্ডিং অ্যা ফেয়ারার, হেলদিয়ার ওয়ার্ল্ড’; যার মর্মার্থ দাঁড়ায়- ‘সবার জন্য সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর বিশ্ব গড়ি’। প্রতিপাদ্যটি তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।
তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সারাবিশ্ব এখন একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে পার হচ্ছে। আমাদের সরকার করোনা বিস্তারের প্রথম দিক থেকে একটি সমন্বিত ও কার্যকর কর্মসূচি হাতে নেয়। আমাদের সীমিত জনবল, চিকিৎসা-সামগ্রী ও জনগণের মাঝে করোনা রোগ প্রতিরোধের ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি, করোনা টেস্টিং, টেলি-মেডিসিনের মাধ্যমে পরামর্শ প্রদান, সঙ্গনিরোধ, কোভিড হাসপাতাল স্থাপন, হাসপাতালে অক্সিজেনসহ জীবন রক্ষাকারী সামগ্রীর ব্যবস্থা, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে অন্যান্য দেশের তুলনায় করোনা নিয়ন্ত্রণে সফলতা অর্জন করি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারি সফলভাবে মোকাবিলা, সময়োচিত ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং জীবনযাত্রার মান সচল রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্লুমবার্গ প্রণীত কোভিড-১৯ সহনশীল র্যাং কিংয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ ও বিশ্বে ২০তম স্থান অর্জন করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের করোনা মোকাবিলার জন্য আমাদের বিভিন্ন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, গ্রামীণ, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে। শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যু হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাসমান। গড় আয়ু ৭২.৬ বছরে এসে দাঁড়িয়েছে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ও সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। দেশে কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধের জন্য মাস্ক ব্যবহার, হাত ধোয়ার স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচারসহ অন্যান্য নিরাপদ অভ্যাসসমূহ আমাদের মেনে চলতে হবে। করোনার পাশাপাশি আমাদের অত্যাবশ্যকীয় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা যেন কোনো ধরনের ব্যাহত না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এ মহামারি মোকাবিলায় আমরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ, দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও সাহসী। এই সঙ্কটকালে সেবা দিতে গিয়ে অনেক চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সেবাদানকারী মারা গেছেন। আমি তাদের আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করি এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। আমি ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২১’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করি।
ইন্দোনেশিয়া ও পূর্ব তিমুরে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬০
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইন্দোনেশিয়া এবং পূর্ব তিমুরে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১৬০ ছাড়িয়েছে। সেরোজা নামের এক সাইক্লোনের ফলে দক্ষিণ-পূর্ব ইন্দোনেশিয়া এবং তিমুরে এ অবস্থা দেখা দিয়েছে। এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এ দুই দেশে এখনো অনেক লোক নিখোঁজ রয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, তারা পূর্ব তিমুরের কাছে একটি প্রত্যন্ত দ্বীপপুঞ্জে ১৩৩ জনের প্রাণহানির খবর পেয়েছে। এদিকে পূর্ব তিমুরে সরকারিভাবে ২৭ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে।
এর আগে গত জানুয়ারি মাসে ইন্দোনেশিয়ার জাভা প্রদেশে আকস্মিক বন্যায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া সেপ্টেম্বরেও ১১ জন মারা যান।
রাণীশংকৈলে বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় মঙ্গলবার (৬ এপিল) সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাবউদ্দিনের (৭৫) রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয় ।
তিনি গতকাল সকালে বাড়ির পাশের মসজিদে ফজরের নামাজ পড়তে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সাথে সাথে বাড়িতে নিয়ে গেলে হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত বরণ করেন। ইন্নাল্লিহি — ওয়া রাজিউন)
মৃত মুক্তিযোদ্ধা উপজেলার ভরনিয়া মশালডাঙ্গী গ্রামের গেন্ডেলা সরকারের ছেলে। তিনি ২ স্ত্রী, ৫ মেয়ে, ৫ ছেলেসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

এদিন বিকালে তাঁকে পারিবারিক গৌরস্থানে জানাযা শেষে রাষ্টীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। দাফনকার্য অংশ গ্রহন করেন,উপজেলা চেয়ারমম্যান শাহারিয়ার আজম মুন্না, সহকারি কমিশনার (ভূমি) প্রীতম সাহা, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান, রাণীশংকৈল থানা পুলিশ প্রমুখ। তাঁর মৃত্যুতে উপজেলা মুত্তিযোদ্ধা কমান্ড গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।