র‌্যাব ৯ এর অভিযানে জিন্দাবাজার থেকে ১৮৬০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যাবসায়ী জুয়েল গ্রেফতার!

মো আমিন আহমেদ, সিলেট: সিলেটের পূর্ব জিন্দাবাজার থেকে ১৮৬০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী জুয়েল আহম্মদকে (৩১) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব- ৯।

গ্রেফতারকৃত জুয়েল শাহপরাণ থানাধীন বহর বিআইডিসি শুকুর আহম্মদের ছেলে।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে। এর আগে রবিবার (২৪ জানুয়ারি) গোপন সংবাদের  ভিত্তিতে র‌্যাব তাকে পূর্ব জিন্দাবাজার থেকে গ্রেফতার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-৯ এর এএসপি (গণমাধ্যম) ওবাইন বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে পূর্ব জিন্দাবাজার থেকে পেশাদার ইয়াবা ব্যবসায়ী জুয়েলকে গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে ১৮৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

ধুনটে বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় মোটর সাইকেল আরোহীর মৃত্যু

নুর মোহাম্মদ সম্রাট, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়ার ধুনটে বালুবাহি ট্রাকের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।  দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের জিল্লুর হো‌সে‌নের ছেলে শামীম হোসেন (১৮) ও পুর্ব কান্তনগর গ্রামের নাজিম হো‌সে‌নের ছেলে ফারাইজুল হো‌সেন (১৬)।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, র‌বিবার বি‌কেল ৫টায় খোকশাহাটা ইট ভাটায় কাজ শে‌ষে ভাটা শ্র‌মিক শামীম হো‌সেন, ফারাইজুল হো‌সেন ও ওয়া‌সিম মোটরসাই‌কেল যো‌গে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় ধুনট-সোনাহাটা সড়কের খোকশাহাটা ইটভাটা এলাকাতেই বালুবাহী এক‌টি ট্রাকের তা‌দের মোটরসাই‌কেল‌কে ধাক্কা দেয়। এ‌তে তিনজন মোটরসাইকেল আরোহী (শ্রমিক) আহত হোন।
প‌রে স্থানীয়রা তা‌দের উদ্ধার ক‌রে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ক‌রে। সেখা‌নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৭টায় ফারাইজুল ও শামীমের মৃত্যু হয়।
ধুনট থানার অ‌ফিসার ইনচার্জ (ও‌সি) কৃপা সিন্ধু বালা এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ট্রা‌কের ধাক্কায় দুইজন ইট ভাটা শ্র‌মি‌কের মৃত্যু হ‌য়ে‌ছে। ময়না তদন্ত শে‌ষে গতকাল সোমবার মৃত‌দেহ স্বজন‌দের কা‌ছে বু‌ঝি‌য়ে দেওয়া হয়েছে।

রাণীশংকৈলে সচেতনতামূলক বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় সচেতনতামূলক বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ উপলক্ষে ২৫ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে নেকমরদ ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রানিশংকেল থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম জাহিদ ইকবাল।
আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ সেখসহ থানার অন্যান্য অফিসারবৃন্দ । এ ছাড়াও রাজনৈতিক-সামাজিক ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয দুই শতাধিক নারী-পুরুষ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন ।
উঠান বৈঠকে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব, মিথ্যা প্রচার, সাইবার বুলিং, কিশোর গ্যাং, নারীর প্রতি ডিজিটাল ভায়োলেন্স, মাদক বিরোধী প্রচারণা, বাল্য বিবাহ রোধ, ধর্ষণ, জঙ্গি, সড়ক দূর্ঘটনা, সাইবার অপরাধ ও সম্প্রতি করোনা ভাইরাস সংক্রান্তে সচেতনতা মূলক ও আইন শৃংখলা বিষয়ে দিক নির্দেশনামূলক এবং সকলকে সচেতন হয়ার ব্যপারে বক্তব্য দেওয়া হয় ।
পরে উপস্থিত জনসাধারণের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে সাথে সাথে সমাধান ও আইনগত পরাপর্শ দেন ওসি এসএম জাহিদ ইকবাল।

হাইকোর্টে ক্ষমা চেয়ে যা বললেন কুষ্টিয়ার সেই এসপি তানভীর

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম তানভীর আরাফাত নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই বিচারককে তিনি চিনতে পারেননি। তাই অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ভুল হবে না বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গেল রবিবার এ আবেদন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করেছেন। সোমবার তাকে সশরীরে হাইকোর্টে হাজির হতে হবে। রোববার এ আবেদনের ওপর বিচারপতি মামনুন রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

গত ১৬ জানুয়ারি ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচন চলাকালে ভেড়ামারা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন হাসানের সাথে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম তানভীর আরাফাত দুর্ব্যবহার করেন।
এ ঘটনায় পর দিন এসপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওই বিচারক নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন। এর অনুলিপি গত ১৯ জানুয়ারি আইন ও স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তরেও পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ২০ জানুয়ারি বিচারপতি মামনুন রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আসার পর আদালত এক আদেশে ওই এসপিকে তলব করেন।

গতকাল ২৫ জানুয়ারি এসপিকে হাইকোর্টে সশরীরে হাজির হয়ে বিচারকের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। একইসাথে তার বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। এ আদেশের পরই এসপি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিচার বিভাগের জন্য আমার মনে সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই বিন্দুমাত্র অসম্মান দেখানোর কথা দূরে থাক, বরং বিচার বিভাগের দেয়া কাজে নিয়োজিত হতে পারলে নিজেকে সম্মানিত বোধ করি। এ ঘটনায় আমি মনের গভীর থেকে অনুতপ্ত। আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
এছাড়া ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা স্থানীয় উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী ও তার পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে পুলিশ মহাপরিদর্শকের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের কাছে ওই প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করায় আদেশ দেন হাইকোর্ট।

প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলীকে তুলে নিয়ে তাকে থানায় আটকে রেখে তার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হাইকোর্ট গত ২১ জানুয়ারি এক আদেশে ওই প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও তার পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে আইজিপির প্রতি নির্দেশ দেন।

 

 

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে চার লেনের কাজ শুরু!

মোঃ আমিন আহমেদ, সিলেটঃ নানা জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেন প্রকল্প। আগামী একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হতে পারে। অনুমোদন পেলে এ প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তাও কেটে যাবে।

ইতোমধ্যে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নকশা চূড়ান্তের কাজ শেষ হয়েছে। প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। অর্থায়ন থাকবে সরকারেরও। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন আগামী জুলাইয়ে এ প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা নিয়ে দীর্ঘ জটিলতার অবসান ঘটেছে। পরিকল্পনা বিভাগ থেকে প্রকল্পের বেশ কিছু বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। তা চূড়ান্ত করে ইতিমধ্যে ডিপিপির চূড়ান্ত খসড়া পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তা অনুমোদনের জন্য একনেকে উঠবে।

মন্ত্রণালয়সূত্র জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করতে মূল কাজে অর্থাৎ সড়ক, সেতু, কালভার্ট, ওভারপাস, আন্ডারপাস, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণকাজে ব্যয় হবে ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। এ প্রকল্পের জন্য ৯৮৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য সরকার আলাদা করে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরুও হয়েছে। জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ইতিমধ্যে প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের জন্য সাতটি জোনের মধ্যে পাঁচটির প্রস্তাব তৈরি করেছে।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কটি সাত জেলার ওপর দিয়ে নির্মাণ হবে। এ কারণে প্রতিটি জেলাকে একটি জোন ধরে সাতটি প্রস্তাব তৈরি করে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের অর্থায়নের পুরোটাই ব্যয় হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। সড়ক বিভাগ জানায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল গত বছরের জানুয়ারিতে। কিন্তু নানা জটিলতায় ডিপিপি চূড়ান্ত করতে লম্বা সময় লেগে যায়। সড়ক ও জনপথ অধিদফতর ডিপিপি তৈরি করে তা একনেকের অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর সেখান থেকে দফায় দফায় প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয়ে আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ফেরত পাঠায়।

অবশেষে সবকিছু ঠিক করে ডিপিপির খসড়া চূড়ান্ত করে একনেকের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর সূত্র জানিয়েছেন, প্রকল্পের ডিপিপি ও নকশা আপডেটের কাজ শেষ করে এডিবির কাছে পাঠানো হলে তারা খসড়া ডিপিপির বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত দিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী একনেক বৈঠকে ডিপিপিটি উত্থাপন করা হবে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ২১০ কিলোমিটার চার লেন প্রকল্পে থাকবে মহাসড়কের দুই পাশে দুটি সার্ভিস লেন। নির্মাণ হবে ছয়টি রেল ওভারপাস। এ ছাড়া বেশ কিছু আন্ডারপাস থাকবে। মহাসড়কের দুই পাশে দেওয়া হবে বেষ্টনী। যাতে সাধারণ মানুষ, গবাদি পশু সড়কে উঠতে না পারে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া সার্ভিস লেনের কোনো যানবাহন যেন মূল সড়কে উঠতে না পারে। ইউটার্ন থাকবে নির্দিষ্ট দূরত্বে। বিশেষ করে বাজার ও আরবান এলাকায় যেখানে জনবসতি আছে সেসব স্থান চিহ্নিত করে নির্মাণ করা হবে ইউটার্ন। এ প্রথমবারের মতো দেশের কোনো মহাসড়ক নির্মাণে ব্যবহার করা হবে পলিমার মটিফাইড বিটুমিন। যার ফলে সড়ক হবে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী।

প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হবে। মোট ১৩টি প্যাকেজে প্রকল্পের পূর্তকাজ সম্পন্ন হবে। আগামী জুলাইয়ে প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে বলে আশা করছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। প্রসঙ্গত, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করতে ২০১৩-১৪ সালে এডিবি প্রথম সমীক্ষা করে। এরপর এ মহাসড়কের কাজ কারা করবে এ নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হলে এডিবি আর বেশি দূর এগোতে পারেনি। শুরুতে এডিবির সঙ্গেই কথা হচ্ছিল সরকারের। কিন্তু মধ্যে চীনের অর্থায়নে জিটুজি ভিত্তিতে এ মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার জন্য ২০১৭ সালের অক্টোবরে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। কথা ছিল ২০১৮ সালের প্রথম দিকেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। কিন্তু চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং এ প্রকল্পের জন্য যে ব্যয় প্রস্তাব করেছিল তা সওজ অধিদফতরের প্রাক্কলনের চেয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি। তাই তাদের প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয় গ্রহণ করেনি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রশি টানাটানি শুরু হলে প্রকল্পটি ঝুলে যায়।

একপর্যায়ে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্পের কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ জন্য ডিপিপি তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলেও সেখান থেকে আরও কিছু সংশোধনী চেয়ে ফেরত পাঠানো হয়। সড়ক বিভাগ তা সুবিন্যস্ত করে ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়। কিন্তু প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনে যাওয়ার পর তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী প্রকল্পটি অনেক ব্যয়বহুল উল্লেখ করে এর জন্য বাইরের কোনো অর্থায়ন পাওয়া যায় কি না দেখতে নির্দেশ দেন। এর পরপরই প্রকল্পটি পুরোপুরি ঝুলে যায়। অথচ কথা ছিল সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। এরপর এ প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে আবারও আগ্রহ দেখায় এডিবি।

 

সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কর্তৃক শ্লীলতাহানির অভিযোগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা’য় টাকা আত্মসাত ও শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরা সদর থানায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে সাতক্ষীরা জেলার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। এবং এই কর্মসূচি থেকে শ্লীলতাহানির শিকার নারী সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ঘটনা প্রসঙ্গ জানা যায় যে, আফজাল হোসেন মিঠু, পিতাঃ- বীরমুক্তিযোদ্ধা মৃত হাজী আব্দুল খালেক সরদার, ঠিকানাঃ- কাটিয়া লষ্করপাড়া’র বাসিন্দা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রইচপুরের খড়িবিলা সিটি এগ্রো কমপ্লেসের ২৫ বিঘা জমিতে শেখ জুয়েল হাসান এর সাথে একটি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন হিসাবে গড়মিল থাকায় তার সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বা চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয়।

এমতাবস্থায়, মৎস্য ঘেরের মালিকের ছেলে মৃত ঈমান আলীর পুত্র বদরুজ্জামান মামুন কে তার স্ত্রী ওয়াহিদা প্রমার সাথে পূর্বের চুক্তি বাতিল করে নতুন একটি চুক্তি করেন।

১৩-০১-২০২১ ইং তারিখে পাওনা টাকা নেওয়ার জন্য আড়ৎ যায়। এসময় ঘেরের প্রথম পক্ষ শেখ জুয়েল হাসান বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে তার দলবল নিয়ে মারতে উদ্ব্যোত হয়। আড়তের লােক এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। জুয়েল মিঠু’র স্ত্রী প্রমা’র স্পর্শকাতর স্থানে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর কিল, ঘুশি, চড়সহ প্রমার পরণের কাপড় ধরে টানাটানি করে এবং অকাট্য ভাষায় গালিগালাজ ও শ্লীলতাহানি করে।

পরবর্তিতে মােঃ সাইদুর রহমান অপু সহ অন্যান্যরা মিঠু’র স্ত্রী’কে ঐ নরপিশাচ এর হাত থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক হামলাকারীর নামে মামলা দায়েরর পরামর্শ দেন।

আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে মিঠু সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করে। কিন্তু সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আসাদুজ্জামান এজাহার টি রেকর্ড করতে বিলম্ব করে। একপর্যায়ে এজাহার টি নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এরই প্রেক্ষিতে, গত ২৪-০১-২০২১ ইং তারিখে সাতক্ষীরা সদর থানার প্রধান ফটকে বিচারের দাবিতে অবস্থান নেয় স্থানীয় সাধারণ মানুষ। তাদের একটাই দাবি কেন এই মামলা রেকর্ড করা কেন হচ্ছে না এবং কেন শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত জুয়েল এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা’য় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী সংগঠন এর মূখপাত্র জানান, এই অন্যায়ের বিচারের দাবিতে আমরা আজ সাতক্ষীরা সদর থানায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। এবং আগামীকাল সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবো। বিষয়টি নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উভয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, অনতিবিলম্বে এই বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

সবার সহযোগিতায় ৪নং পূর্বধৈইর পূর্ব ইউনিয়ন কে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ

মোঃ খোরশেদ আলম,কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা জেলা মুরাদনগর উপজেলার আসন্ন ৪নং পূর্বধৈইর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সকলের দোয়া ও সহযোগীতা চেয়েছেন মুরাদনগর উপজেলার ৪নং পূর্বধৈইর পূর্ব ইউনিয়নের হেভিওয়েট ও জনপ্রিয় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ। 

আওয়ামীলীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগ,কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ এবং তৃণমূল নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের জনগণের একটাই প্রাণের দাবি আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ কে এবার চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়।৪নং পূর্বধৈইর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদে এমন একজন জনবান্ধব নেতাকেই চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়।৪নং পূর্বধৈইর পূর্ব ইউনিয়ন কে ঢেলে সাজাতে এই এলাকার দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ এর মতো একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি কে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়।স্থানীয়রা বলছেন, আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ কে নৌকার মনোনয়ন দিলে আমরা ৪নং পূর্বধৈইর পূর্ব ইউনিয়ন বাসী সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমে নৌকার পক্ষে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।

মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ বলেন,আমি এবং আমার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগ করি। আমার নেতা আলহাজ্ব ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এমপি মহোদয় এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম.রুহুল আমিন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক দিবে আমি আশাবাদী। আমি এই নির্বাচনী এলাকায় মানুষের সুখে-দুঃখে আছি। তিনি বলেন, এই ইউনিয়নে যতজন প্রার্থী হবেন তাদের মধ্য থেকে আমি সর্বজনগ্রহণযোগ্য।

আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আর্দশে আদর্শিত হয়ে আওয়ামীলীগ করি। আর আওয়ামীলীগ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আাস্তাভাজন মানবতার ফেরিওয়ালা মুরাদনগরের মাটি ও মানুষের নেতা মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এফসিএ এর উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি।

আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এফসিএ এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম.রুহুল আমিন এর একান্ত অনুসারী ও আস্তা ভাজন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলার লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নপূরণে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভে সক্ষম হলে ৪নং পূর্বধৈইর পূর্ব ইউনিয়নকে শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অনন্য স্থানে নিয়ে যাবেন। মাদক, দূর্ণীতি, জুয়া, দারিদ্র্য মুক্ত ইউনিয়ন উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

৪নং পূর্বধৈইর পূর্ব ইউনিয়ন বাসী জানান, আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ একজন জনবান্ধব নেতা। করোনার কারণে আমরা অনেক পরিবার কর্মহীন হয়ে পরি। আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ আমাদের পাশে থেকে আমাদের কে সব সময় সাহায্য সহযোগিতা করেছেন এবং কর্মহীন অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন এবং সব সময় আমাদের খোঁজ খবর নিতেন।যে কোন সমস্যা নিয়ে আমরা আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ এর নিকটে গিয়েছি তিনি আমাদের কে সাহায্য করেছেন।তারা আরও জানান গরিব মানুষের মেয়ের বিবাহের মধ্যে টাকা পয়সা দিয়েও সাহায্য করেন তিনি এবং অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্যও সাহায্য করে থাকেন। তারা বলেন দিনে রাতে, যে কোন বিপদে আপদে ডাকলে আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা আমাদের পাশে এসে হাজির হন। তাই আমরা ৪নং পূর্বধৈইর পূর্ব ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ কে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই।

আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতির আদর্শকে বুকে লালন করে ছাত্র রাজনীতি করছেন ছাত্রজীবন থেকে।মুজিব আদর্শের সৈনিক, ড. শেখ হাসিনার রাজপথের লড়াকু সৈনিক, আলহাজ্ব ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন(এফসিএ) এমপি মহোদয়ের আস্তাভাজন আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ।

আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ এর সাথে সাম্প্রতিক এক স্বাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান,তিনি দীর্ঘদিন থেকে অত্র এলাকায় বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের সাথে, সাধারন মানুষের স্বার্থে উন্নয়ন মূলক কাজের সাথে জড়িত রয়েছেন। অনেক সময় নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী গরিব দুঃখী মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন। তিনি মনে করেন, রাজনীতিতে ভিন্ন মতাদর্শ থাকতে পারে কিন্তুু উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমার মূল উদ্দেশ্য জনগনের সেবা করা।

এমন লক্ষকে সামনে রেখেই নির্বাচনীয় প্রচারনা চালাচ্ছে এই চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ।তিনি আরো জানান, চেয়ারম্যান হলে ইউনিয়নের রাস্তা ঘাট উন্নয়ন, মাদক মুক্ত, সামাজিক উন্নয়ন সহ অবহেলিত মানুষের পাশে সব সময় থাকবেন।স্থানীয় এলাকাবাসীর অনেকেই বলেন, অত্যন্ত আস্থাভাজন ও তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হিসেবে আলহাজ্ব কাজী কায়কোবাদ কে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসাব দেখতে চায়।সাধারণ মানুষের মধ্যে তার যে জনপ্রিয়তা রয়েছে তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলে তার বিজয়ী হওয়া প্রায় সুনিশ্চিত।

নির্বাচনীয় প্রতিচ্ছুতি মাদকমুক্ত একটি আধুনিক পরিকল্পিত শিক্ষাবান্ধব ইউনিয়ন জনগণকে উপহার দেবেন, একটি মডেল ইউনিয়ন গড়ে তুলতে অঙ্গীকার বদ্ধ। অসহায় মানুষের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে তাদের কষ্ট এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা গরীব- ধনীর তারতম্য খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করবেন। যদি তিনি সুযোগ পান বিশেষ করে সমাজের অসচ্ছল অসহায় গরিব, বিধবা, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কাজ করবেন। গরীব-ধনির ভেদাভেদ কে সমাজ থেকে বিলুপ্ত করার লক্ষ্যে কাজ করবেন।

 

রাণীশংকৈলে রাইস ট্রান্স প্লান্টার মেশিনে ধানের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ করনাইট দীঘিয়া ব্লকে ২৫ জানুয়ারি সোমবার সকালে ১৪ জন কৃষকের ১৫০ বিঘা জমিতে  রাইস ট্রান্স প্লান্টার মেশিনের দ্বারা ধানের চারা রোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।

এ উপলক্ষে কৃষি অফিসের আয়োজনে এদিন দিঘিয়া ব্লকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিফ’র সভাপতিত্বে চারা রোপন কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না, ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক ও আব্দুর রহিম, কৃষি অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ ঐ ব্লকের প্রায় দুই শতাধিক কৃষক-কৃষাণী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, রাণীশংকৈল কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সঞ্জয় দেবনাথ।

তিনি বলেন,প্রান্তিক কৃষকদের লাভবান করে তুলতে এবং সরকারের এই মহোতি উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বিভিন্ন কৃষি প্রদর্শনীর মাধ্যমে । তারই অংশ হিসেবে ২০২০-২০২১ রবি মৌসুমের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সমতলে চাষাবাদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাইব্রিড বোরো ধানের চারা রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের দ্বারা চারা রোপন কার্যক্রমের মাধ্যমে উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের লাভবান করে তুলতে এ প্রদর্শনীর কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছ ।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে,এ প্রদর্শনীতে প্রণোদনা হিসেবে ১২ লক্ষ ২১ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে যা ধান রোপণ থেকে ধান কাটা পর্যন্ত। শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধি,  সময় মত কৃষি কাজ সম্পাদন, পণ্যের উৎপাদন খরচ কমানোর অপচয় রোধ, শ্রমিকদের কায়িকশ্রম লাঘব, শ্রমিকের অভাব পুরণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সর্বোপরি কৃষিকে আধুনিক ও আকর্ষণীয় পেশায় পরিণত করার জন্য কৃষিতে লাগসই যান্ত্রিকায়ন ব্যবস্থাপনা সৃষ্টি করায় এ প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানান।

কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ জানান, ইতোমধ্যে এ প্রদর্শনীতে মোট বরাদ্দের একর প্রতি কৃষকের জমিতে ১০০ কেজি ইউরিয়া ৪৫ কেজি ডেপ, ৫০ কেজি পটাশ ৪৫ কেজি জিপসাম ও ৪ কেজি দস্তা সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকেরা অনেক লাভবান হবেন।

বাবার যৌন হয়রানি থেকে বাঁচতে আদালতে দুই মেয়ে, মিলছে না বিচার

বিশেষ প্রতিনিধি, আমিন আহমেদঃ নুরজাহান (২০) ও মেহেরজান (দুটোই ছদ্মনাম) একই মায়ের পেটের দুই বোন। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মায়ের কাছেই শৈশব কাটে। বহুকষ্টে পড়ার খরচ চালিয়ে দুই বোনকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ‍উঠিয়েছেন মা। এরপর পড়ার তাগিদে বাধ্য হয়ে তারা ওঠে বাবার নতুন সংসারে। চোখে স্বপ্ন, এবার পড়াশোনাটা চালিয়ে যেতে পারবে অন্তত। কিন্তু বিধিবাম! নিজের বাবার কারণেই এখন সবচেয়ে অনিরাপদ তারা। বাবার বিরুদ্ধেই করতে হলো মামলা। তাতেও কাজ হয়নি। বাবা আছেন নিশ্চিন্তে। অন্যদিকে, মামলা করে উল্টো দুই বোনকেই এখন আদালতে হাজির হতে হচ্ছে নিয়মিত।

রাজধানী তেজগাঁওয়ের পূর্ব রাজারবাজার এলাকার ওমর ফারুক (৬০) পেশায় একজন দলিল লেখক। মেয়েরা শিশুবয়সী থাকেতই তাদের মায়ের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে ওমর ফারুকের। এরপর মায়ের কাছে নানাবাড়িতে বড় হয় নুরজাহান ও মেহেরজান। আত্মীয়দের দেওয়া সহযোগিতায় দুই মেয়ের পড়াশোনা চালিয়েছেন মা। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে এখন একজন পড়ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে। অন্যজন ইংরেজিতে অনার্স পড়ছে।

স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ সত্ত্বেও মাঝে মাঝে নোয়াখালীতে গিয়ে দুই মেয়েকে কিছু টাকা দিয়ে আসতেন ওমর ফারুক। বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার পর দুই বোন রাজধানীর ফার্মগেটের একটি বাসায় বাড়া থাকতে শুরু করে। এসময় বাবার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তাদের। পড়াশোনার খরচ চালাবেন বলে ২০২০ সালের লকডাউনের মধ্যে দুই মেয়েকে নিজ বাসায় উঠতে বলেন ওমর ফারুক। একই বছরের আগস্টে সৎ মায়ের সংসারে আশ্রয় নেয় ওমর ফারুকের দুই মেয়ে।

বাবার নতুন সংসারে প্রথম কয়েকদিন খুব স্বাচ্ছ্যন্দেই কাটছিল দুই বোনের। কিছুদিন যেতেই বাবার আচরণ দুই বোনের কাছে আপত্তিকর ঠেকতে থাকে। দুই বোনের অভিযোগ- ওমর ফারুক তার মোবাইলে লাউডস্পিকার দিয়ে পর্নো ভিডিও দেখতেন এবং তাদের অনৈতিক ইশারা-ইঙ্গিত করতেন। তাই বাধ্য হয়েই বাবাকে সতর্ক করেন বড় মেয়ে। জবাবে ওমর ফারুক তার বড় মেয়েকে বলেন- ‘তোরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িস আর এসব বুঝিস না?’

এসব ঘটনা দুই বোন তাদের ফুপুদের জানায়। বিষয়টি ‘সহ্য করতে’ এবং ‘পরে সব মিটমাট হবে’ বলে আশ্বাস দেন তারা। যে কারণে নিজের মাকেও কিছু জানায়নি দুই বোন।

এদিকে ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর বড় মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি চাইলে ওমর ফারুক জানান, ‘আমি যে টাকা দেবো, তাতে আমার লাভ কী? তোমরা আমার কাছে আসো, আমি সব দেবো।’ এরপর ওমর ফারুক তার বড় মেয়েকে বলে, ‘আমার সঙ্গে ফ্রি হও, যা করতে বলি তাই করো, তোমার কোনও অভাব রাখবো না। তোমার নামে ফ্লাট লিখে দেবো। কাছে না আসলে কিছুই দিতে পারবো না।’

ঘটনার শিকার ছোট বোন বলেন, ‘বাবা হয়েও মানুষ কিভাবে এসব কথা বলতে পারে! তার (ওমর ফারুক) কথা শোনার পর বড় আপা আত্মহত্যা করতে গিয়েছিল একবার। আমি তাকে রক্ষা করতে গিয়ে সব জানতে পারি। এরপর তাকে (ওমর ফারুক) পুলিশের ভয় দেখালে কয়েকদিন আপাকে আর বিরক্ত করেনি।’

সেদিনের ঘটনার কয়েকদিন পর ওমর ফারুক আবার বলেন, ‘তোর মায়ের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। তাই তোরা আমার জন্য বৈধ।’

বড় বোন বলেন, “ততদিনে ফুপুরাও আমাদের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছিলেন। তার (ওমর ফারুক) সঙ্গে মিলিয়ে আমাদের নিয়ে অনেক কুৎসাও তারা রটিয়েছেন। এসব কথা বললেও কেউ বিশ্বাস করবে না জানি। তাই শেষ দিকে তার কিছু অনৈতিক আচরণের কথা রেকর্ড করেছি। যা প্রমাণ হিসেবে আমাদের কাছে আছে। ফুপারা কিন্তু অনেক ভালো। কিন্তু কাউকে কিছু জানাতে দেয়নি ফুপুরা। ঘটনার মীমাংসার কথা বলে বাবা আর আমাদের নিয়ে দরজা বন্ধ করে আলোচনাও করেছেন তারা। তখন বাবা বলেছে, আমরা নাকি তার সম্পত্তি নেওয়ার পরিকল্পনা করে এখানে এসেছি। এ কথা বলে কয়েকবার মারতেও এসেছে। তখন ফুপুরা বলেছে- ‘ভাই, দোষ আপনার না, ওদেরও (দুই বোন) না। দোষ হলো শয়তানের।’ এরপর জোর করে আমাদের দুই বোনের কাছ থেকে সাদা কাগজে সই নেন তারা। সবার আচরণ দেখে প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলাম। তাই বাধ্য হয়ে সেদিন দুই বোন ওই বাসা থেকে বেরিয়ে আবার ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করি।”

বাসা থেকে বেরিয়েও নিস্তার মেলেনি। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ওমর ফারুক প্রায় রাত ১২টার সময় নুরজাহানকে ফোন করে বলেন, ‘আমাকে কিছু দিলি না। এখন বাঁচবি কী করে?’

ফলে নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে মাকে সব খুলে বলে দুই বোন। এরপর নিজেদের নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন ব্যয়ভার গোছাতে না পেরে আশ্রয় নেন এক নিকটাত্মীয়ের বাসায়। একইসঙ্গে ফোনে পাওয়া হুমকি, লোকলজ্জা, আর্থিক, যৌন ও মানসিক অত্যাচারের শিকার দুই বোন দ্বারস্থ হন আদালতের। বড়বোন বাদি হয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পারিবারিক সুরক্ষা আইনের ৩, ৭, ১১ ও ১৩ ধারায় ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় দুই বোনের ভরণপোষণের খরচ প্রদানের পাশাপাশি ওমর ফারুক যেন তাদের মানসিক ও যৌন অত্যাচার এবং অশ্লীল প্রস্তাব দিতে না পারে সেজন্য তার গ্রেফতার চেয়ে আদালতের কাছে আরজি জানানো হয়।

দুই বোনের আইনজীবী ইমরুল হাসান বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর ওমর ফারুককে শোকজ করেছেন আদালত। কিন্তু কয়েকদফা তারিখ পড়লেও এখন পর্যন্ত তিনি আদালতে হাজির হননি। উক্ত আইনের ১১(২) ধারা বিধান অনুসারে সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে মামলার তারিখ নির্ধারণ করতে হয়। অথচ আইনের সুস্পষ্ট বিধান সত্ত্বেও আদালত কোনওরকম অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ না দিয়ে মামলাটি শুনতে দীর্ঘদিন পর পর দিন নির্ধারণ করছেন। তাই মেয়ে দুটোকেও নিরুপায় হয়ে বারবার আদালতে হাজির হতে হচ্ছে।’

দুই বোন জানায়, ‘জীবনটা জলে থেকে কুমিরের সঙ্গে বসবাসের মতো লাগছে। প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এর মধ্যেই বারবার আদালতে হাজির হতে হচ্ছে। জানি না কবে ন্যায়বিচার পাবো।’

ঘটনা সম্পর্কে জানতে ওমর ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এর মেয়রের প্রচারনায় চলচিত্র তারকারা

রবিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে এই প্রচারানা শুরু হয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নৌকায় ভোট চেয়ে প্রচারণায় নেমেছেন অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ চলচ্চিত্র জগতের বেশ কিছু তারকারা এই প্রচারনায় অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়িকা অরুণা বিম্বাস, চিত্রনায়ক রিয়াজ, নাট্য অভিনেতা মীর সাব্বির, তারিন, বিজরী বরকতউল্লাহ, তানভিন সুইটি, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, অপু বিশ্বাস ও চিত্রনায়ক সায়মন সাদেক। তারকা শিল্পীদের এই দলটি সারাদিন চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন আসনে প্রচারণা চালাবেন। এদিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে শিল্পীদের প্রচারণা দেখতে কৌতুহলী মানুষের ভীড় জমে। প্রচারণায় অংশ নিয়ে তারকা শিল্পীরা উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ও সংস্কৃতি সুস্থ ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান।
রেজাউল করিম জানান, আগামীকালও আমাদের নির্বাচনী প্রচারণা চলবে। আগামীকাল প্রচারণায় আমাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস, পূর্ণিমাসহ অনেকেই।