রেজাউল-শাহাদাত এর নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষনা

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) চট্গ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কে সামনে রেখে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষনা করলেন আওয়ামী লীগ এর মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী এম রেজাউল করিম ও বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে এম রেজাউল করিম এশতাহারের ঘোষনা করেন। ইশতেহারে রেজাউল করিম চৌধুরী নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নালা-খাল-নদী থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ মোট ৩৭টি প্রতিশ্রুতি দেন।

রেজাউলের ইশতেহারের ঘোষনার কিছুক্ষন পরেই নগরীর জামালখানের একটি রেস্টুরেন্টে ইশতেহার ঘোষনা করেন ডা. শাহাদাত । ডা. শাহাদাতের প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম, স্বাস্থ্যকর চট্টগ্রাম, শিক্ষাবান্ধব চট্টগ্রাম, গৃহ কর ও আবাসন সুবিধা, পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম, নিরাপদ চট্টগ্রাম, সাম্য-সম্প্রীতির চট্টগ্রাম, নান্দনিক পর্যটন নগর এবং তথ্যপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম গড়া। এ সময় তিনি বলেন- চট্টগ্রাম মহানগর একটি পাহাড়, সাগর ও নদী পরিবেষ্টিত শহর। পাহাড় হতে বৃষ্টির পানি বিভিন্ন খাল হয়ে শহরের মধ্য দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়। অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি মাটি পড়ে খাল ও নালা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও বর্জ্য অব্যবস্থাপনার কারণে তা খালে গিয়ে পড়ে। যা নিরসনে বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

ডা. শাহাদাত বলেন, জলাবদ্ধতা মুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে শহরের মধ্যে প্রবাহিত খাল উদ্ধার করে তা পানি চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং খালের উভয় পাশ রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করা হবে। প্রতি বছর বর্ষার আগে শহরের সমস্ত খাল, নালা-নর্দমা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারসহ পানি চলাচলের উপযুক্ত করে শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন করবো। তিনি বলেন, নাগরিকদের যাতায়াত সুবিধার জন্য পরিকল্পিত স্মার্ট নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা করে আয়বর্ধক প্রকল্প বৃদ্ধিসহ বাস স্টপ নির্মাণ করা হবে। বন্ধ প্রতিষ্ঠানসমূহ চালু ও লাভজনক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বায়ু দূষণ রোধে ইলেকট্রিক বাস সার্ভিস চালু করা হবে। নগরীতে অবস্থিত দিঘি ও লেক সমূহকে পর্যটন স্পটে পরিণত করা হবে। এছাড়া নগরবাসীর জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন বাস্তবভিত্তিক দৃষ্টিনন্দন উন্মুক্ত পার্ক নির্মাণ করা হবে।

চসিক নির্বাচনে থাকবে না কোন সাধারন ছুটি

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি থাকবে না”।

চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের, আইডিই প্রকল্প পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবুল কাসেম মো. ফজলুল কাদের, নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান।  উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউর রহমান, অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমদ।

সচিব বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচনী এলাকায় কোনো সাধারণ ছুটি থাকবে না ৷ গাড়ি চলাচল ও অফিস আদালত যথারীতি চলবে। শুধু সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে যদি কোনো ভোটার থেকে থাকে তাহলে তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

নেত্রকোনায় গড়ে উঠছে অবৈধ ইটভাটা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির সন্মুখীন

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি: নেত্রকোনায়  ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় এক শ্রেণির অধিক মুনাফালোভী ব্যবসায়ী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র বিশেষ করে লোকালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা ও ফসলি জমিতে অবৈধ ভাবে গড়ে তুলছে ইট ভাটা।এসব ইট ভাটায় নেই কোন সরকারি অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া, গ্যাস ও ধুলায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে।হারিয়ে যাচ্ছে জীব-বৈচিত্র্য, বিনষ্ট হচ্ছে আমাদের চির চেনা প্রকৃতি ও পরিবেশ।

২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে সংশোধনী এনে ইট ভাটার জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, নির্দিষ্ট এলাকায় ইট ভাটার জায়গা ও ভাটার সংখ্যা নির্ধারণ, লাইসেন্সবিহীন ইট ভাটা চালালে দুই বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান সংযোজন করে ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন আইন, ২০১৯’ বিল সংসদে পাস হয়েছে। ধারা-৪ এ সংশোধন এনে প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে, ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ইট ভাটা যে জেলায় অবস্থিত সেই জেলার জেলা প্রশাসকের নিকট হইতে লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিরেকে, কোনো ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করিতে পারিবে না।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা জেলায় আনুমানিক ৬০টি ইট ভাটা রয়েছে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ২৪টি ইট ভাটা লাইসেন্স নিয়ে বৈধ ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার ফকিরের বাজারের উত্তর পাশে ওমির ব্রিক্স সরকারের কোন নিয়ম শৃঙ্খলা না মেনে অবৈধ ভাবে ইটভাটা চালিয়ে যাচ্ছে ও মোহনগঞ্জ-ধর্মপাশা সড়কে কংস নদীর ব্রীজ সংলগ্ন সামাইকোনা গ্রামে মোহনগঞ্জ পৌর এলাকার মৃত রাধাচরন রায়ের ছেলে বিপ্লব রায় নদী ভরাট করে ‘ডি সি এস’ ইটভাটা স্থাপন করে রমরমা ইটের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ফলে একদিকে নদী নাব্যতা হারিয়ে ফেলছে অন্যদিকে পরিবেশ ও জলবায়ু দূষনের ফলে জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা খাইরুল ইসলাম জানান, বসত বাড়ির পাশে ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধুয়ায় আমরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছি। গাছের ফল-ফলাদিও কমে গেছে। আবার নদী ভরাট করে যেভাবে দখল করা হচ্ছে তাতে নদী নাব্যতা হারিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও সামাইকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন “এ কিউ সি” ইটভাটা স্থাপন করে ব্যবসা করে যাচ্ছেন পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার দশধরী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরীর ছেলে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।২০০০ সালে ইটভাটা লাইসেন্স গ্রহণ করে ২০১৭ সাল পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়ন করলেও ইটভাটা সংলগ্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় জনৈক তালেব আলীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের পর পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র না দেওয়ায় জেলা প্রশাসন থেকে লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না মর্মে লিখিত ভাবে জানিয়ে দেওয়ার পরও ইটভাটার কার্যক্রম অবৈধভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

ইট ভাটার মালিক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, ইট ভাটা চালাতে স্থানীয় এমপি রেবেকা মমিন আমাকে মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছে। সামাইকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান জানান, ১৯৮৭ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়ে বর্তমানে ২৪৮ জন শিক্ষার্থী পাঠদান করছে। ইট ভাটাটি স্কুল সংলগ্ন হওয়ায় ভাটার কালো ধুয়া ও কালিতে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বসবাসকারীরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। জনৈক আবু তালেবের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের পর জেলা প্রশাসন থেকে ইট ভাটার মালিককে লিখিতভাবে ভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপরও অদৃশ্য শক্তির বলে ইট ভাটার কার্যক্রম চলছে।

সামাইকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ডা: আব্দুল হান্নান জানান, ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধুয়ার কারণে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বসবাসকারীরা প্রায় সর্দি কাশি এবং শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। কেন্দুয়া উপজেলায় অবস্থিত এবিএম, এএসটি, সনি ও এপেক্স ইট ভাটা কোন ধরণের কাগজপত্র ছাড়াই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে এবিএম ও এএসটি ব্রিকস্-এর মালিক মোঃ সালাহ উদ্দিন, মদন উপজেলার তুষার ব্রিকস এর মালিক পলাশুজ্জামান খানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, অন্যান্য অবৈধ ইট ভাটা যে ভাবে চালাচ্ছে,  আমরাও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সেভাবেই ইট ভাটা চালাচ্ছি। কিন্তু পলাশুজ্জামান খান আরো বলেন, একটি ইট ভাটা চালাতে যে সকল কাগজ পত্রের প্রয়োজন, আমার সব কাগজপত্র আছে। তবে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় যে, গত ১৪-০১-২০২১ইং তারিখে নেত্রকোনা ডিসি অফিসে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন। পরিবেশ অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, তিনি আরো ১টি আবেদন করেছেন, যার তারিখ ০৫-১০-২০২০, যার অনলাইন ফাইল নাম্বার ১১১৪৯৮।

নেত্রকোনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাবিকুন্নাহার জানান, নেত্রকোনা জেলায় ২৪টি ইট ভাটা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাকী ৩৬টি ইট ভাটার কোন পরিবেশের ছাড়পত্র নেই। জনবল সংকটের কারণে আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে আমাদেরকে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তারপরও পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া যে সব ইটভাটার কার্যক্রম চলছে। তাদের ব্যপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তুষার ব্রিকস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে ২ বছর আগের, তিনি নবায়নের জন্য আবেদন করেছেন। ইট ভাটটি আমি পরিদর্শন করেছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মদন, নেত্রকোনা বুলবুল আহমেদ বলেন, আগামী ২৪ তারিখ থেকে আমাদের অভিযান শুরু হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আবদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,  প্রত্যেক অবৈধ ইট ভাটার বিরুদ্ধে অভিযান আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে ও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নিচ্ছি এবং সিলগাল করে দেওয়া হচ্ছে।

 

কারাগারের ভিতর বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন আসামি তুষার!

বিশেষ প্রতিনিধিঃ বন্দি হয়েও নিয়ম ভেঙে কারাগারের ভেতরে শুধু নারীর সঙ্গে সাক্ষাতই করেননি, কাটিয়েছেন দীর্ঘসময়। এমন ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে। কারাগারের ভিতর বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন আসামি তুষার। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় হলমার্ক কেলেঙ্কারির সাজাপ্রাপ্ত বন্দি তুষারের সঙ্গে কারাগারের ভেতরে দেখা করেন এক নারীসহ তিনজন। অবৈধভাবে এ সুযোগ করে দেন জেল সুপার রত্না রায়। তদন্ত কমিটি বলছে, ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন তারা। 

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ৬ জানুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের পার্ট-১ এ আটক হলমার্ক কেলেঙ্কারির হোতা মালিক তানভীরের ভায়রা কোম্পানির জিএম তুষারের সাথে এক নারী সাক্ষাৎ করেন। ডেপুটি জেলার সাকলাইন সাক্ষাতের অনুমতির জন্য ১২টা ২২ মিনিটে সুপারের রুমে প্রবেশ করেন। সুপারের রুম থেকে অনুমতি নিয়ে ১২টা ৪০ মিনিটে বের হন সাকলাইন। ১২টা ৫৬ মিনিটে ওই নারী কারাগারে প্রবেশ করেন।

সিসিটিভিতে দেখা যায় ডেপুটি জেলার সাকলাইন ১২টা ৫৭ মিনিটে কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করে ১টা ০৪ মিনিটে তুষারকে সাথে নিয়ে ওই নারীর সাথে সাক্ষাৎ করতে একটি কক্ষে নেন। ১টা ১৫ মিনিটে জেল সুপার কারাগার থেকে বের হয়ে যান। এরপর তুষার একটি কক্ষে প্রায় ৪৬ মিনিট সময় কাটায় ওই নারীর সাথে।

এ ঘটনায় কারাগারের জেল সুপার রত্না রায়ের সাথে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে ডেপুটি জেলার সাকলাইন ক্ষিপ্ত হয়ে জানান, সুপার স্যারের অনুমতিতেই সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি বলেন, আমার কি ক্ষমতা আছে ? জেলের ভেতর থেকে আসামি নিয়ে এলে গেট অর্ডার, যৌথ বাহিনী, হাবিলদার, সুবেদার আছে। আর আমি একাই আসামি নিয়ে আসলাম। এটা কি সম্ভব! 

ভিডিও ফুটেজে আপনাকেই আসামি নিয়ে আসতে দেখা যাওয়ার বিষয়টি তুললে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমিই তো নিয়ে এসেছি। এটা তো অস্বীকার করছি না। আমাকে বলেছে তাই আমি আনতে গেছি। আমাকে না বললে তো আর আমি আনতে যেতাম না।’

এ ঘটনায় গাজীপুর জেলা প্রশাসকের অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেছে জেলা প্রশাসক। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে সাক্ষাতের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছে বলে জানান গাজীপুরের জেলা প্রশাসক।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে তদন্ত হয়েছে। প্রতিবেদন আমাদের কাছে দেবেন। এরপর আমরা প্রকৃত সত্যটা বুঝতে পারবো। প্রথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি জেল থেকে ছাড়া পাওয়া এক যুবক অভিযোগ করেন, কারাগারের কর্মকর্তারা নানাভাবে নির্যাতন চালান।

তিনি বলেন, বস্তার ভেতরে ঢুকিয়ে ২০/২২ জন মিলে একসাথে মারধর শুরু করে। মারধর করার পরদিন দুজন লোক মারা গেছে। অথচ বলতেছে, এই লোকগুলো স্ট্রোক করে মারা গেছে।

উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে সবচে বড় ঋণ কেলেঙ্কারি কারণে হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ ও তার ভায়রা প্রতিষ্ঠানের জিএম তুষার ২০১২ সাল থেকে কারাগারে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধোধনের মাধ্যমে মুজিববর্ষে রাণীশংকৈলে ঘর পেল ৩০ পরিবার

হুমায়ুন কবির,  রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ সারাদেশে একযোগে গণভবন থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৪৯২টি উপজেলার ৬৯ হাজার ৯০৪ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পাকা ঘরসহ বাড়ি হস্তান্তর করেন। এরই অংশ হিসাবে মুজিববর্ষে ২৩ জানুযারি শনিবার ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নে ৩০ টি পরিবার পেলেন নতুন ঘর, নিশ্চিত আশ্রয়।

“আশ্রায়নের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার”এ প্রতিপাদ্যে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাচ্ছেন এসব অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তৈরি হয়েছে এসব গৃহহীনদের স্বপ্নের বাড়ি। ইটের দেয়ালঘেরা এবং লাল রঙের টিনের ছাউনিতে নির্মিত এসব ঘর।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে প্রতিটি ঘরের খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।  দুই কক্ষ বিশিষ্ট বাড়িতে রয়েছে একটি রান্না ঘর ও টয়লেট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে সারা দেশে এই আশ্রায়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

এ উপলক্ষে এদিন উপজেলা কনফারেন্স রুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না, সহকারি কমিশনার (ভূমি) প্রীতম সাহা তাদের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সইদুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা ও শেফালী বেগম, থানা অফিসার ইনচার্জ এস এস জাহিদ ইকবাল প্রমুখ।

এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের সকল দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক-সামাজিক নেতা, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। উপকারভোগিরা প্রধানমন্ত্রীর এ মানবিক ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।

সিলেটে অপহরণকারী গ্রেফতার, তরুণী উদ্ধার

মো আমিন আহমেদ, সিলেট: সিলেটের জালালাবাদ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহরনকারী জামিল আহমদ (৩০) কে গ্রেফতার করেছে। অপহরনকারী জামিল জালালাবাদ থানাধীন পাগইল গ্রামের মাখন মিয়ার ছেলে। অপহরণের ঘটনার দেড়মাস পর শিবেরবাজার পাগইল গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এসময় পুলিশ অপহৃত তরুণীকে (১৭) উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেলের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) গ্রেফতারকৃত জামিলকে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) জালালাবাদ থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর দুপুরে তরুণীকে জালালাবাদ থানাধীন শিবের বাজার হাসান কমিউনিটি সেন্টারের সামন থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় গ্রেফতারকৃত জামিল আহমদ। এ ঘটনায় জালালাবাদ থানায় এ বছরের ২১ জানুয়ারি তরুণীর মা বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা নং-২৩ দায়ের করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জালালবাদ থানার ওসি নাজমুল হুদা খাঁন জানান, পুলিশ জালালাবাদ থানাধীন শিবেরবাজার পাগাইল গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার আসামী জামিল আহমদকে গ্রেফতার করেছে। এসময় অপহৃত তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে ওসমানী মেডিকেলের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে।

 

নওগাঁর আত্রাইয়ে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আহাদ পরিচালনায় সিরাজুল ইসলাম মেমোরিয়াল স্কুলেরনিজস্ব ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ছানাউল ইসলাম বলেছেন,শিশুদের শিক্ষাটা আনন্দের সহিত হওয়া চাই,বাচ্চাদেরআনন্দের সহিত নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যেবোধ শিখাতে হবে।

শুক্রবার ( ২২ জানুয়ারী) “ মানব সেবা” এই ব্রত নিয়ে শুক্রবার সকালে আত্রাই হিউম্যানিটারীয়ান এ্যাসোসিয়েশন ফর ডেভলোপমেন্ট (আহাদ) আয়োজনে আত্রাই উপজেলার পুরাতন কোট ভবনের পূব প্রাচির সংলগ্ন প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সিরাজুল ইসলাম মেমোরিয়াল প্রতিবন্ধী স্কুলের নিজস্ব ভবনের ভিত্তি স্থাপন করেন।

তিনি আরো বলেন, আগে সামাজিক সুবিধা না থাকায় এই ধরনের বিশেষ শিশুদেরবাবা মায়েরা এক ধরনের দ্বীধাদন্দতায় ভূক্ত। তাদের সন্তানের সঠিক ভাবে যত্ন নিতে অনেক সময় কেউ ঘার্তি রেখে দিতো। তবে বর্তমানে ডিজিটাল সময়ে ও শেখ হাসিনা সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্যে আমাদের বিশেষ শিশুদের মা-বাবারা সন্তানদের বেড়ে উঠার কোন ঘার্তি রাখে না।আশা করি এই স্কুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এখানকার শিক্ষার্থীরা শিক্ষার্থীরা পরিপূর্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। একসময় তারা নিজেদের পাশাপাশি দেশ ও জাতিরকল্যানে নিবেদিত হয়ে কাজ করবে।

ভিত্তি প্রস্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আত্রাই হিউম্যানিটারীয়ান এ্যাসোসিয়েশন ফর ডেভলোপমেন্ট (আহাদ) এর সভাপতি বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীআলহাজ্ব নজরুল ইসলাম।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আত্রাই হিউম্যানিটারীয়ান এ্যাসোসিয়েশন ফর ডেভলোপমেন্ট (আহাদ) এর সদস্য সচিব আত্রাই মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ইমতিয়াজ হোসেন, আত্রাই মোল্লা আজাদ বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম দুলু,বিশিষ্ট সমাজ সেবক মজিবর রহমান, স্কুল ভবনের জমি দাতা ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোল্লা আনোয়ারুল ইসলাম কুমার, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ ফকরুলবারী রিজভী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বীরেন্দ্র নাথ পাল, আত্রাই মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক জিয়াউল হক জিয়া, আত্রাই উপজেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি একেএম কামাল উদ্দিন টগর,সাবেক ছাত্র নেতা,বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও নওদুলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শীষ মোহম্মাদ শাফিউল্লাহ, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও আত্রাই পাথাইল ঝাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম এ মূহিদ।

 

 

লালমনিরহাটে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঘর পাচ্ছে ৯ শত ৭৮ পরিবার

ঈশাত জামান মুন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসাবে পাঁচটি উপজেলার প্রথম পর্যায়ে ৯ শত ৭৮টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার জমিসহ ঘর পাচ্ছেন।
আজ ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার কে জমি ও গৃহ প্রদান অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেছেন।
জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফরের কাছ থেকে জানা যায়, এ জেলায় প্রথম পর্যায়ে ৪৯.৭২ একর জমিসহ পাকা ঘর পাচ্ছেন জেলার ৯৭৮টি ভুমিহীন পরিবার। জরিপের মাধ্যে সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রনায়ন করা হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী জেলায় ক ও খ শ্রেণিভুক্ত ভুমিহীন পরিবারের সংখ্যা ১২ হাজারের উপরে। এর মধ্যে ক শ্রেণিভুক্তি গৃহহীন ও ভুমিহীন পরিবার ৫ হাজার ৫১৮টি। এদের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৯৭৮টি পরিবারের জন্য ৪৯.৭২ একর খাস জমিতে গৃহ নির্মাণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, গৃহগুলো নির্মানে ১৬কোটি ৭২ লক্ষ ৩৮হাজার টাকা ব্যায় হয়েছে। জেলার সদর উপজেলায় ১শত ৫০টি, আদিতমারী উপজেলায় ১শত ৩০টি, কালিগঞ্জ উপজেলায় ১শত ৫০টি, হাতীবান্ধা উপজেলায় ৪শত ২৫টি ও পাটগ্রাম উপজেলায় ১শত ৩০টি গৃহ নির্মান করা হয়েছে। নতুন ঘর ও পরিবার প্রতি দুই শতাংশ হারে জমির রেজিস্ট্রি কাগজ প্রধানমন্ত্রীর  উপহার হিসেবে দেয়া হচ্ছে।  প্রকৃতপক্ষে তারাই গৃহগুলো পাবেন যারা পাওয়ার যোগ্য, এক্ষেত্রে বিত্তবানদের নাম আসার কোন সুযোগ নেই।

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ২২৬ পরিবারের কাছে ঘরের চাবি হস্তান্তর

অলিউর রহমান মেরাজ নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান সারাদেশে একযোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনের পরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ২২৬ টি পরিবারের কাছে ঘরের চাবি অনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আজ শনিবার (২৩জানুঃ) উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপকারভোগীদের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুন নাহার ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান।

এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ’মি) আল-মামুন সহ বিভিন্ন সংগঠন প্রধান,সাংবাদিক,ইউপি চেয়ারম্যানগণ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন ।

 

সাংবাদিক এবং পুলিশের কাজ এক ও অভিন্ন : পুলিশ সুপার

মোঃ আমিন আহমেদ, সিলেটঃ সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম বলেছেন, আজ আমরা আনন্দিত এবং অভিভূত কারণ আমরা মহান মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধিত করতে পেরেছি। জেলা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ জেলা পুলিশের দাওয়াতে উপস্থিত হওয়ায় পুলিশ সদস্যরা অভিভূত হয়েছেন।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের চৌকস ভূমিকা পুলিশের কাজকে গতিশীল করতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে। তাদের তথ্য উপাত্ত সমৃদ্ধ সংবাদ পুলিশের কাজে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। তাই বলবো সাংবাদিক ও পুলিশ কর্মক্ষেত্রে মুদ্রার এপিট ও ওপিট। একই সাথে বলতে চাই, সাংবাদিক ও পুলিশের কাজ এক ও অভিন্ন তা হচ্ছে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা।

তিনি আরো বলেন, সিলেট জেলা পুলিশ পরিবার মানুষকে কাক্সিক্ষত সেবা দিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আগে থানাগুলোতে জিডি এবং মামলা করতে বিলম্ব হতো এখন এরকম কোনো সমস্যা থানাগুলোতে নেই। আমাদের ওসিদের নির্দেশ দেওয়া আছে কোনো সাধারণ মানুষ যাতে থানায় গিয়ে হয়রানির শিকার না হন। মানুষের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেকটি থানায় আমাদের বাড়তি নজরধারি রয়েছে। জেলা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ আমাদের কার্যক্রমে সবসময় সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে আসছেন। তাদের এ সহযোগিতা সবসময় অব্যাহত থাকবে এমন প্রত্যাশা আমরা সবসময়ই করি।

গেল বুধবার সিলেট জেলা পুলিশ লাইন্স সভাকক্ষে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটিকে সংবর্ধনা প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানান জেলা পুলিশ সুপারসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এরপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আল আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক ছামির মাহমুদ।

বক্তব্যে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আল আজাদ বলেন, জাতির পিতার ডাকে যখন দেশে স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয় তখন সর্বপ্রথম এই পুলিশবাহিনীই পাকিস্তানি শত্রুদের দমনে নেমেছিল। এটি আমাদের গৌরব ও অহংকারের গল্প। পুলিশ বাহিনীতে এখন ফরিদ উদ্দিনের মতো চৌকস অফিসাররা এ বাহিনীর মর্যাদা আরো উপরে নিয়ে যাচ্ছেন এবং যাবেন এমন আশা আমরা করতেই পারি। একটি অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপারের বক্তব্যকালে লক্ষ্য করলাম-আমাদের যুবসমাজকে তিনি কীভাবে উদ্দীপনা জাগাচ্ছেন। সেদিন আমার মনে এসেছে একটি জেলা এমন অনুপ্রেরণা জাগানো পুলিশ সুপার থাকলে সে জেলার অপরাধ বাড়তে পারে না। এমন দুরদর্শী অফিসারদেরকে নিয়ে সত্যিই সবসময় ভালো কিছু আশা করা যায়।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির মধ্যে উপস্থিত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সিনিয়র সাংবাদিক, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য রেজওয়ান আহমদ, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি মঈন উদ্দিন, সহ সভাপতি এস সুটন সিংহ, সহ সাধারণ সৈয়দ রাসেল, কোষাধ্যক্ষ মিসবাহ উদ্দীন আহমদ, ক্রীড়া সম্পাদক শংকর দাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নুরুল হক শিপু, তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক মো. সুলতান আহমদ, পাঠাগার সম্পাদক মঞ্জুর হোসেন খান, দপ্তর সম্পাদক এসএম রফিকুল ইসলাম সুজন, নির্বাহী সদস্য ইউসুফ আলী, মো আমিন আহমেদ! মাহমুদ হোসাইন ও মিঠু দাস জয়।

উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. মাহবুবুল আলম, জেলা বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম, জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর মো. লুৎফর রহমান, গোলাপগঞ্জ সার্কেল মো. রাশেদুল হক, ওসমানীনগর সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলামসহ সকল থানার অফিসার ইনচার্জরা উপস্থিত ছিলেন।