এবারের বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন হবে ১৭ মার্চ পূর্বাচলে

প্রতি বছরের মত জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা জানুয়ারি মাসে হলেও এ বছর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে চলতি মাসে স্থগিত করা হয়েছে এ মেলার আয়োজন। এদিকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বলছে, আগামী মার্চ তারা চলতি বছরের মেলাটি করবেন এবং সেটি হবে সম্পূর্ণ নতুন একটি স্থায়ী ভেন্যুতে। অর্থাৎ শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মধ্যখানের খোলা জায়গাটিতে আর কখনই বসবে না আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার বার্ষিক আসর। আর তাই এবারের বাণিজ্যমেলার আয়োজন করা হচ্ছে রাজধানীর পূর্বাচলে যা উদ্বোধন হবে ১৭ই মার্চ।

বেশ কিছু বছর ধরেই আলাপ চলছিল, ঢাকার উত্তর-পূর্ব প্রান্তে নির্মাণাধীন পূর্বাচল নামে সরকারি আবাসন প্রকল্পের একটি স্থায়ী ভেন্যুতে এটিকে সরিয়ে নেয়া হবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বা ইপিবি এখন বলছে, পূর্বাচলে চীনের সহায়তায় বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এ বছরই সেখানে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যমেলা আয়োজন করা হবে ৩ মাস সময়সূচি পিছিয়ে। নতুন সূচি অনুযায়ী ২০২১ সালের বাণিজ্যমেলা এবং নতুন ভেন্যুর উদ্বোধন হবে ১৭ মার্চ।

ইপিবি সচিব মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলছেন, ‘‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনের দিনে আমরা মেলাটির উদ্বোধন করতে চাই। এই সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেখানে মেলাটি আরও বৃহৎ পরিসরে হবে বলে আমরা আশা করছি।’’

যেখানে হবে নতুন মেলা

পূর্বাচলে ২০ একর জমির ওপর বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারটি নির্মিত হয়েছে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে এই কেন্দ্রটি নির্মাণ শুরু করে সম্প্রতি কাজ শেষ হয়েছে। এই মাসেই ইপিবির কেন্দ্রটির দায়িত্ব বুঝে নেয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা অনুদান হিসাবে দিয়েছে চীন। আর জমি বাবদ বাংলাদেশ সরকার দিয়েছে ১৭০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। প্রদর্শনী কেন্দ্রে ৭ হাজার ১৭৩ স্কয়ার মিটারের দুইটি পৃথক প্রদর্শনী হল রয়েছে।সম্মেলন স্থলে ৫০০ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই কেন্দ্রে সম্মেলন কক্ষ, সার্ভিস রুম, প্রেস কক্ষ, খাবারের জন্য বিশাল কক্ষ আর বাচ্চাদের খেলার জায়গা রয়েছে।

মেলায় কমবে স্টলের সংখ্যা

২০২০ সালে শেরেবাংলা নগরে যে বাণিজ্য মেলা হয়েছে, সেখানে মোট ৫১৬টি স্টল বসেছিল। কিন্তু এখানে সব মিলিয়ে স্টল করার ক্যাপাসিটি রয়েছে তিনশর কিছু বেশি। ফলে এবারের মেলায় তুলনামূলকভাবে অংশ নেয়া স্টলের সংখ্যা কম হবে।এর আগে বাণিজ্যমেলা নিয়ে অনেক সময় সমালোচনা উঠেছিল যে, মেলায় আন্তর্জাতিক পরিবেশ থাকে না।২৫তম বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছিলেন, ‘এ মেলা কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নেই। তবে আগামীবার থেকে পূর্বাচলে অনুষ্ঠিত হলে আন্তর্জাতিক মানের করার চেষ্টা করা হবে।’’কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের মেলায় মূলত রপ্তানিযোগ্য প্রতিষ্ঠানই যাতে অংশ নেয়, সেই চেষ্টা করা হবে।

মাস্ক ছাড়া মেলায় প্রবেশ করা যাবে না

ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘‘কোভিড পরিস্থিতির কারণে মেলায় মাস্ক ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। এ ছাড়া বিদেশি ব্যবসা ও গ্রাহকদের আকর্ষণ করার জন্য পূর্বাচলের মেলায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে।’’

ভেন্যু দূরে হওয়ায় কি সমস্যা হবে?

পূর্বাচলের যে স্থানে এই বছর বাণিজ্যমেলা করার কথা ভাবা হচ্ছে, সেটি কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে।তবে সেটি মেলার জন্য কোনো সমস্যা তৈরি করবে না বলেই মনে করেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি হাসিনা নেওয়াজ।তিনি বলছেন, দূরত্ব কোনো অসুবিধা তৈরি করবে না। কারণ বাণিজ্যমেলায় সবাই বেড়াতে যায় না, মানুষ প্রয়োজনেই যায়। সুতরাং এটি মেলার জন্য, ক্রেতা বা ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো সমস্যা তৈরি করবে বলে আমি মনে করি না।মেলাটি আয়োজন খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।‘দেশ-বিদেশ থেকে যাই আসুক না কেন, এখানে সবার সঙ্গে সবার দেখা হচ্ছে, তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে, পণ্যের যাচাই বাছাই হচ্ছে। সব ব্যবসায়ীদের জন্যই এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’ বলছেন হাসিনা নেওয়াজ।প্রতিবছর বাণিজ্যমেলা থেকে সাংসারিক নানা জিনিসপত্র কেনাকাটা করেন সোহানা ইয়াসমিন। তিনি অবশ্য আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আগে ঢাকার ভেতরে ছিল, সিএনজিতে করে মেলায় যেতে পারতাম। কিন্তু এখন এতো দূরে মেলা হলে আর যাওয়া হবে কিনা, সন্দেহ আছে।’

সমস্যা হতে পারে সড়কের নির্মাণ কাজ

যেখানে বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তার সামনেই পূর্বাচলের তিনশ ফিট সড়কের সংস্কার কার্যক্রম চলছে। এটি শেষ হতে আরও সময় লাগবে। ফলে এটি মেলার আয়োজনে খানিকটা বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে কর্মকর্তাদের অনেকে আশঙ্কা করছেন।

তবে সচিব মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলছেন, ‘রাস্তার কাজে খানিকটা সমস্যা হলেও আশপাশে আরও অনেক সড়ক আছে। মানুষজন ভেতরের সড়কগুলো দিয়ে, বিকল্প পথগুলো দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। যারা মেলায় যেতে চাইবেন, এই টুকু সমস্যা তত বেশি সমস্যা হবে বলে মনে হয় না।’ খবর বিবিসি বাংলা। 

 

 

বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তির তালিকায় ৩ ছেলের নাম, এক‌ই শিফটে এক‌ই ব্যক্তির নাম ২ বার

মোঃ সদরুল কাদির (শাওন): করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়েছে লটারির মাধ্যমে। সোমবার (১১ জানুয়ারি) অনলাইনে ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর অনলাইন দোকানগুলোতে ছিল অভিভাবকদের ভিড়। হন্যে হয়ে খুঁজছেন সন্তানের নাম পছন্দের স্কুলে আছে কি না দেখতে। যাদের সন্তান লটারিতে জিতেছে তারা দারুণ খুশি। যেন যুদ্ধ জয় হয়েছে। আর যাদের সন্তানের ভাগ্যে লটারির শিকে ছেড়েনি তাদের দুঃখের সীমা নেই।
এর মধ্যেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহে মেয়েদের স্কুলে তিন ছেলের চান্স পাওয়া নিয়ে। ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ফলাফলের তালিকায় এসেছে তিনজন ছেলের নাম। তারা হচ্ছে, ফায়াজ জাহাঙ্গীর ইশমাম, মো. জোবায়েরুল হাসান খান ও ফারাবী ইসলাম। তারা সবাই চতুর্থ শ্রেণিতে মর্নিং শিফটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে বলে ফলাফল শিট লেখা আছে।
এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে সমালোচনা। চার ছেলে মেয়েদের স্কুলে ভর্তির সুযোগের ঘটনায় চলছে হাস্যরসও।
নাদিরা আক্তার মিতু নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ইতিহাসে প্রথমবার ছেলে হয়েও বিদ্যাময়ীতে চান্স পাওয়ার গৌরব অর্জন করলো ভাইটি, Congratulations Brother হাজার কাঁটার ভিড়ে একটি গোলাপ হয়ে বেঁচে থাকো।’
নাট্যকর্মী ও সংগঠক আবুল মনসুর নামে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমাদের সময় বা তার আগে পরে বিদ্যাময়ীতে গিয়ে পড়ার জন্য আমরা মুখিয়ে থাকতাম, কোন কাজের ছুতাতে ওখানে যেতে পারলে নিজেকে বীর হিসেবে মনে করতাম। আজকে সে ভাগ্যের জোরে ওখানে পড়ার সুযোগ পেলো। বাজানরে তুই আমাদের পূর্বের স্বপ্নকে পূরণ করলি, তোকে প্রাক্তন জিলাস্কুলিয়ান হিসেবে অভিনন্দন। জাতির মেধা নষ্ট করার জন্য লটারি নামক খেলার জন্য ধিক্কার জানাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বুদ্ধিজীবীদের। এখন মেধার বিচার রইলো না, ভাগ্য যার মেধা তার।’
সাদিয়া জামান নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কপাইল্লা বাজানতো একখান না, তিনখান পাইলাম। হ্যাজাক জ্বালায়া খুঁজলে মনে হয় আরও পাওয়া যাবে। ২৭৭ জন বোনের তিনটা মাত্র ভাই। আজ লটারি ছিলো বলেই এভাবে ভাই বোন মিলেমিশে বিদ্যাময়ী গার্লস স্কুলে পড়ার সুযোগ পেলো।’
সোশ্যাল এক্টিভিস্ট আলী ইউসুফ লিখেছেন, ‘বিদ্যাময়ীতে যেই ছেলে চান্স পাইছে তার ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। লটারি তাকে মেয়েদের সাথে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে।’
নওশীন বৃষ্টি নামে একজন লিখেছেন, ‘বাপের নাম দিয়াহালসে নাতো আবার।’
সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেনীতে JANATUL FERDAOUS এবং ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে KRISNA GANGULY দুই বার করে স্থান পেয়েছে। বিষয়টি খুবই ন্যাক্কার জনক।
এই লটারি কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। অনেক অভিভাবক শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। কারণ এই লটারি কার্যক্রম সম্পূর্ণ গজায়মিল দিয়ে হয়েছে।
বাংলাদেশ সাধারণ জনৈক প্রশ্ন, কারণ অনেক ১৫ বার আবেদন করেছে। তাহলে পিতা ও মাতার নাম ও আইডি নম্বর দিয়ে কেন যাচাই না করে লটারি করা হলো? সূত্রঃ সময় নিউজ/দৈনিক আঁলোর যাত্রা

লালমনিরহাটে জনগনকে হয়রানীর দায়ে ইউএনও’র অপসারনে সংবাদ সম্মেলন

ঈশাত জামান মুন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : দায়ীত্বে অবহেলা, সাধারন জনগনকে হয়রানীর দায়ে  লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুন নাহারের অপসারণ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় পাথর, বালু ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকরা।

আজ সোমবার (১১ জানুয়ারি) দুপুর ১ টায় পাটগ্রাম প্রেস ক্লাবের হলরুমে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে পাটগ্রাম উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও পাথর, বালু ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মোফাজ্জল হোসেন লিপু সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ০৮ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক স্মারকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ রফিকুল ইসলাম পাটগ্রাম উপজেলার পাথর কোয়ারী বিষয়ে জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধান ও অংশীজনের সাথে মতবিনিময়সভা করেন। ওই সভায় স্থানীয় পাথর, বালু ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদেরকে অবহিত না করে পার্শ্ববর্তী জেলার ব্যবসায়ীদেরকে ডেকে মতবিনিময়সভা করা হয়।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পাথর, বালু ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দায়িত্বে থেকেও বিষয়টি অবগত না করায় দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে ইউএনও কামরুন নাহারের অপসারণ দাবি করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, তিনি (ইউএনও) পাটগ্রাম উপজেলায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনসাধারণকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করায় গত ৩১ ডিসেম্বর পাটগ্রাম ঠিকাদার অ্যাসোশিয়েশনের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে। সেখানেও তার (ইউএনও) অপসারণ দাবি করা হয়। তিনি (ইউএনও) নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলেছেন। অবিলম্বে ইউএনও কামরুন নাহারকে অপসারণ করা না হলে রাস্তা-ঘাট অচল করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

উক্ত সংবাদ সন্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. নাজমুল হুদা রাসেল, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, ঠিকাদার ও বালু, পাথর ব্যবসায়ী মো. আবু নাঈম জাহাঙ্গীর রুবেল, পৌর যুবলীগের সভাপতি, ঠিকাদার ও বালু, পাথর ব্যবসায়ী বিজয় কুমার শুর প্রমূখ।

রাণীশংকৈলে আইন-শৃংখলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল,(ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ১১ জানুয়ারি সোমবার উপজেলা সভাকক্ষে মাসিক আইন-শৃংখলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল জুলকার নাইন কবির স্টিফের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, সহকারি কমিশনার ভূমি প্রীতম সাহা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি বেগম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ সেখ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবিদা সুলতানা, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোকছুদুর রহমান প্রমুখ।
এছাড়াও ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম মুকুল, এনামুল হক, মাহাবুব আলম, জমিরুল ইসলাম, আব্দুর রউফ, মহিলা আ’লীগ সম্পাদিকা ফরিদা ইয়াসমিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অনেকেই গত মাসের আইনশৃংখলা সার্বিক পরিস্থিতির উপর বিভিন্ন মতামত পেশ করেন।
পরে পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল লতিফ সেখ গত মাসের বিভিন্ন ধরনের মামলার বিবরণ সম্পর্কে বর্ণনা করেন। এবং উপজেলার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

 

কিশোর গ্যাং না‌মে দৌরাত্ম্য মোকা‌বিলায় শুধু পুলিশ নয়, সমাজকেও এ‌গি‌য়ে আস‌তে হবে : আইজিপি

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি ২০২১ খ্রি.

‌’কি‌শোর‌দের‌কে বিপথগামী হ‌তে দেয়া যা‌বে না। কি‌শোর গ্যাং না‌মে কো‌নো দৌরাত্ম্য চল‌তে পা‌রে না। আমাদেরকে এ ধর‌নের যে কো‌নো দৌরাত্ম্য মোকাবেলা করতে হবে। আমাদের একটি প্রজন্ম নষ্ট হয়ে যাবে তা আমরা চাই না। আর এ জন্য দায়িত্ব নিতে হবে পিতা-মাতা, পরিবার ও সমাজকেও। পিতা-মাতাকে তাদের সন্তানের খোঁজ খবর রাখ‌তে হবে। তাদের মধ্যে নীতি নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে।
পাশাপা‌শি, এ সংক্রা‌ন্তে সং‌শ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকেও আ‌রো জোড়া‌লো ভূ‌মিকা পালন কর‌তে হ‌বে। আঠা‌রো বছ‌রের কম বয়সীদের বিরু‌দ্ধে ব্যবস্থা গ্রহ‌নের ক্ষে‌ত্রে আই‌নের ভিন্ন ভাষ্য র‌য়ে‌ছে। তাই, শুধুমাত্র আই‌নি পদ‌ক্ষেপ বা পু‌লি‌শি ব্যবস্থা গ্রহন ক‌রে এর সমাধান সহজ নয়। তাই, সকল‌কে এ‌গি‌য়ে আস‌তে হ‌বে। বর্তমান প্রজন্মকে ২০৪১ সালের উন্নত দেশের উপযোগী যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে ‎র‌্যাব সেবা সপ্তাহের শেষ দিনে আজ সোমবার (১১ জানুয়ারি) সকালে দরিদ্র মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) এ কথা বলেন।
আইজিপি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে কৃতজ্ঞচিত্তে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের শাহাদতবরণকারী সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং সকল মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
তিনি করোনাকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী সকল সম্মুখযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
র‌্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে ‎র‌্যাব ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্সের শহীদ লে. কর্ণেল আজাদ মিলনায়তনে অয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্ণেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার।
আইজিপি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা পরাধীনতার নাগপাশ থে‌কে মুক্ত হতাম না। বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আমাদেরকে বঙ্গবন্ধুর চর্চা করতে হবে, তা না হলে আমাদের দেশপ্রেম সুসংহত হবে না।
পুলিশ প্রধান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সামাজিক ক্ষেত্রে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রাকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
উপ‌স্থিত শিক্ষার্থী ও আগামী প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আইজিপি বলেন, তোমরা ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশের নাগরিক হবে। তোমাদেরকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে, নিজেদেরকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি করোনাকালে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে ‎র‌্যাবের ভূমিকার প্রশংসা করেন। আইজিপি বলেন, সেবা সপ্তাহের র‌্যাব এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছে, দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে, বৃক্ষরোপণ করেছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে তারা জনগণকে সেবা দেয়ার প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, সেবাকে কোন নির্দিষ্ট দিন, সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে আবদ্ধ না রেখে প্রতিটি দিনকে সেবার দিনে পরিণত করতে হবে।
চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য আজীবন কাজ করেছেন, সংগ্রাম করেছেন। তিনি তাদের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে অনুসরণ করে আমরা দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে সেবা সপ্তাহ পালনে উদ্বুদ্ধ হয়েছি।
অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ১০ হাজার, জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
এছাড়া, অসহায় পরিবারের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি থাকবে সারা বছরের খাতা, কলম এবং অন্যান্য শিক্ষা সামগ্রী।‎
সুত্রঃ বাংলাদেশ পুলিশ প্রেস।

দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনায় আরও ২২ জনের মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে সাত হাজার ৮০৩ জনের। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৮৪৯ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ৩০২ জনে।

আজ সোমবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন ৯১৭ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭১৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১১৪টি আরটি-পিসিআর ল্যাব, ২৮টি জিন-এক্সপার্ট ল্যাব ও ৫১টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে অর্থাৎ সর্বমোট ১৯৩টি ল্যাবে ১৪ হাজার ৯৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৩৩ লাখ ৭১ হাজার ৪১৬টি নমুনা।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৬ দশমিক ০২ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

 

দুর্গাপুরে শতবর্ষী পদ্মপুকুর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি: উচ্চ আদালতে আদেশ ব্যক্তিমালিকানধীন পুকুর হবে প্রাকৃতিক জলাধার। নেত্রকোনার দুর্গাপুরে তা কার্যকর হচ্ছে না। পৌর সভার বাগিছাপাড়ায় শতবর্ষী পদ্মপুকুর কৌশলে দখলে নিয়ে ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে ওই এলাকার বিপ্লব কৃষ্ণ রায় ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। দখল কার্যক্রমে এলাকাবাসী বাধা দিলেও কোন কাজ হচ্ছে না। তবে বিপ্লব কর্মকার দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে ওই জমি তার নিজের এবং এটি একটি মজাপুকুর বলে দাবি করেন।

দুর্গাপুর পৌরসভার বাগিছাপাড়ার বাসিন্দা দুর্গাপুর পৌর সভার সাবেক চেয়ারম্যান কামাল পাশা এলাকাবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি স্থানীয় এমপি, পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, থানা পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরকে জানিয়েছেন এবং এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। কিন্তু কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না।

অভিযোগে জানা গেছে, জেলার দুর্গাপুর পৌর সভার বাগিছাপাড়া এলাকায় দুর্গাপুর মৌজায় আর.এস ৭৬২ এবং আর.ও.আর তথা এস.এ খতিয়ানে ২৩২১ দাগের শতবছরের পুরনো ৬১ শতাংশ ভূমিতে পুকুর ছিল। ওই পুকুরটির নাম ছিল পদ্মপুকুর। সারা বছর ওই পুকুরে পানি থাকত। বর্ষায় চারপাশের বাসাবাড়ির পানি ওই পুকুরে জমা হত। পুকুরের চারপাশের মানুষ পুকুরটির পানি প্রাত্যহিক কাজে ব্যবহার করত। ১৯৬৫-১৯৬৬ সালে সরকার পুকুরটি একোয়ার করে নেন। আর.এস ও আর.ও.আর এ পদ্মপুকুর হিসেবে চিহ্নিত করা আছে। ২০০১- ২০০২ অর্থ বছরে সরকারি অর্থায়নে পৌর সভা পুকুরটি সংরক্ষনের জন্য গার্ডওয়াল নির্মাণ করে।

সর্বশেষ ভুমি জরিপে পুকুরটি বিপ্লব কৃষ্ণ রায় কৌশলে প্রয়াত বাবা বিমল কৃষ্ণ রায়ের নামে করিয়ে নেন। পুকুরে বালি ও মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। এতে করে বর্ষায় জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়। বাগিচাপাড়ায় বিদ্যমান শতবছরের পুরনো সরকারি জলাশয় পদ্মপুকুরটি যেন ছিলো কালের সাক্ষী। সৌন্দর্য্য মন্ডিত পদ্মপুকুরটি ব্যক্তির দখলে চলে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জনস্বার্থে পরিবেশের ভারসাম্যের সহায়ক শতবর্ষী পদ্মপুকুরটি রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় ভূমি অফিসের দৃষ্টি বরাবরে অভিযোগ দিলেও কাঙ্খিত সুফল পাননি এলাকাবসী।

অভিযোগকারী কামাল পাশা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫(সংশোধিত-২০১০) এর ৬ (ঙ) অনুযায়ী জাতীয় অপরিহার্য স্বার্থ ছাড়া কোন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরকারি বা আধা সরকারি এমনকি স্বায়ত্ত¦শাসিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর ভরাট না করার বিধান রয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ২০১০ সালে সংশোধিত অনুযায়ী যে কোন ধরনের জলাধার বা পুকুর ভরাট সম্পুর্ন নিষিদ্ধ এবং ভরাটকারীর বিরুদ্ধে আইনের ৭ ধারায় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও জীব বৈচিত্র্য নষ্ট করে পরিবেশগত ক্ষতি ও বিধ্বংসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

গ্রহণের বিধান রয়েছে। জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ অনুযায়ী কোন পুকুর, জলাশয়, নদী, খাল ইত্যাদি ভরাট করা বেআইনি। জলাধার হিসাবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। সম্প্রতি হাইকোর্টের এক রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, পৌর এলাকাসহ দেশের সব পৌর এলাকায় অবস্থিত ব্যক্তিমালিকাধীন হিসেবে রেকর্ডভুক্ত পুকুরগুলো ২০০০ সালের জলাধার সংরক্ষণ আইনের ২(চ) ধারায় প্রাকৃতিক জলাধারের সংজ্ঞাভুক্ত করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কেন আমাদের শতবর্ষী এই পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। বিপ্লব কৃষ্ণ রায়ের খুঁটির জোর কোথায়। সরকার যেখানে পুকুর জলাশয় ভরাটের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সেখানে বিপ্লব কৃষ্ণ রায় সরকারি শতবর্ষী পুকুর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্ষাই করছেন না। পরিবেশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জরুরী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন।

বিপ্লব কৃষ্ণ রায় বলেন, জলাশয় নয়, এটি একটি মজাপুকুর। পুকুরটি আমার দখলে রয়েছে। সরকারিভাবে আমার বাবা বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন। আমিতো এ জায়গায় ভরাট ও ভবন নির্মাণের কাজ করতেই পারি। আমি নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছি। ওই জমির বি.আর.এস ও খারিজ আমার নামে। স্থানীয় কিছুলোক বিরোধীতা করছে। দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা খানম জানান, সরকারি এ পুকুরটি নিয়ে দু’পক্ষের মাঝে টানাটানি চলছে। তবে পুকুরটির দ্বন্ধ নিরসনে বিজ্ঞ আদালত রায় দিয়েছে। ওই রায় নিয়েই মাটি ভরাট করছে। লিজ মানির রেকর্ডও তাদের রয়েছে। তবে এ বিষয়টি তিনি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখবেন।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, ওই পুকুরটি নিয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য দুর্গাপুর ইউএনকে বলা হয়েছে।

 

 

ইন্দোনেশিয়ায় বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার, মিলেছে ব্ল্যাক বক্সের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইন্দোনেশিয়ার নিখোঁজ বোয়িং ৭৩৭-৫০০ মডেলের বিমানটির ফ্লাইট রেকর্ডার, কিছু ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছে উদ্ধারকারীরা ৷ আর সাথে মিলেছে ব্ল্যাক বক্সের সন্ধান।

দেশটির সামরিক প্রধান জাহজান্তো শ্রিভিজয়া এয়ারলাইন্সের নিখোঁজ ফ্লাইটটির ব্ল্যাক বক্স রেকর্ডারের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ৷ তিনি বলেন, দ্রুতই সেটি পুনরুদ্ধার করা হবে ৷ যদিও নির্দিষ্ট কোন সময়সীমা উল্লেখ করেননি ৷

তবে দেশটির নৌবাহিনীর ডুবুরিরা আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে তারা সোমবার উদ্ধারকাজ পুনরায় শুরু হওয়ার পর বিমানের দুটি ব্ল্যাক বক্সই উত্তোলন করতে পারবেন।

বিমানের ব্ল্যাক বক্স বা ফ্লাইট রেকর্ডার মূলত ককপিটে কি কথা হচ্ছে এবং বিমানের গতিবিধি সম্পর্কিত তথ্য রেকর্ড করে। বিমান দুর্ঘটনা তদন্তে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গতকাল রোববার (১০ জানুয়ারি) জাকার্তার কাছে সমুদ্রের ২৩ মিটার (৭৫ ফুট) গভীরতা থেকে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে ইন্দোনেশিয়ান ডুবুরিরা। খুঁজে পেয়েছেন মানুষের শরীরে অংশবিশেষ আর কাপড় ৷

এর আগে শনিবার (৯ জানুয়ারি) জাকার্তা থেকে ৭ শিশুসহ ৫৬ জন যাত্রী ও ৬ জন ক্রু মোট ৬২ জন যাত্রী নিয়ে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিধ্বস্ত হয় উড়োজাহাজটি।

ইন্দোনেশিয়ার গণমাধ্যম জানিয়েছে, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া অনেক মৎস্যজীবী বিমানটি বিধ্বস্ত হতে দেখেছেন এবং তারা বিমানটির কিছু ধ্বংসাবশেষ, একটি চাকা ও মানবদেহের অংশ উদ্ধারকারী দলগুলোর কাছে হস্তান্তর করেছেন।

এদিকে এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত জাহাজটি বিধ্বস্তের কারণ সম্পর্কে জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষ তাদের তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন এবং কোনও যাত্রী বেঁচে নেই বলেও আশঙ্কা করছেন তারা। উদ্ধারকাজে ১০টি জাহাজ নামানো হয়েছে এবং এতে নৌ-বাহিনীর ডুবুরিরাও কাজ করছে। উদ্ধারকৃত ধ্বংসাবশেষের অংশগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে।

দেশটির পরিবহনমন্ত্রী বুড়ি কারিয়া সুমাদি বলেছেন, ফ্লাইট এসজে-১৮২ বিমানটি দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটে উড্ডয়নের পূর্বে এক ঘণ্টা বিলম্ব করেছিল এবং উড্ডয়নের মাত্র ৪ মিনিট পর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে ২৯ হাজার ফুট উচ্চতায় যাওয়ার জন্য যোগাযোগ করে এবং তখন বিধ্বস্ত হয় বিমানটি।

উল্লেখ্য, ২৭ বছর পুরনো এই বিমানটির মডেল বোয়িং ৭৩৭-৫০০ বলে জানা গেছে। এর আগে ২০১৮ সালে জার্কাতায় লায়ন এয়ারের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় বিমানটির ১৮৯ আরোহীর সবাই নিহত হয়। তবে শনিবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া বিমানটির মডেল আরও ‍পুরনো। সূত্র: বিবিসি, এএফপি ও ডয়চে ভেলে। 

চান্দিনা পৌর নির্বাচন: দুই প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তাপ বাড়াচ্ছে সমর্থকদের

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার চান্দিনায় উত্তাপ ছড়াচ্ছে পৌর নির্বাচনকে ঘিরে।সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৬ জানুয়ারী দ্বিতীয় ধাপে এই পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।তবে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রার্থীদের মধ্যে কোন্দল,পরস্পর বিরোধী বক্তব্য,আচারণবিধি লংঘন,প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উত্তাপ বাড়াচ্ছে চান্দিনায়।

এদিকে শান্তিপূর্ণ,সুষ্ঠু,অবাধ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন চান্দিনার পৌরবাসীকে উপহার দিতে বদ্ধপরিকর প্রশাসন।যে কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচারণবিধি লংঘনের অভিযোগ উঠলে দল নয় প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দেন প্রশাসন।ইতোমধ্যে কয়েকটি ছোটখাটো আচারণবিধি লংঘন করায় কোন প্রার্থীকে ছাড় দেননি প্রশাসন।

এদিকে ভোটারদের প্রত্যাশা নিরাপদ ও ভয়-ভীতিহীন পরিবেশে কেন্দ্রে গিয়ে যাতে ভোট দিতে পারেন সেই পরিবেশ তৈরির আহবান জানান প্রশাসনের প্রতি।জনগনের ভাগ্য উন্নয়নে যিনি কাজ করবেন তাকেই ভোট দিবেন পৌর ৭নং ওয়ার্ডের খলিলুর রহমান নামে ভোটার। আবদুল হক নামে আরও এক ভোটার জানান,তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান।যাতে নিরাপদ পরিবেশে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।

এদিকে চান্দিনা পৌর নির্বাচন অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য মেয়র ও কাউন্সিলরসহ সকল প্রার্থীর একই কথা হলেও মাঠ পর্যায়ে দেখাগেছে ভিন্নতা।সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ করার কথাটুকু যিনি সবচেয়ে বেশি বলেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন ভূঁইয়া।তার সমর্থকদের বিরুদ্ধেই প্রচার-প্রচারণায় বাধা প্রদান,পোস্টার,ব্যানার ও লিফলেট ছিড়ে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র জগ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী শামীম হোসেন।

তিনি বলেন,নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা আমার কর্মী সমর্থকদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা না চালানোর জন্য।৮ জানুয়ারীর পর আমাকে ও আমার সমর্থকদেরকে হামলা ও মামলা দেওয়ার ভয়-ভীতি দিয়ে যাচ্ছেন।পুলিশ ধারা হয়রানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন,এতো অভিযোগের পরও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে কোন মনিটরিংয়ে নামছে না।প্রশাসনের প্রতি আমার দাবি ভোটারদের ভোটে যে নির্বাচিত হোক আমার আপত্তি থাকবে না।তবে ভোটাররা যেন ভয়-ভীতিহীন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রয়োগ করতে পারে সেই পরিবেশ তৈরি করেন।

অভিযোগে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন,আমার সমর্থকদের বিরুদ্ধে জগ প্রতীকের প্রার্থীকের তোলা সকল অভিযোগ মিথ্যা।নির্বাচনের শুরু থেকেই প্রশাসনকে অনুরোধ করে আসছি চান্দিনায় পৌরসভায় একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য।অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীর্ষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর অভিযোগে পৌর নির্বাচনে পরিবেশে এখনও লেভেল প্লেইং ফিল্ড নেই।পরিবশে সুষ্ঠু রাখতে প্রশাসনের প্রতি আহবার তার।

এছাড়াও খোঁজ নিয়ে জানা যায়,পৌর নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের দিন ৭নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের দুই কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে ৭ জন্য আহত হয়।এসময় এক প্রার্থীর প্রচারনার কাজে ব্যবহৃত সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মাইক ভাংচুর করে প্রতিপক্ষে সমর্থকরা।ঘটনার সূত্রে জানা যায়,নির্বাচনে পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস ছালাম(উট পাখি প্রতীক)মনোয়নপত্র জমা দেন।

এসময় পৌর আওয়ামী লীগ ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক আলী হোসেনও (ডালিম প্রতীক) প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন জমা দেন।২৮ ডিসেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগ ৭নং ওয়ার্ড থেকে আব্দুস ছালামকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেয়।বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যহারের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।৩০ ডিসেম্বর প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর তাদের সমর্থকরা এলাকার মিছিল দেয়।মিছিলে আব্দুস ছালামের সমর্থকরা আলী হোসেনে প্রচারণার হামলা চালিয়ে তার সমর্থকদের আহত করার অভিযোগ তুলেই প্রার্থী নিজেই।

ডালিম প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী আলী হোসেন আরও অভিযোগ করেন,তিনি তার ওয়ার্ডে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারছেন না প্রতিপক্ষ আব্দুস ছালামের সমর্থকের হুমকি ও হামলার ভয়ে।প্রশাসনের কাছে তার দাবি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।

অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে উট প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুস ছালাম বলেন,প্রতীক বরাদ্দের দিন সামান্য একটি উস্কানিমূলক ভাষা ব্যবহার নিয়ে আমার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।ডালিম প্রতীকের প্রার্থীর সাথে আমার কোন দ্বন্দ্ব নেই।আমার সমর্থকদের বিরুদ্ধে তোমলা হুমকি ও হামলার অভিযোগ মিথ্যা।

নির্বাচনের আমেজ,উত্তাপ ও পরিবেশ নিয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাচন মোঃ আহসান হাবীব বলেন, নির্বাচনের মাঠে আচারণবিধি ঠিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছি।তবে ছোট খাটো কিছু ঘটনা ছাড়া নির্বাচনকে ঘিরে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।আচারণবিধি লংঘনে আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না।নির্বাচন সুষ্ঠু রাখতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।

 

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বাড়ছে আত্মহত্যার চেষ্টা

মোঃ লোকমান হোসেন, যশোর প্রতিনিধি: সম্প্রতি যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে এক বন্দি ফারদীন ওরফে দুর্জয় (১৭)নামে একজন হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আত্মহত্যার চেষ্টা  দিন দিন বাড়ছে আত্মহত্যার চেষ্টা। 
গত দু’দিন আগে শনিবার দুপুরে যশোরের পুলেরহাটে  শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের অভ্যন্তরে দুর্জয় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে বিগত তিনমাসে তিনজন বন্দি আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। আত্মহত্যার চেষ্টাকারী ফারদীন ওরফে দুর্জয় (১৭) যশোরের পুলিশ লাইন এলাকার ফারুক হোসেনের ছেলে।
সে ইমু হত্যা মামলার আসামী, ৩০ জুলাই থেকে আদালতের নিদের্শে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের হেফাজতে আছে।এসময় কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যা চেষ্টার বিষয়টি বুঝতে পেরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় যশোর২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।
যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ঠিক কি কারণে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে সেটা বলা সম্ভব হচ্ছে না। সুস্থ হয়ে ফিরলে জানা যাবে।
এরা আগে গত১৭ অক্টোবর ২০২০ বিছানার চাঁদর পেছিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সাকিব তালুকদার (১৫), ১৯ অক্টোবর বাথরুমের দরজার সাথে ফাঁস লাগিয়ে আবির হোসেন রানা (১৩) আত্মহত্যার চেষ্টা করে, ২০ অক্টোবর সায়েম হাওলাদার গ্রিলের সাথে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
এর আগে গত ১৩ আগস্ট বেলা ১২টা থেকে বিকাল পর্যন্ত এই কেন্দ্রের ১৮ কিশোরকে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাদের অনুগত ৮ কিশোর পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন করে। এ ঘটনায় অমানুষিক নির্যাতনে তিন কিশোর নিহত ও ১৫ কিশোর আহত হয়।