১১৬ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, আটক ২

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার: বড়লেখায় ১১৬ বোতল ফেন্সিডিল সহ ২জন মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১১৬ বোতল ফেন্সডিল।
আটককৃতের নাম কামাল হোসেন (৩৫) ও সাহেদ আহমেদ (২৫) ৮নং দক্ষিন ভাগ ইউনিয়নের ভাড্ডা এলাকার মৃতঃ আফতাব আলী ও মোঃ ইনাম উদ্দিনের ছেলে। সে দীর্ঘ দিন ধরে মাদক কারবার করে আসছিল বলে জানা গেছে।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে বড়লেখা থানার নেতৃত্বে ও তার সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এবং মাদক কারবারি কামাল হোসেন ও ইনাম উদ্দিনকে ১১৬ বোতল ফেন্সডিল সহ হাতেনাতে ধরে ফেলে। এ সময় তাদের কাছে রাখা ১১৬ বোতল ফেন্সডিল  জব্দ করা হয়। সে দীর্ঘ দিন যাবৎ মাদকের ব্যবসা করে আসছে।
আটক মাদক বিক্রেতা যুবকের কামাল হোসেন ও ইনাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বড়লেখা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে একটি মামলা রজু হয়েছে। এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মুরাদনগরে নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও জেলাপ্রশাসকের বিদায় সংবর্ধনা

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার মুরাদনগরে নারী উন্নয়ন ফোরামের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের জন্য বরাদ্দকৃত দোকান হস্তান্তর ও নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় সদ্য বদলি হওয়া জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীরকে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও মুরাদনগর নারী উন্নয়ন ফোরামের সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদ প্রঙ্গণে উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এফসিএ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিষক দাশের সভাপতিত্বে সংবধিত অতিথি ছিলেন, কুমিল্লা জেলাপ্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর, কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক বেগম মনিরা নাজনীন।জামাল উদ্দিন ও সারমিন ফাতেমার যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল আলম সরকার কিশোর, মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর আবিদুর রহমান।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযুদ্ধা হানিফ সরকার, আইন বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ তমাল, সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের সদস্য ভিপি জাকির হোসেন, উপজেলা মহিলা ক্রিড়া সংস্থার সভাপতি সুস্মিতা দাস, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) সাইফুল ইসলাম কমল, বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামরুজ্জামান তালুকদার, মুরাদনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুন নূর, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল আলম, কৃষি কর্মর্কতা মাইনুদ্দিন আহমেদ সোহাগ, প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ কামরুল আহমেদ খাঁন, প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর কবির, সমাজসেবা অফিসার মোঃ কবির আহম্মেদ,প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফৌজিয়া আক্তার, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম তালুকদার, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল হাই, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ মমিনুল হক, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পারভীন আক্তার, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সমন্বয়কারী আফজালের রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন, মোঃ আবু মুসা সরকার, কাজী আবুল খায়ের, বাবুল আহম্মেদ মোল্লা, ওমর ফারুক সরকার, বনকুমার শীব, শরিফুল ইসলাম,রুহুল আমিন, মোঃ কাইয়ুম ভূইয়া, একেএম সফিকুল ইসলাম, আবুল হাশেম, শাহজাহান বিএসসি, আঃ সামাদ মাঝি, জাকির হোসেন, সদর ইউপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আক্তার হোসেন, বাঙ্গরা বাজার থানা কৃষকলীগের আহবায়ক আবু মুসা আল কবির, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক গাজিউল হক চৌধূরী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক ফয়সাল আহম্মেদ নাহিদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সফিক তুহিন, সাধারণ সম্পাদক হাফিজ খাঁন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সূফি আহমেদ প্রমূখ।

সভা শেষে ফিতা কেটে নারী উন্নয়ন ফোরামের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের জন্য বরাদ্দকৃত দোকানের শুভ উদ্বোধন করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতিয় সংগীত ও উন্নয়ন মূলক গান পরিবেশন করেন মুরাদনগর শিল্পকলা একাডেমির সদস্যবৃন্দ।

রাণীশংকৈলে আল-হিকমা স্কুল কর্তৃক পৌর মেয়রকে সংবর্ধনা প্রদান

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ৬ মার্চ শনিবার সকালে পৌরশহরের অদূরে আল- হিকমা্  এনলাইটেড স্কুল ও আশেয়া (রাঃ) অরফান ইনস্টিটিউড এর আয়োজনে নব নির্বিচিত মেয়র আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমানকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
এ উপলক্ষে এদিন প্রতিষ্ঠান পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ওসি তদন্ত আব্দুল লতিফ শেখ, প্রভাষক প্রশান্ত বসাক, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান, প্রেসক্লাব সভিপতি ফারুক হোসেন, সাবেক সভিপতি মোবারক হোসেন,সাবরেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারি মোস্তাফা কামাল, ৮ নং ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক- ছাত্রীবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে আল হিকমা স্কুলের পরিচালকসহ শিক্ষক ও ছাত্রীরা নব নির্বাচিত মেয়রকে ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা জানান। এবং ছাত্রীরা স্বধীনতা যুদ্ধের উপর ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন।
প্রসঙ্গত: এ স্কুলটি গত ৭ বছর আগে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বর্তমানে অরফান শাখায় ৩০ জন ছাত্রী এবং স্কুল শাখায় ২০০ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা করছেন।

মন্ত্রী বানানোর ‘কারিগর’ সিলেট এমসি কলেজ

সাকিব আল হাসান: বৃহত্তর সিলেটের সবচেয়ে পুরনো ও শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুরারিচাঁদ কলেজ। সিলেটের ‘অক্সফোর্ড’ খ্যাত এই বিদ্যাপীঠটি হয়ে উঠেছে যেনো মন্ত্রী বানানোর কারিগর। দেশের বাঘা বাঘা সাবেক ও বর্তমান অনেক মন্ত্রীই এই কলেজের ছাত্র ছিলেন। ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি দেশে প্রতিষ্ঠিত কলেজগুলোর মধ্যে ৭ম। পুরনো এই বিদ্যাপীঠের রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস-ঐতিহ্য। কতো শত রথীমহারথীরা শিক্ষাজীবনে এই কলেজ থেকেই শিক্ষা লাভ করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছেন পৃথিবীর আনাচে কানাচে। দেশ স্বাধীনের পূর্ববর্তী সময়ে তো বটেই, পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশেরও অনেক সংসদ সদস্যরাও এই কলেজের ছাত্র ছিলেন। শুধু সংসদ সদস্যই নয়, এদের অনেকেই স্থান করে নিয়েছেন মন্ত্রীসভাতে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ থেকে শুরু করে দেশের দুই সফল অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান এবং আবুল মাল আব্দুল মুহিতসহ বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.একে আব্দুল মোমেন এই কলেজেরই ছাত্র ছিলেন।
আব্দুস সামাদ আজাদ ১৯২৬ সালের ১৫ জানুয়ারী সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায়, ভুরাখালী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের গন্ডি পার হয়ে সামাদ আজাদ ১৯৪৮ সনে সিলেট মুরারী চাঁদ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন৷ সাবেক এ মুরারিয়ান ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রবাসী সরকারের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে তোলেন। তিনি প্রাক্তন এমপি, বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ৫ম সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন।
দেওয়ান তৈমুর রাজা চৌধুরী ১৯৭৯ সালে গঠিত জিয়াউর রহমান মন্ত্রীসভার যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তার শিক্ষাজীবন গ্রামের রাজাগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হয়। এরপর তিনি সিলেট রসময় উচ্চ বিদ্যালয় ও সিলেট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষে সিলেট ঐতিহ্যবাহী সরকারী মুরারিচাঁদ কলেজে লেখাপড়া করেন।
বাংলাদেশের সবচাইতে সফল সাবেক অর্থমন্ত্রীরদের মধ্যে দুজন হলেন এম সাইফুর রহমান এবং আবুল মাল আব্দুল মুহিত। সর্বোচ্চ ১২বার করে সংসদে জাতীয় বাজেট পেশ করেছেন দুজনেই।
সাইফুর রহমান ১৯৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৯ সালে দি এইডেড হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৫১ সালে এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৫৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি ১৯৮০-৮১, ১৯৯১-১৯৯৫ এবং ২০০২-২০০৬ সালে দীর্ঘ মন্ত্রীজীবনে ডিসেম্বর, ১৯৭৬ থেকে অক্টোবর, ২০০৬ পর্যন্ত তিনটি সরকারের আমলে ১২টি জাতীয় বাজেট পেশ করেছেন।
আবুল মাল আব্দুল মুহিতও ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৮২-১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে এরশাদ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন মুহিত। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ থেকে সিলেট-১ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সরকারের অর্থ মন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করেন। সাবেক এই মুরারিয়ানও সর্বোচ্চ ১২বার করে সংসদে জাতীয় বাজেট পেশ করেছেন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া সত্তরের নির্বাচনেও তিনি প্রদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০১২ সালে দ্বিতীয় রেল মন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তিনি দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। জাদরেল এই পার্লামেন্টারিয়ানও ছিলেন সাবেক মুরারিয়ান। শিক্ষাজীবনে তিনি এমসি কলেজ থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। সংসদে সব সময় সরব এ সংসদ সদস্য একজন অভিজ্ঞ সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
নুরুল ইসলাম নাহিদ সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা (সিলেট-৬) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদের সফল শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। সিলেটের গুণী এই ব্যক্তিও তার শিক্ষাজীবনের উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পার হয়েছেন এই এমসি কলেজ থেকেই।
জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচন শেষে গত সোমবার বিকেলে গঠিত হয় এবারের নতুন মন্ত্রীসভা। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন এই মন্ত্রী সভায় স্থান পাওয়া মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান। এসব মন্ত্রীর মধ্যে মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি, প্রতিতাযশা কূটনৈতিক ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে। মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ারটি দখল করে নেওয়া ড. মোমেনও সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের সাবেক ছাত্র ছিলেন।
শুধু মন্ত্রীত্বের দিক থেকে নয়, দেশের শিক্ষা-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ প্রতিটা ক্ষেত্রে রয়েছে সাবেক মুরারিয়ানদের জয়জয়কার। শুধু দেশে মুরারিয়ানদের গণ্ডি ছড়িয়ে পড়েছে দেশ থেকে বিদেশেও। আজকের মুরারিয়ানদের মধ্যে কেউ হয়তো আগামীতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিবে এমনটিই মনে করেন সাবেক এবং বর্তমান মুরারীয়ানরা।

আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার সংগ্রাম ঘোষণার দিন

সিএনবিডি ডেস্কঃ আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ। এই দিন  ঢাকার রমনায় অবস্থিত তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। যে ভাষণের মূলে ছিল এদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।

৭ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণের পটভূমিঃ

১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী এই দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিলম্ব করতে শুরু করে। প্রকৃতপক্ষে তাদের উদ্দেশ্য ছিল, যে-কোনভাবে ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানী রাজনীতিবিদদের হাতে কুক্ষিগত করে রাখা। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন আহ্বান করেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে ১লা মার্চ এই অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন। এই সংবাদে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২রা মার্চ ঢাকায় এবং ৩রা মার্চ সারাদেশে একযোগে হরতাল পালিত হয়।
বঙ্গবন্ধু ৩রা মার্চ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় সমগ্র পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই পটভূমিতেই ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বিপুল সংখ্যক লোক একত্রিত হয়। পুরো ময়দান পরিণত হয় এক জনসমুদ্রে। সেদিন বিকাল আড়াইটা বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হন। এই জনতা এবং সার্বিকভাবে সমগ্র জাতির উদ্দেশ্যে শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ভাষণটি প্রদান করেন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম সাহসিকতার সাথে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উদ্দেশে বজ্রকণ্ঠে যে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন তা ছিল মূলত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।

এদিন বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠে ধ্বনিত হয়, “ যদি এদেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালিরা বুঝে শুনে কাজ করবেন। প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্ত্তত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দিব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা। জয় বাংলা।  ”

একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর এই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিক-নির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর এই বজ্র-নিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাত-কঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত মুক্তির লক্ষ্যে। ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় চিন্তা, সাম্প্রদায়িকতার মানসিকতা ও দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাঙালি জাতিসত্তা, জাতীয়তাবোধ ও জাতিরাষ্ট্র গঠনের যে ভিত রচিত হয় তারই চূড়ান্ত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর ছাত্র-কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের  ১৮ মিনিট স্থায়ী এই ঐতিহাসিক ভাষণটি বিশ্বের ১২টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে ৷ বিশ্বের যে কয়েকটি রাজনৈতিক ভাষণ উল্লেখযোগ্য তার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অন্যতম।  এই ভাষণের ভাষা ও শব্দের অলংকারে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বের স্বনামধন্য পত্রিকা নিউজউইক ম্যাগাজিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

আর ২০১৭ সালের ৩০শে অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ইউনেস্কো’র মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে নিবন্ধন করে নিয়েছে। এবং এটিই প্রথম কোনো বাংলাদেশি দলিল, যা আনুষ্ঠানিক ও স্থায়ীভাবে পৃথিবীতে সংরক্ষিত হবে। ইউনেস্কো’র মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড  রেজিস্টারে এ পর্যন্ত ৫২৭টি ডকুমেন্ট রেজিস্টার করা হয়েছে।

এছাড়া লেখক ও ইতিহাসবিদ এফ ফিল্ডের বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা ‘উই সেল ফাইট অন দ্য বিস: দ্য স্পিচ দ্যাট ইন্সপায়ার্ড হিস্ট্রি’ গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্থান পেয়েছে। এতে বিশ্ব দরবারে জাতির পিতা ও বাঙালি জাতির মর্যাদা এক অনন্য স্থানে পোঁছে গেছে সে বিষয়ে কোন সন্দেহর অবকাশ নেই।

৭ই মার্চ উপলক্ষে কর্মসুচিঃ   

 ২০২০ সালের ১৩ জুলাই বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের দিনকে জাতীয় দিবস হিসেবে  পালনের জন্য উদ্যোগ নেওয়ার পর দেশে এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হবে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ।

এ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান এবং দেশব্যাপী জেলা-উপজেলায় ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

আজ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে। কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৭ মার্চ বিকেল ৩টায় আয়োজন করা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসমূহে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ জাতীয় দিবস উদযাপন করা হবে এবং দিনটি উদযাপনের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে নানা আয়োজন করবে। আর এ আয়োজনের ব্যয় নির্বাহের জন্য ২০২০-২১ অর্থবছরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে জেলা পার্যায়ে এক লাখ টাকা ও উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা হারে সর্বমোট ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ইতোমধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে কর্মসূচি ও অনুষ্ঠান আয়োজন করবে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।

ইসরাইলি জাহাজে হামলার দাবি নাকচ করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সম্প্রতি ওমান সাগরে ইসরাইলি মালিকানাধীন একটি জাহাজে বিস্ফোরণের জন্য ইরানকে দায়ী করে তেল আবিব যে বক্তব্য দিয়েছে তাকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরান একই সঙ্গে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের পক্ষ থেকে যেকোনো ভুল হিসাব-নিকাশের পরিণতির ব্যাপারে গোটা বিশ্বকে সতর্ক করে দিয়েছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি মাজিদ তাখতে রাভানচি এই সংস্থার মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে লেখা আলাদা আলাদা চিঠিতে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।তিনি বলেছেন, সম্পূর্ণ ধারনাপ্রসূতভাবে ইহুদিবাদী ইসরাইল তার মালিকানাধীন জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করছে।

রাভানচি বলেন, ওমান সাগরের সাম্প্রতিক ওই হামলার ধরন থেকে বোঝা যায়, এটি এমন এক গোষ্ঠীর কাজ যারা তাদের অবৈধ লক্ষ্য অর্জন করার লক্ষ্যে ‘শয়তানি নীতি’ অনুসরণ করছে।

গত মাসের শেষদিকে ওমান সাগরে অবস্থানরত একটি ইসরাইলি কার্গো জাহাজে বিস্ফোরণের ফলে আগুন ধরে যায়। আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই তেল আবিব ওই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে তেল আবিবের অভিযোগ উত্থাপনের উদ্দেশ্য ইসরাইলকে অসহায় হিসেবে তুলে ধরা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদিবাদীদের দখলদারিত্ব ও অবৈধ তৎপরতাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করা।

রাভানচি বলেন, গোটা বিশ্বের উচিত ইহুদিবাদী ইসরাইলকে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক হঠকারিতা থেকে বিরত রাখা। কারণ, তেল আবিব কোনো ভুল হিসাব-নিকাশ করলে তার পরিণতি তাকেই ভোগ করতে হবে। খবরঃ পার্সটুডে। 

“মার্চ মাস”

বাঙলীর জীবনে মার্চ এক গুরত্বপুর্ন মাস। এই মাসেই জন্মেছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৭১ সালের ৭ই মার্চ বিকেলে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষন দিয়েছিলেন। ঐ সালেই পাকিস্তানিরা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল ২৫ শে মার্চ রাতে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দিয়েছিলেন ২৫ শে মার্চ রাতে। মার্চ মাস বাঙালী জীবনে অবিস্মরনিয় হয়ে রয়েছে নানা কারনে। এই মাসেই স্বজন হারানোর স্মৃতি রয়েছে বহু মানুষের। তাই স্মৃতির পাতা উল্টেপাল্টে স্মরন করেছি বহু জনেরে। অবনত চিত্তে শ্রদ্ধা জানিয়েছি ৩০ লক্ষ শহীদ, আহত মুক্তিযোদ্ধা সম্ভ্রম হারাদের। অগনিত মানুষ যারা সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে, দৈন্যতায় ভুগেছে স্বচল হতে পারেনি আর তাদেরও। দুর্দশায় পতিত হয়ে দুর্ভোগ সয়েছি অনাহারি থেকেছি আমরাও। সব হারিয়ে বাবা আর ঘুড়ে দাড়াতে পারেননি আমরন। অভুক্ত পরিবারের নির্মম দুর্দশাটি ভুলতে পারিনি আজও। সন্তান হিসাবে পরিবারের সেই স্মৃতি পিড়াদেয় এখনও। অনেকেই এখন আর মনে করতে চায়না কিন্তু বিপর্যয় ছিল সব পরিবারেই। গ্রামের পরিত্যক্ত ঘরগুলি মুখোরিত হয়েছিল ৭১ এর মার্চ মাসে। শহুরে মানুষগুলি আশ্রয় নিয়ে ছিল পরিত্যক্ত ভিটায়। নয়টি মাস নিত্য সঙ্কা ছিল মরনের। খুব কম পরিবারই আছে যারা আপনজন হারায়নি। অবারিত সময় ছিল,আড্ডা ছিল অবিরাম। দল বেধে আড্ডা চলেছে বয়সী সতীর্থদের সাথে। জাম্বুরা দিয়ে বল খেলেছি, বাধাহীন গল্প করেছি, গান গেয়েছি বেসুরা কন্ঠে দল বেধে। স্বাধীন বাংলার অনুষ্ঠান শুনেছি প্রতিদিন। বহু গল্প শুনেছি উৎসাহ দেখেছি বিজয়ের উল্লাস দেখেছি বাঙালীর। রাজাকার আলবদর আল শামস দেখেছি স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। স্বাধীনতা বিরোধীদের পরিনতিও দেখেছি। কিছু দিন আত্নগোপনে থাকতে হয়েছে কিন্তু সফল হয়েছে তারাই বেশী। অবহেলিত হয়েছে মুক্তি যোদ্ধা। এখন দলিল খুজে দেখাতে হয় স্বাধীনিতার সত্যটি।অমুক্তিযোদ্ধারা মুক্তি যোদ্ধা বনে গেছে বিভক্ত হয়েগেছে দল। রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে রাজাকারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে মুক্তি যোদ্ধা। মার্চ স্বাধীনতার মাস হলেও ঘোষক নিয়ে বিতর্ক হয় রাজনীতিতে। ৭৫ এর পর সব স্মৃতি বদলে দিয়েছে। অপরাধীরা খেতাব পেয়েছে মুক্তি সেনারা হয়েছে প্রত্যাখ্যত। নতুন প্রজন্মকে শিখানো হয়েছে বানানো ইতিহাস। নিজেদের মত করে ইতিহাস বলে বিভ্রান্ত করেছে জাতীকে। কুখ্যাত রাজাকার মিন্ত্রী হয়েছে রাষ্ট্রপিতি হয়েছে এই দেশে। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তি যোদ্ধারা নির্বাক হয়ে কেদেছে বিস্ময়ে। এখন রাজাকার দাবী করে যুদ্ধাপরাধী নেই বাংলাদেশে। ভুলে গেছে মুক্তি যূদ্ধ আর গর্বের গৌরিব। রাজাকারের দম্ভ দেখে হতবাক হই বিস্ময়ে। মার্চ এলেই শুরু হয় আলোচনা, এখন ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান মিডিয়াতে সয়লাব। ইতিমধ্যে দু’একটি নজরেও পরেছে কিন্তু আলোচকদের বক্তব্য শুনে হতবাক হয়েছি। দলের নেতারাও অতিরঞ্জিত বলে মার্চের গুরত্ব কমিয়ে দিয়েছে। মার্চ নিয়ে এমন উপস্থাপনা সঠিক নয়। সত্য গোপন করে রাজনীতির ফয়দা হাসিল করা অন্যায়। এইদিনে দেশের মানুষের মনের স্মৃতি সংগ্রহনের উদ্যোগ নিলে জাতী উপকৃত হবে। টেলিভিশনে বসে ভুল তথ্য নয় একাত্তরের চিত্র প্রত্যক্ষদর্শিদের কাছ থেকে গ্রথিত হলে মার্চের প্রতি যোগ্য সম্মান দেখানো হবে। মার্চের ইতিহাস সংরক্ষিত হবে সঠিকভাবে।

আজিজুর রহমান প্রিন্স, টরন্টো, কানাডা

ডিজিটাল বাংলা নিউজ/ ডিআর /এমআরবি

হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামির অপারেশন শাখার প্রধানসহ ৩ সদস্য গ্রেফতার

ডিবিএন ডেস্কঃ দেশে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামির (হুজি) অপারেশন শাখার প্রধান সমন্বয়কসহ ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

গতকাল সিটিটিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার তিনজন হলেন- মো. মাইনুল ইসলাম (৪২), শেখ সোহান স্বাদ (২৫) ও মুরাদ হোসেন কবির (৪৩)।

তাঁদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ১টি গাড়ি৫টি মোবাইল১টি মাইক্রোফোন১টি চাপাতি২টি ছোরা১০টি ডেটোনেটর১৭০টি বিয়ারিং লোহার বল১টি স্কচটেপ৫ লিটার অ্যাসিড৩টি আইডি কার্ড ও উগ্রবাদী বার্তার বই উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে।

সিটিটিসি আরো জানিয়েছেমাইনুল হুজির প্রধান অপারেশন সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর বাড়ি ঝালকাঠি। ঢাকায় বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল মাইনুলের। তিনি ২০১৫ সালে হুজির শীর্ষ নেতা কারাবন্দী মুফতি মঈনউদ্দিনকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। মাইনুলের নেতৃত্বে ৬৪ জেলায় সংগঠন পুনর্গঠনপূর্ণাঙ্গ শুরা কমিটি প্রস্তুতঅর্থের জোগান নিশ্চিতসদস্য সংগ্রহঅস্ত্র সংগ্রহবোমা তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহকারাবন্দী সদস্যদের জামিনের ব্যবস্থা প্রভৃতি কাজ চলছিল। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাওলানা আবু সাঈদ ও ২০০০ সালে কোটালীপাড়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেহেদী হাসানের নির্দেশে সংগঠনের কাজ করছিলেন মাইনুল। সোহানের বাড়ি হবিগঞ্জে। তিনি এইচএসসি পাস করে ঢাকার মিরপুর বাঙলা কলেজে পড়ালেখার পাশাপাশি একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। ২০১৬ সালে ঢাকায় একুশে বইমেলায় নাশকতার ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি মামলায়ও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জামিনে বের হয়ে তিনি মাইনুলের নেতৃত্বে হুজির হয়ে কাজ করছিলেন।

আর গ্রেফতার মুরাদ হুজির একজন সক্রিয় সদস্য। তাঁর বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। তিনি ব্যবসার আড়ালে হুজির হয়ে কাজ করতেন।

এর আগেগত ৩০ ডিসেম্বর রাজশাহী মহানগরী থেকে হরকাতুল জিহাদ-বাংলাদেশ (হুজি) এর রাজশাহী ও খুলনার আঞ্চলিক কমান্ডারসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল নিউজিল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পরপর ৭ মাত্রার চেয়ে শক্তিশালী তিনটি ভূমিকম্পে কেঁপেছে নিউজিল্যান্ড। আর সেই আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশটিতে আঘাত হেনেছে চতুর্থ ভূকম্পন। এটিও যথেষ্ট শক্তিশালী।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) হিসাবে রিখটার স্কেলে শনিবারের ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৩।

সংস্থাটি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১টা ১৬ মিনিটে জিসবর্ন থেকে ১৮১ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে আঘাত হানে ভূমিকম্পটি। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে অন্তত নয় কিলোমিটার গভীরে।তাৎক্ষণিকভাবে শনিবারের ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিন সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়নি। তবে শক্তিশালী কম্পনের জেরে স্থানীয়দের মধ্যে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে গত শুক্রবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শক্তিশালী তিনটি ভূকিমম্প আঘাত হানে নিউজিল্যান্ডে। এর প্রভাবে দেশটির বিশাল অংশে জারি করা হয় সুনামি সতর্কতা। যত দ্রুত সম্ভব উঁচু নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বাসিন্দাদের। পুরোপুরি খালি করে দেওয়া হয় ওপোতিকির মতো কয়েকটি শহর।বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে পূর্ব উপকূলীয় তোকুমারু বে এলাকার সৈকতে বিশাল বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়তে দেখা গেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোররাত ২টা ২৭ মিনিটে নর্থ আইল্যান্ড থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দূরে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর ভোর ৬টা ৪১ মিনিটে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমাডেক আইল্যান্ডে আঘাত করে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প। আর সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে ওই এলাকা আবারও কাঁপিয়ে দেয় ৮ দশমিক ১ মাত্রার প্রচণ্ড শক্তিশালী আরেকটি ভূমিকম্প।

পরপর একাধিক ভূমিকম্পের জেরে নর্থ আইল্যান্ডের বেশিরভাগ এলাকায় জরুরি সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল নিউজিল্যান্ডের জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা। পরে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে সতর্কতা কিছুটা নামিয়ে আনে তারা। আর বিকেল ৩টার পর সুনামি সতর্কতা পুরোপুরি তুলে নেয় সংস্থাটি। খবর-নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড, তথ্য সুত্রঃ আর্থকোয়াক ট্র্যাক ডট কম।

 

ফেনীতে ফ্ল্যাট বাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে মা-মেয়েসহ দগ্ধ ৩

ফেনী প্রতিনিধিঃ ফেনীতে ফ্ল্যাট বাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে মা-মেয়েসহ ৩ জন দগ্ধ হয়েছেন। প্রতিবেশীরা প্রথমে তাদেরকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় এবং পরে তাদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের হলি ক্রিসেন্ট স্কুলসংলগ্ন শফিক ম্যানশনে এ ঘটনা ঘটেছে।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের কর্মকর্তা জাকের হোসেন জানান, বিস্ফোরণে মা-মেয়েসহ তিনজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। তবে তাদের দুজনের দেহের ৬০ ভাগ ঝলসে গেছে। বিস্ফোরণে রুমের দরজা, জানালা, গ্রিল, গ্লাস ভেঙে টুকরো হয়ে গেছে।

এছাড়া ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করে বলা যাবে বলেও জানান তিনি।