প্রধানমন্ত্রীর ১০টি উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে আত্রাইয়ে দিন ব্যাপী কর্মশালা

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলা পর্যায়ে দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকতেখারুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ এবাদুর রহমান প্রামানিক।দিনব্যাপী এ কর্মশালায় প্রশাসনিক কমকর্তা, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, ইমাম ও এনজিও প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেয়।

প্রধানমন্ত্রীর দশটি উদ্ভাবনী বিশেষ উদ্যোগের প্রতিটিই অত্যন্ত চমকপ্রদ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে প্রধান অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ এবাদুর রহমান প্রামানিক তার বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রঅর বিশেষ দশটি উদ্যোগ স্বল্পোন্নত হতে উন্নয়নশীল আর উন্নয়নশীল থেকে আমরা উন্নত রাষ্ট্রের পথে হাটছি।দেশকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অনেক উদ্যোগ আছে। তবে তাঁর বিশেষ দশটি উদ্যোগ বাঙ্গালী জাতির ভাগ্যোন্নয়নে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে বদলে দিয়েছে। এসব উদ্যোগকে আরো বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দশটি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে, আমার বাড়ি আমার খামার,আশ্রায়ণ প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম, নারীর ক্ষমতায়ন কার্যক্রমসমূহ, সবার জন্য বিদ্যুৎ,সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কমিউনিটি ক্লিনিক ও শিশু বিকাশ, বিনিয়োগ বিকাশ ও পরিবেশ সুরক্ষা।

তিনি আরো বলেন,পদ্মাসেতু আমাদের জন্য আর্শীবাদ। স্বপ্নের পদ্মাসেতু উদ্বোধন হলে আমাদের সাতক্ষীরা জেলাসহ দক্ষিণ বাংলার মানুষের ভাগ্যের দুয়ার খুলে যাবে। বহিবিশ্ব ভাবছে কি ভাবে বাংলাদেশ এত দ্রুত উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিনত হলো। সবই সম্ভব হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতা ও বলিষ্ট নের্তৃত্বের কারণে। কোন দেশ যা পারেনি জননেত্রী শেখ হাসিনা তাই পেরেছেন। গৃহহীনদের জন্য জমি ও ঘর দিয়ে। তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার দশটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ সকলের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

বন্যার্তদের পাশে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: ভারিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বিপর্যস্ত সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলা। সাম্প্রতিক বন্যায় মৌলভীবাজার জেলার ৫টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। বড়লেখা, কুলাউড়া, রাজনগর, সদর ও জুড়ী উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়েছে। এসব উপজেলায় নারী-শিশুসহ প্রায় ৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন  আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক মানুষ পানিবন্দী হয়ে আটকা পড়ায় তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে কাজ করছে জেলা পুলিশ, মৌলভীবাজারের কুইক রেসপন্স টিম।

মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া এর নেতৃত্বে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ইতোমধ্যে ২৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ২ মেট্রিকটন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা হয়েছে। থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এসবের পাশাপাশি রান্না করা খাবারও সরবরাহ করা হচ্ছে।

বন্যা কবলিত উপজেলাগুলোর অফিসার ইনচার্জগণের নেতৃত্বে থানা পুলিশ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সর্বদা তৎপর রয়েছেন। প্রাকৃতিক দূর্যোগের সুযোগে কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না করতে পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তা ও সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিতে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে “বন্যা মনিটরিং সেল ” চালু করা হয়েছে। বন্যা মনিটরিং সেল এর হটলাইনে ফোন করে সহায়তা চাইলে দ্রুত উদ্ধারকারী দল পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, দেয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় সাহায্য।

বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন,বন্যা পরিস্থিতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্টদের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় রাখা হচ্ছে। মৌলভীবাজার জেলার বন্যা কবলিত মানুষের পাশে আছে জেলা পুলিশ। যেকোনো প্রকার সহায়তার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।

কমলগঞ্জে দিন দুপুরে চুরি

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দিন দুপুরে এক সেনা সদস্যের বাড়ীতে ঘরের টিনের চাল ভেঙ্গে চুরি সংঘঠিত হয়েছে বলে জানা যায়। সোমবার বিকালে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মনিপুরী পল্লী ঝপলারপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সেনা সদস্য আশিষ সিংহের স্ত্রী সুবর্না সিংহ জানান, আমার স্বামী কুমিল্লা ক্যান্টরমেন্ট এ কর্মরত রয়েছেন। বাড়ীতে শাশুড়ীসহ সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন। দিনের বেলা তার শাশুড়ী বাজার করার উদ্দেশ্যে মাধবপুর বাজারে যাওয়ার সময় ঘর তালাবদ্ধ করে টাকা উত্তোলন করে বাজার করবেন বলে যান। এ সময় বাড়ী ফাঁকা পেয়ে চোর ঘরের টিনের চালা কেটে চোরি করে পালিয়ে যায়। বাড়ী ফিরে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। ঘরে প্রবেশ করে দেখেন ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে রাখা। ঘরে রক্ষিত ৪ ভরি স্বর্নলংকারসহ প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল চোরি করে নিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে সন্ধ্যায় কমলগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই মহাদেব বাচার, মাধবপুর ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যান আসিদ আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গোমতীর পানি বিপৎসীমার কাছে

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা জেলা মুরাদনগর উপজেলার ১৩নং সদর ইউনিয়ন এবং ১৫নং নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গোমতী নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে; ইতোমধ্যেই পানি উঠেছে গোমতীর চরের বেশ কিছু বাড়িতে।সোমবার বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার নিচে পানি প্রবাহিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকোশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালীউজ্জামান ।২৫ জুন পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানান তিনি।

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যেই গোমতীর চর ডুবে গেছে। গোমতীর চরে কৃষকরা সারা বছরই সবজি চাষ করে থাকেন। বর্তমানে চর ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।চর ডুবতে থাকায় অসময় ফসল তুলে নিচ্ছেন চাষিরা।

১৫ নং নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী ভিপি জাকির বলেন আমার ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চৌধুরী কান্দি , নয়া কান্দি।চর এলাকার প্রায় ১৩০টি পরিবার পানিবন্দি।আমি এমপি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে পরিদর্শন করি এবং তাদের খোঁজ খবর নেই।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উদয়পুরের সোনাইমুড়ি এলাকায় গোমতীর উৎপত্তি। এর প্রায় ৯০ কিলোমিটার ভাটিতে কুমিল্লা। নদীটি কুমিল্লা সদর, বুড়িচং, দেবিদ্বার, মুরাদনগর, তিতাস ও দাউদকান্দি উপজেলা হয়ে মিলিত হয়েছে মেঘনায়।সম্প্রতি ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টি হয়। এতে সেসব এলাকাসহ তার উজানে থাকা বাংলাদেশের সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বন্যা দেখা দিয়েছে।

কুলাউড়া থানা পুলিশ খাবার হাতে আশ্রয় কেন্দ্রে

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়াসহ প্রায় প্রত্যেকটি উপজেলায় টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত বানভাসি মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেছে থানা পুলিশ।সোমবার (২০ জুন) দুপুরে ভূকশিমইল ইউনিয়নের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্র‍য় নেওয়া পাঁচ শতাধিক বানভাসি মানুষদের মাঝে খাবারের (বিরিয়ানি) প্যাকেট বিতরণ করে থানা পুলিশ।

থানা পুলিশের উদ্যোগে খাবার বিতরণীতে উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাওসার দস্তগীর, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুছ ছালেক, কুলাউড়া থানার এসআই এনামুল হক, পরিমল চন্দ্র দাস, আব্দুর রহিম, আলিম উদ্দিনসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

ওসি আব্দুছ ছালেক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি জনগণের দুর্ভোগে পরিবেশের অনাকাঙ্ক্ষিত এখন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সুযোগ্য স্যার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া এর নির্দেশে এই কার্যক্রম বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সবসময় পুলিশ জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। বন্যা পরিস্থিতিতেও পুলিশকে বন্যার্তদের পাশে সব সময় আছে বলে জানান তিনি।

নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সোমেশ্বরী নদী ছাড়া জেলার সব কয়টি নদ-নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। এতে জেলার দশ উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানি বন্দী হয়ে আছে  প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ। বন্যা কবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, জেলা আনসার ভিডিপি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলছে বানবাসি মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, নগদ টাকা, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরন।

এ দিকে জেলার হাওর উপজেলা খালিয়াজুরীতে বন্যায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার, ত্রাণ বিতরন ও চিকিৎসা সেবা দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে কাজ করছেন সেনাবাহিনী। এরই মধ্যে বন্যার পানিতে নেত্রকোণা-কলমাকান্দা, নেত্রকোণা-মোহনগঞ্জের রেলপথসহ জেলার অভ্যন্তরিক সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে ।

প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার ১০টি উপজেলার ৬২টি ইউনিয়ন পাহাড়িঢল ও অতিবৃষ্টিতে বন্যা কবলিত হয়েছে। ঢলের পানিতে অসংখ্য রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ফসলী জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। অসংখ্য পুকুর পানিতে তলিয়ে ভেসে গেছে মাছ।

এ পর্যন্ত বন্যা দূর্গত মানুষদের জন্য ৩২৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাতে প্রায় ১লাখ ৫ হাজার ৯৩৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে পানি বন্দী অনেকেই যারা আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে পারেনি তারা তাদের শিশুদের ও গবাদি পশু নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কাছাকাছি কোন আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বা উচু কোন স্থানে। আবার অনেকেই তাদের গবাদি পশু রেখেছেন সড়কের উপর নির্মিত ব্রীজে।

এ দিকে নেত্রকোণার খালিয়াজুরীর উপজেলায় বন্যায় কবলিতদের উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা দিতে সেনাবাহিনীর ১৩০ সদস্যের দলটি রবিবার স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে কাজ শুরু করেছে।

এ ছাড়াও বন্যা কবলিত এলাকায় বিতরণের জন্য ১শ মেঃ টন চাল, ২০ লাখ টাকা ও ৫ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জেলা ও উপজেলায় কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে।

বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

সিলেটে বন্যার স্রোতে ভেসে এলো মা-ছেলের মরদেহ

সিএনবিডি ডেস্কঃ আজ মঙ্গলবার (২১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেটের জৈন্তাপুরে বন্যার পানিতে ভেসে আসা মা এবং ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে  জৈন্তাপুর থানা পুলিশ।

জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ জানিয়েছেন, গত শুক্রবার জৈন্তাপুরের ছাতারখাই হাওরের পার্শ্ববর্তী আমিরাবাদ গ্রামের মেয়ের বাড়ি থেকে ছেলেসহ নিজ বাড়ি মহাখলা ফিরছিলেন ওই নারী। সড়কের ওপর দিয়ে যাওয়া প্রবল স্রোতে তারা দু’জনই ভেসে যান। নেটওয়ার্ক না থাকায় তাদের নিখোঁজের খবর পাওয়া যায় নি। আজ সকালে লাশ পানিতে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

তিনি আরো বলেন, এমন মর্মান্তিক ঘটনা আরো ঘটেছে কী না আমরা জানি না। কারণ শুক্রবার ও শনিবার প্রবল স্রোত ছিলো ওই এলাকায়। মা ও ছেলে তলিয়ে যাওয়ার পর কেউ খবর নিতে পারেননি। নাজমুন নেছার স্বামী আজর আলীও পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিলেন।

এদিকে জৈন্তাপুর থানার ওসি গোলাম দস্তগীর আহমদ জানিয়েছেন, আজ সকালে স্থানীয়রা ফোন করে দুটি লাশ এক সঙ্গে ভেসে থাকার খবর জানান। এরপর পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

 

ভাড়ি বর্ষণে আশ্রয়ন প্রকল্পে বানের পানির হানা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: গত কয়েক দিনের টানা ভাড়ি প্রবল বৃষ্টিতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মনু নদীর পাড়ের প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪১টি ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। গত রোববার (১৯ জুন) রাতে এসব ঘরে পানি প্রবেশ করে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।পানি কোমরের উপরে উঠে যাওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ, নারী সবাই পাশ্ববর্তী মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। রাতেই সব ঘরের লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।

এদিকে বন্যা আক্রান্তদের জন্য এখনো কোন ত্রাণ সামগ্রীর ছোঁয়া লাগেনি। ইতিমধ্যে চাঁদনী ঘাট ইউপি চেয়ারম্যান আখতার উদ্দিন , জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তবে কোন সহযোগিতা কেউ করেনি বলে জানিয়েছেন, ভূক্তভোগীরা।

সোমবার (২০ জুন) বেলা ১২টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান সরেজমিন গিয়ে দুর্ভোগে পড়া লোকজনকে পাশ্ববর্তী মাদ্রাসায় স্থানান্তরিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা গেছে।

নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভেতর অংশে এধরণের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প করাও সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলোনা বলে এলাকাবাসী জানান।

এদিকে মৌলভীবাজারের উপর দিয়ে বয়ে চলা মনু নদীর পানি বেলা দেড়টায় বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। তবে কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। ফলে লোকজনের মাঝে বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতরাতে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে পানি হানা শুরু রাত থেকে।গ্ৰামবাসী নিদ্রাহীন রাত কাটিয়েছেন বাঁধ ভাঙার খবর জানতে পেরে।

রায়পু‌রে চোরাই গরু সহ দুই চোর আটক

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পু‌রে চোরাইকৃত গরু সহ দুই চোর‌কে আটক ক‌রে‌ছে থানা পু‌লিশ। সোমবার (২০ জুন) রায়পুর থানা অ‌ফিসার উনচার্জ শিপন বড়ুয়ার নেতৃ‌ত্বে হায়দরগঞ্জ পু‌লিশ ফাঁড়ির আইসি সুরেজিৎ বড়ুয়া, এসআই শিমুল কান্তি বড়ুয়া সহ সঙ্গীয় ফোর্স নি‌য়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় রায়পুর উপ‌জেলা‌ধিন চরআবা‌বিল এলাকায় অ‌ভিযান প‌রিচালনা ক‌রে  চোরাইকৃত গরু সহ দুই  চোর‌কে  আটক ক‌রে।

আটকৃকতরা হ‌লেনঃ-১। মোঃ রমজান(৪৮), পিতা-মৃত গিয়াস উদ্দিন সরকার, সাং-ধলপুর, থানা-যাত্রাবাড়ী, ডিএমপি, ঢাকা। ২। মোঃ হৃদয়(২৫), পিতা-মৃত বিল্লাল হোসেন, মাতা-সুফিয়া বেগম, সাং-সিনাবর, থানা-কালিয়াকৈর, জেলা-গাজীপুর, বর্তমানে-ধলপুর, থানা-যাত্রাবাড়ী, ডিএমপি, ঢাকা।

গরু চ‌ু‌রির ঘটনায় চরআবাবিল এলাকার চৌ‌কিদার বা‌ড়ির আ‌মির হো‌সে‌নের স্ত্রী  না‌ছিমা বেগম বা‌দি হ‌য়ে আটককৃত আসামী সহ ৪ জ‌নের না‌মে রায়পুর থানায় এক‌টি এজাহার দা‌য়ের ক‌রেন। যাহার মামলা নং নং-২৪, তারিখ-২০/০৬/২২ইং ধারা- ৪৫৭/৩৮০/৪১১ দঃ বিঃ।

আটকৃত আসামী‌দের আদাল‌তে প্রেরন করা হ‌য়ে‌ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ১০৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেটওয়ার্কিং ডিভাইস রাউটার বিতরণ

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রেরিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে ওয়াই-ফাই সিস্টেমের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন কার্যক্রমের অংশ হিসাবে সোমবার (২০ জুন) উপজেলার বিভিন্ন প্রধান শিক্ষকদের মাঝে নেটওয়ার্কিং ডিভাইস রাউটার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা শিক্ষা অফিস।

এ উপলক্ষে এদিন সকাল ১১ টায় উপজেলা কনফারেন্স রুমে ইউএনও’র প্রতিনিধি হিসাবে বিতরণ অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইন্দ্রজিৎ সাহা।

প্রধান অতিথি হিসেবে বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি বেগম, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ঘনশ্যাম রায়,জাহিদ হোসেন ও সীমান্ত বসাক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রাহিমউদ্দিন। সঞ্চালনা করেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মঞ্জুরুল আলম ৷

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মকর্তা, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এ উপজেলায় মোট ১৫৬ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৩ টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাধে একটি করে রাউটার বিতরণ করা হয়৷