একনেকে ১৯ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় ও অর্থনীতিঃ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১৯ হাজার ৮৪৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ের ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। ১৯ হাজার ৮৪৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন হবে ৬ হাজার ৫৯৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

আজ মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আজকের এই সভায় যুক্ত হয়ে এ ৯ প্রকল্পের অনুমোদন করেন।

একনেক সভা শেষে দুপুরে এনইসিতে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এদিন অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সংশোধিত প্রকল্প ৩টি এবং নতুন প্রকল্প ৬টি।

বৈঠকে অনুমােদিত প্রকল্পগুলো হলো- ডাক, টেলিযােগাযােগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘বিটিসিএলের ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্প; নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পায়রা সমুদ্র বন্দরের প্রথম টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ (১ম সংশােধিত) প্রকল্প; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডাের সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্প; তথ্য মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ বেতার, সিলেট কেন্দ্র আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল সম্প্রচার যন্ত্রপাতি স্থাপন প্রথম সংশােধিত)’ প্রকল্প; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্প যথাক্রমে “পশ্চিম গােপালগঞ্জ সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প, ‘চট্টগ্রাম জেলাধীন হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলায় হালদা নদীর উভয় তীরের ভাঙন হতে বিভিন্ন এলাকা রক্ষাকল্পে তীর সংরক্ষণ কাজ (দ্বিতীয় সংশােধিত)’ প্রকল্প এবং ‘ভালো জেলার দৌলতখান উপজেলাধীন দৌলতখান পৌরসভা ও চকিঘাট এবং অন্যান্য অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা মেঘনা নদীর ভাঙন হতে রক্ষা’ প্রকল্প; কৃষি মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘কাজুবাদাম, ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্প এবং ‘অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন’ প্রকল্প।

আজকের একনেক সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মাে. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা অংশ নেন।

 

দেশে করোনায় গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ১৩ জনের

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২৯৮ জনে। পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩৯৬ জন। ফলে এই ভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ জনে। 

আজ মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৭৫১ জন সুস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৬২১ জন হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১১৭টি আরটি-পিসিআর ল্যাব, ২৯টি জিন-এক্সপার্ট ল্যাব ও ৬৬টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে অর্থাৎ সর্বমোট ২১২টি ল্যাবে ১৪ হাজার ৭৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৩৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪২টি নমুনা।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২ দশমিক ৬৮ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯০ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

 

লেখক অভিজিৎ হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন একজনের

সিএনবিডি ডেস্কঃ ব্লগার ও লেখক (বিজ্ঞান ) অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) ৫ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া এবিটির আরেক সদস্য শফিউর রহমান ফারাবির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৬ বছরের মাথায় এই চাঞ্চল্যকর মামলাটির রায় হলো।

আজ মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। এই রায় ঘোষণার আগে কাশিমপুর কারাগারে থাকা ৪ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ মামলার দুই আসামি মেজর জিয়া এবং আকরাম হোসেন পলাতক রয়েছেন। অপর ৪ আসামি কারাগারে আছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো- বরখাস্তকৃত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ, আবু সিদ্দিক সোহেল, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, আরাফাত রহমান সাজ্জাদ ওরফে শামস্।

এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন। গত ২১ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় ৩৪ জন সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময় ২৮ জন সাক্ষ্য দেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি এলাকায় সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তারপরের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি অভিজিতের বাবা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অজয় রায় শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন।

 

ইরাকের বিমানবন্দরের নিকটবর্তী মার্কিন ঘাটি লক্ষ্য করে চালানো রকেট হামলায় নিহত ১

আন্তর্জাতক ডেস্কঃ ইরাকের কুর্দিস্তান এলাকার ইরবিল বিমানবন্দরের নিকটবর্তী মার্কিন ঘাটি লক্ষ্য করে লাগাতার রকেট হামলা চালানোয় ১ জন  নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মার্কিন সেনাসহ গুরুতর আহত হয়েছে আরো ৬ জন।

গতকাল সোমবার ইরাকের ইরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মার্কিন কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রকেটগুলি কির্কুক প্রদেশের সীমান্তের নিকটবর্তী মূল শহর ইরবিলের দক্ষিণের একটি অঞ্চল থেকে সোমবার গভীর রাতে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।  আর বিমানবন্দরের নিকটবর্তী কয়েকটি আবাসিক অঞ্চলেও এইসব রকেট আছড়ে পড়েছিল।

কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটির প্রশাসন বলছে, রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে তিনটি রকেট ছোঁড়া হয়। যাতে, ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এক কনট্রাকটর। হামলার সময়, বেশ কয়েকদফা বিস্ফোরণের শব্দও পাওয়া গেছে।

এখনও স্পষ্ট নয়- হামলার মূল টার্গেট কি বিমানবন্দর নাকি নিকটবর্তী মার্কিন সেনাঘাঁটি ছিল। নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে বন্ধ বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত ও বন্ধ করা হয়েছে সকল ফ্লাইট চলাচল।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন সোমবার গভীর রাতে জানিয়েছেন,  এই হামলার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

এ ঘটনায় এখনও কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে, আইএস মতাদর্শধারী সশস্ত্র সংগঠনকে এর জন্য দায়ী করছে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চে উত্তর ইরাকের একটি ঘাঁটিতে রকেট হামলায় এক ব্রিটিশ ও দুই আমেরিকান কর্মী নিহত হয়েছিল।

সুত্রঃ ইউএস নিউজ, এপি।  

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ব্যয় হবে ১৭ হাজার কোটি টাকা

মো আমিন আহমেদ, সিলেট প্রতিনিধি: দেশে এর আগের বিভিন্ন মহাসড়ক চার লেইন করতে যে ব্যয় হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যয় হতে যাচ্ছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেইনে উন্নীত করতে। প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য এই সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠতে যাচ্ছে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

প্রকল্প প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মুল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সায় পেয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মো. মামুন -আল- রশিদ বলেন, “ওই বৈঠকে প্রকল্পটির ব্যয় ও যৌক্তিকতা বিচার-বিশ্লেষণ করে একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।”

প্রকল্পের ব্যয় পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চার লেইনের সড়ক নির্মাণের দিক দিয়ে প্রকল্পটিতে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রায় ২১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গড়ে প্রতি কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ধরা হবে ৮০ কোটি টাকার বেশি।

এর আগে, গত বছরের ২৭ নভেম্বর একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া ‘ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক চার লেইনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পে ৪৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সড়ক চার লেইনে উন্নীত করতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। ওই প্রকল্পে সড়কটি নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হচ্ছে ৮৬ কোটি টাকারও বেশি। তবে ওই প্রকল্পে ১৫১ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন বাবদ প্রায় ৮১৮ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় ছিল।

ওই প্রকল্প অনুমোদনের পর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের তৎকালীন সদস্য শামীমা নার্গিস বলেছিলেন, প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কটিতে ‘স্মার্ট হাইওয়ে’ হিসেবে নির্মাণে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল (ওএসি) স্থাপন এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার জন্য ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস) স্থাপন করায় ব্যয় বেশি হচ্ছে।

চলমান সিলেট-তামাবিল সড়ক চার লেইন প্রকল্পের প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হচ্ছে ৬৪ কোটি টাকা। সেখানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে তার চেয়ে ১৬ কোটি টাকা বেশি।

ব্যয় বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে মামুন-আল রশিদ বলেন, “এই সড়কটি আসলে দেশের অন্যান্য চার লেইনের সড়কের মতো নয়। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে চার লেইনের পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে কম গতির যানবাহন চলাচলের জন্য দুটি সার্ভিস লেন থাকবে। এছাড়া ওই এলাকায় অন্যান্য এলাকার তুলনায় পানির প্রবাহ বেশি থাকায় সেতু ও কালভার্টের সংখ্যা অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি। এই কারণেও ব্যয় কিছুটা বেড়েছে।”

পরিকল্পনা কমিশনের এই সদস্য বলেন, “সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয় মন্ত্রণালয় প্রথমে এ প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার মতো প্রস্তাব করেছিল। আমরা পিইসি সভায় প্রকল্পটির বিচার বিশ্লেষণ ও কাটছাঁট করে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা কমিয়েছি।”

ভারত, বাংলাদেশসহ ছয় দেশ নিয়ে গঠিত দক্ষিণ এশিয়া উপ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) বাড়াতে সরাসরি সড়ক অবকাঠামো তৈরির উদ্দেশ্যে ঢাকা- সিলেট মহাসড়ক চার লেইনে উন্নীত করছে সরকার।

এডিবির অর্থায়নে ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন’ শীর্ষক এ প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে দ্রুতই কাজ শুরু করে আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়, দেশের সড়ক পরিবহণ নেটওয়ার্ক যথাযথ মানে উন্নীত করে এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক, বিমসটেক করিডোর, সার্ক করিডোরসহ আঞ্চলিক সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্তির মাধ্যমে শিল্প ও বাণিজ্যে গতিশীলতা আনাসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির প্রস্তাবে আরও বলা হয়, টেকসই সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী জাতীয় মহা সড়কের উভয় পাশে সার্ভিস লেইন করার পাশাপাশি বিদ্যমান সড়কগুলো ক্রমান্বয়ে চার লেইনে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এডিবি‘র আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় দেশব্যাপী ১ হাজার ৭৫২ কিলোমিটার মহাসড়কের সমীক্ষা চালানো হয়েছে। এই সমীক্ষার আওতায় ঢাকা-সিলেট-তামাবিল মহাসড়কটিও রয়েছ।

প্রস্তাবে বলা হয়, “উপাঞ্চলিক যোগাযোগ বিশেষ করে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান ও চীনসহ ছয়টি দেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশ কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সড়কটি উপাঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলে যোগাযোগের প্রধান করিডোর হওয়ায় প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। উপাঞ্চলিক উন্নয়ন বিবেচনায় এডিবি অগ্রাধিকার তালিকায় এই সড়কটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”

 

ডিজিটাল বাংলা নিউজ/ ডিআর /এমআর

নওগাঁয় আদালত চত্বরে পুলিশ কর্ত্তৃক আইনজীবি প্রহারের ঘটনায় ৪ পুলিশ সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়ায় আইনজীবিদের কর্মসূচী প্রত্যাহার

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : নওগাঁয় পুলিশ কর্ত্তৃক আইনজীবি প্রহৃত হওয়ার ঘটনায় আইনজীবিদের প্রতিবাদ কর্মসূচী ১৪ দিন পর প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার কর্ত্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তসাপেক্ষে দোষী ৪ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত হয়ে আইনজীবিরা তাঁদের কর্মসূচী প্রত্যাহার করেছেন।

১৪ ফ্রেব্রুয়ারী এ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সভায় গৃহিত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তাঁদের কর্মসূচী প্রত্যাহার করা হয়।

গতকাল সোমবার বিকেল ৪টায় বার এ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি এ্যাড. সরদার সালাহ উদ্দিন মিন্টু কর্মসূচী প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষনা প্রদান করেন।

এ সময় জেলা বার এ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মোঃ আশফাকুর রহমান রবসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১লা ফেব্রুরয়ারী কোট চত্বরে প্রবেশ করার সময় পরিচয় দেয়ার পরও জেলা এ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আবু সাঈদ মুরাদকে পুলিশ প্রবেশ করতে বাধা প্রদান করে। এ সময় বাক বিতন্ডার এক পর্যায় সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা সম্মিলিতভাবে উক্ত মুরাদের উপর হামলা চালায়। রাইফেলের বাটসহ লাঠিসোটা দিয়ে বেদম প্রহার করে মারাত্মকভাবে
আহত করে।

এই ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে আইনজীবিরা জরুরী সাধারন সভায় গৃহিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক আদালতের কার্যক্রম বন্ধসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচীর ডাক দেয়। এই কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ৪ দিন পুরোপুরি কলম বিরতি পালন করেন। পরবর্তী দিনগুলোতে কালোব্যাচ ধারন, বার ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন ও মৌন মিছিলসহ নানা কর্মসূচী অব্যাহত রাখেন।

সেখানে সেদিন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ক্লোজ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আকতারের নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া।

কমিটির তদন্ত শেষে দোষী প্রমানিত হওয়ায় ঘটনার সাথে জড়িত ৪ পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধতন কর্ত্তৃপক্ষের নিকট প্রেরন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর ১৪ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত এক সাধারন সভায় কর্মসূচী প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

ফের অসুস্থ নার্সিং শিক্ষার্থীর পাশে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতাল বিএনএ

মো আমিন আহমেদ, সিলেট প্রতিনিধি: আবার ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাংলাদেশ নার্সিং এসোসিয়েশন (বিএনএ) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখা। ‘মাইয়েস্থিনিয়া গ্রেভিস ও হাইপার থাইরিডিজম’ রোগে আক্রান্ত রাজশাহী নার্সিং কলেজের বিএসসি ইন নার্সিং ৩য় বর্ষের ছাত্রী মোছা. জোবেদা আক্তারের চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়িয়েছে তারা।

গতকাল সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন জোবেদার সাথে দেখা করে তার হাতে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা তুলে দেন বিএনএ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার পক্ষে ঢাকার প্রতিনিধিরা।

প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সিং সুপার সন্ধা রানী সমদ্দার। এছাড়া প্রতিনিধি দলে ছিলেন- বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি নার্সিং সুপার ঝর্ণা মন্ডল, নার্সিং অফিসার সাজ্জাদ হোসেন, সুজন মিয়া, আরিফ হোসেন জনি, জনাছ টপ্পো, সুজন চন্দ্র দেবনাথ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন, জাহিদ হাসান, ঢাকা নার্সিং কলেজ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক মোখলেছুর রহমান শাহিন, বাংলাদেশ বেসিক গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট নার্সেস’ এসোসিয়েশনের (বিবিজিএসএনএ) সভাপতি ইমরানুল হক হিমেল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সিং শিক্ষার্থী মো. রাজীব।

প্রসঙ্গত, এর আগে বিএনএ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখা দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাপাতালের অসুস্থ নার্সিং কর্মকর্তা ও নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসে। কোভিড আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া নার্সিং কর্মকর্তাদের পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা দেয় সংগঠনটি।

নেত্রকোনায় নৌ-যান শ্রমিক ইউনিয়ন ও মালিক সমিতির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি: নেত্রকোনা জেলার ইঞ্জিনচালিত নৌ-যান শ্রমিক ইউনিয়ন ও মালিক সমিতির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি  নেত্রকোনা সদর উপজেলার শাহ সুলতান রোড ,কুরপাড় অবস্থিত।

উক্ত অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন মোঃ ওমর ফারুক। এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মোঃ হান্নান শাহ,সাধারণ সম্পাদক মোঃ রতন মিয়া।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সভাপতি হান্নান শাহ সাধারণ সম্পাদক রতন মিয়া, কার্যকরী সভাপতি মোঃ: সামাদ আজাদ সহ-সভাপতি মো: নওয়াব মিয়া,যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম সাংগঠনিক সম্পাদক মো:মৌলা মিয়া কোষাধক্ষ্য উজ্জল মিয়া, প্রচার সম্পাদক মোঃ:মহিবুল মিয়া,দপ্তর সম্পাদক রাকিব হাসান (বেলাল) ও নেত্রকোনা জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা, শেখ সেলিম, তারিফুল ইসলাম (রিপন)সহ আরো অনেকে।

এ সময় বক্তব্য রাখেন,সভাপতি হান্নান শাহ, সাধারণ সম্পাদক রতন মিয়া, কার্যকরী সভাপতি মোঃ: সামাদ আজাদ, সহ-সভাপতি মো: নওয়াব মিয়া, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো:মৌলা মিয়া, কোষাধক্ষ্য উজ্জল মিয়া, প্রচার সম্পাদক মোঃ:মহিবুল মিয়া,দপ্তর সম্পাদক রাকিব হাসান (বেলাল)।

বক্তারা বলেন, নেত্রকোনা জেলার অবহেলিত শ্রমজীবী মানুষের একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক জান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর ময়মনসিংহ থেকে রেজিস্ট্রেশন লাভ করেছে যার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার নির্ধারিত করা হয়েছে রেজি নং : ময়মন-২৪ নৌ-যান খাতে শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যা সংকট ও শোষণ বঞ্চনার মধ্য দিয়ে জীবন পার করছে কিন্তু তাদের সমস্যা-সংকট তুলে ধরার জন্য কোন আইনি বৈধ প্রতিনিধি ছিল না।

গত ৩০-১২-২০২০ খ্রিস্টাব্দ তারিখে এ খাতে শ্রমিকদের নিয়ে গঠিত শ্রমিক ইউনিয়নটি রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত হয় তাদের আইনস্বীকৃত বিভিন্ন দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হলো।

অভিনব কায়দায় চাঞ্চল্যকর হিজরা হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া নির্দেশনায় ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জিয়াউর রহমান এর নির্দেশনায় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মৌলভীবাজার মোঃ ইয়াছিনুল হক, পুলিশ পরিদর্শক পরিমল চন্দ্র দেব ও পুলিশ পরিদর্শক বদিউজ্জামান এর সার্বিক তত্বাবধানে মৌলভীবাজার মডেল থানার এসআই এনামুল হক এর নেতৃত্বে এএসআই মাহবুবুল আলম সহ একটি টিম এবং এসআই শরীফ এর নেতৃত্বে আরও একটি টিম ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলাধীন বিজয়নগর থানা ও সড়াইল থানা এলাকায় মাছ ব্যবসায়ী ও রিক্সাচালক এর ছদ্মবেশ ধারণ করে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ ২৯ ঘন্টার বিরামহীন অভিযান পরিচালনা করিয়া  সড়াইল থানাধীন প্রত্যন্ত হাওড় বেষ্টিত সাজদাপুর সাকিন হইতে  হিজরা মার্ডার ( ক্লুলেস) মামলার আসামী মোঃ আসুক মিয়াকে (৪৮), পিতা- মৃত রব্বান মিয়া, সাং- মাতাবপুর, থানা ও জেলা- মৌলভীবাজার গ্রেফতার করা হয় গতকাল সোমবার ১৫ ইং ফেব্রুয়ারী।

বিগত ২৮ নবেম্বর ২০২০ইং মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাট ব্রিজের কাছে অঞ্জনা (আলমগীর আহমদ) নামের এক হিজড়া নিহত হয়েছে রাত ১০টা ২০মিনিটের দিকে এঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছিল।

চাঁদনীঘাট ব্রিজের কাছে সংঘবদ্ধ একটি হিজড়া দল বিয়ে গাড়ী আটকিয়ে চাঁদা আদায় সহ নানা অপরাধ চালিয়ে যেত ঘটনার রাতে হিজড়া অঞ্জনা (আলমগীর হোসেন) এবং ঝর্ণা নামক হিজড়া চাঁদনীঘাট ব্রিজের পাশে একটি দোকানের সামনে দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় অঞ্জনার উপর হামলার ঘটনা ঘটে।

হিজড়া ঝর্ণা জানায়, ঘটনাস্থলের সামনে একটি দোকানের সম্মূ্ুখে কেন বা কি কারনে হঠাৎ দুজন লোক এসে অঞ্জনার উপর একটি ক্রিকেট খেলার বেট দিয়ে আঘাত করে এবং পরোক্ষণে হিজড়া ঝর্ণা চৌহমনার দিকে দৌড় দেয় পুলিশকে খবর দিতে। এসে দেখে অঞ্জনার লাশ রাস্তায় পড়ে আছে।

ঝর্ণা আরো জানায়, যারা হামলা করেছে তাদের দেখলে চিনতে পারবে। আসলে কেন কি কারনে হিজড়া অঞ্জনার উপর হামলা এবং হত্যার বিষয় উঠে আসছে তা এখনো পরিস্কার জানা যায়নি। এ সময় সদর মডেল থানার এস আই জাকির হোসেন জানান, এটা হত্যা নাকি দূর্ঘটনা তা এখনো বুঝা যাচ্ছে না। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরবর্তীতে জানানো যাবে।

স্থানীয় বেশ লোকজন জানান, এটি কোন দুর্ঘটনা নয়, হত্যা। তবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারেননি। উপস্থিত স্থানীয় কাউন্সিলর এবং বেশ কয়েকজন উক্ত ঘটনাকে খুব জঘন্য এবং নিন্দনীয় উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যে বা যারা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত তাদের বিচারের দাবী জানান।

নিহত হিজড়া অঞ্জনা (আলমগীর হোসেন) এর বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শ্রীক্ষরপুর গ্রামে বলে জানা গেছে। নিহতের বোন এবং আপন ভাই অঞ্জনার মৃত্যু দূর্ঘটনায় নয় হত্যা বলেই ধারনা করছেন বলে উল্লেখ  করেন। এছাড়া সাথে থাকা হিজড়া ঝর্ণাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং দোষীদের চিহৃিত করে শাস্তির দাবী জানান।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি ইয়াসিনুল হক জানান, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, উক্ত আসামী মামলার ঘটনার পর হইতে গ্রেফতার এড়ানোর জন্য দীর্ঘদিন আত্নগোপনে ছিল। উক্ত আসামীকে গ্রেফতার করনের লক্ষ্যে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশের দুটি চৌকস টিম গঠন করে অভিযান পরিচালনা করছে। এমন চাঞ্চল্যকর (তৃতীয় লিঙ্গের) আলোচিত মর্মান্তিক মৃত্যু মামলার আসামীদের কখনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কাটার ছবি তোলার দায়ে ৫ সাংবাদিককে প্রথমে অবরুদ্ধ পরে সম্মানজনক বিদায়

মো আমিন আহমেদ, সিলেটঃ হবিগঞ্জ বাহুবলের মিরপুরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কাটার ছবি তোলার দায়ে ৫ তরুণ-তরুণী সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করে রাখে মাটিখেকোরা। এ ঘটনা নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বাহুবল থানার একদল পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। দিনভর চরম আলোচনার পর সন্ধ্যার দিকে বিষয়টি সমাধান হলে সাংবাদিকদের সম্মানজনকভাবে বিদায় দেয়া হয়।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর এলাকার দুলাল মিয়ার নেতৃত্বে কাওসার মিয়া, কদর আলী, আসকর আলীসহ বেশ কয়েকজন বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে ইটভাটায় সরবরাহ করছে। বেশ কয়েকবার ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও তারা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে মাটি উত্তোলন করছে। ট্রাক্টরযোগে এসব মাটি নেয়ায় ওই এলাকার রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যাচ্ছে। পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

অবরুদ্ধ সাংবাদিকরা জানায়, গত রবিবার কুমিল্লা থেকে সিলেট যাবার জন্য তরুণ সাংবাদিক সংবাদ ২৪ ঘন্টা এর ক্রাইম রিপোর্টার সানজনা আক্তার, দৈনিক শ্রমিকের ক্রাইম রিপোর্টার রবিউল আলম, দৈনিক বাংলার খবরের প্রতিবেদক আকবর হোসেন, সংবাদ ২৪ ঘন্টার স্পেশাল করসপনডেন্ট মনিকা আক্তার, ফটো সাংবাদিক উর্মি আক্তার। পথে তারা চন্দ্রছড়ি এলাকা থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কাটতে দেখে তারা এ দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করেন।

এ সময় উল্লেখিতরা তাদেরকে আটক করেন। তখন তারা সাংবাদিক পরিচয় দিলে তাদের বিশ্বাস না হওয়ায় অশোভন আচরণ করেন। তারা পরিচয় পত্র দেখালেও তারা কর্ণপাত না করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে উভয়পক্ষকে থানায় নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় সন্ধ্যায় বিষয়টি সমাধান হয়।

এ বিষয়ে ওসি কামরুজ্জামান জানান, সাংবাদিকরা ছবি তোলায় বাকবিতন্ডা হয়। পরে পুলিশকে গিয়ে তাদেরকে থানায় নিয়ে আসে। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে সমাধান হওয়ায় তাদেরকে সম্মানজনকভাবে বিদায় দেয়া হয়।