আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, মাতৃভাষার জয়ের দিন

সিএনবিডি ডেস্কঃ আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ভাষা শহীদদের স্মরণে যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে। শোক ও গৌরবের অমর একুশের আজকের দিনে মাতৃভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছর পূর্ণ হলো।

রাজধানী ঢাকায় আজকের দিনের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি একুশের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেছে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশের প্রথম প্রহরে সরাসরি পুস্পস্তবক করতে পারেননি। তবে তাদের পক্ষে ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবরা।

দিবসটি সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি পালনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, আজিমপুর কবরস্থানসহ একুশের প্রভাতফেরি প্রদক্ষিণের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, প্রণয়ন করা হয়েছে শহীদ মিনারে প্রবেশের রোডম্যাপ।

দিবসটি পালন উপলক্ষে জাতীয় অনুষ্ঠানের সাথে সঙ্গতি রেখে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

এছাড়া, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক প্রতিটি সংগঠনের পক্ষ হতে সর্বোচ্চ ৫ জন প্রতিনিধি হিসেবে ও ব্যক্তিপর্যায়ে একসাথে সর্বোচ্চ ২ জন শহীদ মিনারে পুষ্পস্পবক অর্পণ করার নিয়ম করা হয়েছে এবার। শহীদ মিনারের সকল প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন ও লিকুইড সাবান রাখা হয়েছে। মাস্ক পরা ব্যতীত কাউকে শহীদ মিনার চত্বরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।

যাদের কারনে মাতৃ ভাষার জয় হলো –

১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ, তমদ্দুন মজলিশ ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ১১মার্চ ১৯৪৮ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সংগ্রাম পরিষদ ধর্মঘট ডাকে। এদিন সচিবালয়ের সামনে থেকে বঙ্গবন্ধুসহ অনেক ছাত্রনেতা গ্রেফতার হন। ১৫ মার্চ তারা মুক্তি পান। ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় অনুষ্ঠিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শেখ মুজিবুর রহমান। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়।১৯৪৯ সালের ২১ জানুয়ারি তিনি মুক্তি পান। ১৯ এপ্রিল আবারও তাকে গ্রেফতার করা হয়। জুলাই মাসের শেষে মুক্তি পান। ১৪ অক্টোবর ঢাকায় বঙ্গবন্ধুকে আবারও গ্রেফতার করা হয়। কারাগার থেকেই তার দিকনির্দেশনায় আন্দোলন বেগবান হয়। সেই দুর্বার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের এদিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠির চোখ-রাঙ্গানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শংকিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

এদিকে, ৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও শাসকগোষ্ঠীর প্রভূসুলভ মনোভাবের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং ভাষার ভিত্তিতে বাঙালির জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ।

ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি সেদিন ‘মায়ের ভাষার’ মর্যাদা অর্জনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পায় নব প্রেরণা। এরই পথ বেয়ে শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ।পরবর্তী নয় মাস পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে সংযোজিত হয় নতুন এক স্বাধীন সার্বভৌম দেশ- ‘বাংলাদেশ’।

২১ ফেব্রুয়ারি শোকাবহ হলেও এর যে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় তা পৃথিবীর বুকে অনন্য। কারণ বিশ্বে এ যাবতকালে একমাত্র বাঙালি জাতিই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, আজ ২১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ছুটির দিন। এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালে মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত কয়েক বছর ধরে দিবসটি সারাবিশ্বে পালিত হচ্ছে।

 

ভাষার রঙে আমার চিহ্ন?

ভাষার রঙে আমার চিহ্ন?

 কলমে- মোঃ আবু শামা (শ্যামা)

“ভেতরটা ডুকরে ডুকরে কেঁদে ওঠে কেন জানি না,
তবুও কেউ জানে না, জানার চেষ্টাও করবে না জানি কখনো।
তবুও কেন যেন অপেক্ষায় থাকি,
সত্যি নিজেকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে,কিন্তু করি না।”

বলছি ১৯৫২ সালের সেই উত্তাল দিন গুলোর কথা, আমি তখন শাহবাগ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে
সামান্য ফুল বিক্রেতা, জন্ম আর পরিবারের কথা নাই বললাম, যদি বলি তবে আমি সামান্য ফুল বিক্রেতা বললে কেউ মানতে চাইবেনা, তবে বাস্তবতা হলো সৃষ্টিকর্তা হয়তো আমাকে সৃষ্টি করতেই কিছুটা বৈষম্য করেছেন নিজের অজান্তেই।

মানুষ দুই প্রকার নারী বা পুরুষ, তবে আমি কোনটাই নই, তবে আমি কি? বিধাতা কি তা জানেন তোমাদের মানব সমাজে কি পরিচয় দিবে আমায়, সেটা একান্তই তোমাদের সমাজের ব্যাপার। যে কথাগুলো না বললেই নয়,
আমি সবে মাত্র শৈশব থেকে কৈশোরে প্রবেশ করছি। ঝামেলা বাঁধলো সেখান থেকেই।

এতোদিন জেনে এসেছি আমার শরীর টা পুরুষ, মানে তোমরা আমাকে এটাই শিখিয়েছো, আমার পরিবার তোমাদের সমাজ সেটাই জানো। কিন্তু আমার ভেতর টা সব সময়ই একটা বিদ্রোহের সূর তুলতো, আসলে কেন বিদ্রোহ করতো তার কোন কূলকিনারা খুজে পেতাম না, কিন্তু আমার কৈশোরে এসে সত্যি সত্যি বিদ্রোহটা কিসের ছিলো তা পরিষ্কার করে দিলো তোমাদের সমাজ, আর আমার আশেপাশের সব বন্ধু গুলো, যাদের সাথে শৈশব থেকে বেড়ে উঠেছি। আর আমিও আমার মনের বিদ্রোহ বুঝতে পারলাম, আমার শরীর পুরুষের কিন্তু আমার আত্মা, সমস্ত অনুভূতির অস্তিত্ব জুড়ে এক নারী সর্বাধিকারী। আমার মন আমার শরীরকে পরিচালিত করে,
সত্ত্বা আমার নারী অথচ পরিবার আর এই সমাজ আমার শরীর পুরুষ বলে চাপিয়ে দেয়। আমাকে কেন বাধ্য করে, বিধাতা তুমি কোথায়।

যতই দিন যেতে থাকলো ততই আশেপাশের সবাই আমাকে দূরে দূরে রাথতে শুরু করলো। সময়ের সাথে সাথে আমি একা হতে লাগলাম। দিনে দিনে নিজেকে এতটাই গুটিয়ে নিলাম যখন দেখলাম, সমাজের ভদ্রলোকরা আমাকে এতো অবজ্ঞা, অবহেলা আর অপমান-লাঞ্ছনা-বঞ্চনা করেও ক্ষান্ত হয়নি তারা, এখন আমার পরিবারের সবার উপর সেই অত্যাচার শুরু করে দিয়েছে।

এরপর একসময় ঘরবন্দী জীবন শুরু করলাম, তাতেও শেষ রক্ষা হলো না আমার আর আমার পরিবারের। দিনে দিনে তোমাদের সমাজের অত্যাচার বারতেই থাকলো, আর আমার মনটা পাথরে রুপান্তরিত হতে লাগলো।
কতরাত ডুকরে ডুকরে কেঁদেছি আমার সাথে কেঁদেছে আকাশ বাতাস জীবজন্তু লতাপাতা,
তবুও মন গলেনি সেই বিধাতার যিনি সৃষ্টি করেছেন আমায় তার অজান্তেই বড্ড অবহেলায়।

একসময় সৃষ্টিকর্তার সাথে বিদ্রোহ করতে আত্মহত্যা করার সিধান্ত নিলাম, কিন্তু জীবনের প্রতি তখনও কিছুটা মায়া ছিল। তাই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলাম, বেড়িয়ে পড়লো দুচোখ যেদিক যায়, আল্লাহ’র দুনিয়ায় কোথাও না কোথাও জায়গা হবেই। অন্তত আমার পরিবারের সদস্যরা কিছুটা লজ্জার হাত থেকে বাঁচবে।

যদিও দুজন মানুষ সারাজীবন চোখের জল ফেলবে। আজীবন আমার দুঃখী মা বাবা, আমাকে ক্ষমা করো, তোমরা।
একদিন গভীর রাতে ঠিকই ঘর থেকে বেড়িয়ে গেলাম।

আমার ঠাঁই হলো এই শাহবাগ এলাকায়, মাঝে অনেক কিছুই ঘটে গেছে সে কথা আর নাই বললাম। শুধু জীবনের প্রয়োজনে বা পেটের দায়ে নিজের বিবেক বিবেচনাকে বিসর্জন দিতে পারিনি, কতরাত কেটেছে অনাহারে তার কোন ইয়াত্বা নেই।

হাঁ আমি এখন ফুটপাতে বিছানা ছাড়াই ঘুমাই তাতে কোন দুঃখ নাই। এখানে কেউ আমাকে অতিরিক্ত বঞ্চনা দেয় না। একটু আর চোখে তাকিয়ে পথের মানুষ পথ বেয়েই চলে যায়। তবে আমার পেট চলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইয়া আপুরা অনেকই আমার কাছে ফুল কিনে নেয়। তারা আমাকে অনেকই ভালোবাসে কারণ তারা বলে তুই অন্তত চাঁদাবাজি করিস না, তাই তোর কাছে ফুল কিনি, তোকে তো একটা সুযোগ দেয়া উচিৎ।

আবার অনেক কপোত-কপোতী আসে আমার কাছে ফুল কিনতে, প্রথমে নিতে চায়না, তবে ২য় বার ঠিকই নেয়,
কারণ আশেপাশে কোন ফুল যদি না পায় ঠিক তখনই ফুল কিনে নেয়, একপ্রকাশ বাধ্য হয়ে।

হঠাৎ একদিন আনমনে কলা ভবনের সামনে বসে আছি। কিছুক্ষণ পর দুজন মানুষ আমার সামনে এলো,
আমাকে কেউ কোন নাম ধরে ডাকে না, সরাসরি বললো কিরে এভাবে মন খারাপ করে বসে আসিস কেন?
আমি বললাম নাহ, কিছু না। ভাইয়াটা নাছোরবান্দা, সে আমাকে অনেক স্নেহ করেন, জোর করে বললো তুই তো চুপচাপ থাকার মানুষ টা, আমাকে নিয়ে মানুষ শব্দ টা উচ্চারণ করার পর আমি তার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলাম। কারণ আমাকে মানুষ শব্দ ব্যবহার করে কেউ ডাকে না।

আমাকে তার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতে দেখে সে আরো বেশি জোর করে বললো, সত্যি করে বলতো তোর কি হয়েছে? আমি তখন বলতে বাধ্য হলাম। বেশ কিছু দিন হলো ফুল বিক্রি তেমন হয়না, চারপাশে কি সব হট্রোগোল হচ্ছে, কেউ ফুল কিনছে না, তাই আমার রুটিরুজি তেমন নাই, তাই খাওয়া দাওয়া তেমন নেই, কি যে করি। আমার সাথে মন খারাপ করে ভাইয়াটাও বলে উঠলো হাঁ রে আমারও বুঝি তোর কাছ থেকে শেষ বারের মত ফুল কেনা, তোর কাছ থেকো প্রতিদিনই ফুল কিনি, বলেই আমার হাত থেকে একটা গোলাপ ফুল নিয়ে তার মেয়ে বন্ধু টাকে দিয়ে বললো, শুনো কাল থেকে আর তুমি ক্যম্পাসে আসবে না।

মেয়েটি প্রতিবাদী হয়ে বলে ফেললো, কেন আসবো না, ওরা আমার মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চায়। আর আমি ঘরে বসে থাকবো ভাবলে কি করে, ভাইয়া টা ধমকের সূরে মেয়ে টা কে বলে উঠলো, তুমি বেশি বুঝো না, তুমি মেয়ে মানুষ এই আন্দোলন তুমি কি বুঝে। কাল থেকে ঘরের বাইরে বেড় হবে না।

মেয়ে টা আরো বেশি প্রতিবাদী কন্ঠে বলে উঠলো, কেন ঘরে থাকবো, আমি কি মেয়ে বলে মানুষ না, আমি কি বাঙালি নাহ, আমি কি মায়ের ভাষা বাংলায় কথা বলি না। যদি আমি বাংলায় কথা বলি আমার মায়ের ভাষায় কথা বলি, তাহলে আমার মুখের ভাষা কেড়ে নেবার জন্য পাকিস্তানি হায়েনা শিয়ালের দলে মুখে শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু থাকতে তাদের রুখে দাঁড়াবোই, তুমি বাঁধা দিতে পারো না, তুমি যদি আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়তে পারো তবে আমিও ঝাপিয়ে পড়তে এতোটুকুও পিছপা হবো না বলে রাখলাম।

একসময় ভাইয়া টা আপুটার মনে জোর বুঝতে পেড়ে আর তর্কে জরালো না। আমি মাঝখান থেকে বলে উঠলাম।
আচ্ছা ভাইয়া, আমি কি আপনাদের সাথে আন্দোলনে যেতে পারবো না,?

হঠাৎ ভাইয়া আমাকে বলে উঠলো তুই কেন আন্দোলনে যাবি, তোর জন্য আন্দোলন না, তুই তো একটা (…..?)
কথাটা শুনতেই আমার মনটা বিষাদে ভরে গেলো! তখন আপুটা আমার হাত ধরে বললো, তুই কেন আন্দোলনে যেতে পারবি না। অবশ্যই যাবি, আমি মেয়ে হয়ে যেতে পারলে তুইও যেতে পারবি, তুইও তোর মায়ের ভাষায় কথা বলিস, তোর ভাষা যাঁরা কেরে নিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে তুই প্রতিবাদ করবি, আন্দোলন সংগ্রামে ফেঁটে পরবি,
মনে রাখিস, তুই আমাদের মত মানুষ, আমি তোর সঙ্গে আছি। নিজের অজান্তেই আমার চোখের কোণে অশ্রু কণা জমে উঠেছে গেলো, আপুটা পরোম মমতায় আমার চোখের জল মুছে দিয়ে মিষ্টি হাসি দিয়ে বললো বাংলার সৈনিক তৈরি থাক, সময় এলেই ডাক আসবে আন্দোলনের, তখন ঠিকই ঝাপিয়ে পড়বি, এতটুকুও কালক্ষেপণ করবি না।
আমাদের মায়ের ভাষা আমাদের সবাই মিলে রক্ষা করতেই হবে।

আজ বিদায়, তৈরি থাকিস ডাক আসবে খুব তারাতাড়ি, মনে রাখিস তুইও মানুষ, তোমার মাকে তোকেও রক্ষা করতে হবে! এটা তোর দায়িত্ব। ভুলে যাস না, তুইও কোন বাঙালি মায়ের সন্তান। দেখতে দেখতে তারা রাস্তার সাথে মিশে গেলো, হঠাৎ আবিষ্কার করলাম।

আমার হাতের ফুল গুলো সব আমারী চোখের পানিতে ভিজে গেছে। নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে হলো যে, অনেক দিন পর অশ্রু তে আমার চোখ ভিজেছে, আর এ অশ্রু আগের অনেক দুঃখ আর বঞ্চনার নয়।
এই অশ্রু আমার বড্ড আনন্দের।

অতঃপর আমার অপেক্ষার পালা শেষ হলো, দেখলাম শাহবাগ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের সব জায়গায় মানুষের ঢল নেমেছে। বিক্ষোভে ফেঠে উঠেছে মানুষ, স্লোগান স্লোগানে মুখরিত হচ্ছে এই বাংলার আকাশ বাতাস জীবজন্তু লতাপাতা। এবার আমার পালা আন্দোলনে যাবার, জীবনে তো আমাকে দিয়ে কিছু হয়নি, এটাই মোক্ষম সময় নিজেকে প্রামাণ করার আমার মায়ের ভাষা রক্ষা করার। আমার হাতের ফুল গুলো ফেলে দিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আশা মিছিলের অগ্রভাগে মুষ্টিবদ্ধ হাতে। স্লোগান দিতে লাগলাম।

“রাষ্ট্র ভাষা, রাষ্ট্র ভাষা, বাংলা চাই, বাংলা চাই। আমাদের দাবি, আমাদের দাবি, মানতে হবে মানতে হবে।
মায়ের ভাষা, মায়ের ভাষা, বাংলা ছাড়া, অন্য কিছু মানবো না, মানবো না।”

শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে যখন স্লোগান স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে দিচ্ছিলাম। হঠাৎ হানাদার বাহিনীর বুলেটের বৃষ্টি শুরু হলো, আমার আশেপাশের অনেকের বুকে বুলেটের আঘাতে স্ফুলিঙ্গের মতো তাজা রক্তে রাজপথ লাল রক্ত ভেসে যাচ্ছে। কিন্তু কেউ পিছপা হচ্ছে না। শুধু সামনে এগিয়ে যাচ্ছে আর স্লোগান দিচ্ছে, রাষ্ট্র ভাষা, রাষ্ট্র ভাষা, বাংলা চাই, বাংলা চাই।

হঠাৎ শত্রুর ছোড়া একটা বুলেট আমার কপালে চুমু এঁকে দিলো, কান্না আমার ভাষা নয়, বাংলা আমার ভাষা!
বুকের রক্ত বিলিয়ে দেওয়া আমার জীবনের একমাত্র পাওয়া। আমি শেষ বার বলে উঠলাম, “রাষ্ট্র ভাষা, রাষ্ট্র ভাষা, বাংলা চাই, বাংলাাাা এএএএ চাই!”


কবি-সু-চয়নিকা
কবি-সু-চয়নিকা

[১৯৫২ সালের মহান ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করে উৎসর্গ করছি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, আমার পরোম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা মানুষ কবি- চয়নিকা আপনাকে।]

যুক্তরাষ্ট্রের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে প্রত্যাবর্তন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ অবশেষে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফিরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পুরো ১০৭ দিন পর  গতকাল শুক্রবার প্রত্যাবর্তন করেছে দেশটি।

শুক্রবার জার্মানিতে অনুষ্ঠিত মিউনিখ ভার্চুয়াল সম্মেলনে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে পুনরায় যোগদানের ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। জলবায়ু পরিবর্তন এখন বিশ্বময় অস্তিত্ব-সম্পর্কিত এক সঙ্কট উল্লেখ করে যৌথভাবে মোকাবেলা করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, বায়ু দূষণ ও বিষাক্ত নির্গমণ যথার্থভাবে কমাতে আমাদের দ্রুততার সঙ্গে প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে। সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য একে অপরের দোষারোপ করতে হবে। আজ প্যারিস চুক্তিতে ফিরে আসার কথা ঘোষণা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাইডেন আরো বলেন, আমরা ব্যর্থ হলে এর পরিণাম ভয়াবহ হবে। তাহলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব।

এদিকে, এ চুক্তিকে ট্রাম্প প্রশাসন পরোয়া না করলেও বাইডেন প্রশাসন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে বলে প্রত্যাশা করছে বিশ্বনেতারা। জীবন, প্রকৃতি, পরিবেশের বিপন্নতার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্যারিসে কপ ২১ নামের একটি সম্মেলনে প্রথম একটি জলবায়ু চুক্তিতে সম্মত হয় বিশ্বনেতারা। চুক্তির আওতায় বিশ্বের উষ্ণতা বাড়ার হার দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এতে স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্রসহ ২শ’টি দেশ। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন বারাক ওবামা।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার করে নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

পেট্রোল পাম্প? নাকি মদের গোডাউন!!!

তিমির বনিক, মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গল শহরের নতুন বাজার এলাকার মৃত মঈনুদ্দিন এর ছেলে মুরাদ উপজেলার শাহাজীবাজার সামছুদ্দীন এন্ড ব্রাদার্স তেলের পাম্পের মালিক হিসেবে পরিচিত হলেও গতকাল রাতের অভিযানের পর মদের পাম্পে পরিচিতি লাভ করলো। মুরাদের আস্তানা থেকে মদ,মদের বোতল,যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্য রাতে (শুক্রবার) পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে এস আই আলমগীরসহ সঙ্গীয় ফোর্স শহরের সামছুদ্দীন এন্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে এক অভিযান চালিয়ে পেট্রোল পাম্পের অফিস রুম হতে বিদেশি মদ,মদের বোতল, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার করেন শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।

এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অফিসের চাবি পাঠিয়ে মুরাদ সটকে পরে। তবে পেট্রোল পাম্পের এক কর্মচারীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মুরাদকে প্রধান আসামী করে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে স্হানীয়রা অফিযোগ করেন,এই চক্রটির সাথে আরও লোক জড়িত রয়েছে এবং তারা দীর্ঘ দিন থেকে এমন অসামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে বলে জানান।

তবে এ ব্যাপারে মুরাদ তার নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেন তার পরিবারের লোকজনের সাথে জায়গা সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলা রয়েছে। তার ভাই ও বোন তাকে ফাঁসানোর জন্য এ কাজ করতে পারেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি তদন্ত হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্য রাতে শহরের  সামছুদ্দীন এন্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে এক অভিযান চালিয়ে পেট্রোল পাম্পের অফিস রুম হতে বিদেশি মদ,মদের বোতল, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী পদক্ষেপ আসামী মুরাদকে গ্রেপতারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

রৌমারীতে ট্রাক্টরের চাপায় এক যুবক নিহত

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের রৌমারীতে অবৈধ (লাইসেন্সহীন) ট্রাক্টরের চাপায় মেহেদী হাসান (২০) নামের এক বাই সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে। নিহত মেহেদী হাসান রৌমারী উপজেলার সায়দাবাদ গ্রামের ময়জুদ্দিনের ছেলে।

শুক্রবার সন্ধ্যার পরে উপজেলার ৫নং যাদুরচর ইউনিয়নের সায়দাবাদ টু ঢাকা সড়কে এ দূর্ঘটনাটি ঘটে।

যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওই ছেলেটি সাইকেল চালিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিল এবং মাঝপথে বালু বোঝাই একটি লাইসেন্স বিহীন ট্রাক্টর মেহেদীর সাইকেলে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রৌমারী উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় পরে কর্তব্যরত  চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এবিষয়ে রৌমারী থানার (ওসি) মোন্তাছের বিল্লাহ বলেন, এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সিলেটে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার, ঘাতক আটক ও মামলা

মো আমিন আহমেদ, সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেট নগরীর  শাহপরান থানা এলাকায় সৎ মা, ভাই ও বোনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে আহবাব হোসেন আবাদ নামে এক যুবক। গেল বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে শাহপরান থানাধীন বিআইডিসি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক আবাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

নিহতরা হলেন রুবিয়া (৩০) এবং তার মেয়ে মাহা (৯) এবং ছেলে তাহসান (৭) । তাদের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায়, বর্তমানে তারা নগরীর শাহপরানের বিআইডিসি এলাকায় বসবাস করছিলেন।

শাহপরান থানা ভারপ্রাপ্ত  কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান এ ব্যাপারে ডিজিটাল বাংলা নিউজকে বলেন, নিহতের সৎ ছেলে আহবাব হোসেন ওই দিন রাত ১২ টার দিকে ছুরি দিয়ে তার সৎ মা, সৎ বোন ও সৎ ভাইকে এলোপাতারি কোপাঁতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও বোন মারা যান। আর আহত অবস্থায় তার সৎ ভাই তাহসনাকে গুরুতর অবস্থায় সিলেট এমএজি  ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর রাত ৩ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার রাতে নিহত নারীর ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় মামলাটি দায়ের করেন বলেও জানান ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান।

আনিসুর রহমান আরো জানান, ট্রিপল মার্ডারের ঘটনার পরপরই ছুরিসহ আটক আবাদকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলায় নিহত রুবিয়ার সৎ ছেলে আহবাব হোসেন আবাদ ও হত্যার প্ররোচনার অভিযোগে আবাদের মা সুলতানা বেগম রুমিকে আসামি করা হয়েছে। তবে পলাতক আবাদের মাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

কুমিল্লাকে নিরাপদ রাখতে জেলা পুলিশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লাজেলা প্রতিনিধি: কুমিল্লাকে নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ। শুক্রবার ১৯ ফেব্রুয়ারি  গভীর রাতে পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদের উদ্যোগে ‘পুলিশ-জনতার যৌথ পাহারা’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়নে পাহারার দায়িত্বপালনকারী সাধারণ জনগণের মাঝে ড্রেস, বাঁশি ও লাঠি বিতরণ করা হয়।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া অপরাধ নির্মূল পরিপূর্ণভাবে সম্ভব নয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলার ১৮টি থানায় বিভিন্ন কৌশলগত স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হবে।
এর আগে রাত ১২টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর, আমড়াতলী, দুর্গাপুর উত্তরসহ বিভিন্ন গ্রাম পুলিশ-জনতার যৌথ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

ধরলা ব্রীজের নিচ থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে ধরলা ব্রীজের নিচ থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।আজ শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ব্রীজের নিচে লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের মধ্যে কেউ এখনো মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি।

কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোঃ শাহরিয়ার জানান, খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সবাই লাশ সনাক্তকরনের জন্য চেষ্টা করতেছে। লাশ কোনদিক থেকে এসেছে বা কোন এলাকা থেকে এসেছে তা এখনো জানা যায়নি।

 

রায়পু‌রে বাবুরহাট ব্লাড ফাউ‌ন্ডেশ‌নের উদ্যো‌গে ফ্রি ব্লাড গ্রু‌পিং ও স‌চেতনতা ক‌্যা‌ম্পিং

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পু‌রে বাবুরহাট ব্লাড ফাউ‌ন্ডেশ‌নের উদ্যো‌গে ফ্রি ব্লাড গ্রু‌পিং ও স‌চেতনতা ক‌্যা‌ম্পিং করা হ‌য়ে‌ছে। শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়া‌রি) জুমার নামা‌জের পর ৩নং চরমোহনা ৮নং ওয়ার্ড কাফিলাতলীতে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ও সচেতনতা ক্যাম্পিং করা হয়। এ সময় একশ’র অ‌ধিক ফ্রি ব্লাড গ্রু‌পিং করা হয়।
ব্লাড গ্রু‌পিং ও স‌চেতনতা ক‌্যা‌ম্পিং অনুষ্ঠা‌নে উপ‌স্থিত ছি‌লেন বাবুরহাট ব্লাড ফাউ‌ন্ডেশ‌নের উ‌দ্যোক্তা ও প‌রিচালক জালাল উ‌দ্দিন রানা, প্রধান অথিতি বাবুরহাট ব্লাড ফাই‌ন্ডেশ‌নের উপ‌দেষ্টা মাওলানা খিজির হায়াত খাঁন, বিশেষ মেহমান রাছেল হোসেন সুমন, পারভেছ আখন, সমাজ‌ সেবক নূর নবী , আরিফ হোসেন ও বাবুরহাট ব্লাড ফাউন্ডেশন এর সকল স্বেচ্ছাসেবীরা।

দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকায় পুলিশের অভিযানে ফেন্সিডিলসহ যুবক আটক

মো.আমিন আহমেদ, সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন হুমায়ুন রশিদ চত্বরের ইসলামী ব্যাংকের পিছনে নতুন রেলওয়ে ষ্টেশন রোডস্থ একা গদি ফার্নিচার এর সামনে পাকা রাস্তার উপর একজন মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্য (ফেন্সিডিল) ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে মর্মে গোপন সংবাদ পেয়ে এসআই(নিঃ)/মো: রোকনুজ্জামান চৌধুরী পিপিএম অফিসার ইনচার্জ এর নেতৃত্তে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ আসামী মো: সেলিম মিয়াকে (৩৮), পিতা-মৃত ইন্তাজ আলী, মাতা-মৃত রেনু বিবি, স্ত্রী-রেশমা বেগম, সাং-মইয়ারচর, ৪নং ওয়ার্ড, থানা-জালালাবাদ, জেলা-সিলেট আটক করেন।

আসামীর দখলে থাকা হাতলযুক্ত ট্রাভেল ব্যাগে রক্ষিত ৩৫ বোতল কোডিন সমৃদ্ধ ভারতীয় তৈরী আমদানী নিষিদ্ধ ফেনসিডিল ও মাদক বিক্রয়ের নগদ মোট ২,৬০০/-টাকা উদ্ধার পূর্বক বৃহস্পতিবার রাত ১০ টায় এসআই(নি:)/মো: রোকনুজ্জামান চৌধুরী, পিপিএম সাক্ষীদের সম্মুখে জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করেন। আটককৃত আসামীর বিরুদ্ধে দক্ষিণ সুরমা থানার মামলা নং-১৭, তারিখ-১৮/০২/২০২১খ্রিঃ ধারা-২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ৩৬(১) এর টেবিল ১৪(খ) রুজু করা হয়েছে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মো: মনিরুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ, দক্ষিণ সুরমা থানা, এসএমপি, সিলেট।