তুরস্কে যাওয়া বাংলাদেশের উদ্ধারকারী দল ঢাকায় ফিরেছে

জাতীয় ডেস্কঃ তুরস্কে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বাংলাদেশের পাঠানো ৬১ সদস্যের উদ্ধারকারী দল ঢাকায় ফিরেছে। গতকাল মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে বিমান বাহিনীর সি-১৩০ ফ্লাইটে করে তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারা।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (মিডিয়া সেল) মো. শাহজাহান শিকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল তুরস্কের আদিয়ামান ও হাতেয় শহরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত ও জীবিত মানুষ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর মেডিকেল দল প্রায় ২৫০ জনকে চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি ঔষধও প্রদান করেন। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে তাঁবু, শীতবস্ত্র এবং কম্বল বিতরণ করা হয়। উদ্ধারকারী দল ও মেডিকেল দলের কার্যক্রম এবং সফলতা দেশে বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গাজীন্তেপ প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে এবং দুর্গত মানুষের সাহায্যার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বাংলাদেশের পক্ষ হতে ৮ ফেব্রুয়ারি ভূমিকম্প পরবর্তী সাহায্যের জন্য ৬১ সদস্যের (সশস্ত্র বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং একজন মিডিয়া সদস্য সমন্বিত) একটি সম্মিলিত সাহায্যকারী দল প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী, ত্রাণ, ঔষধ, তাঁবু, শীতবস্ত্র, কম্বল এবং উদ্ধার সরঞ্জামাদিসহ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমানে তুরস্কে যায়।

এছাড়া, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমানযোগে সিরিয়ায় ভূমিকম্প দুর্গত মানুষের সাহায্যে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ হতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ত্রাণ সামগ্রী প্রেরণ করা হয়।

নেত্রকোণায় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণায় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সকালে অরুনাভ দেবনাথ ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর যুব প্রশিক্ষন কেন্দ্র নেত্রকোণা এর সভাপতিত্বে  যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের হলরুমে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপ-পরিচালক মোঃ হারুন অর রশিদ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নেত্রকোণা।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী-পরিচালক যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর মুসলেউদ্দীন, মৎস্য প্রশিক্ষক এমদাদুল হক, এস এম শহীদুল্লাহ কম্পিউটার প্রশিক্ষক, হাঁস মুরগি ও গবাদিপশু পালন যুব প্রশিক্ষন কেন্দ্র নেত্রকোণা ইসরাত জাহানসহ আরো অনেকে।

পরে যানবাহন চালনা প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে সনদপত্র ও ভাতা বিতরণ করা হয়েছে।

বন্যার পর হাকালুকিতে বেড়েছে মাছের উৎপাদন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: গত বছরের বন্যার পর দেশের অন্যতম বৃহত্তর মাছের উৎস হাকালুকি হাওরে উল্লেখযোগ্য হারে মাছের উৎপাদন বেড়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, হাকালুকিতে মাছের উৎপাদন বেড়েছে গড়ে ৫ থেকে ৭ শতাংশ। আশা করা হচ্ছে, এ বছর উৎপাদন অন্তত ৪,০০০ টন বৃদ্ধি পাবে।

মৎস্য বিভাগ সূত্রের বরাতে জানা যায়, বাংলাদেশের বড় হাওর হাকালুকি দেশের ৪টি মাদার ফিসারিজের অন্যতম। প্রতি বছর এ হাওরের মাছ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যায়। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে এ হাওরে মাছের গড় উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার টন। কিন্তু ২০১৭ সালের বন্যার পরেই মাছের উৎপাদন নতুন রেকর্ড করে ১৭ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়ায়। তবে এরপরে আবারও কমে কমে যায় উৎপাদন।

২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে জেলায় মাছের উৎপাদন ছিল ৪৮ হাজার ১১২ মেট্রিক টন। এরমধ্যে হাওরে উৎপাদন ১০ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ হাজার ৫১৮ মেট্রিক টন। এরমধ্যে হাওরে উৎপাদন ছিল ১২ হাজার ৯৮১ মেট্রিক টন। ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৫১ হাজার ৫৫২ মেট্রিক টন; এরমধ্যে হাওরে ২০ হাজার ৯৭৭ মেট্রিক টন। ২০২১-২২ অর্থ বছরে উৎপাদন হয় ৫২ হাজার ৩২৫ মেট্রিক টন। এরমধ্যে হাওরে উৎপাদন হয়েছিল ২৪ হাজার ২৪০ মেট্রিক টন।

চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে হাওরে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যে মাত্রা ২৮ হাজার মেট্রিক টন এবং জেলায় উৎপাদনের লক্ষোমাত্রা ৫৩ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে।

মৎস কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরে ইতোমধ্যেই ৫ থেকে ৭ শতাংশ উৎপাদন বেড়েছে, বছরের শেষ নাগাদ এই বৃদ্ধি ১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

হাওর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে হাকালুকির বিভিন্ন বিলে মাছ ধরার উৎসব চলছে। বিভিন্ন আকারের মাছের পাশাপাশি ২০ থেকে ৩০ কেজি ওজনের মাছও ধরা পড়ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, একদিনে কোটি টাকার ওপরে মাছ বিক্রি হচ্ছে। ধরা পড়ছে বড় বড় মাছ।

হাওরের জুড়ী, কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, বিলের পাড়ে অস্থায়ী নিলাম কেন্দ্র স্থাপন করেছেন ইজারাদাররা। সেখানে ভোর থেকে ব্যবসায়ীরা মাছ কেনার জন্য ভিড় করছেন। ইজারাদারদের অধীনে জেলেরা সারাদিন বিলে জাল ফেলে মাছ ধরছেন। কিছুক্ষণ পরপর সেই মাছ নৌকায় করে ঘাটের নিলাম কেন্দ্রে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। ছোট ও বড় মাছ আলাদা করে বিক্রি করা হচ্ছে ঘাটে।

বিগত বছরের চাইতে চলতি মৌসুমে হাওরে মাছের উৎপাদন বেশি বলে জানান জেলেরা। তবে অনিয়ন্ত্রিত মাছ আহরণ ও বিলগুলো ভরাট না হলে প্রতিবছর শুধু হাওরেই মাছ উৎপান হতো দ্বিগুণ। হাওরে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখাসহ হাওরে মাছের স্থায়ী অভয়াশ্রম বৃদ্ধি করা জরুরি। জেলেরা বলছেন, হাওর রক্ষায় সরকার এখনি বিল খনন না করলে মাছের উৎপাদন কমে যাবে, বিলগুলো ভরে সমতল হয়ে যাবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার তথ্যমতে, আগে এই হাওরে ছিল ২৩৮ টি বিল, আর বর্তমানে রয়েছে প্রায় ২০০টি। অর্থাৎ ৩৮ টি বিল ইতোমধ্যেই ভরাট গেছে অথবা ছোট হওয়ায় অন্য বিলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

বিল ইজারাদার মো. জমির আলী জানান, ২৮ হাজার হেক্টরের বিশাল হাওরে ছোটবড় বিল রয়েছে ২৩৮টি। তবে নানামুখী আগ্রাসনের ফলে হাওর হারাচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। অনিয়ন্ত্রিত মৎস্য আহরণ ও বিলগুলো ভরাট হচ্ছে দিনেদিনে। ফলে কাঙ্ক্ষিত মাছ মিলছে না হাওরে।

ইজারাদার হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “যদি হাওরকে সঠিকভাবে রক্ষা করা যেত, তাহলে মাছের উৎপাদন দ্বিগুণ হত। হাকালুকি হাওরের মাছের স্বাদ বেশি থাকায় সারাদেশে এর চাহিদা আছে, কিন্তু দিনে দিনে মাছের উৎপাদন কমছে নানান কারণে। এ নিয়ে বারবার কথা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছেনা।”

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ২০২২ সালে সিলেটে আকস্মিক বন্যার কারণে এ বছর হাওরে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ। তবে হাওরে নানামুখী আগ্রাসনের কথা স্বীকার করে আগামীতে মৎস্যসম্পদ উৎপাদন বৃদ্ধিতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

“গত বছর (২০২১-২০২২) মৌলভীবাজারে ৫২,৩২৫ মেট্রিকটন মাছ উৎপাদিত হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ৫৩,১০৯ মেট্রিকটন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের বড় হাওর হাকালুকি দেশের ৪টি মাদার ফিসারিজের অন্যতম। গত বছরের মত এবছরও দেখা মিলছে বিপন্নপ্রায় অনেক প্রজাতির মাছের। যার মধ্যে সংকটাপন্ন ১৩ প্রজাতির মাছ এবং চরম বিপন্ন ৮ প্রজাতির মাছ রয়েছে।”

রাণীশংকৈলে চলছে ৩ দিনব্যাপি ঐতিহাসিক গৌরকই মেলা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও: রাণীশংকৈলে চলছে ৩ দিনব্যাপি ঐতিহাসিক গৌরকই মেলা। গত রবিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বহুল পরিচিত, প্রচীন ও ঐতিহাসিক গৌরক্ষনাথ (গৌরকই) মন্দির চত্বরে ৩ দিনব্যাপি মেলার শুভ উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক দীপক কুমার রায়।

ওই মন্দির কমিটির সভাপতি কাশীনাথ দাস অধীকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, ভারতের সাবেক এম এল এ প্রনব কুমার নাথ।

বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন জেলা পূজা  উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ, সনাতন ধর্মলম্বীদের নেতা এ্যাডঃ অতুল চন্দ্র রায়, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ছবিকান্ত দেব প্রমুখ।

এবার মেলায় বিভিন্ন পরসা নিয়ে প্রায় শতাধিক স্টল ও দোকান বসবে বলে মেলা কমিটি জানান। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক সপ্তাহ আগে মেলা উপলক্ষে একটি নলকূপ স্থাপন এবং মন্দির সংস্কারের জন্য ২৫ হাজার টাকা সহায়তা করা হয়েছে।এছাড়াও মেলায় সকল প্রকার নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ  জানান।

প্রসঙ্গত: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নে একটি জনশুন্য এলাকায় প্রায় ৫’শ বছর আগে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক গৌরক্ষনাথ মন্দির। প্রতিবছরের ন্যায় শিব চতুর্দশী উপলক্ষে মন্দির কমিটির উদ্যোগে ৩ দিন ব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সনাতন ধর্মের শত শত নারী পুরুষ মেলায় এসে মন্দিরে অবস্থিত (কথিত) অলৌকিক কুপে পূর্ণস্নান করেন। অতীতে মন্দিরটি প্রায় ২৭ একর জমি উপর অবস্থিত ছিলো। বর্তমানে ৮-৯ একর জমি মন্দিরের দখলে আছে। বাকী জমিগুলো বেদখল হয়ে গেছে।

জাপানে যাচ্ছেন রাবির ১০ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একটি প্রতিনিধি দল

শিক্ষা ডেস্কঃ সাকুরা সায়েন্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম-২০২৩ এ অংশগ্রহণ করতে জাপানে যাচ্ছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ৪ শিক্ষক ও ৬ শিক্ষার্থীর একটি প্রতিনিধি দল। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাপানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন দলটি।

সেখানে তারা ১২ দিন অবস্থান করবেন। জাপানের কিউশু ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির তিনটি ল্যাবে যৌথ গবেষণামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন তারা।

গতকাল মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রতিনিধি দলটি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, উপ-উপাচার্য সুলতান-উল-ইসলাম ও অধ্যাপক হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এ সময় উপাচার্য তাদের অভিনন্দন জানান এবং এ ধরনের একাডেমিক এক্সচেঞ্জ কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য টিম লিডারকে পরামর্শ দেন।

সংশ্লিষ্ট অনুষদগুলোর পাঁচটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিম লিডার হিসেবে থাকবেন ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি ও ন্যানোটেকনোলজি ল্যাবের সুপারভাইজার অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া।

অংশগ্রহণকারী অন্যান্য শিক্ষকেরা হলেন- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জাকিয়া জিনাত চৌধুরী, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. হুমায়ুন কবীর, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মো. সাইফুর রহমান।

শিক্ষার্থীরা হলেন- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম, পরিসংখ্যান বিভাগের মো. বায়োজিদ হোসেন, উম্মে হাফসা হিমু ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের খালেদ মাহমুদ সুজন।

সামনে আরও কঠিন ও তিক্ত দিন আসছেঃ জো বাইডেন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সামনে আরও কঠিন ও তিক্ত দিন আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ আগামী দিনেও একইভাবে ইউক্রেনের পাশে থাকবে। পোল্যান্ড সফরে গিয়ে এসব বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ওয়ারশে পৌঁছে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ডুডার সঙ্গে বৈঠক করেন বাইডেন। এরপর তিনি বলেন, প্রায় এক বছর আগে আমি এখানে এসেছিলাম। এক বছর আগে মানুষের প্রশ্ন ছিল, কিয়েভের পতন নিয়ে। কিন্তু আমি কিয়েভ ঘুরে আসছি। আমি আপনাদের জানাচ্ছি, কিয়েভ শক্ত হয়ে নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। কিয়েভ গর্বিতভাবে দাঁড়িয়ে আছে। সবচেয়ে বড় কথা কিয়েভ স্বাধীনভাবে দাঁড়িয়ে আছে।

বাইডেন বলেন, এক বছর আগে প্রশ্নটা ছিল- আমরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব? আমরা কী আরও শক্তিশালী হব না কি দুর্বল? আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারব না কি ঐক্য থাকবে না? এক বছর পর সবাই জবাব পেয়ে গেছেন।

বাইডেন বলেন, স্বৈরচারীরা একটাই শব্দ জানে- তা হলো না, না এবং না। তুমি আমাদের দেশ নিতে পারবে না, তুমি আমাদের স্বাধীনতা নিতে পারবে না, তুমি আমাদের ভবিষ্যৎ নিতে পারবে না।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের উদ্দেশে বাইডেন বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়া আক্রমণের পরিকল্পনা করছে না। কারণ, রাশিয়ার সাধারণ মানুষ ইউক্রেনের ওপর আক্রমণের বিরোধী। তারা শান্তি চায়। তারা কেন আমাদের শত্রু হবে?

ডুডা বলেন, বাইডেনের এই সফর ছিল অত্যাশ্চর্য। তিনি যেভাবে ইউক্রেন ও পোল্যান্ডে এসেছেন, তা অভাবনীয়।

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হবে খুব শীঘ্রই

জাতীয় ডেস্কঃ উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হবে খুব শীঘ্রই। চলতি বছরই উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলবে মেট্রোরেল। প্রাথমিক পরিকল্পনায় আছে ফার্মগেট থেকে সরাসরি সেবা দেয়ারও। মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় পর্বেও পর্যায়ক্রমে চালু হবে বাকি স্টেশন। এদিকে ২৬ মার্চ প্রথমপর্বের সব স্টেশন চালু হলেও পূর্ণ সেবা পেতে লাগবে আরও তিন মাস।

স্বপ্নযাত্রা শুরু হয় গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর। সীমিত পরিসরের যাত্রা দিয়ে চালু হয় দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন এমআরটি লাইন সিক্স। প্রথম দেড় মাসে এ পথেই চলাচল করেছে প্রায় সাড়ে চার লাখ যাত্রী, যা থেকে আয় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। এদিকে ধীরে ধীরে সীমিত পরিসরের খোলস ছেড়ে বাড়ছে এর পরিধিও।

প্রথম দুটির পর এরই মধ্যে চালু হয়েছে পল্লবী আর উত্তরা সেন্টার স্টেশন। আগামী ১ মার্চ দুয়ার খুলবে মিরপুর ১০ নম্বর স্টেশনের। আর কর্তৃপক্ষ বলছে, ২৬ মার্চের মধ্যে এ পথের নটি স্টেশনই চালুর পরিকল্পনা আছে তাদের। তবে তখনও ট্রেন চলবে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। সকাল থেকে মধ্যরাতের পূর্ণাঙ্গ অপারেশনে যেতে জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

ছিদ্দিক বলেন, এর পরের ধাপই আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলবে মেট্রোরেল। সেখানেও জুন নাগাদ শুরু হবে পরীক্ষমূলক চলাচল। তবে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হবে আগামী ডিসেম্বরে।

তবে প্রাথমিক ভাবনায় আছে ফার্মগেট থেকে সরাসরি মতিঝিল পর্যন্ত। সেক্ষেত্রেও তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে চালু হবে পূর্ণ পরিসরে। অর্থাৎ আসছে বছর মাঝামাঝি উত্তরা থেকে মতিঝিল শতভাগ সার্ভিস দেবে এমআরটি লাইন সিক্স বলে জানান এম এ এন ছিদ্দিক।

পাশাপাশি এরই মধ্যে শুরু হয়েছে মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশের কাজ, যা ২০২৫ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা।

 

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর দিন ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’

ফিচার নিউজঃ আজ (২১ ফেব্রুয়ারি) মহান ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর দিন। বাংলাদেসহ পশ্চিমবঙ্গ তথা সমস্ত বাংলা ভাষা ব্যবহারকারী জনগণের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে আজকের এই একুশে ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে অনেক তরুণ শহীদ হন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো রফিক, জব্বার, শফিউর, সালাম, বরকত সহ অনেকেই। তাই এ দিনটি ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ‘ পালন করা হয়।

অনেক তরুণ শহীদ সেদিন মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রাখতে গিয়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষার জন্য রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দেয়ার প্রথম নজির এটি। সেদিন তাদের রক্তের বিনিময়ে শৃঙ্খলযুক্ত হয়েছিল দুঃখিনী বর্ণমালা ও মায়ের ভাষা। আর এর মাধ্যমে বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের যে সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল তা মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় পথ বেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে।

একুশে ফেব্রুয়ারি তাই বাঙালির কাছে চির প্রেরণার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহর থেকেই জাতি কৃতজ্ঞ চিত্তে ভাষা শহীদদের স্মরণ করে। হৃদয়ের সবটুকু আবেগ ঢেলে দিয়ে সবার কণ্ঠে বাজে একুশের অমর শোকসঙ্গীত –
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি………।।।’

একুশে ফেব্রুয়ারি ভাঙালি জাতিসত্তার শেকড়ের অনুপ্রেরণার দিন। এই দিনটি ঐতিহ্যের পরিচয়কে দৃঢ় করেছে। বাংলা ভাষার রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে সম্মানের আসন লাভ করেছে। এ ভাষার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অমর কাব্যগন্থ্য ‘গীতাঞ্জলী’ রচনা করে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ১৯১৩ সালে। এ ভাষার অসাধারণ প্রজ্ঞাবান মানুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঙ্গের সাধারণ পরিষদে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দিয়ে বাংলাকে নিয়ে গেছেন বিশ্ব পরিমণ্ডলে।

ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয় ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক  সংগঠন তমদ্দুন মজলিশের হাত ধরে। ১৫ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে যার শিরোনাম ছিল ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা-না উর্দু ?’ এই  পুস্তিকার লেখক কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমেদ এবং অধ্যাপক আবুল কাশেম বাংলা ভাষাকে ভাববিনিময়, অফিস আদালতের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা  করার পক্ষে জোরালো দাবি তুলে ধরেন।

১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজিকে সরকারি ভাষা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। গণপরিষদে পূর্ব বাংলার প্রতিনিধি ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা হিসেবে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে গণপরিষদের ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব করেন। পাকিস্তান গণপরিষদে তার প্রস্তাব আগ্রাহ্য হলে পূর্ব বাংলায় শুরু হয় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ।

এর পরম্পরায় ২৭ ফেব্রুয়ারি এক সভায় গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ।  সভায় বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার দাবিতে ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার সারা দেশে হরতাল পালনের সিদ্ধান্ত  নেয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত  ১১ মার্চ তারিখটি রাষ্ট্রভাষা দিবসরূপে পালিত হয়।

২১ মার্চ ১৯৪৮ সালে রেসকোর্স ময়দানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এক নাগরিক সংবর্ধনায় ঘোষণা করেন যে ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ সমাবেশস্থলে উপস্থিত ছাত্রনেতারা ও জনতা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে।

২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে অনুষ্ঠিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ‘Students Role in nation building’ শিরোনামে একটি ভাষণ প্রদানকালে ক্যাটাগেরিক্যালি বাংলা  ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিকে নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে একটি এবং  সেটি উর্দু, একমাত্র উর্দুই  পাকিস্তানের মুসলিম পরিচয় তুলে ধরে।’

জিন্নাহর এই বক্তব্য সমাবর্তনস্থলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং ছাত্ররা দাড়িয়ে ‘‘নো নো’’ বলে প্রতিবাদ করে। জিন্নাহর এই বাংলাবিরোধী স্পষ্ট অবস্থানের ফলে পূর্বে পাকিস্তানের ভাষা আন্দোলন আরো বেশি গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে।

ভাষা আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচনা হয় ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দীনের ভাষণের মাধ্যমে। এদিন পল্টন ময়দানের এক জনসভায় জিন্নাহর কথাই পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু’।

নাজিমুদ্দীনের বক্তৃতার প্রতিবাদে সভা এবং ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালন করে। সেদিন ছাত্র-নেত্রীরা আমতলায় সমবেত হয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট ও প্রতিবাদ সভা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী হরতাল পালনের সিদ্দান্ত নেয়। পরে তারা মিছিল নিয়ে বর্ধমান হাউসের দিকে অগ্রসর হয়।

পরদিন ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার লাইব্রেরি হলে অনুষ্ঠিত সভায় মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্যের ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মী পরিষদ গঠিত হয়’। এই পরিষদ তার সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি  হরতালের, সমাবেশ ও মিছিলের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে।

২০ ফেরুয়ারি সরকার স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকায় এক মাসের জন্য সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিভিন্ন হলে সভা করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়।

২১ ফেব্রুয়ারি  পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী  সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে জড়ো হয়। তারা ১৪৪ ধারা জারির বিপক্ষে স্লোগান দিতে থাকে এবং পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের সদস্যদের বাংলা ভাষা সম্পর্কে সাধারণ জনগণের মতামতকে বিবেচনা করার আহ্বান জানাতে থাকে। বেলা ২টার দিকে আবদুল মতিন এবং গাজীউল হকসহ অন্যান্য নেতারা দাবি আদায়ে অনড়  থাকে।

ছাত্ররা ছোট ছোট দলে মিছিল নিয়ে ‘রাষ্টভাষা বাংলা চাই’ স্লোগান দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্য করে। এমনকি ছাত্রীরাও এ আক্রমণ থেকে রেহাই পায়নি। ছাত্রছাত্রীরা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোড়া শুরু করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পুলিশ বিক্ষুদ্ধ ছাত্রদের সামলাতে ব্যর্থ হয়ে গণপরিষদ ভবনের দিকে অগ্রসরমাণ মিছিলের ওপর পুলিশ গুলি চালায়।

গুলিতে আব্দুল জব্বার  রফিক উদ্দিন আহমেদ ও আবুল বরকত নিহত হয়। বহু আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । ছাত্র হত্যার সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জনগণ তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে।  উপায়ন্তর না দেখে ২২ ফেব্রুয়ারি  নুরুল আমিন সরকার  তড়িঘড়ি করে আইন পরিষদ বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আনেন এবং  প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।

১৯৫৪ সালের ৭ মে  যুক্তফ্রন্ট সরকারের উদ্যোগে পাকিস্তানের সরকার বাংলাকে একটি রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকার করে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। ১৬ ফেব্রুয়ারি  ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদ বাংলাকে  রাষ্ট্রভাষা  হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে তা সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করার জন্য প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।

১৯৫৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান জাতীয়  সংসদ বাংলা এবং  উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধান পাস করে। ওই বছরের ৩ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানকারী পাকিস্তানের সংবিধান কার্যকর হয় এবং  ১৯৪৭ সালে তমদ্দুন মজলিশের মাধ্যমে মায়ের ভাষায় কথা বলার যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তার সাফল্য অর্জিত হয়।

২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি উদযাপন করা শুরু হয় ১৯৫৩ সাল থেকে। এদিন প্রত্যুষে সর্বস্তরের মানুষ খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশগ্রহণ করে এবং  শহীদ মিনারে গিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও পুষ্পার্ঘ্য  অর্পণ করে। সারা দিন মানুষ শোকের চিহ্নস্বরূপ কালো ব্যাজ ধারণ করে। এছাড়া আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।

বাংলা আজ শুধু বাংলাদেশের ভাষা নয়, এটি বিশ্বের কাছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সৃষ্টিকারী পরিচিত ভাষা। আর এই পরিচয় দেয়ার প্রথম অবদানটুকু হলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। ১৯১৩ সালে তার অমর কাব্য গীতাঞ্জলি তাকে এনে দেয় ‘নোবেল পুরস্কার’ আর এর মাধ্যমে বিশ্ববাসী জানতে পারে বাংলা ভাষার কথা, শুরু হয় বাংলা ভাষার বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলা ভাষাকে সত্যিকার অর্থে বিশ্বায়নের পূর্ণরূপ  দেয়ার জন্য জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার এই  উদ্যোগের প্রথম বাস্তবায়ন হয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে। জাতিসংঘে কার্যক্রম পরিচালিত হয় পাঁচটি ভাষায়। সব দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী তথা জাতিসংঙ্গের নিযুক্ত  প্রতিনিধিরা উক্ত পাঁচটি ভাষার যেকোনো একটি ভাষায় ভাষণ দেন। একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালের ২৩ মার্চ  জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে বাংলায় ভাষণদান করার ফলে বিশ্ববাসী জানতে পারে বাংলা ভাষার মহত্ব।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে টঘঊঝঈঙ কর্তৃক বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি বিশ্বদরবারে এনে দিয়েছে এক বিশাল খ্যাতি। ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে বিশ্বজুড়ে অমর একুশের উদযাপন নিঃসন্দেহে এক বিশাল জাতীয় গৌরব ও সম্মানের। ২০০০ সাল থেকে UNESCO এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো এ দিবসটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করে।

২০০১ সালের ১৫ মার্চ বিশ্বের সব মাতৃভাষার গবেষণা, উন্নয়ন ও সংরক্ষণে কাজ করার  উদ্যোগে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ঢাকার সেগুনবাগিচায়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ভাষাসংক্রান্ত  গবেষণা,ভাষা সংরক্ষণ ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এটি ভাষার ক্ষেত্র আন্তর্জাতিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে যা বাংলা ভাষাকে বিশ্বমর্যাদায় আসীন করতে ভূমিকা রাখছে।

২০১০ সালের ৩ নভেম্বর জাতিসংঘের ৬৫তম সাধারণ অধিবেশনে ৪র্থ কমিটিতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রস্তাবটি উত্থাপন করে এবং প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ফলে এটি বাঙালি জাতি, বাংলা ভাষার প্রতি বিশ্ববাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন এবং সম্মান প্রদর্শনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত  সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিক চর্চা  বিশ্বজুড়ে বেড়ে চলেছে। মাতৃভাষার সংখ্যার বিচারে বাংলা ভাষা পৃথিবীর একটি শক্তিশালী ভাষা।

রাষ্ট্রীয় পর্যায় বাংলা ভাষা ব্যবহারকারী দেশের সংখ্যা মূলত একটি-বাংলাদেশ। সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। এর বাইরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা প্রদেশ, আসাম প্রদেশের বরাক উপত্যকার অন্যতম প্রশাসনিক ভাষা বাংলা, ফলে ভারতের ক্ষেত্রে বাংলা একটি প্রদেশিক ভাষা। ভারত উপমহাদেশের বাইরে
একমাত্র আফ্রিকার সিয়েরালিওনে বাংলা ভাষাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা দেয়া  হয়েছে। সম্প্রতি ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার সংসদ বাংলাকে স্বীকৃতির বিল পাস করে। ফলে বাংলা ভাষা লাভ করে এক অনন্য মর্যাদা।

এই মুহূর্তে বহির্বিশ্বে ৩০টি দেশের ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু রয়েছে বাংলা বিভাগ, সেখানে প্রতি বছর হাজার হাজার অবাঙালি পড়ুয়া বাংলাভাষা শিক্ষা ও গবেষণার কাজ করছে। এছাড়া চীনা ভাষায় রবীন্দ্র  রচনাবলির ৩৩ খণ্ডের অনুবাদ এবং লালনের গান ও দর্শন ইংরেজি ও জাপানি ভাষায় অনুবাদ হয়েছে।

বাংলা ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে বহির্বিশ্বে ভারত ও বাংলাদেশের পর ব্রিটেন ও আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়ে থাকে। এর বাইরে চীন, জাপান, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, জার্মানি, পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বাংলা ভাষার সংস্কৃতি চর্চা হচ্ছে। আমেরিকায় কমপক্ষে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও এশীয় গবেষণা কেন্দ্রে বাংলা ভাষার চর্চা হচ্ছে। এর মধ্যে নিউইর্য়ক,শিকাগো,ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া, ভার্জিনিয়া উল্লেখযোগ্য।

বিশ্বের ছয়টি দেশের রাষ্ট্রীয় বেতারে বাংলা ভাষার আলাদা চ্যানেল রয়েছে। আরও ১০টি দেশের রেডিওতে বাংলা ভাষার আলাদা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে। ব্রিটেনে ছয়টি ও আমেরিকায় ১০টি বাংলাদেশি মালিকানাধীন ও বাংলা ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। বিট্রেনে ১২টি  বাংলা সাপ্তাহিক প্রত্রিকা বের হয়। ‘বেতার বাংলা’ নামে সেখানে একটি বাংলা রেডিও স্টেশন রয়েছে।

ইউরোপের ইতালিতে বর্তমানে পাঁচটি  বাংলা দৈনিক পত্রিকা এবং রোম ও ভেনিশ শহর থেকে তিনটি রেডিও স্টেশন পরিচালিত হচ্ছে। ইতালি থেকে ছয়টি অনলাইন টেলিভিশন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে শতাধিক ফেসবুক টেলিভিশন চালু  রয়েছে। এছাড়া ডেনমার্ক সুইডেনসহ ইউরোপের আটটি  দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ থেকে বাংলা ভাষার মূদ্রিত ও অনলাইন পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপিত হয় সারা পৃথিবীতে একুশে আমাদের মননের বাতিঘর হিসেবে। একুশ এখন সারা বিশ্বের ভাষা ও অধিকারজনিত সংগ্রাম ও মর্যাদার প্রতীক। সারা বিশ্বের বিভিন্ন  দেশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের অহংকার ‘শহীদ মিনার’।

কিছু ঘটনা চেতনার আলো ছড়ায় সারা বিশ্বে। সে চেতনার দৃপ্ত শপথজুড়ে আছে আমাদের ভাইয়েরা, আমাদের ভাষা শহীদরা। সঙ্গে আছে সেই ঢাকা মেডিকেল প্রাঙ্গণ, সেই রক্তের ইতিহাস।

মাতৃভাষার সুরক্ষা, বিকাশ এবং অনুশীলন ছাড়া কোনো জাতি অগ্রসর হতে পারে না, বাঙালি জাতি তো নয়ই। আর এভাবেই বাংলা ভাষা দিনে দিনে হয়ে উঠছে বিশ্বায়নের অন্যতম মাধ্যম।

সিলেট বিভাগের দুই-এক স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস

সিলেট বিভাগের দুই-এক স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগের দুই এক স্থানে হালকা বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে সিলেট বিভাগের দুই-এক স্থানে হালকা বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

Google Newsডিজিটাল বাংলা নিউজ” অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

ভোরের দিকে দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী তিনদিন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১১ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ডিবিএন/এসডিআর/মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম ২০২৬ সালে শুরু হবে

জাতীয় ডেস্কঃ মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর দৃশ‍্যমান হয়ে গেছে। ২০২৬ সালে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মাতারবাড়ী বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

খালিদ মাহমুদ বলেন, মাতারবাড়ীতে আগামী জুলাই নাগাদ জেটি ও কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণকাজ শুরু হবে। এখানে বড় ধরনের ফিডার ভেসেল আসবে। অর্থ ও সময় বাঁচবে। অর্থনীতিতে সুপ্রভাব ফেলবে।

নৌ-প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বর্তমানের স্মার্ট দেশ সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে। মাতারবাড়ী বন্দর বাণিজ‍্যিক হাব হবে। চট্টগ্রাম বন্দর অর্থনীতির লাইফ লাইন, মাতারবাড়ী বন্দরও হবে প‍্যারালাল অর্থনীতির লাইফ লাইন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রথম ও একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের জন্য ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পটি অনুমোদনের পরে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে ড্রইং ডিজাইনের কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের লক্ষ্যে ৩৫০ মিটার প্রশস্ত ও ১৬ মিটার গভীরতা সম্পন্ন ১৪ দশমিক ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ চ্যানেলের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া অ্যাপ্রোচ চ্যানেলের উত্তর পার্শ্বে ২ হাজার ১৫০ মিটার দীর্ঘ ও দক্ষিণ পার্শ্বে ৬৭০ মিটার দীর্ঘ ব্রেক ওয়াটার (ঢেউ নিরোধক বাঁধ) নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়েছে। বর্তমানে ৪৬০ মিটার দীর্ঘ কন্টেইনার জেটি ও ৩০০ মিটার দীর্ঘ মাল্টিপারপাস জেটি নির্মাণ এবং কন্টেইনার ইয়ার্ডসহ সব বন্দর সুবিধাদি নির্মাণের জন্য তিনটি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

এ সময় অন‍্যান‍্যের মধ‍্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস‍্য আশেক উল্লাহ রফিক, চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম‍্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান, মাতারবাড়ী বন্দর প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. ইউসুফ প্রমুখ।