এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ১লাখ ৭৮হাজার ৪৩৭

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ফল প্রকাশ করেছেন। এতে গড় পাসের হার ৮৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ ১লাখ ৭৮হাজার ৪৩৭। সবচেয়ে বেশি পাসের হার কুমিল্লা বোর্ডে, আর সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বোর্ডে।

আজ বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারী) বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ১১টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৩ হাজার ৪০৭ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। গত বছরের ৬ নভেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সারাদেশে দুই হাজার ৬৪৯টি কেন্দ্র ও ৯ হাজার ১৮১টি প্রতিষ্ঠানে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ, জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪২১ জন শিক্ষার্থী। রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৮১ দশমিক ৫৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২১ হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থী। কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৯০ দশমিক ৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৪ হাজার ৯৯১ জন শিক্ষার্থী। সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৮১ দশমিক ৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৭১ জন। বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৮৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৮৬ জন শিক্ষার্থী। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৭৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৭০ জন শিক্ষার্থী। যশোর বোর্ডে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ হাজার ৭০৬ জন শিক্ষার্থী। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৭৯ দশমিক ০৬ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৮৩০ জন শিক্ষার্থী। ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ০৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭ হাজার ১৭৯ জন।

এছাড়া, কারিগরি বোর্ডে পাস করেছেন ৯১ দশমিক ০২ শতাংশ শিক্ষার্থী, এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭ হাজার ১০৫ জন শিক্ষার্থী। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৯২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৪২৩ জন শিক্ষার্থী।

ফল জানা যাবে যেভাবেঃ 

ফল প্রার্থীরা অনলাইনে বা মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে তাদের ফলাফল জানতে পারবেন। মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম ৩ অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে আবার স্পেস দিয়ে পাসের বছর লিখে পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।

উদাহরণ—HSC DHA 123456 2022 লিখে পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে জানা যাবে ফলাফল।

এ ছাড়া, http://www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকেও ফলাফল জানা যাবে। রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরে প্রবেশ করে পৃথক ফলাফল শিট ডাউনলোডও করা যাবে। আর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফল ডাউনলোড করে প্রকাশ করার জন্য https://dhakaeducationboard.gov.bd/ ওয়েবসাইটের Result কর্নারে ক্লিক করে প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএনের মাধ্যমে ফলাফল ডাউনলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানে যাত্রীবাহী বাস-গাড়ির সংঘর্ষে ২১জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের পর যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে গেলে অন্তত ২১ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রদেশটির আপার কোহিস্তান জেলার শীতিয়াল এলাকায় কারাকোরাম হাইওয়েতে এ ঘটনা ঘটে।

গিলগিট-বাল্টিস্তানের দিয়ামের জেলার এসএসপি শের খান বলেন, ঘিজর থেকে রাওয়ালপিন্ডিগামী একটি বাস বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, বাসে থাকা ১৬ জন যাত্রী এবং গাড়িতে থাকা পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনাটি কোহিস্তানের আওতাভুক্ত এলাকায় ঘটেছে।

দুর্ঘটনাস্থল নিকটবর্তী হওয়ার কারণে গিরগিট-বাল্টিস্তান পুলিশও উদ্ধার প্রচেষ্টায় অংশ নিয়েছে।

এসএসপি শের খান বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও গাড়িতে কতজন ছিলেন, ওই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। বর্তমানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালান হচ্ছে।

এদিকে, দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং নিহতদের জন্য প্রার্থনা করেছেন। এ ছাড়া আহতদের সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত মাসে বেলুচিস্তানের লাসবেলায় একটি যাত্রীবাহী কোচ খাদে পড়ে অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে পাকিস্তানের রাস্তায় ২৭ হাজার জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়।

ফুলবাড়ীতে ৭ দিন ব্যাপি যুব প্রশিক্ষনের উদ্বোধন

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে ৭ দিন ব্যাপি যুব প্রশিক্ষনের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টায় বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার কামালপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এলাকায় যুব প্রশিক্ষন ও আত্নকর্মসংস্থান কর্মসূচীর আওতায় অপ্রাতিষ্ঠানিক এ প্রশিক্ষণ কোর্স এর উদ্বোধন করেন ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন দাস।

এসময় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ,ফুলবাড়ী সদর ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফা ইয়াসমিন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সোহেলী পারভীন, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা উম্মে কুলছুম, মৎস্য কর্মকর্তা রায়হান উদ্দিন সরদার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সবুজ কুমার গুপ্ত, ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ ফজলুর রহমান সহ ৩০ জন প্রশিক্ষনার্থী উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষনে সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ললিত মোহন রায় প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ললিত মোহন রায় জানান, ৭ দিনের এ প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করলে ৩০ জন নারী পারিবারিকভাবে হাঁস-মুরগী পালন করে আত্নকর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে।

বেলজিয়ামের রানি মাথিল্ডের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাতীয় ডেস্কঃ বাংলাদেশ সফরে আসা বেলজিয়ামের রানি মাথিল্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আজ বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ করেন তিনি।

এর আগে, তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসেন বেলজিয়ামের রানি মাথিল্ডে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অ্যাডভোকেট (দূত) হিসেবে বাংলাদেশ সফর করছেন তিনি।

গত সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকায় পৌঁছালে রানি মাথিল্ডেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের ১৭ জন এসডিজি অ্যাডভোকেট আছেন, তাদেরই একজন বেলজিয়ামের রানি মাথিল্ডে। এ ছাড়াও রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, শান্তিতে নোবেলজয়ী ভারতের কৈলাশ সত্যার্থী ও বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বা অনু‌প্রেরণা জোগাতে তাদের ভূমিকা রয়েছে। একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছেন বেলজিয়ামের রানি।

এইচএসসির ফল প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর

শিক্ষা ডেস্কঃ উচ্চমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে গণভবনে শিক্ষামন্ত্রী ও বোর্ডের চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ বোর্ডের ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।

এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফলাফল আপলোড করা হবে। এ সময় থেকে যে কেউ রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ওয়েবসাইট ও মোবাইলে এসএমএস করে ফল দেখতে পারবেন। দুপুরে সাড়ে ১২টায় ফলাফলের সার্বিকদিক তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করবেন শিক্ষামন্ত্রী।

এ বছর ১২ লাখ ৩ হাজার ৪০৭ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ৬ লাখ ২২ হাজার ৭৯৬ ছাত্র এবং ৫ লাখ ৮০ হাজার ৬১১ ছাত্রী। সারা দেশে ২ হাজার ৬৪৯টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা নেয়া হয়। মোট ১১টি শিক্ষাবোর্ডের মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিল ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭১৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ৮২ হাজার ১৮৩ এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৩ হাজার ৫৩০।

অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় ২ হাজার ৬৭৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ৪৪৮টি কেন্দ্র মোট পরীক্ষার্থী ৯৪ হাজার ৭৬৩ জন। এর মধ্যে ৫১ হাজার ৬৯৫ ছাত্র এবং ৪৩ হাজার ৬৮ ছাত্রী।

এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল), ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ৯৩১। এর মধ্যে ৮৮ হাজার ৯১৮ ছাত্র এবং ৩৪ হাজার ১৩ জন ছাত্রী।

হরিজন ও চা শ্রমিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সেলাই মেশিন ও শীতবস্ত্র বিতরণ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং আল খায়ের ফাউন্ডেশনের সার্বিক সহযোগিতায় ৫০ জন উপকারভোগীর মাঝে সেলাই মেশিন ও ২০০ শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র ( উন্নত মানের কম্বল ও টুপি) বিতরণ করা হয়।

মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা ভবনে সেলাই মেশিন ও শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহ্সান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মল্লিকা দে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রভাংশু সোম মহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বর্ণালি পাল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনা আক্তার, আল খায়ের ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারেক মাহমুদ সজিব ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা- কর্মচারীবৃন্দ।

আয়োজকেরা জানান, দুইশত শীতার্থ চা শ্রমিক, হরিজন সম্প্রদায় ও নির্মান শ্রমিকদের কম্বল ও মাথার টুপি এবং ৫০ জন অসহায় দুস্থ নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহ্সান বলেন, জেলায় এবার প্রায় ৪১ হাজার শীতার্ত মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্টান শীতবস্ত্র বিতরন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আল খায়ের ফাউন্ডেশন শীতবস্ত্র বিতরন করেছে। এরই পাশাপাশি ৫০টি দরিদ্র পরিবারের নারীদের সেলাইমেসিন দেয়া হয়েছে। এই পরিবারগুলো আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সেলাই করে আয়ের পথ নিজেরাই তৈরি করতে পারবে।

চিলাহাটিতে রেনুর হত্যাকারীকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

মোকাদ্দেস লিটু, ডোমার, নীলফামারীঃ নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে গত ২৮ ডিসেম্বর গৃহবধু রেনু আক্তারের খুনি পাষন্ড স্বামী গোলাম মোস্তফা বুলুর গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী ও তার পরিবার।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২.৩০ মিনিটে চিলাহাটি সরকারী কলেজের সামনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।

গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের গোসাইগঞ্জ গ্রামের কারেঙ্গাতুলি এলাকার খায়রুল ইসলামের মেয়ে রেনু আক্তার (২৫) কে তার নিজ বাসায় গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় তার স্বামী গোলাম মোস্তফা বুলু। এ ব্যাপারে রেনুর বাবা খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে ডোমার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন যার নম্বর ১৪।

মামলা হওয়ার প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও পুলিশ আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি,তারই প্রতিবাদে ও বুলুকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে তার বছরের কন্যা মাইশা (১১) ও পুত্র রিয়াদ (৫) , তার নানা, নানী সহ পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।

রেনুর বাবা খায়রুল ইসলাম বলেন যে, আমি গরিব মানুষ, আমি কি ন্যায় বিচার পাবো না, দেড় মাসেও আসামী গ্রেফতার হয়নি আদৌ হবে কি না জানি না। তিনি হত্যকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেন। তিনি আরো জানান যে ৭ দিনের মধ্যে গ্রেফতার না করলে আমি অনশন করবো।

রেনুর কন্যা মাইশা বলেন, আমার বাবার সাথে দাদি ও আমার ফুপু হত্যার সাথে জড়িত থাকতে পারে। তাদের কে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব বেড়িয়ে আসবে। আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই,আমার বাবার ফাঁসি চাই।

এছাড়াও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য আমিনা সিদ্দিকা মেরী, মোঃ শরিফ বিল্লাহ, মোঃ সাফিউল ইসলাম সাফি ও রেনু বেগমের বোন মোছাঃ খাদিজা আক্তার, কন্যা মাইশা ও পুত্র রিয়াদ।

শ্রীমঙ্গলে নারী মাদক কারবারি গাঁজাসহ আটক

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গতকাল (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে থানা এলাকায় ২৫৫ গ্রাম গাঁজাসহ মিরা নায়েক (৬০) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে শ্রীমঙ্গল থানার এসআই এহসানুল হক হীরা সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সসহ আসামিকে আটক করেন।

শ্রীমঙ্গল থানার সুত্রে বরাত দিয়ে জানা যায়, গতকাল রাতে শ্রীমঙ্গল থানাধীন কালীঘাট ইউনিয়নের জাগছড়া চা বাগানের ৬ নাম্বার লাইনের মীরা নায়েক নামে নারী আটক হয়।য আটককৃত আসামির বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে আসামিকে তল্লাশি করে তার হেফাজত থেকে একটি ব্যাগে ২০০ গ্রাম এবং ৪৯ পুড়িয়া গাঁজাসহ মোট ২৫৫ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়। আটককৃত আসামি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় আটককৃত নারী কারবারির বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে যোগাযোগ করলে অফিসার ইনচার্জ ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার সত্যতা নিশ্চিত করেন ও বলেন আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশি হেফাজতের মাধ্যমে আসামিকে মৌলভীবাজার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্টেডিয়ামে পতাকা টানিয়ে বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন আর্জেন্টিনার

স্পোর্টস ডেস্কঃ কাতারের এক ফুটবল বিশ্বকাপ যেন বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ এবং আর্জেন্টিনার মধ্যকার সম্পর্কের চিত্র। এই বিশ্বকাপের আগে থেকেও বাংলাদেশের মানুষ আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে সমর্থন করলেও সেটি বিশ্ববাসীর কাছে খুব বেশি ফুটে ওঠেনি। এবার বাংলাদেশকে সম্মান জানানোর অভূতপূর্ব এক ঘটনার জন্ম হলো আর্জেন্টিনার ঘরোয়া লিগে। আর্জেন্টিনার প্রিমেইরা ডিভিশনের এক ম্যাচ শুরুর আগে মাঠে বাংলাদেশের পতাকা এনে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

আজ (৭ ফেব্রুয়ারি) দিয়েগো ম্যারাডোনার কোচিংকৃত ক্লাব হিমনাসিয়া এবং ডিফেন্স ওয়াই জাস্টিসিয়ার মধ্যকার খেলাটি এস্তাদিও হুয়ান কারমেলো জেরিলো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে খেলা শুরুর আগে মাঠে আনা হয় বাংলাদেশের পতাকা। এই সময় নিজেদের পতাকার মধ্যে বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে ‘গ্র্যাসিয়াস বাংলাদেশ’ লেখা আর্জেন্টিনার পতাকাও পাশে রাখা হয়।

কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের দর্শক, ভক্ত-সমর্থকদের আবেগ-উন্মাদনা বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লে সেটি দৃষ্টিগোচর হয় আর্জেন্টাইনদেরও। এরপর থেকে বাংলাদেশকে নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় আর্জেন্টাইন সমর্থক, দলটির কোচ এবং খোদ লিওনেল মেসিকেও।

বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি তো বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। একই সময়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বাংলাদেশকে ঘিরে পোস্ট করা হয়।

সম্প্রতি মেসি ডায়রিও ওলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের আর্জেন্টাইন ফুটবল ভক্তদের কথা টেনে আনেন। জানান, বাংলাদেশি সেই আর্জেন্টাইন ফুটবল ভক্তদের সম্পর্কে জানেন তিনি, দেখেছেন ভিডিও।

 

ব্যাংক কর্মকর্তা হত্যা মামলায় ১জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে ব্যাংক কর্মকর্তা রণজিৎ পাল হত্যা মামলায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ড ও চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. শাহাদাৎ হোসেন প্রামাণিক এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিপন পাল মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনোহর কোণা গ্রামের মৃত রবীন্দ্র কুমার পাল ওরফে রবি পালের ছেলে।

এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-একই গ্রামের যোগেন্দ্র পালের ছেলে বিমল পাল, মৃত রবীন্দ্র কুমার পালের ছেলে উত্তম পাল, অনিল চন্দ্র পালের ছেলে আশীষ পাল, মৃত তারণ পালের ছেলে চিত্তরঞ্জন পাল ওরফে চিত্ত পাল। পাশাপাশি দণ্ডিতদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে জরিমানা অনাদায়ীদের আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ সময় আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বরাত দিয়ে আদালত সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ৩০ জুন রাত ৯টার দিকে মৌলভীবাজারের শমশেরনগর সড়কে চট্টগ্রাম সেনেটারি দোকানের সামনে আসামিরা ব্যাংকার রনজিৎকে জোরপূর্বক রিকশা থেকে নামায়। ওইসময় আসামি রিপন ধারালো অস্ত্র ডেগার দিয়ে রনজিৎয়ের বাম উরুতে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর জখম করেন। সে সময় আসামি বিমর পাল, উত্তম পাল, চিত্ত পাল ও আশীষ পাল ভিকটিমকে ধরে রাখেন। পরে আশপাশের লোকজন গুরুতর আহতাবস্থায় রনজিৎকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর ২৫০শয্যা হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী একই গ্রামের বাসিন্দা কাঞ্চন রানী পাল বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ২ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক স.ম কামাল হোসেন উল্লেখিত পাঁচ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

২০১৭ সালের ৩রা আগস্টে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত করা হয়। ২০১৬ সালের ২৮শে নভেম্বর ৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারকার্য শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানিতে ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক ১৮৬০ সালের পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্তক্রমে রিপনকে ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তার সহোদর উত্তমসহ চার আসামিকে একই ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সহ ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আদালতের এ রায়ের সন্তোষ প্রকাশ করেন। আসামির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এমাদুল্লাহ শহিদুল ইসলাম। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।