নওগাঁয় তুলশীগঙ্গা নদীর খননকৃত মাটি চুরির সময় গ্রামবাসীকর্তৃক একটি ভেকু ও ৬টি ট্রাক্টর আটক

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় চলমান তুলশীগঙ্গা নদী খননের পর সেখানে জমাকৃত মাটি রাতের অন্ধকারে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামবাসী একটি ভেকু মেশিন এবং ৬টি ট্রাক্টর আটক করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে নওগাঁ পৌরসভা এলাকার খিদিরপুর মুন্সিপাড়া নামকস্থানে।

জানা গেছে, তুলশীগঙ্গা নদী খনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘটনার রাতে স্থানীয় এক বিশিষ্ট ইটভাটা মালিক এবং ঠিকাদার তাঁর ইটভাটার জন্য ভেকু এবং ট্রাক্টর দিয়ে মাটি নিয়ে যাওয়া প্রক্রিয়া শুরু করেন। ভেকু এবং ট্রাক্টরের শব্দ পেয়ে খিদিরপ্রর গ্রামের বাসিন্দারা জেগে উঠেন এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের প্রতিহত করেন।

এ সময় গ্রামবাসীরা মাটি গ্রহণের কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু মেশিন এবং ৬টি ট্রাক্টর আটক করে রাখেন। এসব ভেকু মেশিন ও ট্রাক্টর এখনও ঘটনাস্থলে রয়েছে। গ্রামবাসী এসব ট্রাক্টরের সবগুলো চাকার হাওয়া বের করে দিয়েছেন।

 

ডিএমপি গৌরবময় সেবার ৪৬ বছরে পদার্পন

গৌরবময় সেবার ৪৫ বছর আজ পেরিয়ে ৪৬ বছরে পদার্পণ করলো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মহামারি করোনার কারণে স্বল্প পরিসরে আজ (১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১) পালিত হচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৪৬তম প্রতিষ্ঠা দিবস।

‘শান্তি শপথে বলীয়ান’ এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে ডিএমপি জননিরাপত্তা বিধান ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে আসছে। বাংলাদেশ পুলিশের বৃহৎ ইউনিট ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ১৯৭৬ সাল হতে জনবহুল রাজধানী ঢাকা মহানগরের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং পেশাগত জ্ঞান অর্জনকে প্রাধান্য দিয়ে, সৃজনশীলতা এবং জনঅংশীদারিত্বকে অন্যতম কার্যকৌশল হিসেবে গ্রহণ করে বহুমাত্রিক এ নগরের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়াম, রাজারবাগে আজ সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠা দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি, প্রধান অতিথি এবং মোস্তফা কামাল উদ্দীন, সিনিয়র সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার), ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম (বার)।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৪৬তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বাণীতে তাঁরা বলেন- বাংলাদেশ পুলিশের সর্ববৃহৎ ইউনিট ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই ইউনিটের সদস্যগণ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জান-মালের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ডিএমপির সদস্যগণ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও আধুনিক প্রযু্ক্তির সমন্বয়ে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে একটি যুগোপযোগী, দক্ষ ও জনবান্ধব বাহিনীতে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাফল্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশিং, বিট পুলিশিং ও উঠান বৈঠকের মতো সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সরব উপস্থিতি পুলিশী সেবাকে নগরবাসীর দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। সুত্রঃ ডিএমপি নিউজ।

সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর চলে গেছেন না ফেরার দেশে

প্রখ্যাত সাংবাদিক ও প্রজন্ম ’৭১-এর সাবেক সভাপতি শাহীন রেজা নূর চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তিনি অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। আজ শনিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে কানাডার ভ্যাংকুভারে একটি হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

তার ভাই সাংবাদিক জাহিদ রেজা নূর জানান, শাহীন রেজা নূরের শেষ ইচ্ছা ছিল, তিনি দেশের মাটিতে শায়িত হবেন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও কানাডার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত,  সাংবাদিক শাহীন রেজা নূরের জন্ম ১৯৫৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর, মাগুরা জেলার শালিখা থানার শরশুনা গ্রামে। তার পিতা শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন এদেশের সাংবাদিকতা জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক বার্তা ও কার্যনির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর সদস্য ও তাদের এ দেশীয় দোসর আলবদর ও আল শাম্সদের সহযোগিতায় যে বুদ্ধিজীবী নিধনযজ্ঞ শুরু হয়, তার নির্মম শিকার হন সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন।

শাহীন রেজা নূরের মা বেগম নূরজাহান সিরাজী ছিলেন একজন গৃহিনী। পিতা-মাতার ৮ সন্তানের মধ্যে শাহীন রেজা নূর ছিলেন দ্বিতীয়। পিতা শহীদ হওয়ার পর শাহীন রেজা নূর ১৯৭২ সালে ঢাকা বেতার কেন্দ্রে বার্তা বিভাগে অনুলিপিকারের চাকরী গ্রহণের মধ্যদিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে অনুবাদকের ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৩ সালের নভেম্বর মাসে দৈনিক ইত্তেফাকের শিক্ষানবিশ সহ-সম্পাদক পদে যোগ দেন। এরপর তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে দীর্ঘদিন বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। শাহীন রেজা নূর  ১৯৮২ সালে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক সংসদ সদস্য শামসুদ্দীন মোল্লার মেয়ে খুরশীদ জাহানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি দুই পুত্র সন্তানের জনক। স্ত্রী গৃহিনী। বড় ছেলে সৌরভ রেজা নূর ও ছোট ছেলে আবির রেজা নূর।

শাহীন রেজা নূর প্রজন্ম’৭১-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে সংগঠনের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি জোরদার করা ও মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণসহ আরও বেশকিছু বিষয়। শিক্ষার প্রসার ঘটানের জন্য শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চ নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া সাবেক ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতি, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামসহ আরও অনেক সংগঠনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সমকালীন বিষয়ের উপর ‘সময়ের সংলাপ’ নামক একটি টকশো অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের আওতায় ১৯৭১ সালের নৃশংস বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের বিচার কাজে একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।

 

 

নবনির্বাচিত ৪ পৌর মেয়রের মন্ত্রী সাহাব উদ্দিনের সাথে সৌজন্যে সাক্ষাত

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার নবনির্বাচিত ৪ মেয়রেরা বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করেছেন।

গতকাল শুক্রবার মন্ত্রীর বড়লেখার বাসভবনে মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমদ, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার আহমদ ও বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবু ইমাম মোহাম্মদ কামরান এ সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। মেয়রদের সঙ্গে নির্বাচিত কাউন্সিলরবৃন্দও ছিলেন। সাক্ষাতের প্রথমেই মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান মেয়রবৃন্দ।

সাক্ষাতে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন আহমেদ মেয়রদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান সরকার জনকল্যান মুখী। জলবায়ু পরিবর্তনে সরকারের পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করতে পৌরসভার মেয়রদের কাজ করতে হবে। এতে সরকারের সকল ধরনের সহযোগিতা রয়েছে।

এ সময় পৌরসভার মেয়রগন প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনীত হয়ে সরকারের সকল উন্নয়নে আরও অবদান রাখতে তারা বদ্ধ পরিকর।

মেয়রগন জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প পৌরসভাগুলোতে অন্তর্ভূক্ত করতে মন্ত্রীর সাহায্য,  সহযোগিতা কামনা করেন।জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে তৃনমুল পর্যায়ে কাজ করার জন্য বলেন।

এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ স্থানীয় পর্যায়ের সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

তদন্তাধীন মামলা দ্রত নিষ্পত্তির নির্দেশ এসএমপি কমিশনারের

মো আমিন আহমেদ, সিলেটঃ তদন্তাধীন মামলাসমূহ দ্রত নিষ্পত্তির জন্য সকল থানার অফিসার ইনচার্জদের নির্দেশ প্রদান করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ। এসময় তিনি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখা উপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সর্বদা তৎপর থাকার জন্য নির্দেশনা দেন।

গেল বৃহস্পতিবার এসএমপি’র সদর দপ্তরের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ সভায় এমন নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ তাদের থানা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরলে পুলিশের সেবা সমূহ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সকলকে নির্দেশনাও দেন তিনি। অপরাধ সভায় জানুয়ারি মাসে ভালো কাজের জন্য শ্রেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম ঘোষণা করেন এসএমপি কমিশনার নিশারুল আরিফ।

জানুয়ারি মাসে এসএমপির শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার হয়েছেন জালালাবাদ থানার এসি নির্মলেন্দু চক্রবর্তী, শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক হয়েছেন জালালাবাদ থানার (অফিসার ইনচার্জ) নাজমুল হুদা খান, শ্রেষ্ঠ পরোয়ানা তামিলকারী অফিসার হয়েছেন দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই স্নেহাশীষ পৈত্য ও কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই মো. সাজ্জাদুর রহমান, শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার হয়েছেন শাহপরান (রহ.) থানার এসআই সারোয়ার হোসনে ভূঁইয়া, শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক অফিসার হয়েছেন সার্জেন্ট নুরুল আফসার ভূঁইয়া এবং শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা অফিসার হয়েছেন এসএমপির গোয়েন্দা বিভাগের এসআই সৌমেন দাস।

পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন- এসএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) তোফায়েল আহমদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. সোহেল রেজা পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সঞ্জয় সরকার, উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. জাবেদুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) ইমাম মুহাম্মদ শাদীদ, র‌্যাব ৯ এর প্রতিনিধি, পি.বি.আই সিলেটের প্রতিনিধি, হাইওয়ে পুলিশের প্রতিনিধি, ট্যুারিস্ট পুলিশের প্রতিনিধি, রেলওয়ে থানা পুলিশের প্রতিনিধিসহ সকল অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার ও সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ।

এর আগে সকাল ১১টায় এসএমপি’র পুলিশ লাইন্সে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কল্যাণ সভায় পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থেকে সকল পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ সংক্রান্ত বিষয়ে মতামত গ্রহণ করে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

এসময় তিনি বিগত মাসে পুলিশি কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সকলকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া সকল পুলিশ সদস্যদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

নিজের পিতা-মাতার প্রতি খেয়াল রাখা এবং সকল পুলিশ সদস্যদের করোনার ভ্যাকসিন গ্রহনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন- প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে আরো সতর্কতা অবলম্বন করে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।

ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস

ভালবাসা। ছোট্ট একটি শব্দ হলেও এর অর্থ কিন্তু অনেক অনেক বেশি। এই ছোট্ট একটি শব্দই পুরো দুনিয়াকে পালটে দিতে এক নিমিষেই। আর এই শব্দটির জন্য পুরো বিশ্ব জুড়েই পালন করা হয় একটি দিবস। ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালবাসা দিবস। বিশ্বজুড়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি উদযাপন করা হয়। তবে এ দিনটির পেছনেও রয়েছে এক বিশাল ইতিহাস। তা হয়ত আমরা অনেকেই জানি না। যদি জানতাম তাহলে ১৪ ই ফেব্রুয়ারী আমরা পালন করতাম না, যদি জানতাম তাহলে আমরা কেউ প্রেমিকাকে নিয়ে পার্কে যেতাম না।

জেনে নেওয়া দরকার দিনটির ইতিহাস সম্পর্কে। আসলে কেন পালন করা হয় ১৪ ফেব্রুয়ারী। ২৬৯ সালে  ইতালির রোম  নগরীতে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’স নামে একজন খৃষ্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ছিলেন। ধর্ম প্রচারের অভিযোগে তৎকালীন রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস তাকে বন্দী করেন। কারণ তখন রোমান সাম্রাজ্যে খৃষ্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। বন্দী অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। এতে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। আর তাই তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারি ছিল। অতঃপর ৪৯৬ সালে পোপ সেন্ট জেলাসিউও ১ম জুলিয়াস ভ্যালেন্টাইন’স স্মরণে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন’ দিবস ঘোষণা করেন।

খৃষ্টানজগতে পাদ্রী-সাধু সন্তানদের স্মরণ ও কর্মের জন্য এ ধরনের অনেক দিবস রয়েছে। যেমন: ২৩ এপ্রিল – সেন্ট জজ ডে, ১১ নভেম্বর – সেন্ট মার্টিন ডে, ২৪ আগস্ট – সেন্ট বার্থোলোমিজম ডে, ১ নভেম্বর- আল সেইন্টম ডে, ৩০ নভেম্বর – সেন্ট এন্ড্রু ডে, ১৭ মার্চ – সেন্ট প্যাট্রিক ডে। পাশ্চাত্যের ক্ষেত্রে জন্মদিনের উৎসব, ধর্মোৎসব সবক্ষেত্রেই ভোগের বিষয়টি মুখ্য। তাই গির্জাঅভ্যন্তরেও মদ্যপানে তারা কসুর করে না। খৃস্টীয় এই ভ্যালেন্টাইন দিবসের চেতনা বিনষ্ট হওয়ায় ১৭৭৬ সালে  ফ্রান্স  সরকার কর্তৃক ভ্যালেইটাইন উৎসব নিষিদ্ধ করা হয়। ইংল্যান্ডে ক্ষমতাসীন পিউরিটানরাও একসময় প্রশাসনিকভাবে এ দিবস উদযাপন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

এছাড়া অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানিতে বিভিন্ন সময়ে এ দিবস প্রত্যাখ্যাত হয়। সম্প্রতি পাকিস্তানেও  ২০১৭ সালে ইসলাম বিরোধী হওয়ায় ভ্যালেন্টাইন উৎসব নিষিদ্ধ করে সে দেশের আদালত। বর্তমানকালে, পাশ্চাত্যে এ উৎসব মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়। যুক্তরাজ্যে মোট জনসংখ্যার অর্ধেক প্রায় ১০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় করে এই ভালোবাসা দিবসের জন্য কার্ড, ফুল, চকোলেট, অন্যান্য উপহারসামগ্রী ও শুভেচ্ছা কার্ড ক্রয় করে এবং আনুমানিক প্রায় ২.৫ কোটি শুভেচ্ছা কার্ড আদান-প্রদান করা হয়।

 

সাকিব আল হাসান রুবেল

গণমাধ্যম কর্মী, রৌমারী- কুড়িগ্রাম।

 

 

বেনাপোল স্টাফ এসোসিয়েশনের বার্ষিক ক্রিকেট টুর্ণামেন্টে বিজয়ী কার্গো শাখা

মোঃ লোকমান হোসেন, যশোর প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল সিএন্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন বার্ষিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২১ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজয়ী হয়েছেন কার্গো শাখা ক্রিকেট একাদশ।

শুক্রবার(১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার সময় ঐতিহ্যবাহী বেনাপোল ফুটবল মাঠ প্রাঙ্গনে লটারির মাধ্যমে এ খেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ মফিজুর রহমান সজন।
উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শত শত ক্রিকেটপ্রেমীরা খেলাটি উপভোগ করেন।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও  সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমানের সঞ্চালনায় এ ক্রিকেট টুর্ণামেন্টে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আলহাজ্ব শামসুর রহমান (সাবেক সভাপতি বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যসোসিয়েশন), এমদাদুল হক লতা (সাধারণ সম্পাদক বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন)।
বেনাপোল সিএন্ডএফ স্টাফ এসোসিয়েশনের চারটি শাখা খেলায় অংশ গ্রহণ করেন। শাখাগুলো হলো, শুল্কায়ন শাখা, ব্যাংক শাখা, ডেলিভারি শাখা ও কার্গো শাখা।
খেলার প্রথম রাউন্ডে শুল্কায়ন শাখা ও ডেলিভারি শাখা এবং ব্যাংক শাখা ও কার্গো শাখা একে অপরের মুখোমুখি হয়।
প্রথম রাউন্ডের প্রথম খেলায় শুল্কায়ন শাখা ডেলিভারি শাখাকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায়। এবং প্রথম রাউন্ডের দ্বিতীয় খেলায় কার্গো শাখা ব্যাংক শাখাকে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসাবে ফাইনালে পৌঁছে যায়।
ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১২ ওভারে কার্গো শাখা ১৩২ রান করে। উক্ত রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুল্কায়ন শাখা ১১২ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে ফাইনাল ম্যাচে কার্গো শাখাকে জয়ী হিসাবে ঘোষণা করা হয় ও তাদের হাতে পুরুষ্কার তুলে দেওয়া হয়।

তামিম রিসোর্টে গোপনে দম্পতির অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণ করে টাকা দাবী ও হুমকি প্রদান

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার সংবাদদাতাঃ মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থেকে পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসা দম্পতির অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণ করে ব্লাকমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবী করে আসছিল ওই রিসোর্টের দুই কর্মচারী।

তারা সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার চড়িপারা এলাকার আবুল কালামের ছেলে রেজোয়ান (২৩) ও শহরের বিরাইমপুর এলাকার মৃত শফিক মিয়ার ছেলে খালেদ মিয়া (২৭) বলে জানা যায়।

মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গলে তামিম রিসোর্টের দুই সাবেক কর্মচারীকে গোপনে ছবি ভিডিও ধারণ করে তা প্রকাশের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবী প্রদানের বিরুদ্ধে  শ্রীমঙ্গল থানায় গত ১০,০২,২১ইং তারিখে ৮(১)/৮(২) ২০১২ইং ধারায় মামলা নং-১৪, এর  প্রেক্ষিতে শ্রীমঙ্গল পুলিশের একটি টিম সিলেটের কানাইঘাট ও শ্রীমঙ্গলে অভিযান চালিয়ে রিসোর্টে গোপনে ছবি ও ভিডিও ধারণের মুল হোতা ম্যানেজার রেজওয়ান ও তার সহযোগী খালেদকে ছবি-ভিডিও’র  মোবাইলসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আটকের পর স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলেও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণ ও মামলার সুত্রে জানা যায়,জেলার কুলাউড়া উপজেলার জনৈক রিয়াজউদ্দিন বিবাহের কিছুদিন পর স্ত্রীকে নিয়ে হানিমুনের ইচ্ছা করলে পূর্ব পরিচিত একজনের তথ্য  অনুযায়ী তামিম রিসোর্ট ইসবপুর গত ২৯,০৭,২০২০ইং তারিখে নিজ স্ত্রীকে নিয়ে তামিম রিসোর্টে অবস্থান করেন এবং পারিবারিক প্রয়োজনে একই দিনে সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
পরবর্তীতে গত ১৪,১০,২০২০ইং তারিখ সকালে একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে ফেইক ইমুর মাধ্যমে কল করে তার কাছে টাকা দাবি করে ও হুমকি প্রদান করে এবং বলে -তাদের কাছে তার (বাদী ও তার স্ত্রীর ) নোংরা ছবি এবং ভিডিও হয়েছে। পরবর্তীতে  নাদীরা রুমী নামক আইডির মেসেঞ্জারে বাদীর নিকট তার নিজের ও তার স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি প্রেরণ করেন। চাঁদাবাজদের হুমকি ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে এবং তাদের কথায় চলতে হবে,তা না করলে গোপনে ধারণ করা স্বামী-স্ত্রীর ছবি প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
চাঁদাবাজরা বাদীর এবং বাদীর বন্ধুদের আইডির বিভিন্ন কমেন্টে গোপন ছবি গুলো পোস্ট করতে থাকলে চাঁদা দিতে বাধ্য হলে ০১৮৬৩ ৪৮১২২২ থেকে ইমুতে কল করে  ১৯,০১,২০২১ইং তারিখে  ০১৭৯৯৭৩৮৩৮০ বিকাশ নাম্বার প্রদান করিয়া উক্ত নাম্বারে টাকা পাঠানোর জন্য হুমকি দিতে থাকে নাদিরা আক্তার রুমি নামের ফেইসবুক আইডি, নাদিরা আক্তার রুমি নামের ইমু,হারুন মিয়া (৩৩),জীবন মিয়া (৩২) রিংকু দাস (২৫),শাহিন মিয়া (২৭) সর্ব সাং তামিম রিসোর্ট শ্রীমঙ্গলকে উল্লেখ করে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা দায়ের করে।
অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গল থানার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এসআই আল আমিন এর নেতৃত্বে আসাদুর রহমান,এসআই তীথঙ্করসহ পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে ফেইক আইডির এডমিন মামলার প্রধান আসামি তৎকালীন তামিম রিসোর্টের ম্যানেজার রেজওয়ান পিতা আবুল কালাম, সাং চরুইপাড়,কানাইঘাটকে গ্রেপ্তার করে এবং তার দেওয়া তথ্যমতে সহযোগী খালেদ (২৭) পিতাঃ মৃত শফিক মিয়া বিরাহিমপুর শ্রীমঙ্গলকে তার নানা বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের গ্রেপ্তারে তামিম রিসোর্টের মালিক পক্ষ যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন বলে জানান মামলার তদন্তকারী এস আই আল আমীন।
উল্লেখ্য, খালেদ তার নানার বাড়িতে বসবাস করে তবে তার জন্মস্থান কুলাউড়া এলাকায়। গ্রেপ্তারকৃতদের থেকে উদ্ধারকৃত মোবাইল সিআইডিতে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা আবাসিক হোটেল অভিতে অসামাজিক কার্যকলাপ থামছেই না

মো আমিন আহমেদ, সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকার ভার্থখলাস্থ আবাসিক হোটেল অভিতে দেহব্যবসা থামছেই না। গত সপ্তাহের বুধবার আবারো অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকায় ৩ মহিলা ও ৬ পুরুষকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। দক্ষিণ সুরমা থানার অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভপুর থানার বাঘবের, লতারগাও এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে কামাল হোসেন (৩০), জৈন্তাপুরের গুচ্চগ্রামের আব্দুল সবুরের ছেলে ফখরুল ইসলাম (২৪), মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী থানার বদিটিল্লা এলাকার মৃত সুনু মিয়ার ছেলে ফারুক আহমদ (৪৫), দোয়ারাবাজার থানার মান্নারগাঁওয়ের মৃত গেদা মিয়রে ছেলে জয়নাল মিয়া (৩০), দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার পাগলা এলাকার আসাদ মিয়ার ছেলে হাসান (২২), সুনামগঞ্জ সদর থানার নবীনগর গ্রামের সুরেশের ছেলে শ্রী শ্যামল (৪০) সহ আরও তিন নারীকে গ্রেফতার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ মো.মনিরুল ইসলাম বলেন, আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। আর আবাসিক হোটেলের উপর কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ভার্থখলাস্থ একই আবাসিক হোটেল থেকে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা ৭ নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করে ছিল পুলিশ।

ফেনীতে মহাসড়কের জায়গা দখল ও আইন ভঙ্গ করে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ভবনের নকশা অনুমোদন

ফেনী প্রতিনিধিঃ মহাসড়কের জায়গা দখল ও মহাসড়ক আইন ২০১৮এর ৩৭নং ধারা ভঙ্গ করায় জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালককে উক্ত ধারা লঙ্ঘনের দায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সওজ’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একটি চিঠি দিয়েছেন। গত ৪জানুয়ারি তিনি এ চিঠি দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ফেনী সড়ক বিভাগাধীন (মোহাম্মদ আলী বাজার-ছাগলনাইয়া-করেরহাট সড়ক, জেড-১০৩১) এর ৪র্থ কিলোমিটার ৭২নং উত্তর শিবপুর মৌজার দাগ নং-৯৩৭ এর পার্শ্ববর্তী দাগ নং -৯৩৬ এর অর্থাৎ ফেনী শহরের সালাহউদ্দিন  ও দেওয়ানগঞ্জ মোড়ের মধ্যবর্তী সড়কের পূর্ব পার্শ্বে জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। যা সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ৩৭নং ধারা লঙ্ঘনের শামিল।
উক্ত অফিসটি নির্মাণের ক্ষেত্রে সড়ক আইনের কোন রূপ তোয়াক্কা করা হচ্ছেনা বরং সড়কের ৫ফিট জায়গা দখল করে ভবনটির নকশা অনুমোদন করা হয়েছে। কিন্তু মহাসড়ক আইন ২০১৮এর ৩৭নং ধারা অনুসারে মহাসড়কের পাশে ১০মিটার তথা ৩৩ফুট জায়গা খালি রাখার আইন কার্যকর রয়েছে। অথচ জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস করার ক্ষেত্রে উক্ত আইনটি একেবারেই মানা হচ্ছেনা বরং সড়কের পাশের ড্রেনটি অতিক্রম করে সড়কের ৫ফুট জায়গা দখল করা নকশা অনুমোদন করা হয়েছে।
উক্ত ঘটনা সম্পর্কে সওজ’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী চ:দা: এফএম শামছুদ্দোহা বলেন,এই ব্যাপারে তারা অবগত আছেন এবং ইতিমধ্যে তারা পরিবার পরিকল্পনাকে আইন মেনে ভবন করতে অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উক্ত নকশা অনুসারে আইন ভঙ্গ করে ভবনটি নির্মিত হলে ভবিষ্যতে সড়কটির সম্প্রসারণ কাজ বাধাগ্রস্থ হবে এবং কোনো রূপ ফুটপাত নির্মাণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ এর পিলার স্থাপনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অন্য পিলারগুলো যেখানে সড়ক থেকে অনেক দূরে রয়েছে সেখানে উক্ত স্থানের পিলারগুলো একেবারে সড়কের পাশে স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়াও পৌরসভার যে প্রধান ড্রেনটি রয়েছে সেটি ভবনটির নিচে চলে যাওয়ার কারণে ওই স্থানে জলাবদ্ধতার সম্ভাবনা রয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়,সড়ক আইন ভঙ্গ করে অপরিকল্পিতভাবে উক্ত ভবনটি নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে যান চলাচলসহ নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হবে। এ বিষয়ে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একজন স্থানীয় ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পরিবার পরিকল্পনার সরকারি কর্মকর্তারা আইন না মানলে জনগণ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলবে, তাদের উচিৎ আইন মেনে দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা।’  এলাকাবাসি উক্ত স্থানে ভবনটি নির্মাণ না করার জোর দাবি জানায়।