নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা গঠন করছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চলতি সপ্তাহে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা গঠন করবেন বলে জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ে রাজাপাকসে। দ্বীপরাষ্ট্রটিতে প্রাণঘাতী সহিংসতার জেরে প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে গোতাবায়ার বড় ভাই ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগের পর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

গতকাল বুধবার (১১ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়,  গোতাবায়ে রাজাপাকসে বলেন, ২২৫ আসনের পার্লামেন্টের নেতৃত্ব দেবেন নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভা। এছাড়া পার্লামেন্টকে আরও ক্ষমতা দিতে সাংবিধানিক সংস্কারেরও অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট মারাত্মক সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০০ জন মানুষ।

এদিকে, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগ করলেও প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ে রাজাপাকসে চলমান বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পি. নন্দালা উইরসিঙ্গী বলেন, দেশে যতি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে না আসে, তবে তিনি পদত্যাগ করবেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে কে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চালায়, তাতে কিছু আসে-যায় না। অর্থনৈতিক অবনতি ঠেকানোর কোনো উপায় থাকবে না। দেশটির সাধারণ মানুষ ক্রমবর্ধমান সংকটের জন্য গোতাবায়া রাজাপাকসে এবং তার পরিবারকে দায়ী করছেন। দেশটিতে রান্নার গ্যাস, জ্বালানি ও ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, অব্যাহত বিক্ষোভের মধ্যে পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীকে জনসাধারণের জীবন ও সম্পদের জন্য হুমকি সৃষ্টিকারীদের গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর সাঁজোয়া যানবাহনে সৈন্যরা বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বোর রাস্তায় টহল দিতে দেখা গেছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিসিক হতে যাচ্ছে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী স্থাপনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এ খবর শোনার পরপরই ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে এ জেলার নারী উদ্যোক্তারা বড় ধরনের স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের বিভিন্ন প্রকার খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে নতুন রূপে সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করবে ঠাকুরগাঁও জেলাবাসী।

জেলার বিসিক শিল্পনগরী সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের আকচা মৌজার ৫০ একর জায়গায় ৯৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)। একটি নির্দিষ্ট স্থানে পরিবেশবান্ধব শিল্প কমপ্ল্যায়ান্স সমৃদ্ধ আধুনিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে ২৪৯টি শিল্প প্লট তৈরি করে প্রায় ২৩০টি শিল্প ইউনিট স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে। যেখানে ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া এখানে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১০ শতাংশ হিসেবে ২৫টি শিল্প প্লট সম্ভাবনাময় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।

ঠাকুরগাঁও বিসিক শিল্পনগরীর উপব্যবস্থাপক নুরেল হক বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষিভিত্তিক একটি এলাকা। এ জেলায় অনেক ধরনের ফসল উৎপাদন হয়। যেমন গম, সূর্যাপুরী আম, আলু, মরিচ, দুধ, চিজ, পনির, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা ইত্যাদি ফসলের আশাতীত ফলন হয়। এই পণ্যসামগ্রী দিয়ে অনেক রকমের খাদ্যসামগ্রীর চাহিদা পূরণ হয় এ জেলা থেকে। বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরীতে ৫০ একর জমিতে ২৪৯ শিল্প প্লট থাকবে। এরই মধ্যে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে। তার মাধ্যমে আরো জেনেছি দ্রুততার সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হবে। যেহেতু এটি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী, সেহেতু খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে জড়িত তা যাচাই-বাছাই করে বরাদ্দ দেয়া হবে বলে জেনেছি।

ঠাকুরগাঁও উইমেনস চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও অন্যতম নারী উদ্যোক্তা চন্দনা ঘোষ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটা ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য অনেক বড় একটি সুখবর। এর মধ্যে জেলার পিছিয়ে পরা নারীরা এগিয়ে আসবেন এবং অনেক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।

জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, জেলাবাসীর জন্য এটি একটি বড় সুখবর। বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী স্থাপন হলে একটি পরিকল্পিত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হবে। এতে করে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার মাধ্যমে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে এ অঞ্চলের খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে। সর্বোপরি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল হিসেবে ঠাকুরগাঁও একদিন সুপরিচিত একটি জেলায় রূপান্তর হবে।

প্রসঙ্গত:  নতুন করে ৯৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী প্রকল্পটির অনুমোদন হলো। যেটি বাস্তবায়ন করবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশন।

রাস্তায়-রাস্তায় শুকানো হচ্ছে ধানের খড়, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

অলিউর রহমান মেরাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে রাস্তায়-রাস্তায় শুকানো হচ্ছে নতুন ধানের খড়। এতে আটকে আছে পুরো রাস্তা, এমনকি ঢেকে রাখা হয়েছে স্পিড ব্রেকারগুলো। গাড়ি চলাচলসহ মানুষ চলাচলের ক্ষেত্রেও বেশ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগে সম্প্রতি বিষয়টি সম্পর্কে দেখতে গেলে সরজমিনে পাওয়া গেছে এমনি চিত্র। নবাবগঞ্জ থেকে কাচদহ যাওয়ার রাস্তায় ধানের খড় শুকাতে দিয়েছে কয়েকজন। রাস্তার বেশির ভাগে জুড়েই ছড়িয়ে আছে ধানের খড়।

এমনকি স্পীড ব্রেকার গুলোও বাদ রাখা হয়নি। প্রায় সম্পূর্ণ রাস্তাই খড়ে ভর্তি। যেভাবে রাস্তায় খড় মেলে দেওয়া হইছে, কোনো মোটরসাইকেল সাধারণ গতিতে থাকলেও বড় ধরণের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। এবিষয়ে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, মানছে না সাধারণত মানুষ।

এক মোটরসাইকেল চালক অভিযোগ করে বলেন, আমি সাধারণ গতিতেই মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলাম, “কিন্তু ধানের খড় থাকাতে ছিটকে পড়েছি, যদিও ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হইনি। তবে পাকা চালক না হলে বিপদ নিঃসন্দেহে বিপদ হবে।

ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলায় এক মাদ্রাসার ছাত্রকে (১১) বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষকের  বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গত ১০ মে মঙ্গলবার বারহাট্টা থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম হাফেজ মুফতি আব্দুল বারেক (৩৫)। তিনি উপজেলার শ্রীরামপুর হোসনে আরা খন্দকার হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক বলে জানা গেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্যাতনের শিকার ছাত্রটি শ্রীরামপুর হোসনে আরা খন্দকার হাফিজিয়া মাদ্রাসার বোডিং-এ থেকে লিখা-পড়া করে। গত ২৫ এপ্রিল রাত দশটার দিকে ছাত্রটি তার এক সহপাটিকে নিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে আসে। ঘরে ফেরার সময় হুজুর আব্দুল বারেক ছাত্রটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করে। এ ব্যাপারে নির্যাতিত ছাত্রটি লজ্জায় কাউকে জানায়নি। কিন্তু, মলদ্বারে তীব্র ব্যাথার কারণে সে গত রবিবার দুপুরে বাড়িতে ফিরে গুয়ে  মায়ের কাছে শিক্ষকের  অপকর্মের কথা জানায়।

বারহাট্টা থানার ওসি মুহাম্মদ লুৎফুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন,  বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। মামলার পরপরই ওই শিক্ষক গা ঢাকা দিয়েছে। তাকে গ্রেফতারের  চেষ্টা চলছে।

দ্বিতীয় বারের মতো হবিগঞ্জের শ্রেষ্ঠ এএসআই মনোনীত হলেন সুফিয়ান

সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ দ্বিতীয় বারের মতো হবিগঞ্জের শ্রেষ্ঠ এএসআই মনোনীত হলেন এএসআই সুফিয়ান। ভাল কাজের স্বীকৃতি স্বরপ গত ২২ এপ্রিল হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার মুরাদ আলির কাছ থেকে এ স্বীকৃতি পেয়েছেন।

জানা যায়, নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ডালিম আহমেদের দিকনির্দেশনায় ও থানার সকল অফিসার এবং ফোর্সদের সহযোগিতায় ভাল কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ দ্বিতীয় বারের মতো ‘অভিন্ন মানদন্ডে’ সুফিয়ানকে হবিগঞ্জ জেলার “শ্রেষ্ঠ এএসআই (নিঃ)” মনোনীত করা হয়। অনেকের ধারনা যদি তিনি সকলের সহযোগিতা পান তাহলে মানুষের কল্যানে আরো ভাল কাজ করতে পারবেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহফুজা আক্তার শিমুল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মাহমুদুল হাসান ও প্যারেড কমান্ডার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী পুলিশ সুপার (বাহুবল সার্কেল) আবুল খয়ের, আরআই সহ অত্র জেলার সকল অফিসার ইনচার্জগণ।

জুনেই পদ্মা সেতু উদ্বোধনঃ ওবায়দুল কাদের

জাতীয় ডেস্কঃ আগামী জুন মাসেই বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ বুধবার (১১ মে) দুপুরে বনানীর সেতু ভবনে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভা শেষে এ কথা জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পদ্মা সেতু উদ্বোধন নিয়ে ধোঁয়াশার কোনো কারণ নেই। আমি মন্ত্রী হিসেবে জেনে-শুনেই বলছি, জুনেই সেতু উদ্বোধন করা হবে। আগামী মাসের শেষ দিকে আমরা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ পাঠাচ্ছি। আমরা শেষ দিকে আছি, সামান্য কিছু কাজ বাকি। এটা মে মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময় দিলে জুনের শেষেই পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হবে।’

সেতুর কাজের অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মূল সেতু বাস্তবায়ন কাজের অগ্রগতি ৯৮ ভাগ, নদী শাসন ৯২ ভাগ, মূল সেতুর কার্পেটিং ৯১ ভাগ, সার্বিক সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৫০ ভাগ শেষ।’

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প কর্ণফুলী টানেলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে টানেলের কাজ চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের প্রায় ৮৫ ভাগ কাজ শেষ। আশা করছি এই বছরে এই প্রকল্পের আলোর মুখ দেখবে।’

পদ্মা সেতুর নাম ‘শেখ হাসিনা-পদ্মা সেতু’ নামকরণে সেতু বিভাগ প্রস্তাব দেবে বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘সেতুটি উদ্বোধনের আগেই আমরা ‘শেখ হাসিনা -পদ্মা সেতু’ নামকরণ করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেবো। তিনি সম্মতি দিলে আমরা এ নামে সেতুর উদ্বোধন করবো।’

 

ফুলবাড়ীতে পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ দুই বছর বয়সের শিশু বাড়ীর পাশের পুকুর পাড়ে খেলতে গিয়ে সকলের অগোচরে পানিতে পড়ে মারা যায়। মঙ্গলবার (১০ মে) দুপুরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের তালুক শিমুলবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ওই গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো.শরিফুল আলম মিয়া সোহেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নং ওয়ার্ডের ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানঃ আজ বুধবার (১১ মে) সকাল ১০ টা থেকে ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নং ওয়ার্ডের ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। ফুটপাতে গড়ে উঠা হকারদের দোকানসহ রাস্তার দুই পাশের অবৈধ সব স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। মুলত রাস্তা প্রশস্তকরণ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

উচ্ছেদ অভিযানের সময় হকাররা এবং দোকানদাররা বাধা প্রদান করার কোন সুযোগ এবার পাচ্ছেন না। কারন গত দেড় মাস আগেই তাদেরকে এই অভিযান শুরু করার কথা জানানো হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মলের ঠিক উলটো পাশের কাঠালবাগান রাস্তায় অভিযান চলছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।

এছাড়া এর আগে গতকাল মঙ্গলবার এই অভিযানের বিষয়ে ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে দিনভর মাইকিং করে জানানো হয়েছে।

ভাসমান নগরী ভেনিস

ভেনিস জলে ভাসমান একটি শহর, নীল স্বচ্ছ পানির উপর দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন প্রাচীন প্রাসাদ। প্রাসাদের মাঝে এঁকে বেঁকে বয়ে চলেছে নদী। স্বচ্ছ পানিতে তাকালেই প্রাচীন নান্দনিক শহরের প্রতিবিম্ব ভেসে উঠছে। যেন শিল্পীর নিদারুণ কারুকাজে আঁকা শহরের প্রতিবিম্ব। বলছি শেক্সপিয়ারের নাটক মার্চেন্ট অফ ভেনিস এর সেই বিখ্যাত শহর অথবা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও জনি ডেপের বিখ্যাত দ্যা টুরিস্ট সিনেমার সেই শহর, ইতালির ভেনিস নগরী। CNBD আজকের পর্বে থাকছে, ভেনিস সম্পর্কে জানা অজানা সব তথ্য—–

বলিউড, হলিউড সিনেমার হাজারো ছবির গানের শুটিংয়ে যে শহরের সৌন্দর্য প্রতিনিয়ত ফুটে উঠছে। ভূ-মধ্য সাগরের বুকে সেই শান্তিপূর্ণ রোমান্টিক শহর ইতালির ভেনিস নগরী। ইতালির সবচেয়ে নান্দনিক সৌন্দর্যের আর ঐতিহাসিক একটি নগরী হল ভেনিস নগরী।

ইউরোপের সবচেয়ে রোমান্টিক শহর ভেনিস। পানির উপর ভেসে থাকা দৃষ্টিনন্দন প্রাসাদ, তার গা ঘেঁষে এঁকেবেঁকে বয়ে চলার স্বচ্ছ পানি লেকের জন্য পৃথিবী জুড়ে বিখ্যাত। পৃথিবীর ভাসমান শহরের তালিকায় সব সময় শীর্ষে ভেনিসের নাম। ভেনিস শহরটির মত নান্দনিক শহর পৃথিবীতে কমই আছে। পুরো শহরের বুক জুড়ে থাকা পানিতে প্রাসাদের প্রতিচ্ছবি আর আকাশের মেঘগুলোতে লেকের জলে লুটোপুটি খায়। অপূর্ব সুন্দর এই শহরটি তাই, সারা পৃথিবীর পর্যটকদের কাছে প্রিয় একটি শহর।

ভেনিসে সারাবছরই পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত থাকে। প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার পর্যটক ভেনিসের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। ভেনিসের শিল্প-সাহিত্য, বিশেষ করে স্থাপত্য শিল্পের যে কারো মন জুড়িয়ে যায়। প্রতিটি ঘরবাড়িও যেন এক একটি নান্দনিক রূপ। রংবেরঙের কারুকার্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে জলের মধ্যে। এ যেন এক অপরূপ জলের শহর। ভেনিস শহরটি মূলত কতগুলো দ্বীপের সমষ্টি।

আদ্রিয়াটিক সাগরের উপকূলে ইতালির ভেনিটো অঞ্চলে বো অফ পিয়াভব নদীর মিলনস্থলে প্রায় ৪১৪.৫৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত ভেনিস। ৩ লাখ নাগরিক বুকে ধারণ করছে ভেনিসের ১১৮ টি ছোট ছোট দ্বীপ। ১১৭টি খাল আর এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে পায়ে হেঁটে যাওয়ার জন্যে রয়েছে ৪০৯টি সেতু। আর তাই রূপের পসরা`সাজানো ভেনিসকে ভাসমান নগরীও বলা হয়।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, জলদস্যুদের হাত থেকে রক্ষার জন্য এখানে প্রবাসীরা বসতি গড়ে তোলে। পরে লোক সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং পানির উপরে উঠে এই শহরে। ভেনিসে গাড়ি চালানোর কোনো রাস্তা নেই, বরং পুরো শহর জুড়ে গাছের শিকড়ের মত খাল, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হলে উপায় একমাত্র ছোট ডিঙি নৌকা। ভেনিসে বসবাস করা প্রতিটি পরিবারের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা হল এই নৌকা। বাড়ির সাথে বাঁধানো থাকে তাদের নিজস্ব নৌকা বা স্পিড বোড।

ভেনিসের জলযানের একটি আকর্ষণীয় রোমান্টিক জলযান হলো গান্ডোলা। আর এই ঐতিহ্যবাহী গান্ডোলা সকল পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। চমৎকার কারুকার্য খচিত শিল্পীর শৈল্পিক ছোঁয়ায় ফুটে ওঠা গন্ডোলার চড়ে নদীর জলে ভাসতে ভাসতে দেখতে পারবেন ভেনিসের পর্যটন কেন্দ্রের প্রধান আকর্ষণ গুলো। আর নয়তো খালের পাশ দিয়ে তৈরি পায়ে চলার পথে ঘুরে বেড়াতে পারেন। তবে, মজার বিষয় হচ্ছে আপনি যতই হাঁটেন চারপাশের পানি থাকায় ভেনিসের প্রধান দ্বীপের বাইরে চলে যাওয়া ভয় নেই।

তাছাড়া একটু পরপরই দেখার মত কিছু না কিছু তো পাবেন, সেটা হতে পারে প্রাচীন কোন চার্চ, জাদুঘর বা প্রদর্শনী। আর একটু পরপর মুখোশ, টুপি বা নানা রংয়ের কাচের জিনিসের দোকান তো আছেই। ভেনিসের পরোতে পরোতে ছড়িয়ে আছে মোহনীয় সৌন্দর্য। রোমান্টিক শহর ভেনিস নবদম্পতিদের হানিমুনের জন্য দারুণ জনপ্রিয় একটি জায়গা। তাই এ শহরকে সিটি অফ লাভ বলেও ডাকা হয়।

মাকড়সার জালের মত পুরো ভেনিস শহর জুরে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য খাল। এর মাঝে এই শহরকে দ্বিখণ্ডিত করেছে গ্র্যান্ড ক্যানেল। নৌকা, স্পিড বোডের যাতায়াতের পথের এই সব খাল থেকে দেখতে পাবেন শহরের চোখ জুড়ানো রং, নকশা ও দারুণ স্থাপত্যশৈলী। খালের উপরে রয়েছে চমৎকার সব সেতু। এসব সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

তবে সবচেয়ে সুন্দর জমকালো সেতু হলো রিয়ালটো ব্রিজ। যা গ্র্যান্ড ক্যানেলের উপর স্থাপিত। খালের মধ্যে থেকে এই সেতুর অপূর্ব কারুকার্য দর্শনার্থীদের মন ছুঁয়ে যায়। ভেনিসে আসলে গন্ডোলায় চড়ে এই সেতুর নিচে পাড় না হলে, পুরো ভ্রমণই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

মুখোশের শহর হিসেবে সারা বিশ্বে দারুণ খ্যাতি আছে ভেনিস নগরীর। প্রতি বছর ভেনিসে মুখোশের কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়। এই কার্নিভাল উপলক্ষে অসাধারণ কারুকার্য খচিত শৈল্পিক রুচির সমন্বয়ে তৈরি হয় চমৎকার সব মুখোশ। ভেনিস গেলেই পর্যটকরা রংবেরঙের এই মুখোশগুলো কিনে থাকেন। ভেনিস নগরীর এক পেয়াজ্য সান মার্গোতে রয়েছে আকর্ষণীয় ভোজ প্যালেস। প্রাচীন স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত এই ভবন মূলত একটি জাদুঘর।

এছাড়া এখানে ছোট ছোট আরো অনেক পুরনো মনোমুগ্ধকর স্থাপত্য প্রাসাদ, জাদুঘর রয়েছে। তার পাশাপাশি অনেক রকমের বুটিক ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। ভাসমান শহর ভেনিস সামুদ্রিক খাবারের জন্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। যারা সীফুড প্রেমিক তাদের জন্য খাবারের স্বর্গরাজ্য ভেনিস। এখানে ভূমধ্যসাগরের নানান সামুদ্রিক খাবারের সাথে পাবেন উত্তর আটলান্টিক থেকে নিয়ে আসা অক্টোপাস স্কুইডো।

পৃথিবীর বিখ্যাত অপেরা হচ্ছে ইতালির অপেরা। টেট্রোলা ফ্যারিস প্রাসাদ টি দ্যা ফেলিক্স নামে অপেরা হাউসে পর্যটকরা আসে ইতালির বিখ্যাত অপেরা শোনার জন্য। এছাড়া ভেনিসের সেন্ড মার্কে অবস্থিত বিখ্যাত স্থাপত্য ক্যাথেড্রল। এটার চারদিকের দেয়ালে নানান সুসজ্জিত কারুকার্য খচিত চিত্রকর্ম, অক্ষরের লিপিবদ্ধ নানান কাহিনী পর্যটকদের বিমোহিত করে।

ভেনিসের লিডে দ্বীপ পর্যটকদের জন্য আরেকটি চমৎকার স্থান, এটি কে বলা হয় ভেনিসের সোনালী দ্বীপ। এ দ্বীপের সমুদ্র সৈকতে গোধূলি লগ্নে সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করতে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে। ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে একটি স্বপ্নের নগরী ভেনিস। সব মিলিয়ে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা, এই শহরটা সৌন্দর্যের মুহূর্তে আপনাকে মুগ্ধ করবে।

মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে টিকটকারদের উৎপাত

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে গত কয়েকদিন ধরে কিশোর ও তরুণ বয়েসের ছেলে, মেয়েদের টিকটক তৈরির নামে চরম উৎপাত বেড়েছে। টিকটিক ভিডিও তৈরি করতে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিশোর-তরুণরা মৃত্যুঝুঁকি নিয়েও পাহাড়ের চূড়ায় উঠছেন। এমন কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে পর্যটকদের হয়রানি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। টিকটকারদের উৎপাতের কারণে মাধবকুণ্ডে ঘুরতে আসা পর্যটকরা রীতিমতো বিব্রত। এতে পর্যটকের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুলিশ বলছে, পর্যটকের নিরাপত্তায় তারা সবসময় কাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে গেছে, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে পর্যটকের ঢল নেমেছে। প্রতিদিন আশপাশের জেলা-উপজেলার পাশপাশি দেশের নানা প্রান্তের মানুষ ছুটে আসছেন মাধবকুণ্ডে। এই সুযোগে বড়লেখা ও আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন এলাকার উঠতি বয়সী কিশোর ও তরুণ টিকটকররা মাধবকুণ্ডে ঘুরতে আসছেন। তারা এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের নানাভাবে হয়রানি করছে। তারা জলপ্রপাতের পানিতে গোসল করতে নামা নারী পর্যটকের ভিডিও ধারণ করছে। এতে পর্যটকদের সঙ্গে তাদের কথাকাটি হচ্ছে। এছাড়া তারা টিকটক ভিডিও তৈরি করতে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে পাহাড় চূড়ায় উঠছে।

এদিকে, মাধবকুণ্ডে ঘুরতে আসা কয়েকজন পর্যটককে টিকটকাররা হয়রানি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার মাধবকণ্ড জলপ্রপাতে কুলাউড়া ও জুড়ী থেকে ঘুরতে আসা কয়েকজন পর্যটককে টিকটকারা পানি দিয়ে ভিজিয়ে দেয়। এনিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটি হয়। পরে তারা পর্যটকদের মারধর করে। এসময় স্থানীয়রা টিকটকারদের উত্তম-মাধ্যম দিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখেন।

উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন বলেন, মাধবকুণ্ডে কুলাউড়া ও জুড়ী থেকে ঘুরতে আসা কয়েকজন পর্যটককে টিকটকাররা পানি দিয়ে ভিজিয়ে দেয়। এনিয়ে কথা কাটাকাটি ও পরে তাদের মারধর করে টিকটকররা। স্থানীয়রা তাদের ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসেন। পরে ভবিষ্যতে এরকম কাজ করবে না মর্মে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

মাধবকুণ্ডে ঘুরতে আসা পর্যটক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মাধবকুণ্ডে ইদানিং যেভাবে টিকটকারদের উৎপাত বেড়েছে। এতে মাধবকুণ্ডের পরিবেশ অনিরাপদ হয়ে যাচ্ছে। এখানে ঘুরতে এসে দেখছি টিকটকাররা যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে ভিডিও করছেন। এই অবস্থায় নারী পর্যটকরা বিব্রতবোধ করছেন। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

নাম প্রকাশ না শর্তে স্থানীয় মাধবকুণ্ড এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন কিশোর-তরুণ টিকটকরার এখানে এসে ভিডিও তৈরি করছে। তারা পর্যটকদের হয়রানি করছে। আপত্তিকর ভাষায় কথা বলছে। অনেকে প্রতিবাদ করেন। অনেকে আবার ভয়ে কথা বলেন না। তাদের উৎপাতে পর্যটকরা বিব্রত। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে পরে আমাদের ওপর হামলা করবে। তাই আমরাও প্রতিবাদ করিনা। পুলিশও তাদের বিরুদ্ধে কোনো এ্যাকশন নিচ্ছে না। তবে শুক্রবার কয়েকজন নারী পর্যটককে হয়রানির কারণে পুলিশের টনক নড়েছে।

মাধবকুণ্ডে ট্যুরিস্ট পুলিশের দায়িত্বে থাকা এসআই খায়রুল ইসলাম বলেন, পর্যটকরা যাতে কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হন সেজন্য আমরা সবসময় কাজ করছি। শুক্রবার পর্যটকদের সাথে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। আমি ডিউটিতে ছিলাম না। অন্য একজন ছিলেন। পরে শুনেছি বিষয়টি সমাধান হয়েছে। আজকেও প্রতিদিনের মতো পর্যটকরা আসছেন। পরিবেশও ভালো। কোনো সমস্যা নাই।

ঝুঁকি নিয়ে পাহাড় চূড়ায় উঠার বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কেউ উপরে উঠতে পারে না। যারা উঠার চেষ্টা করেন তাদের আমরা সতর্ক করছি।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী বলেন, ঈদের দিন থেকে এখানে অনেক পর্যটকের সমাগম ঘটছে। শুক্রবার পর্যটকদের মধ্যে গায়ে ধাক্কা লাগা নিয়ে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় সেখানে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। শুক্রবারও পর্যটকের নিরাপত্তার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। শনিবারে ও বন্ধের দিন থাকায় পর্যটকদের আনাগোনা বেশ চোঁখে পড়ার মতো।