বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত মনু নদের পানি

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার (২০ জুন) সন্ধ্যা ৬ টায় শহরের চাঁদনীঘাট ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের রিডিং অনুযায়ী- মনু নদের চাঁদনীঘাট পয়েন্টে বিপদসীমা ১১ দশমিক ৩০ মিটার। সন্ধ্যায় ছয়টায় পানি প্রবাহিত হয় ১১ দশমিক ৩৪ মিটার। অর্থাৎ এই পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে অন্যান্য নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধলাইর নদীর পানি বিপৎসীমা ১৯ দশমিক ৩৫। সন্ধ্যায় ছয়টায় এই পয়েন্টে পানি প্রবাহিত হয় ১৮ দশমিক ৫৬ সেন্টিমিটার লেভেলে। অর্থাৎ ৭৯ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

অপরদিকে কুশিয়ারা নদী শেরপুর ব্রিজে ৮.৩৩ প্রবাহিত হচ্ছে। যা বিপদসীমার ২২ সে.মি নিচে রয়েছে। গত ১ দিনে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৫ মিমি। নদীর অবস্থা দেখতে শহরের মনু নদীর ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় উৎসোক জনতা ভিড় জমিয়েছেন। নদীর তীর রক্ষায় কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ফুলবাড়ীর যুগান্তর প্রতিনিধির মায়ের ইন্তেকাল

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার ফুলবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল আজিজ মজনু’র মা আমেনা বেগম (৯৮) রোববার সন্ধা সাড়ে ছয় ঘটিকার সময় চন্দ্রখানা বজরের খামার নিজ গ্রামের বাড়ীতে ইন্তেকাল করেছেন।

(ইন্নান্নিল্লাহি….রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, তিন ছেলে ও ছয় মেয়ে সহ নাতি নাতনি রেখে গেছেন। সোমবার সকাল ১১ ঘটিকার সময় জানাজা শেষে তার লাশ কররস্থানে দাফন করা হয়েছে। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

পাঁচ বিসিএস ক্যাডারের পিতা সাংবাদিক শহীদুল হক মুরাদনগরের গর্ব

মোঃ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যিনি জীবন সংগ্রামেও জয়ী। মো. শহীদুল হক (৭৫), কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার বাইড়া গ্রামের মরহুম সামছুল হকের ছেলে। বর্তমানে বীর এই মুক্তিযোদ্ধা দেবিদ্বার পৌর শহরের মাদ্রাসাপাড়ায় নিজের বাড়িতে থাকেন। জীবনযুদ্ধে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফল হয়েছেন এবং সন্তানদেরও সফলতার পথ দেখিয়েছেন। গড়ে তুলেছেন নিজের উত্তরসূরি হিসাবে, যারা আজ সুশিক্ষায় শিক্ষিত। শহীদুল হকের ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ের পাঁচজনই বিসিএস ক্যাডার, বাকি দুজনের একজন অ্যাডভোকেট ও অপরজন ডাক্তার।

মো. শহীদুল হক বাইড়া এমএ কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি জাতীয় একটি সংবাদপত্রের মুরাদনগর প্রতিনিধি হিসাবে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। ছিলেন মুরাদনগর প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এছাড়া তিনি জেলা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর দুবার পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মো. শহীদুল হকের বড় সন্তান মো. নোমানুল হক সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট, দ্বিতীয় সন্তান রায়হানা কলি নারায়ণগঞ্জ আদমজী নগর এমডব্লিউ কলেজের সহকারী অধ্যাপক, তৃতীয় সন্তান মো. নাজমুল হক প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক হিসাবে কর্মরত, চতুর্থ সন্তান মো. নাইমুল হক কক্সবাজার ১৪ এপিবিএন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (পুলিশ সুপার), পঞ্চম সন্তান ডাক্তার রুমানা কান্তা বর্তমানে আমেরিকায় রয়েছেন, ষষ্ঠ সন্তান মো. নাদিমুল হক তিতুমীর কলেজের প্রভাষক ও সপ্তম সন্তান রুখসানা কনা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের গবেষণা কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত রয়েছেন।

এ বিষয়ে মো. নাদিমুল হক বলেন, আমাদের লেখাপড়ার কথা চিন্তা করে বাবা চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে কুমিল্লায় চলে আসেন। বাবা লেখাপড়ার বিষয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেননি। বাবা না থাকলে আমরা ভাই বোনেরা হয়তো আজ এ পর্যায়ে আসতে পারতাম না। বাবা আমাদের কাছে বটবৃক্ষ।

পশ্চিমবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের আসাম রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির খবর এর সাথে এখন বন্যা পরিস্থিতির অবনতির খবর মিলছে ভারতের আরেক রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। রাজ্যটির উত্তরের তিন জেলা আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারের বহু এলাকা এখন পানির নিচে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।

 এদিকে রাজ্যটির উত্তরের জেলাগুলোর বন্যা পরিস্থিতি ভাবিয়ে তুলছে রাজ্য প্রশাসনকেও। প্রতিবেশী দেশ ভুটানে গত কয়েক দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টির কারণে আকস্মিক এই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ির বহু এলাকায়। বিপদ-সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা, তোর্সা সহ একাধিক নদী। বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বহু জনবহুল এলাকা ও ফসলি জমি। ভেঙে গেছে বহু কাচা, আধা কাঁচা বাড়ি, অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু-এলাকায়।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হল বক্সার জঙ্গল। আলিপুরদুয়ারে এই এলাকাটি এখন প্রায় কোমর সমান পানির তলায়। ফলে বন্যা পানিতে আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক। তাদের উদ্ধারে প্রশাসন কাজ করছে। উত্তরবঙ্গে প্রবল বৃষ্টিও হচ্ছে। প্রশাসন রেড এলার্ট জারি করেছে সেখানে।

উল্লেখ্য, বন্যা পরিস্থিতি অপরবর্তীত রয়েছে মেঘালয়, ত্রিপুরা ও অরুণাচলে। একদিনেই ত্রিপুরাতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ বাস্তুহারা হয়ে পড়েছেন। রোববার ভারি বৃষ্টি হয়েছে রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, গুজরাটসহ অন্যান্য রাজ্যেও। যা চলমান পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে নিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের আহবায়ক কমিটির সভা ও পানিবন্ধি মানুষের জন্য বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের আহবায়ক কমিটির সভাসহ সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার এর পানিবন্ধি মানুষের জন্য বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাব কার্যালয়ে গত ১৮ জুন শনিবার বিকাল ৪টায়।

মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাব এর আহবায়ক, ডেইলী প্রেজেন্ট টাইমস পত্রিকার ষ্টাফ রির্পোটার মোঃ সিতার আহমদ এর সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সদস্য সচিব, দৈনিক আমাদের কন্ঠ ও দৈনিক সিলেট বাণী পত্রিকার মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি ও মশাহিদ আহমদ এর সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জোসেফ আলী চৌধুরী (দৈনিক নয়া বঙ্গবাজার), মঈনুল হক (সংবাদ সারাদেশ), আব্দুল বাছিত খান (দৈনিক নতুন দিন), চিনু রঞ্জন তালুকদার (দৈনিক গণমুক্তি), আব্দুল মুকিত (জনতার দলিল), মাসুদ আলম চয়ন (দৈনিক জনতার ইশতেহার), রাশেদ আহমদ (সাপ্তাহিক ইশারা), মহসীন আহমদ (দৈনিক ভোরের দর্পণ), (রাজনগর), গোবিন্দ মল্লিক (বায়ান্ন টিভি), মোস্তাকিন মিয়া (স্বাধীন বাংলা টিভি) প্রমুখ।

বক্তারা দেশ রত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আগামী ২৫ জুন সকাল ১০টায় বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু উদ্ধোধন করবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতু বাঙালির আত্মমর্যাদা এবং আত্মনির্ভরতার এক অনন্য সোপান উল্লেখ করেন। আঞ্চলিক বাণিজ্য, দক্ষিণ এশিয়ায় সংযোগ, শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠা, কৃষি সম্প্রসারন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ আর্থ সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। বক্তব্য শেষে পানিবন্দি মানুষের জন্য, দেশ ও জাতির শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন, সাংবাদিক আব্দুল বাছিত খাঁন। তারপর সংঘটনের বিবিধ বিষয় সংক্রান্ত আলোচনা ও স্বচ্ছ সাংবাদিকতার মধ্যে দিয়ে দেশ ও সমাজের অসংগতি ও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশকে টপকানোর সুযোগ ইংলিশদের সামনে

স্পোর্টস ডেস্কঃ আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগে ইংল্যান্ড দুইয়ে উঠে এসেছে আফগানিস্তানকে টপকে। এরপর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ছয় উইকেটের জয়ে তিন নম্বর থেকে দুইয়ে ওঠে ইংলিশরা। আর তাই এবার তাদের সামনে সুযোগ আসছে এক নম্বরে থাকা বাংলাদেশকে টপকে যাওয়ার।

এদিকে, বাংলাদেশ ১৮ ম্যাচে ১২ জয়ে ১২০ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে ওয়ানডে সুপার লিগের শীর্ষে আছে। এক ম্যাচ কম খেলে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ১১৫ পয়েন্ট। শেষ ম্যাচে জয় পেলেই ১২৫ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশকে টপকে যাবে ইংল্যান্ড। তবে বাংলাদেশের সামনেও থাকছে তাদের টপকে যাওয়ার সুযোগ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে ভালো করতে পারলেই আবারও শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করতে পারবে টাইগাররা।

গতকাল রোববার (১৯ জুন) আমস্টেলভিনে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নেদারল্যান্ডস। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি খেলা হয় ৪১ ওভারে। নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেটে নেদারল্যান্ডস স্কোরবোর্ডে তোলে ২৩৫ রান। স্কট এডওয়ার্ডস ৭৩ বলে সর্বোচ্চ ৭৮ রান করেন নেদারল্যান্ডসের হয়ে। এ ছাড়াও বাস ডি লিড করেছেন ৩৪ আর লোগান ভ্যান বেক করেছেন অপরাজিত ৩০ রান। ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে টোপলি ও মঈন আলি বাদে সবাই উইকেটের দেখা পেয়েছেন। দলের হয়ে দুটি করে উইকেট পেয়েছেন ডেভিড উইলি ও আদিল রশিদ।

তবে শেষ দিকে মঈন আলির ৪০ বলে ৪২ রানের ইনিংসে সহজ জয় পায় ইংল্যান্ড। নেদারল্যান্ডসের সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন আরিয়ান ডাট। তিনি ৫৫ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। একটি করে উইকেট নিয়েছেন টিম প্রিঙ্গল ও টিম কুপার।

উলেখ্য, এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করল ইংলিশরা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় রান সংগ্রহ করেছিল মরগানের দল। নির্ধারিত ৫০ ওভারে তারা করেছিল ৪৯৮ রান। এর আগের রেকর্ডটাও তাদেরই ছিল। ২০১৮ সালে নটিংহামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৮১ রানের দলীয় সংগ্রহ পেয়েছিল ইংল্যান্ড।

 

সালমানের এক সিনেমায় এবার ১০ নায়িকা

বিনোদন ডেস্কঃ এবার আর একজন-দুজন নয়, সালমান খানের সিনেমায় একসঙ্গে ১০ জন নায়িকা হাজির হচ্ছেন ‘নো এন্ট্রি ২’ নিয়ে। আর  এই সিনেমার মাধ্যমে নতুন চমক দেবেন বলিউড ভাইজান সালমান খান।

২০০৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল সুপার হিট সিনেমা ‘নো এন্ট্রি’। সে সময় এ সিনেমায় সালমান ছাড়াও অভিনয় করেছিলেন ফারদিন খান, অনীল কাপুর, বিপাশা বসু, এশা দেওল, লারা দত্ত ও সেলিনা জেটলি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আসছে ‘নো এন্ট্রি’ সিনেমার সিক্যুয়েল ‘নো এন্ট্রি মে এন্ট্রি’। সালমান ছাড়াও আগের সিনেমার মতোই এখানে দেখা যাবে ফারদিন খান ও অনীল কাপুরকে। তবে আগের নায়িকারা না-ও থাকতে পারে বলে জানা যায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, এ সিনেমায় নায়িকা থাকবেন ১০ জন আর সবাইকে সামলানোর দায়িত্ব থাকবে সালমানের ওপর।

উল্লেখ্য, অনীশ বাজমির পরিচালনায় এই সিক্যুয়েল সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কথা এ বছরের শেষ দিকে। কিন্তু কারা হবেন সিনেমার ১০ নায়িকা–এ নিয়ে নেটপাড়ায় চলছে বেশ চর্চা।

 

বিহারে বজ্রপাতে ১৭ জনের প্রাণহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের বিহারে বজ্রপাতে ১৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা জানা গেছে।  গত শনিবার (১৮ জুন) রাত থেকে রোববারের মধ্যে এই প্রাণহানি ঘটেছে।

গতকাল রোববার (১৯ জুন) এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ৪ লাখ রুপি করে অনুদান ঘোষণা করেছেন।

টুইটারে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী জানান, বজ্রপাতে ভাগলপুরে ৬ জন, বৈশালীতে ৩ জন, খাগরিয়ায় দুজন, কাটিহারে একজন, সহরসায় একজন, মাধেপুরায় একজন, বাঙ্কায় দুজন এবং মুঙ্গেরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। সব নিহতের পরিবারকে অবিলম্বে ৪ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন। এ জন্য সবাইকে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস মেনে চলার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা যায়, আগামী কয়েক দিন বিহারে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আসাম-মেঘালয়ে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৪২

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে বন্যা এবং ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। এনিডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, বন্যা ও ভূমিধসে আসামে ২৪ জন ও মেঘালয়ে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ৩০ লাখ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

কর্মকর্তারা জানায়, ১৯৪০ সালের পর মেঘালয়ের মাওসিনরাম এবং চেরাপুঞ্জিতে এবারই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগরতলাতেও ৬০ বছরের মধ্যে এবারই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা বন্যা মৃতদের পরিবারকে ৪ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে আসামে ৪ হাজারের বেশি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এরইমধ্যে সেখানকার এক লাখ ৫৬ হাজার মানুষকে আশ্রয়শিবিরে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন ও সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আসামের হোজাই জেলায় বন্যায় আটকে পড়া একটি উদ্ধারকারী নৌকা ২৪ যাত্রী নিয়ে ডুবে গেছে। তাদের মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করা গেলেও ৩ শিশুকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

হাকালুকি হাওরে বন্যা, পাহাড়ে ধস

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় হাকালুকি হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীরবর্তী গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। এতে করে বন্যা কবলিত হয়েছেন দুই ইউনিয়নের সাতটি গ্ৰাম ও প্রায় হাজারো মানুষ। টানা তিনদিনের বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামার কারণে হাকালুকি হাওর পানিতে ভরে ফেঁপে উঠেছে। তীরবর্তী জনপদের বসতবাড়িগুলো এখন আকস্মিক বন্যা কবলিত। ইতিমধ্যে কয়েটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে। সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে দেয়া হয়েছে পাঠদান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাওরের পানি বেড়ে গিয়ে দুই ইউনিয়নের শাহপুর, দিগলবাগ, বেলাগাও, জাঙ্গিরাইসহ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে পাহাড় ও টিলা বসতি এলাকায় কয়েকটি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড় ধসে গৃহপালিত পশুর মৃত্যু হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে জুড়ী লাঠিটিলা সড়কে যান চলাচল।

জুড়ী উপজেলা প্রশাসন জানায়, জুড়ী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। টানা বৃষ্টির সাথে উজানের পানির ঢলের জন্য উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে গেছে। অতিরিক্ত বর্ষণের জন্য গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম গোয়ালবাড়ি পাহাড়ধস হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ইতোমধ্যে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। বন্যার্ত অসহায় মানুষদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ, পাহাড়ধস, পানিবন্দি লোকদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা এবং জরুরী সেবা প্রদানের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া সুলতানার নেতৃত্বে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

স্কুল শিক্ষক মো. জালাল উদ্দিন জানান, আজ আমার নিজ কর্মস্থল হরিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার পানিতে ডুবে যায়। বিদ্যালয়ের অফিসে পানি ঢুকে গেছে এবং আঙিনায় ও থৈ থৈ করছে পানিতে।

মক্তদীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইশাক আলী জানান, বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে দেয়া হয়েছে।

ভোগতেরা গ্রামের সিদ্দিক জানান, আমাদের গ্রামে অনেক মানুষ গৃহবন্দী হয়ে আছেন। অনেক মানুষ নিজ বসত বাড়ি রেখে চলে ও যাচ্ছেন।

বাছিরপুর গ্রামের মাহবুব আলম জলিল জানান, অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদী খালবিল ভরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম বাছিরপুর এলকায় প্রায় দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়ীর রাস্তার উপর পানি উঠে পড়েছে। বেশকিছু ঘরের দরজার সামনে পানি ছুঁই ছুঁই করছে। অনেকেই আবার মাটির ঘরের ভেতর বাঁশের মাচা দিয়ে পরিবারের শিশুদের নিয়ে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।

জুড়ী উপজেলার পশ্চিম গোয়ালবাড়ী এলাকার কামরান জানান, টানা ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টি হওয়ায় পশ্চিম গোয়ালবাড়ী এলাকাতে পাহাড় ধসে পরে। এতে মো. মনতুজ মিয়ার ঘর ভেঙে দুটি গরু এবং ৫টি ছাগলসহ ২০টি হাঁস মুরগী মাটি চাপায় মারা যায়। ঘর ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৪ থেকে ৫টি পরিবার। এখন পাহাড় ধসার কারণে প্রায় ২০টি পরিবার আতঙ্কে আছে।

জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা বলেন, জুড়ী উপজেলায় হাওরপাড়ের পাঁচটি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে। হাকালুকি হাওরের পানি বেড়ে যাওয়ায় মানুষ এই ভোগান্তিতে পড়েছেন। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নেয়ার জন্য ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত আছে।

এদিকে কুলাউড়া উপজেলার হাওড় অঞ্চলে দিনকে দিন পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় কুলাউড়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কর্তৃপক্ষ (১৮ জুন) শনিবার থেকে দুটি বৈদ্যুতিক ফিডার অনির্দিষ্টকালর জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ফিডার দুটি হল কুলাউড়া উপজেলার ইসলামগঞ্জ এবং জুড়ীর নার্সারি ফিডার। ফিডার দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কুলাউড়ার ভুকশিমইল, কাদিপুর, শশারকান্দি, ইসলামগঞ্জ ও জুড়ী উপজেলা জায়ফর নগর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার লোকজন বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন।

কুলাউড়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী ওসমান গনি জানান, কুলাউড়ায় প্রতিদিন পানি বৃদ্ধির কারণে হাওর এলাকার দুটি বিদ্যুতের ফিডার শনিবার (১৮ জুন) থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পানি না কমা পর্যন্ত ওই দুটি ফিডার বন্ধ থাকবে। কুলাউড়ায় অবস্থিত বিদ্যুতের গ্রীড অফিসের আশপাশের পানি উঠে পড়েছে। গ্রীডের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া স্থানীয় (কাপুয়া) নদীটি পানিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় গ্রীডে পানি ঢুকার সম্ভাবনা ও রয়েছে বলে তিনি জানান।