বাংলাদেশ এর বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু এর জাতীয় অন্তষ্টিক্রিয়া এর আয়োজন করা হয়

মৌলভীবাজারে ৪৬ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক ১

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার শহর থেকে ৪৬ বোতল ফেন্সিডিলসহ জমির আলী (২৬)কে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২ টার দিকে শহরস্থ পার্লস ডায়গনেস্টিক সেন্টারে পার্শ্ব দরগা মহল্লা মশিক ষ্টোরের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

জমির আলী জুড়ী উপজেলার মধ্যবটুলী গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে।

গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ সুধীন চন্দ্র দাশ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন র্দীঘ দিন আমাদের চোখে ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলো, বিভিন্ন গোপন সত্রে সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪৬ বোতল ফেন্সিডিলসহ তাকে আটক করা হয়।

তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা প্রদান করে জেল হাজতে প্রেরন করা হবে।

 

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা ছাড়ছে বাংলাদেশ

অর্থনীতি ডেস্কঃ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা ছেড়ে বাংলাদেশ প্রবেশ করতে যাচ্ছে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়। বাংলাদেশের জন্য এ এক গৌরবময় অর্জন। গত তিন বছরের নানা পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ শেষে অবশেষে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশের উত্তরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশকে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (ইউএন-সিডিপি) ত্রিবার্ষিক সভায় উন্নয়নশীল দেশে তালিকাভুক্ত করতে চূড়ান্ত সুপারিশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এছাড়া করোনা মহামারীর কারণ দেখিয়ে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশ তিন বছরের প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা বাড়িয়ে পাঁচ বছর করার জন্য গত জানুয়ারিতে যে প্রস্তাব দিয়েছিল সেটিও গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ। অর্থাৎ প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ আরও দুই বছর বাড়তি সুবিধা পাবে। ফলে আগামী ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে আর কোনো বাধাই নেই।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) সাধারণত স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকের ভিত্তিতে কোনো দেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য সুপারিশ করে থাকে। আর  বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও লাওস চূড়ান্তভাবে এলডিসি থেকে বের হওয়ার স্বীকৃতি পেয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ হলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ এখন যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা, ওষুধ খাতে সুবিধা, মেধাস্বত্ব সুবিধাসহ অন্য যেসব সুবিধা পাচ্ছে সেগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে নিজস্ব পলিসির উন্নয়ন ঘটিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ, ক্রেডিটরেটিংয়ে উন্নয়ন, বিশ্বদরবারে মর্যাদা বৃদ্ধিসহ নানা সুবিধাও পাওয়া যাবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় প্রবেশ করলে।

উল্লেখ্য, উন্নয়নশীল দেশ হতে হলে সিডিপি তিনটি সূচক মানের বিশ্লেষণ করে এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য সুপারিশ করে। সেগুলো হচ্ছে-মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা। আর ২০১৮ সালেই বাংলাদেশ তিনটি সূচকে প্রয়োজনীয় মান অর্জন করে এ সুপারিশ প্রাপ্ত হয়।

তিনটি সূচক মানের হিসেবে গড় মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার। আর গত বছর শেষে বাংলাদেশের গড় মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১,৮২৭ মার্কিন ডলার। মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ বা তার বেশি স্কোর থাকতে হবে। এই ক্ষেত্রে ২০২০ সাল শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ৩ যা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পয়েন্ট। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে ৩২ বা তার কম স্কোর থাকতে হবে। এখানেও বাংলাদেশের স্কোর ২৭ দশমিক ৩। তিনটি সূচকেই প্রয়োজনীয় স্কোর তুলতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতির এই সময়ে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে প্রাপ্ত সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। তা ছাড়া বর্তমান নিয়মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের পর আরো তিন বছর অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

এক সময়কার তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় দেশগুলোর মধ্যে একটি দেশ। বিশ্ব অর্থনীতিতে  ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এখন বাংলাদেশকে।

কুড়িগ্রামের মাদকময় গ্রামের নাম “চর লাঠিয়াল ডাঙ্গা”

সাকিব আল হাসান, রৌমারী(কুড়িগ্রাম) : গাজাঁ, মদ, ইয়াবা ও হিরোইনের জন্য নামকরা গ্রাম চর লাঠিয়াল ডাঙ্গা। এটি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের অন্তর্গত। এক সময়ে এখানে ছিল জনশুন্য কাঁশবন। বাস  করত শিয়াল-শঁকুন। কালের বির্বতনে হয়ে উঠেছে ঘন বসতিপূর্ন। রৌমারী ও রাজিবপুরের নদী ভাঙ্গন এলাকার বিভিন্ন সমাজের লোকজন দিয়ে ভরে গেছে গ্রামটি। এলাকার গুটি কয়েক জন মানুষ ছাড়া অধিকাংশ বহিরাগত। রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলার শেষ সীমানায় এর অবস্থান। প্রশাসনের লোকজন গ্রামে পৌছতে সময়ের ব্যাপার। সেই কারনে মাদক ব্যবসায়ী ও পাচার কারীরা সহজেই ব্যবসার ও সেবনের সুযোগ পায়।
মাদক ছাড়াও গ্রামটিতে  নিয়োমিত বসানো হয় জুয়া খেলা। ভারত সীমান্ত কাছে হওয়ায় এবং সীমান্তবর্তী আলগার চর ,খেওয়ার চর,লাঠিয়াল ডাঙ্গা গ্রামের বেশ কয়েক জন মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের আনিত মাদকদ্রব্য গুলো নিরাপত্তার জন্য এ গ্রামে মওজুদ করে রাখে বলে স্থানীয়রা জানান। মাদকের অভয়ারন্য হওয়ায়  রাজিবপুর উপজেলার বালিয়ামারী,জালচিড়া পাড়া ,কড়াইডাঙ্গী পাড়া ,গড়াইমারীসহ  অনেক পাড়ার  যুবক মাদক সেবন ও ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েছে। এদের সাথে সঙ্গ দিচ্ছে দেশের বিভিন্ন  এলাকার ব্যবসায়ী ও সেবনকারী। সমাজের নামী-দাবী মানুষের সন্তানও জড়িয়ে পড়েছে মাদক ব্যবসার সাথে। সেটি অনেক পিতা-মাতার অজানা। স্কুল-কলেজ পড়য়াসহ  অনেক বখাটে বিভিন্ন অবস্থান থেকে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ কিংবা বিজিবির হাতে ধরা পড়ে গোমড় ফাঁক হয়ে যাচ্ছে। এলাকায় ধরা না পড়লেও দেশের বিভিন্ন স্থানে আটক হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। যারা অধিকাংশই রাজিবপুর ও রৌমার এলাকার বাসিন্দা। তারা কখনও মোটর সাইকেল যোগে,বাস যোগে  অথবা ভ্যান যোগে ব্যবসা করছে।
মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, শরীরে বহন করা ছাড়াও বর্তমানে মোটর সাইকেলের টিউবের মধ্যে ,বড় বড় মাছের পেটে,শোলার আটির মধ্যে,মিষ্টির বাড়ের মধ্যে,সিগারেটের প্যাকেটে ইয়াবা বহন করে নেওয়া হচ্ছে। যা আইনশৃংখলা বাহিনীর অজানা। তিনি জানান রাজিবপুর- রৌমারীর এই সীমান্তে কমপক্ষে ৫ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জনের বেশি মাদক সম্রাট। তারা সব দলেরই লোক।
এলাকাবাসীর দাবী- উক্ত গ্রামে একটি সাব-পুলিশ ফাঁড়ী গড়ে তোলা দরকার মনে করছেন। তাতে রাখা দরকার যৌথ বাহিনীর সদস্য।  নিয়োমিত রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসানো দরকার আইনশৃংখলা বাহিনীর তল্লাসী । তাহলে এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধ হতে পারে। আর আটক ব্যবসায়ীরা যাতে সহজেই জামিনে ছাড়া না পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ ছাড়া পেয়েই আগের চেয়ে বেশি করে আকঁড়ে ধরে মাদক ব্যবসাকে।

রায়পুরে মেঘনা নদী থে‌কে অস্ত্রসহ ৭ জলদস‌্যু আটক

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরে মেঘনা নদী থে‌কে অস্ত্রসহ ৭ জলদস‌্যু আটক ক‌রে‌ছে কোস্টগার্ড। শুক্রবার (২৬ ‌ফেব্রুয়া‌রী) ভোর রা‌তে  ১ নং চরআবা‌বিল  কোষ্টগার্ড অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম এর নেতৃত্ব‌ে পূর্ব জোন ৮ সদস্য মেঘনা নদী‌তে অ‌ভিজান চা‌লি‌য়ে অস্ত্রসহ জলদস‌্যু‌দের আটক ক‌রে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫টি রান্দা, ১টি চোখা রাকসা,১টি চাইনিজ কুড়াল,১টি লোহার পাইপ  উদ্ধার করা হয়েছে।

জলদস্যুদের নৌকা তল্লাশি করে এসব ধারালো অস্ত্র ও ১টি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়।

আটককৃতরা হল- মো. আক্তার মোল্লা (২৮), মো.দিন ইসলাম হাওলাদার (২৫), বাকের সিকদার (২৬), মুক্তার মোল্লা (২০), ইসমাইল মোল্লা (২২) আক্তার রাড়ি (২৩), সফিক হাওলাদার (২০)

তারা সবাই বরিশালের মান্দ্রা চর ভুসিরা অঞ্চলের বাসিন্দা। আটককৃত জলদস্যু, জব্দ অস্ত্র ও অন্যান্য মালামাল রায়পুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কোস্টগার্ডের পেটি অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড তাদের আওতাভুক্ত এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তার পাশাপাশি জলদস্যুতা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্সনীতি অবলম্বন করে। নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

মৌলভীবাজারের বীরমুক্তিযোদ্ধা আছকির খান মারা গেছেন

তিমির বনিক,মৌলভীবাজারঃ রাজনগরের সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আছকির খান আর নেই। শুক্রবার রাত ৯টা ৪০মিনিটের দিকে তিনি রাজনগরের কর্ণিগ্রামে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৬৮ বছর।
প্রতিবেশিদের সূত্রে জানা গেছে, আছকির খান নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার রাতে অসুস্থতাবোধ করলে তাঁকে রাজনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বীরমুক্তিযোদ্ধা আছকির খান রাজনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একাত্তরের রণাঙ্গণে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ৫ছেলে ১মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বীরমুক্তিযোদ্ধা আছকির খানের মৃত্যুতে সাবেক চিফ হুইপ,অনুমিত বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ এমপি, শ্রীমঙ্গল প্যানেল চেয়ারম্যান প্রেম সাগর হাজরা সহ শোক সন্তপ্ত পরিবারকে গভীর সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করেন।

শাহপরান বিআইডিসি এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমি দখলের অপচেষ্টা

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের শাহপরান থানাধীন বিআইডিসি আল-বারাকা আবাসিক এলাকায় ৩০ একর দখলীয় খাস ভূমি জবর দখলের চেষ্টায় হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় ভূমিখেকো প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত (২২ ফেব্রুয়ারী) সোমবার সকাল ১০টার দিকে এই জমি দখলের উদ্দেশ্যে শাহজালাল উপশহরের বাসিন্দা ফয়েজ রাজা চৌধুরী (৬০) ও বিআইডিসি আল-বারাকা এলাকার বাসিন্দা মইন উদ্দিন রাজু (৩০) এর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী হামলা করে দেয়াল ভেঙ্গে জমি দখল করার চেষ্টা করেন। তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দখলীয় পরিবারগুলোকে হামলা করে উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে দেয়াল ভাংচুর করতে থাকেন। পরে তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে ওই সন্ত্রাসীরা দলবল নিয়ে দ্রুত চলে যায়।

এ হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর ভূমিদস্যু ফয়েজ রাজা চৌধুরী নিজেদের ভালো লোক প্রমাণ করতে থানায় একটি সাজানো অভিযোগ দাখিল করেন। পরে নামে মাত্র একটি ভূইফোড় অনলাইন নিউজ পোর্টালে একটি প্রতিবাদ সংবাদ প্রকাশ করান। সেই সংবাদে তিনি জমি দখলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অবশেষে তিনি নিজেকে প্রতিবাদ সংবাদের মাধমে নিজেকে ভূমিদস্যু প্রমাণ করলেন।

এদিকে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় গত (২৩ ফেব্রুয়ারী) মঙ্গলবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বিআইডিসি আল-বারাকা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা নুর মিয়ার মেয়ে রোকসানা বেগম। অভিযোগে ভূমিদস্যু ফয়েজ রাজা চৌধুরী ও মইন উদ্দিন রাজসহ ৬জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন, শাহপরান থানাধীন খাদিম নগরের বাসিন্দা মৃত গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে জিয়া উদ্দিন নাদের (৫৫), এয়ারপোর্ট থানাধীন আম্বরখানা হাউজিং ষ্টেট এলাকার আব্দুল রাকিব চৌধুরীর ছেলে জুবায়ের রাকিব চৌধুরীর (৫৮), একই এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে তোফায়েল আহমদ (৫৫), কোতোয়ালী থানাধীন মিরবক্সটুলা এলাকার বাসিন্দা আজিদ আলীর ছেলে আব্দুল খালিক (৫০)। বর্তমানে শাহপরান তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সারোয়ার হোসেন অভিযোগটি তদন্ত করছেন।

এই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগে রোকসানা বেগম বাদি হয়ে শাহপরান (রাঃ) থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। যার জিডি নং-১৫১৫।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরে এই চক্রটি উক্ত জমি দখলের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এই চক্রের পিছনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জামাত শিব্বিরের সিলেটের প্রথম সারির দায়িত্বশীল নেতারা। তারা ওই ভূমিখেকো চক্রকে জমি দখলের পাওয়ার দেন। যার ফলে এই সন্ত্রাসীরা বার বার দখলীয় খাস ভূমি জবর দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে তফশীল বর্ণিত ভূমিটি মহামান্য সুপ্রীম কোট (হাই কোর্ট বিভাগ)-এ রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। (রিট পিটিশন নং-৭৩২৬/২০১৬) যাহা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। সিলেট সদর উপজেলার মৌজা- বহর, জে. এল. নং-৭০, দাগ নং- ১৪২, খতিয়ান নং-০১, পরিমাণ-৩০.০০ একর খাস টিলা রকম ভূমি। এই জমিতে প্রায় ১৫০টি পরিবার ২২ থেকে ২৩ বছর ধরে বসবাস করে আসছে। সরকারি খাস জমি দেখে লোভ সামালাতে পারছেনা ভুমি খেকো চক্রটি। বিধায় বার বার দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।

এই ভূমি খেকো চক্রটি কোন আইনের তোয়াক্কা না করেই যে কোন সময় বড় ধরণের হামলা চালাতে চালাতে পারে। উক্ত সন্ত্রাসীদের কবল থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের নিকট আশু হস্থক্ষেপ কামনা করছেন অসহায় পরিবারের বাসিন্ধারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহপরান তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সারোয়ার হোসেন ভূইয়া প্রতিবেদককে বলেন, বাদি রোকসানা বেগমের অভিযোগের তদন্ত কাজ চলছে এবং উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে।

জবি সাংবাদিক সমিতির আহবায়ক লতিফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আহসান জোবায়ের

যুবায়ের ইবনে জহির, জবি প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জবিসাস) আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিতে সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি লতিফুল ইসলামকে আহবায়ক ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি আহসান জোবায়েরকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি মো. সাগর হোসেন ও দৈনিক ভোরের কাগজের রকি আহমেদ।
জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের ২০১৯-২০ কমিটির মেয়াদ গত বছরের ১০ এপ্রিল শেষ হয়। সমিতির গঠনতন্ত্রের ধারা-৯ মোতাবেক সাধারণ সভায় সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে এ চার সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

চট্টগ্রামে সক্রীয় হয়ে উঠেছে একটি প্রতারক চক্র। ব্যবসায়ী ফাসানোর কল রেকোর্ডিং ফাস

https://youtu.be/tXsUONqTlrE

এই প্রথম মুরাদনগর থানার ওসি সাদেকুর রহমান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনে মামলা গ্রহণ

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা জেলা মুরাদনগর উপজেলার ১৫নং নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়ার মোসাঃ মনিকা বেগম(৫৮), স্বামী -মৃত আজিজুর রহমান তার ছেলে মোঃ মাসুদ মিয়া(৪০),পিতা- মৃত আজিজুর এর নামে অভিযোগ করেন যে আমার ছেলে আমার ও পরিবারের কোন সদস্যদের ভরণ পোষন বহন করে না বরং আমাকে মারধর করে এবং বাড়ী থেকে বাহির করে দেয়।এই অভিযোগ এবং স্বাক্ষী প্রমাণের বৃত্তিতে অভিযোগটি আমলে নিয়ে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর ৫ মাতা  ও পরিবারের ভরন পোষণ না করার অপরাধে মামলা গ্রহন করেন মুরাদনগর থানার অফিসার ইন চার্জ জনাব সাদেকুর রহমান।
পিতা-মাতার সেবা করা প্রত্যেক সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব। পিতা-মাতা, দাদা-দাদি ভাই-বোন মিলে যৌথ পরিবারে মানুষের বসবাস পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকেই। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে যৌথ পরিবারে বসবাস প্রথার পরিবর্তন হয়েছে। ক্রমেই মানুষ স্বাধীনভাবে বসবাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এতে দিন দিন ভেঙে পড়ছে দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা যৌথ পরিবার। সন্তানরা ভুলে যাচ্ছে মা-বাবার মায়ার বাঁধন। দেশের এমন পরিস্থিতি অনুধাবন করে সরকার পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন ২০১৩ পাস করে। এ আইনে পিতা-মাতা, দাদা-দাদি এবং নানা-নানির ভরণ-পোষণ করা সন্তানের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। অন্যথায় তাদের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। নিম্নে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হলো।
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন
মা-বাবার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা এবং তাদের সঙ্গে সন্তানের বসবাস বাধ্যতামূলক করার বিধান করে সরকার ২০১৩ সালে এ আইন পাস করে।
মা-বাবার ভরণ পোষণ আইন ২০১৩-এর ৩ ধারায় বলা হয়, প্রত্যেক সন্তানকে তার মা-বাবার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো মা-বাবার একাধিক সন্তান থাকলে সে ক্ষেত্রে সন্তানরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করবে।
এ আইনের ৩ ধারায় আরো বলা হয়, কোনো সন্তান তার বাবা বা মাকে অথবা উভয়কে তার বা ক্ষেত্রমতো তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধ নিবাস কিংবা অন্য কোথাও একত্রে কিংবা আলাদাভাবে বাস করতে বাধ্য করতে পারবে না। তা ছাড়া সন্তান তার মা-বাবার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করবে। আইনে বলা হয়, কোনো সন্তানের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে বা নিকটাত্মীয় যদি বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি সন্তানকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় তাহলে তারাও একই অপরাধে অপরাধী হবে। ফলে তারাও একই শাস্তির মুখোমুখি হবে। এ আইনের মাধ্যমে বাবার অবর্তমানে দাদা-দাদি এবং মায়ের অবর্তমানে নানা-নানিরও ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
মা-বাবা ছাড়া আরো যারা ভরণ-পোষণ পাবেন
মা-বাবার ভরণ-পোষণ আইন ২০১৩-এর ৪ ধারা অনুযায়ী, মা-বাবার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ আইন অনুযায়ী দাদা-দাদি, নানা-নানিকেও ভরণ-পোষণ দিতে হবে। তবে সে ক্ষেত্রে পিতা যদি বেঁচে থাকে তাহলে সন্তানকে দাদা-দাদির এবং মাতা বেঁচে থাকলে নানা-নানির ভরণ-পোষণ করতে হবে না। ভরণ-পোষণ বলতে খাওয়া-দাওয়া, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বসবাসের সুবিধা এবং সঙ্গ প্রদান করতে আইনে বলা হয়েছে।
ভরণ-পোষণের পরিমাণ  
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনের ৩ এর (৭) অনুযায়ী, কোনো পিতা বা মাতা কিংবা উভয়ে, সন্তানদের সহিত বসবাস না করিয়া পৃথকভাবে বসবাস করিলে, সেই ক্ষেত্রে উক্ত পিতা বা মাতার প্রত্যেক সন্তান তাহার দৈনন্দিন আয়-রোজগার, বা ক্ষেত্রমতো, মাসিক আয় বা বাৎসরিক আয় হইতে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতা, বা ক্ষেত্রমতে, উভয়কে নিয়মিত প্রদান করিবে। অথবা মাসিক আয়ের কমপক্ষে দশ ভাগ পিতা-মাতার বরণ পোষণ করিবেন।
আইন অমান্যকারীর বিচার
কোন ব্যক্তি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন আমান্য করলে অপরাধের আমলযোগ্যতা, বিচার ও জামিন সংক্রান্ত বিধানে বলা হয়েছে, এ ধরনের অপরাধ প্রথম শ্রেণীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচারযোগ্য হবে। কোনো আদালত এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট সন্তানের বাবা বা মায়ের লিখিত অভিযোগ ছাড়া আমলে নেবে না। বিলটিতে আপস-নিষ্পত্তির ধারাও সংযুক্ত করা হয়েছে।
আইন অমান্যকারীর শাস্তি
পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন ২০১৩-এর ৫ ধারার (১) অনুযায়ী, যদি কোনো প্রবীণ তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আনেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
করণীয়
মা-বাবার ভরণ-পোষণ আইন সম্পর্কে মুরাদনগর থানার অফিসার ইন চার্জ জনাব সাদেকুর রহমান  বলেন, ‘সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্কে এত পরিবর্তন এসেছে যে, বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তার বিষয়টি এখন আমাদের ভাবতেই হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সবাই নিজের মতো করে পৃথকভাবে বাস করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ফলে যৌথ পরিবারের প্রতি আগ্রহ কমছে। অসহায় ও সহায়-সম্বলহীন বৃদ্ধ বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানির প্রতি তাদের সন্তানদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ করার সময় এসেছে। পরিবর্তিত সমাজব্যবস্থায় মা-বাবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আইন প্রণয়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকার সময়োপযোগী এই আইন করেছে। এখন প্রয়োজন যেসব পরিবারে পিতা-মাতা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনা এবং মাসিক আয় থেকে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের একটি ব্যবস্থা করা।’