মাহে রমজানকে পুঁজি করে সিলেটের বাজারগুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম

মো:আমিন আহমেদ, সিলেট: সিলেটের বাজারগুলোতে সব ধরনের মুরগি, মাছ-মাংস, ভোজ্যতেল, চিনি ও তরল দুধের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। রোজা সামনে রেখে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য। দাম বাড়ার পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দু’মাসের বেশি সময় ধরে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগি। বিশেষ করে পাকিস্তানী কক জাতের লাল ও হলুদ বর্ণের মুরগির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

প্রতিকেজি পাকিস্তানী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৫০ টাকা। আর মাঝারি সাইজের প্রতিপিস মুরগি কিনতে ২৫০-২৬০ টাকা ক্রেতাকে ব্যয় করতে হচ্ছে। প্রতিকেজি গরুর মাংসে ৩০-৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে ৫৮০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। অনেক মাংস বিক্রেতা ভাল গরুর কথা বলে পরিচিত ক্রেতার কাছ থেকে ৬২০-৬৩০ টাকা পর্যন্ত দাম নিচ্ছেন। বাজারে বেড়ে গেছে সব ধরনের মাছের দাম। এছাড়া হালুয়া, রুটি তৈরিতে ব্যবহার এমনসব নিত্যপণ্য বিশেষ করে চিনি, বুটের ডাল, তরল দুধ এবং সুজির দামও বেড়ে গেছে।

ব্যাবসায়ীরা ডিজিটাল বাংলা নিউজ রিপোটার মো: আমিন আহমেদ কে জানান, আদা, রসুন, জিরাসহ সব ধরনের মসলাপাতির দাম বেড়ে গেছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল। গত এক মাসে কেজিতে ১০ টাকার বেশি বেড়েছে চিনির দাম। প্রতিকেজি খোলা চিনি ৭০ এবং প্যাকেটজাত চিনি ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। প্রতিলিটার তরল দুধ আগে ৭০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ক্রেতাকে ব্র্যান্ডভেদে ৭৫-৮০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। রোজা  সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

সিলেট মেজরটিলা বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী রহমান মিয়া বলেন, প্রত্যেক কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করা হচ্ছে ১৫৫-১৬০ টাকায়। এ ছাড়া লাল লেয়ার মুরগি ২০০-২২০ টাকা, পাকিস্তানী কক মুরগির পিস ২৫০-২৮০ টাকা এবং দেশী মুরগি ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি।

সিলেট শিবগন্জ বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী কাহাফ মিয়া বলেন, বাজারে গরুর মাংসের দাম অনেক বেশি হওয়ায় এবার মুরগির চাহিদা বেড়েছে। তবে সে তুলনায় মুরগির সরবরাহ নেই বাজারে।

সিলেট কাজির বাজারে আঃরফিক জানান, সম্প্রতি যান চলাচল অব্যাহত হওয়ায় সিলেটের বাজারগুলোয় মুরগির সরবরাহে তারতম্য ঘটেছে। তাই পাইকারিতে দাম বেড়ে গেছে। দেশি জাতের সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

গনপরিবহণ প্রহসন ও জনগণের দুর্ভোগ

সিএনবিডি ডেস্কঃ গতকাল মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) নিজ সরকারি বাসভবন থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিয়মিত ব্রিফ্রিংয়ে জানান, করোনার সংক্রমন বৃদ্ধির কারনে জনসমাগম কমাতে গণপরিবহনে ধারণক্ষমতার ৫০ ভাগ যাত্রী বহন করতে হবে এবং গণপরিবহনগুলো ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়ায় চলাচল করবে। আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভাড়া আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।

আজ বুধবার (৩১ মার্চ) করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে গণপরিবহনগুলো ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়ায় ধারণক্ষমতার ৫০ ভাগ যাত্রী বহন করে চলাচল শুরু করেছে। এতে অফিসগামী অনেক যাত্রী বাসে উঠতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকে নির্ধারিত বাস স্টপেস থেকে দেড় থেকে দুই কিলোমিটার হেটে অন্য জায়গায় থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসে উঠতে দেখা গেছে। আবার অনেকে বাসে উঠতে না পেরে সিএনজি বা রাইড শেয়ারিং পরিবহণে দ্বিগুণ ভাড়ায় অফিসে যেতেও দেখা গেছে। এছাড়া অনেকে বাসে উঠতে না পেরে বাসায় ফেরত গেছেন।

তবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে গেলে হয় পরিবহণ বাড়াতে হবে নতুবা অফিসের জনবল ৫০ ভাগ করতে হবে, তবেই এসময় নির্ধারিত সময়ে বাসে চড়ে অফিসে যাওয়া সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাস্তায় অপেক্ষারত অনেক যাত্রী।

এছাড়া সকাল থেকে কোনো কোনো পরিবহনে ৬০ শতাংশের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাসের হেল্পার ও কন্ডাক্টরদের বসচা এমনকি ঝগড়া করতে দেখা গেছে। আরও বেশ কয়েকটি পরিবহনের বিরুদ্ধে যাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে তাদের কাছ থেকে ৬০ শতাংশের বেশী এমনকি ১০০ শতাংশ বেশী ভাড়াও নেওয়া হয়েছে।

যাত্রীরা এ ব্যাপারে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন যেন তাদের এমন দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পরতে না হয়।

মোদির সফর আর আন্দোলন

আজিজুর রহমান প্রিন্স, টরেন্টো, কানাডা

স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী উপলক্ষ্যে বিশ্বের বহু দেশ বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধান সরকার প্রধানরা ঢাকায় এসেছেন, শ্রদ্ধা জানিয়ছেন শহীদদের। নিকট প্রতিবেশী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এসেছেন। তিনি শুধু শুভেচ্ছা জানাতে নয় ১.২ মিলিয়ন ভ্যাকসিন নিয়ে এসেছেন। সঙ্গে এনেছে ১৯০ টি এম্বুলেন্স। মোদির ঢাকা সফর নিয়ে উগ্রবাদি সন্ত্রাসীরা নানা রকম হুমকি ধমকি দিয়েছে। রেড এলার্ড দেখানো হয়েছে দেশজুরে। হেফাজত ছাড়াও অনেক রাজনৈতিক নেতা যুক্ত হয়েছেন ইন্দন যোগিয়েছেন মোদির সফর ঠেকাতে।

সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করা রাজনীতিরিই শিষ্ঠাচার এবং তা’র একটি গনতান্ত্রিক পদ্ধতি রয়েছে। একজন সরকার প্রধানের শুভেচ্ছা সফর ঠেকাতে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করা রাজনীতি নয় সন্ত্রাস। দেশে সন্ত্রাস করার উদ্দেশ্যটি বিশ্লেষণের দাবী রাখে। ভারতের হিন্দু মুসলিম দন্দ বহুদিনের এবং যথেষ্ঠ কারন রয়েছে। ভারতের মোসলমানেরা সেই যুক্তিকতা প্রমান করেই ভারতের নাগরিক। অসংখ্য দাঙ্গা হয়েছে ধর্ম বিশ্বাসীদের মধ্যে। হানাহানি হয়েছে প্রান গেছে মানুষের। হিন্দুস্থান বলে হিন্দুদের দেশ দাবী করলেও ভারত বিশ্বের দিতীয় বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুসিত দেশ। ২ হাজার বছর ধরে ভারত শাসন করেছে মুসলমানেরা।  হিন্দু শাসন এখনো দু’শ বছর পেরোয়নি। সেই দেশেই গুজরাটের রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে মোদি হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গাকে উস্কে দিয়েছিল। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি এবং দুই ধর্মের সহবাস্থানটিকে হুমকির মূখে ঠেলে দিয়েছেন। তার জের ধরেই মোদি এখন সমালোচিত নীজ দেশেই। মোদি সরকার ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করে টলমলে অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু ভারত শুধু মোদির নয় ভারতবাসীর। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সরকার প্রধান। বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রন জানিয়েছে। কুটনৈতিক এই শিষ্ঠাচার গনতন্ত্রকেই সমৃদ্ধ করে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের এই সম্পর্কটি স্বাধীনতার পর থেকেই। প্রতিবেশী এই দুই রাষ্ট্রের সম্পর্কটি দুই দেশের জন্যই জরুরী। যারা সামান্য জর হলেই ভারতে যান চিকিৎসার জন্য তাদের এমন মোদি ঠেকাও আন্দোলনের একটি অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য আছে- রাজনীতি। দেশে এখন কোন ইস্যু নেই আন্দোলনের। ভারতের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেওয়াই তাদের রাজনীতি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান’ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তি উপলক্ষে শুভেচ্ছা বানী পাঠিয়েছে। ৭১ সালে এই পাকিস্তানিরাই বাংলাদেশে গনহত্যা চালিয়েছে। বুদ্ধিজীবি হত্যা করেছে। ৯ মাস পাকিস্তানীদের সঙ্গে যূদ্ধ করেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। পাকিস্তানীদের বর্বরচিত গনহত্যার কারনে এই আন্দোলনকারীরা ইমরান খানের শুভেচ্ছাকে প্রত্যাখ্যান করেনি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দক্ষিন পুর্ব এশিয়ায় এক নতুন ধারা প্রবর্তন করে দিয়েছে। এখন মালোয়েশিয়া নয় বাংলাদেশকেই মডেল মনে করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভারত কিংবা পাকিস্তান দুই দেশকেই ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। আঞ্চলিক সম্পর্কের জন্য বাংলাদেশ দক্ষিন পুর্ব এশিয়াতে এখন গুরত্বপুর্ন অবস্থানে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন বিশ্বের অন্যতম নেত্রী। আনবিক যূদ্ধ নয় অর্থনৈতিক যূদ্ধে বাংলাদেশ এখন দক্ষিন পুর্ব এশিয়ার অন্যতম অংশিদার। কিন্তু দেশের কিছু নেতা এই সত্য জনেও সরকারের বিরোধীতা করছে নীজেদের অক্ষমতা আর প্রতিহিংসার কারনে। বাংলাদেশের অর্থনীতি বহুলাংশে ভারতের উপর নির্ভরশীল ছিল। এখন ভারত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং বানিজ্যিক সম্পর্কটি ধরে রাখতে চায়। এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে নেতৃত্বের কারনে। রাজনীতি আবেগের জায়গা নয় মেধা আর যোগ্যতা প্রয়োজন। সারা বিশ্ব যখন বাংলাদেশের উন্নয়ন উন্নতি দেখে বিস্বয় প্রকাশ করছে তখন বাংলাদেশের কিছু নেতা প্রতিহিংসামূলক আচরন করছে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত হয়ে। কিন্তু বাংলাদেশ এখন পুর্বের অবস্থানে নেই। আন্দোলনের ঠুনকো ইস্যু ব্যবহার করে জনগনকেও আর সম্পৃক্ত করা যাচ্ছেনা। জাতীর পিতার জন্মশত বার্ষীকিতে বিশ্ব নেতাদের শুভেচ্ছা বানী আর ঢাকা সফর কারো কারো হৃদয়ে জালা ধরালেও এটাই প্রত্যাশিত। করোনার বিপত্তি না হলে আরও বহু দেশের সরকার, রাষ্ট্রপ্রধানের ঢাকা সফর নিশ্চিত ছিল। হরতাল সাংস্কৃতি বাংলাদেশে এখন অচল প্রায়। হরতালের ডাক দিয়ে যারা ঘরে বসে ঢেকুর গিলেন তারা ঘরের বাইরে এসে দেখুন। জনগন আপনাদের সমর্থন করেনি। বাংলাদেশে এখন একটি বিরোধী দল খুব প্রয়োজন কিন্তু আপনারা সেই প্রয়োজনের জায়গাটি পুরন করতে পারেননি। ব্যর্থতার গ্লানি ছেয়ে গেছে সর্বত্র। এবার ক্ষান্ত হউন আর দেশকে ভালোবাসুন।

নওগাঁর মান্দায় সাংবাদিক শরীফ এর উপর পুলিশের মিথ্যা চাঁদাবাজী মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় সাংবাদিক শরিফ এর উপর পুলিশের মিথ্যা চাঁদাবাজী মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।

গেল সোমবার সকাল ১০ টায় খাঁজা শাহাবুদ্দিন এর সভাপতিত্বে উপজেলার দেলুয়াবাড়ী বাজারস্থ কালিগ্রাম রোডে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এই মানববন্ধনে এলাকার আনুমানিক ৭ শতাধিক নারী পুরুষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,পরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে উঠিয়ে নিয়ে পুলিশ মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে পুলিশের প্রত্যাহার সহ দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন মানববন্ধনকারীরা।

উল্লেখ্য ইভটিজিং এর অভিযোগ দায়েরের পর মেয়ের বাবা বিষয়টি মিমাংসার জন্য সাংবাদিক শরীফের সহযোগিতা কামনা করেন। বিষয়টি মিমাংসা করতে এসে ছেলে পক্ষের সহযোগী শরীফুল নাটকীয় ঘটনা করে থানা পুলিশকে ফোন দিয়ে বলেন, সাংবাদিক শরীফ আমাকে অপহরণ করে আটকে রেখেছে, এই অভিযোগ মর্ম্মে সাংবাদিক শরীফকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে মান্দা থানার  অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর রহমান এর কাছে বিষয়টির সত্যতা সম্পকে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এসআই আতিয়ার রহমানের জবানবন্দি ও শরীফুলের অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিক শরীফকে আটক করা হয়েছে।

করোনা দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার সর্তক বার্তা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে করোনার প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় আবার ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাস্ক বাধ্যতা মূলক করে  মাঠে নেমেছে  উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা বৃন্দ। করোনা সংক্রমণ রোধে  প্রশাসনের এই গণসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গেল সোমবার ২৯শে মার্চ বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের চৌমুহনা সহ বিভিন্ন চত্বরে জনগণের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করা এবং একই সাথে সবাইকে যথাযতভাবে মাস্কের ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নিবার্হী কর্মকতা নজরুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, সহকারী ভূমি (কমিশনার) নেছার আহম্মদ, শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদূর রহমান, আনোয়ার হোসেন মিজান।

এসময় উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম হাত মাইকের ব্যবহার করে উপজেলার প্রতি রাস্তা ঘাটে বলেন, শ্রীমঙ্গলে নতুন করে ১০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তাই আমরা আজকে মাঠে নেমেছি জনসাধারণকে সর্তক করতে। আগামীকাল থেকে যারা মাস্ক ব্যবহার করবে না তাদেরকে আমরা মোবাইল কোর্টের আওতায় আনবো। যে এই নির্দেশ অমান্য করবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করবো। সারা দেশে হঠাৎ করে করোনার বিস্তার বেড়ে যাওয়াতে সবাইকে মাস্ক পরে বাহিরে আসতে হবে। এ সময় তিনি অযথা বাড়ির বাহিরে না আসার জন্য অনুরোধ করেন।অন্যাতায় আমরা আবারও কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হবো ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 

ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসনাত বেলাল এর নেতৃত্বে হেফাজত এর হরতাল এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ

দেশে করোনা সংক্রমণে নতুন রেকর্ড, ৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু

সিএনবিডি ডেস্কঃ চলমান মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায়  ৫১৮১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ফলে দেশে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৯৫ জন। এর আগে গত বছরের ২ জুলাই দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ৪ হাজার ১৯ জনের শরীরে। একই সময়ে করোনায় মারা গেছেন আরও ৪৫ জন। তাদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও ১৫ জন নারী। ফলে দেশে মোট করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ হাজার ৯৪৯ জন।

আজ সোমবার (২৯ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনাভাইরাস সম্পর্কিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৭৭ জন। ফলে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার ১৮ জন।

সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২২৪টি ল্যাবে  ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২৮ হাজার ৬৬৮টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৮ হাজার ১৯৫টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৬ লাখ ১৭ হাজার ২৫টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ০১ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৫৪ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৯ শতাংশ।

মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫ জন, খুলনা বিভাগে ৩ জন রয়েছেন। এছাড়া বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন করে ৩ জন রয়েছেন।

মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০ বছরে ঊর্ধ্বে ২৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে আট জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে চার জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এক জন রয়েছেন।

উল্লেখ্য,  রোববার (২৮ মার্চ) দেশে আরও ৩ হাজার ৯০৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে মারা যান আরও ৩৫ জন।

তুরস্কে আড়াই হাজার বছর আগের ‘তাওরাত’ উদ্ধার

আন্ততর্জাতিক ডেস্কঃ প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের একটি ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র গ্রন্থ ‘তাওরাত’ উদ্ধার করেছে তুরস্কের পুলিশ। দেশটির পুলিশ চোরাচালানকারীদের কাছ থেকে এ গ্রন্থ উদ্ধার করেছে।

পার্সটুডের খবরে বলা হয়, তুরস্কের উত্তরাঞ্চলীয় সামসুন প্রদেশের পুলিশ এ বিষয়ে জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র কিছু ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাচার করছে। এমন খবর পেয়ে তারা ওই চক্রকে ধরতে অভিযান শুরু করে। অভিযানের এক পর্যায়ে প্রদেশের জানিক শহরের উপকণ্ঠে দু’টি ব্যক্তিগত গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি গাড়ি থেকে প্রায় ২,৫০০ বছর আগের ঐশী গ্রন্থ তাওরাতের একটি কপি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ১৯ পৃষ্ঠার গ্রন্থটি একটি চামড়ার বাক্সে আটকানো ছিল। ঐতিহাসিক এই ঐশী গ্রন্থ চোরাচালানের দায়ে এ পর্যন্ত ৫ জনকে আটকের কথা জানিয়েছে তুরস্কের পুলিশ।

উল্লেখ্য, হযরত মূসা (আ.)-এর ওপর তাওরাত নাজিল হয়েছিল। বনী ইসরাইল জাতির মধ্যে এই তাওরাতের বাণী প্রচারণ করেন তিনি। তবে পরবর্তীতে ইহুদি পুরোহিতরা এই ঐশী গ্রন্থের বাণীকে পরিবর্তন করে ফেলে।

রোজায় ভোগ্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আমদানিতে ছাড়

সিএনবিডি ডেস্কঃ আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে ব্যবসায়ীদের পণ্য আমদানিতে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এ সংক্রান্ত এক সার্কুলার জারি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্যের উর্ধগতি রোধ ও এসব পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখাসহ পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরী। এটি বাস্তবায়নে ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল, মটর, পেঁয়াজ, মসলা, খেজুর, ফলমূল এবং চিনিসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আমদানি ঋণপত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম মার্জিন বা আগাম অর্থ রাখতে হবে। অর্থাৎ কম অর্থ আগাম রেখে পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের এলসি খোলার সুযোগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সুযোগ আগামী ১৫ মে পর্যন্ত বহাল রাখতে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো বলে নির্দেশনায় জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ ভোগ্যপণ্য মজুদ থাকলেও একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী রমজানকে সামনে রেখে ভোগ্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে রমজানে বেশি ব্যবহৃত পণ্য পেঁয়াজ, চিনি, সয়াবিন তেল ও ডালের দাম বেড়ে যায়। অধিক মুনাফালোভী এসব ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের সুযোগ দেয়ার পরও পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ ক্রেতা। এসব সাধারণ ক্রেতার কথা বিবেচনা করেই পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের ছাড় দেয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, ব্যবসায়ীরা কোনো পণ্য আমদানির সময় আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের ওপর একটি অংশ ব্যাংকের আগাম পরিশোধ করতে হয়। এটাকেই ব্যাংকিং ভাষায় এলসি মার্জিন বলে। সাধারণত ক্রেতাভেদে এলসি মার্জিন নির্ধারণ করে থাকে ব্যাংক। ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে গ্রাহক ভেদে এলসি মার্জিনও ভিন্ন ভিন্ন নির্ধারণ করে। যেমন ১০০ টাকার একটি পণ্য আমদানি সময় সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী আগাম ২০ টাকা পরিশোধ করলেন। বাকি ৮০ টাকা পণ্য আমদানির জন্য ব্যাংক জোগান দিলো।

সাধারণত পণ্য দেশে আসার পর বাকি ৮০ টাকা ব্যাংকে পরিশোধ করে ব্যাংকের গোডাউন থেকে পণ্য ছাড়িয়ে নেন ব্যবসায়ীরা। আবার অনেক সময় ব্যাংকের গোডাউনে রেখে অল্প অল্প পণ্য ছাড়িয়ে বিক্রি করে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করেন গ্রাহকরা। অনেক সময় গ্রাহক পণ্য বিক্রি করে ব্যাংকের অর্থ ফেরত দেন না। একসময় ওই ঋণ ফোর্স ঋণ হিসেবে পরিণত হয়। এ কারণে ব্যাংক পণ্য আমদানির সময় বেশি অর্থ গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করতে চান। তবে বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের ক্ষেত্রে গ্রাহকের সুনামের ওপর ভিত্তি করে শূন্য মার্জিনেও পণ্য আমদানির সুযোগ দেয় ব্যাংক।

অন্যদিকে, পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে একের পর এক ভোগ্যপণ্যবোঝাই জাহাজ আসছে চট্টগ্রাম বন্দরে। ফলে চাল, ডাল, ছোলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বন্দর এখন ভরপুর। রমজানের আগে বাজার ধরতে এসব পণ্য দ্রুত খালাসও করছেন ব্যবসায়ীরা। গতবারের মতো এবারও প্রচুর পণ্য এসেছে। তবে ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার পণ্যের পরিবহন ব্যয় বেশি পড়ছে। কিছুটা বেশি পড়ছে আমাদানি খরচও।

এছাড়া, ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে বাজার মনিটরিংয়ে নামছে দেশের সকল জেলা প্রশাসন।