দ্বিতীয় দিনে অভিযানে মৌলভীবাজার জেলায় ৩৮ হাজার চারশত টাকা আদায়

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা সংবাদকর্মীঃ করোনাভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও মাস্ক পরিধান, গণপরিবহন সচেতনতা নিশ্চিতে মৌলভীবাজার জেলার সকল উপজেলা ও মৌলভীবাজার সদরে (০৬ এপ্রিল) মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলাব্যাপী অভিযানে ৩৮,৪০০ টাকা জরিমানা করা হয়।এ-সময় সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরিধান ও গণপরিবহনে সচেতনতাসহ স্বাস্থ্যাবিধি অনুসরণের আহবান জানানো হয় এবং স্বাস্থ্যাবিধি না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে  প্রচারনা চালানো হয়।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার(ভূমি)গন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জেলা প্রশাসকের অনুরুপ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের বরাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এসকল তথ্য জানানো হয়।

নওগাঁয় কয়েলের আগুনে বিধবার শেষ সম্বল পুড়ে ছাই

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ি ইউনিয়ন এর গোপাই (মোল্লা পাড়া ) গ্রামের বিধবা আসমা বেওয়ার গোয়াল ঘরে কয়েলের আগুন থেকে আগুন লেগে ২ টি গরু মারা গেছে এবং ১ টি গাভী ও ১টি ছোট বাছুর মারাত্বক দগ্ধ হয়েছে। আসমা বেওয়া একজন বিধবা নারী, স্বামী আব্দুল লতিফ মোল্লা ৬বছর আগে মারা যায়। এরপর থেকে গরু লালন-পালন করে ছোট -ছোট ৩ ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবিকা নিবার্হ করে আসছিলেন।

জানা যায়, প্রতিদিনের মতো আসমা বেওয়া গোয়াল ঘরে অতিরিক্ত মশার জন্য সোমবার রাত ১০টার দিকে গোয়াল ঘরে কয়েল জ্বালিয়ে দেয়। এর পর মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে অতিরিক্ত আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পেয়ে চিল্লাতে শুরু করেন আসমা বেওয়া। এর পর প্রতিবেশি ছুটে আসে এবং আগুন নিভানোর চেষ্টা করে। এসময় আবুল হোসেন নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে ফায়ার সার্ভিস দল রওয়ানা দেয় এর ৩০মিনিট পর আবার ফাওয়ার সার্ভিসকে আগুন নিভিয়ে গেছে এমন সংবাদ দেয়া হলে ফাওয়ার সার্ভিসের গাড়ি মাঝপথ থেকে চলে যায়।

এদিকে ৩০মিনিটে আসমা বেওয়ার সব সম্ভল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্থানীয়রা আগুন নিভাতে সক্ষম হলেও গোয়াল ঘরে থাকা দুটি গরু পুড়ে মারা যায় এবং একটি গরু মারাত্বকভাবে দগ্ধ হয়। গোয়াল ঘর ছাড়াও পাশে বসবাসের ঘর এর কিছু অংশ পুড়ে যায়। আগুনটি পাশের বাসায় ছড়িয়ে পরতে লাগলে স্থানীয়রা দ্রুত আগুন নিভাতে সক্ষম হয়।


স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, আগুন লাগার কথা জানতে পারলে প্রথমে ৯৯৯ ফোন দিয়েছিলাম পরে আমরা আগুন নিভাতে সক্ষম হই। অসহায় বিধবা আসমা বেওয়ার স্বামী মারা যাবার পর সন্তানদের নিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চালাতো। গরু লালন পালন করে মোটা তাজা করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নিবার্হ করত কোন রকমে। কয়েল এর আগুন থেকে গোয়াল ঘরে থাকা গরু ও বাড়িঘর পুরে যায়। এসময় তার ২টি গরু আগুনে পুড়ে মারা যায়। এবং একটি গাভী ও একটি ছোট বাছুর মারাত্বক দগ্ধ হয়েছে। এখন সরকারীভাবে যদি একটু সহায়তা পেতে তবে কিছুটা হলেও দু’বেলা ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে।

ভুক্তভোগী বিধবা আসমা বেওয়া বলেন, দুর্ঘটনার ফলে আনুমানিক আড়াই লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমার সব সম্বল আগুনের সাথে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দুটি গরু আগুনে পুড়ে মারা গেছে এবং একটি গাভী ও একটি ছোট বাছুর মারাত্বকভাবে দগ্ধ হয়েছে। গরু এবং ঘর মিলে আমার প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার মত ক্ষতি হয়েছে। আমি এখন কি করে খাবো । গরু লালন-পালন করে সংসার চলতো সেটাও আজ নাই। কি করে সংসার চলবে সেই চিন্তায় এখন মাথায় ঘুরপাক করছে।

এবিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, বিষয়টি জানার পর ভুক্তভুগি বিধবা আসমা বেওয়াকে থানায় লিখিত সাধারণ ডায়েরি করতে বলেছি। তবে ঘটনাটি সত্যিই দু:খজনক। তবে যতদূর জানি গোয়াল ঘরে কোয়েলের আগুন থেকেই এমন দূর্ঘটনা ঘটেছে|

ডিজিটাল বাংলা নিউজ/ ডিআর/এমআরবি

বায়তুল মোকাররম মসজিদে তাণ্ডবের ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে মামুনুল হক গ্রেপ্তার: ডিসি মতিঝিল

সিএনবিডি ডেস্কঃ গত কয়েকদিন আগে বায়তুল মোকাররম মসজিদে তাণ্ডবের ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হকসহ হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে আজ মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপকালে তিনি এ কথা জানিয়েছেন। হেফজতে ইসলাম বাংলাদেশের ১৭ নেতার নামে মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারে এক নম্বর ও হুকুমের আসামি করা হয়েছে মামুনুল হককে।

মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা তদন্ত করব। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের অনেকের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। তবে আমরা কোনো পদ বিবেচনায় নেব না। আমরা অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

তিনি আরও বলেন, মামলাটি গতকাল রাতে হয়েছে। এখনও প্রি-ম্যাচুরড রয়েছে। আমরা আসামিদের প্রকৃত পরিচয়, তারা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছে, ২৬ তারিখ তারা কোথায় ছিল, বায়তুল মোকাররমে সরাসরি উপস্থিত ছিল কিনা, তারা নাশকতার নির্দেশ বা উসকানি দিয়েছে কিনা, হামলার অর্থদাতা বা মাস্টারমাইন্ড কিনা তা শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারসহ যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যিনি মামলা করেছেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী। তিনি টাইলসের আঘাতে আহত হয়েছেন। তার অন্য কোনো পরিচয় আছে কিনা তা আমরা খুঁজে বের করব।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার (৫ এপ্রিল) রাত পৌনে ১০টার দিকে আরিফ উজ জামান নামের ওয়ারীর এক ব্যক্তি হত্যা চেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনসহ কয়েকটি ধারায় পল্টন থানায় মামলাটি করেন। মামলায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আরও ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬

সিএনবিডি ডেস্কঃ নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬ জনে দাড়িয়েছে। এর আগে সোমবার (৫ এপ্রিল) দুর্ঘটনার ১৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় ডুবে যাওয়া লঞ্চটি।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সাভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গেল রোববার (৪ এপ্রিল) রাতে লঞ্চডুবির ঘটনায় পাঁচ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরেরদিন সোমবার (৫ এপ্রিল) সকালে ১ শিশু ও দুপুরে উদ্ধারকৃত লঞ্চের ভেতর থেকে ২১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। একইদিন রাতে ২ শিশুসহ আরও ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের দেয়া তথ্যমতে, সোমবার পর্যন্ত ৩০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর মঙ্গলবার সকালে আরও ৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে নিখোঁজদের স্বজনরা এসে লাশ শনাক্ত করলে মরদেহগুলো জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাদের সবার বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলায়।

এদিকে লঞ্চডুবির এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের ৭ সদস্য বিশিষ্ট ও বিআইডব্লিউটিএ ৪ সদস্য বিশিষ্ট পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক ১

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা সংবাদকর্মী: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া নির্দেশনায় ও জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ সুধীন চন্দ্র দাশ পরিচালনায় সহযোগী এসআই মোহাম্মদ মাসুক মিয়া, এএসআই রকি বড়ুয়া ও সদস্য আতাউর রহমান, সুমন চন্দ্র পালের মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখা, মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযান চলাকালীন সময় অদ্য ০৫.০৪.২০২১ রাত ১২ ঘটিকার সময় মৌলভীবাজার জেলার সদর থানাধীন মৌলভীবাজার জেলা স্টেডিয়ামের সামনে পাঁকা রাস্তার উপর থেকে ০১ জনকে আটক করা হয়।
আটককৃতের নাম  সাইমুন মিয়া(২৫)। জানা যায় গুজারাই গ্রামের বাচ্চু মিয়ার সন্তান। সাইমন মিয়া র্দীঘ দিন হতে মাদক কারবারী সাথে জরিত। আটকের পর ৩১ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট দেহ তল্লাদি করে ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। সাইমুন মিয়াকে আটকের পর তাহার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়েরের সকল রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা বিভাগের অফিসার ইনচার্জ সুধীর চন্দ্র দাস এই ঘটনার বিবরণ দিয়ে আটকের কথা নিশ্চিত করেন।
মৌলভীবাজারকে মাদক মুক্ত রাখতে গোয়েন্দা বিভাগের অভিযান অভিযান চলমান থাকবে।

কয়েলের আগুনে গোয়ালঘরে পুড়ে মরল গরু-ছাগল

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে মশার কয়েলের আগুনে গোয়ালঘরে চারটি গরু ও একটি ছাগল পুড়ে মারা গেছে।গত সোমবার গভীর রাতে উপজেলার মধ্য বোয়ালিয়া গ্রামের কফিল উদ্দিনের পুত্র রসুল সরদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

বাড়ির মালিক রসুল সরদার জানান, প্রতিদিনের মতো রোববার রাতে গোয়াল ঘরে মশার কয়েল জ্বালানো হয়। পরে কয়েল থেকে গোয়াল ঘরের মধ্যে খড়ে ও পাটকাটিতে আগুন লেগে যায়। গোয়াল ঘরের সাথে মাটির টিনের ঘরে আমার মা রওশন আরা বেগম আগুনের শীষ দেখে ঘর থেকে বাহির হয়ে চিৎকার করলে ডাকা-ডাকি করলে তার চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং এক পর্য়ায়ে গ্রাম বাসী ও এলাকাবাসীদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় রসুলের চারটি গরু ও একটি ছাগলসহ গোয়াল ঘরটি পুড়ে যায়।

আগুনে ক্ষতির পরিমান প্রায় তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা বলে দাবি করেন রসুল সরদার। এ দিকে আত্রাই ফায়ার সার্ভিস খবর পেয়ে ঘটনার স্থলে পৌঁছে দেখে গ্রাম বাসীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আত্রাই ফারসার্ভিস স্টেশন ইনচার্জ শ্রী নিতাই চন্দ্র বলেন মশার কয়েল থেকেই গোয়াল ঘরে আগুন লাগার ধারনা করা হচ্ছে।

নেত্রকোনার ধমকা হাওয়ায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি

মো. কামরুজ্জামান,নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধিঃ কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গঃ মাঠে মাঠে চলছে আহাজারি। কৃষকের কান্নায় ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছে নেত্রকোনা জেলার হাওরাঞ্চল হিসেবে খ্যাত খালিয়াজুরী, মদন ও মোহনগঞ্জ উপজেলা।

গেল রবিবার রাতের কয়েক মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন মূহুর্তে বিলীন হয়ে গেছে। শীষে ধান নেই, জমিতে শুধু ধান গাছ দাড়িয়ে রয়েছে। সোমবার সকাল থেকে হাওরাঞ্চলে চলছে কৃষকদের বিলাপ করা কান্না।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে খালিয়াজুরী উপজেলায় ১৯ হাজার ৯ শত ৫০ হেক্টর, মদনে ১৭ হাজার ৩ শত ৪০ হেক্টর ও মোহনগঞ্জ উপজেলায় ১৭ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো ধানের ফলন ভাল হয়েছে। লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হবে বলে আশা ছিলো কৃষকদের। বেশির ভাগ জমির ধানই পাকতে শুরু করেছে। আর কয়েক দিনের মধ্যে ব্রি আর ২৮ জাতের ধানের পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের ধান কাটা শুরু হতে যাচ্ছে। এরি মধ্যে আগে লাগানো কিছু কিছু জমিতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। সারা বছরের একমাত্র হাড় ভাঙ্গা কষ্টে ফলানো সোনার ফসল ঘরে তুলতে অনেকেই বিভোর সময় পার করছে। জমিতে পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে। কিন্তু গত রবিবার সন্ধ্যার আগ মূহুর্তে মাত্র কয়েক মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ের গরম বাতাস যেন কৃষকদের সব স্বপ্ন বিলীন করে দিয়েছে। ধার-দেনা করে এক ফসলী জমির ফসল হারিয়ে পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই কৃষকের।

মদনের তিয়শ্রী ইউনিয়ের বাগজান গ্রামের কৃষক আবুল মিয়া, খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দীপুর গ্রামের আরিফ মিয়া, মোহনগঞ্জ উপজেলার হাটনাইয়া গ্রামের হাসেম মিয়া, নলজুরী গ্রামের হেলিম মিয়াসহ অনেকেই জানান, হাওরের এক ফসলী বোরো জমির ফসল দিয়ে সারা বছর পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। রবিবার সন্ধ্যায় কয়েক মিনিটের গরম বাতাসে জমির সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণ করে জমিতে ফসল উৎপাদন করেছিলাম। এখন সারা বছর খাবো কি আর কি দিয়ে ঋণ পরিশোধ করবো। সরকার যদি আমাদের পাশে না দাঁড়ায় তাহলে পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

সোমবার সকালে মদন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদসহ কৃষি বিভাগের লোকজন হাওরাঞ্চল পরিদর্শন করেছেন।

মদন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার রায়হানুল হক জানান, রবিবার সন্ধ্যায় কালবৈশাখী ঝড়ে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হাবিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে আমি স্থানীয় কৃষি অফিসারদের নিয়ে মদন, মোহনগঞ্জ ও কালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন হাওরাঞ্চল পরিদর্শন করছি।

তিনি জানান, যে সমস্ত জমিতে এখনও ধান পাকে নাই সে সমস্ত জমির ধান গরম বাতাসের কারণে চিটা হতে পারে। আমাদের লোকজন মাঠে আছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমান নিরূপনের চেষ্টা চলছে।

 

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা সংবাদকর্মী: করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালন নিশ্চিতে জেলা প্রশাসন,মৌলভীবাজার কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।  ৭টি মামলায় মোট ৬২০০/- টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে মোবাইল কোর্ট।

মৌলভবাজার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মীর নাহিদ আহসানের নির্দেশনা এবং বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া সুলতানার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ০৫ এপ্রিল ২০২১ খ্রিস্টাব্দে সন্ধ্যা ৬ঃ০০ থেকে রাত ৮ঃ০০ ঘটিকা পর্যন্ত মৌলভীবাজার সদর এর বিভিন্ন এলাকায়  লকডাউন না মানায় ও দোকান খোলা রাখায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

এ সময় স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও সরকারি নির্দেশ না মেনে দোকানপাট খোলা রাখার কারণে ৭টি মামলায় মোট ৬২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং করোনা প্রতিরোধে লকডাউন  কার্যকর করতে জনগণকে  উদ্বুদ্ধ করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রুহুল আমিন এবং মোঃ তানভীর হোসেন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সাহায্য করেন মৌলভীবাজার সদর থানা পুলিশ।করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউন নিশ্চিতে এবং জনসচেতনা বৃদ্ধিতে মৌলভীবাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।

মৌলভীবাজারবাসীকে আবারও মাস্ক পরিধানসহ সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হল।

 

দেবিদ্বারে লকডাউনের দোকান খোলা রাখায় পাঁচ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২৩ হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা

শাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া (দেবিদ্বার,কুমিল্লা প্রতিনিধি) : কুমিল্লার দেবিদ্বারে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে দোকানপাট খোলা রাখায় উপজেলার নিউ মার্কেটের পাঁচ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২৩ হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ১১ টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দেবিদ্বার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন অভিযান চালিয়ে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

জানা গেছে, দেবিদ্বার নিউ মার্কেট সদরে সরকারি নির্দেশনা না মেনে কয়েকটি দোকান খোলা রাখা হয় এবং তাতে বেচাকেনা চলছিলো। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে নিউ মার্কেটের আর্শিবাদ স্টোরের মালিক নারায়ন চন্দ্রকে ৫হাজার টাকা, জালালের প্লাস্টিকের দোকানকে ৫হাজার টাকা, মেডিকেল হাসপাতালের নিচে বধু সাজ কসমেটিকে ৫ হাজার টাকা , রেস্তোরা খোলা রেখে ভিতরে খাবার পরিবেশনের দায়ে কালাম হোটেলকে পাঁচ হাজার টাকা, কাদিম আলীর ফাস্টফুডকে তিন হাজার এবং অবৈধ পার্কিং এর দায়ে সিএনজি চালক মো. মাহবুব ভূঁইয়াকে ৫শ’ টাকাসহ মোট ২৩ হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন, দেবিদ্বার থানার এএসআই মো.আজিজুর রহমান, স্থানীয় সাংবাদিক ও ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক রতন কুমার দেবনাথ সহ আরো অনেকে।

দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন জানান, বাংলাদেশ করোনার ২য় ধাপ চলছে। লকডাউনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা না মেনে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছিলো। ১৮৬০এর ২৬৯ ধারায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালানার মাধ্যমে পাঁচ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে ২৩ হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।