আসাম-মেঘালয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, মৃত বেড়ে ৩১

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের প্রধান নদীগুলোর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতের মধ্যে ভূমিধস ও অন্যান্য ঘটনায় রাজ্য দুটিতে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আসামের ২৮টি জেলার অন্তত ১৯ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় তিন হাজার গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। জেলাগুলোর মধ্যে নবগঠিত বাজালি জেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

আসামে গত দুই দিনে বন্যায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে মেঘালয় প্রশাসন গত ২ দিনে ১৯ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে। বন্যাকবলিত জেলাগুলোর প্রশাসন জরুরি প্রয়োজন বা কোনো জরুরি চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে বাড়ির বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বলছে, বন্যার কারণে ২২টি জেলার অন্তত ৭লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এদের অধিকাংশই শিশু। দুই হাজারের বেশি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে ৯৫ হাজার হেক্টরের মতো ফসলি জমি।

কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধারকর্মীরা স্থানীয়দের নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ করছেন। ছোট ছোট নৌকায় করে সরানো হচ্ছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। এ পর্যন্ত প্রায় ২৪ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে রাজ্য সরকার মেঘালয়ের ৪টি অঞ্চল দেখার জন্য চারটি কমিটি গঠন করেছে। আর প্রতিটি কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন একজন করে মন্ত্রী। কিছু অংশ ধসে পড়লে জাতীয় মহাসড়ক-৬ এ ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। মহাসড়কটি ত্রিপুরা, দক্ষিণ আসাম, মিজোরাম এবং মেঘালয়ের কিছু অংশের যোগাযোগের একমাত্র উপায় বলা যায়।

উল্লেখ্য, গত বুধবার পর্যন্ত আসাম ও মেঘালয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৭২ মি. মি. অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। দুই রাজ্যে চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত রেড অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া বিভাগ।

বলাৎকারের শাস্তি ৩০ বার ‘কান ধরে উঠবস’ !

তিমির বনিকঃ সিলেটের ওসমানীনগরে এক মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিশু শিক্ষার্থীকে মো. আব্দুল কাদির নামের মাদ্রাসার সুপার কর্তৃক বলৎকারের ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ ঘটনায় এই মাদ্রাসা সুপারকে ৩০ বার কান ধরে উঠবস করিয়ে এবং ২২ হাজার টাকা মুসলেকার মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে বলৎকারের বিচারের মাধ্যমে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করেছেন মাদ্রাসার কমিটির সদস্য সহ স্থানীয় গ্রামবাসীরা।

শুধু তাই নয় বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মাদ্রাসার অন্য একজন শিক্ষক অভিযুক্ত এই শিক্ষককে উপজেলার গোয়ালাবাজার নিয়ে গিয়ে গাড়িতে তুলে দিয়ে পালাতে সহযোগিতা করেন। ঘটনাটি উপজেলার সাদিপুর ইউপির নুরপুর গ্রামের নুরপুর হাফিজিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসায়।

শিক্ষার্থী বলৎকারের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপারের কান ধরে উঠবস করার ভিডিওটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের মুঠো ফোনসহ পুলিশের নিকট ছড়িয়ে পরেছে। অভিযুক্ত মো. আব্দুল কাদির সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লনটির মাটি গ্রামের মৃত নূরুল হকের ছেলে ও উপজেলার সাদিপুর ইউপির নূরপুর হাফিজিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার সুপার।

স্থানীয় সূত্রে জানান যায়, গত শনিবার নুরপুর হফিজিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ১১ বছরের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলৎকার করেন মাদ্রাসা সুপার আব্দুল কাদির। বিষয়টি নির্যাতিত শিশু শিক্ষার্থী তার পিতা সহ পরিবারের লোকজনকে অবহিত করলে বলৎকারের শিকার হওয়া শিশুর পিতা মাদ্রাসার কমিটি সহ সংশ্লিষ্ট নুরপুর গ্রামের লোকজনকে অবহিত করেন। তাৎক্ষনিক ভাবে নির্যাতিত শিশুকে তার পিতার মাধ্যমে উপজেলার তাজপুরে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। আর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তড়িঘড়ি করে গত রোববার মাদ্রাসা কমিটি সহ গ্রামবাসীরা মাদ্রাসার অফিসে অভিযুক্ত সুপার আব্দুল কাদিরকে সবার সম্মুখে ৩০ বার কান ধরে উঠবস করিয়ে এবং তার নিকট থেকে ২২ হাজার টাকা মোসলেকা আদায় করে চিকিৎসার জন্য এই শিশু শিক্ষার্থীর পিতাকে প্রদান করা হয়।

পরে একজন শিক্ষকের মাধ্যমে সুপার আব্দুল কাদিরকে গড়িতে তুলে পালিয়ে যেতে ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। শিক্ষকের কান ধরে উঠবস করার ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় একজন একজন কান ধরে উঠবস গুনছিলেন এই বিচারের অংশ নেন নুরপুর গ্রামের ইয়াওর আলী, আবিদ উল্লাহ, আফতাব হুজুর ও তজমুল আলী গং আরও কিছু লোক।

ঘটনাটি ওসমানীনগর থানা পুলিশ অবহিত হবার পর ওসমানীনগর থানার এসআই সুবিনয় বৈদ্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে ঘটনার ৪দিন অতিবাহিত হবার পর এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

বিষয়টি সালিশকারী নুরপুর গ্রামের ইয়াওর মিয়া বলেন, বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পর তাকে আমরা গ্রামবাসী সহ কমিটির সবাই মিলে সাময়িক বরখাস্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করি।

অভিযুক্ত সুপার আব্দুল কাদিরের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে লাইন কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাঈন উদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বাদী মামলা দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডিবি পুলিশের জালে ১০ জুয়ারী গ্ৰেফতার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) দুপুর দেড় টার সময় জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই রূপক কর্মকার সঙ্গীয় দলসহ উপজেলার ১ নং রহিমপুর ইউনিয়নের পূর্ব-দক্ষিন কালেঙ্গা গ্রামের ছায়েদ মিয়ার বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ১০ জন জুয়াড়ীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এসময় জুয়া খেলার তিন বান্ডিল তাস ও নগদ চার হাজার তিনশ ত্রিশ টাকাসহ জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ১. ছায়েদ মিয়া (৫২), পিতা-মৃত সিরাজ মিয়া ২. শহিদ মিয়া (৪৮), পিতা-মৃত মোহন মিয়া, ৩. মানিক মিয়া (৪৭), পিতা-মৃত মকসেদ আলী ৪. শফিক মিয়া (৩৬), পিতা- মৃত তাজু মিয়া সর্বসাং- পূর্ব-দক্ষিন কালেঙ্গা, ৫. মো: মোসাহিদ মিয়া (৩২), পিতা- মঞ্জু মিয়া ওরফে মজনু মিয়া, ৬. বাদশা মিয়া(৪০), পিতা-মৃত আব্দুল বারেক,৭. জাহাঙ্গীর মিয়া(২৮), পিতা-তৈয়ব আলী, ৮. শাহিন আহমদ (৩৩), পিতা-মৃত ওয়াজ আলী সর্বসাং-পশ্চিম কালেঙ্গা, ৯. হামিদ মিয়া (৩৫), পিতা-মৃত ছাহের উদ্দিন সাং- মধ্য কালেঙ্গা, সর্বথানা- কমলগঞ্জ, জেলা মৌলভীবাজার ১০. আব্দুল আহাদ (৪৭), পিতা-মৃত মমতাজ উল্লা ওরফে মন্তাজ উল্ল্যা, সাং- গজিমারা, থানা ও জেলা: মৌলভীবাজার।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ১০ জুয়াড়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মুরাদনগরে ছেলের হাতে বাবা খুন

এম শামীম আহম্মেদ, কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় সম্পত্তির লোভে বাবা মাহফুজ মিয়াকে (৬১) কুপিয়ে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্ধি করে লাশ ঘুম করার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক ছেলেকে আটক করেছে। মা বাদি হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আটককৃতকে কুমিল্লা জেলা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে বুধবার দুপুরে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন আন্দিকুট ইউনিয়নের দেওড়া গ্রাম থেকে লাশ উদ্ধার করে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ।

আটককৃত ঘাতক ছেলে সোলেমান মিয়া (২৯) উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার দেওড়া গ্রামের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,  দেওড়া গ্রামের মৃত আব্দুস ছামাদের ছেলে মাহফুজ মিয়ার সাথে সম্পত্তি নিয়ে তার ছেলে সোলেমান মিয়ার প্রায়ই সময় বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জের ধরে গত মঙ্গলবার রাতে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছেলে সোলেমান মিয়া তার বাবা মাহফুজ মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এবং মৃত্যু নিশ্চিত শেষে বস্তাবন্ধি করে রাখে। সুযোগ বুঝে বুধবার সকালে কয়েকটি তুষের বস্তার সাথে বাবার বস্তাবন্ধি লাশটিও একটি অটো রিক্সাতে তুলে নেয়। তুষগুলো একটি দোকানে বিক্রি করে বাবার বস্তাবন্দি লাশটি ঘুম করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। বিষয়টি অটো চালকের সন্দেহ হলে বাবাকে হত্যা করার ঘটনাটি স্বীকার করে ঘাতক ছেলে সোলেমান মিয়া। এ সময় অটো চালক লাশ নিয়ে গ্রামে ফিরে গিয়ে মেম্বারসহ এলাকাবাসীকে ঘটনাটি জানায়।

পরে এলাকাবাসী থানায় খবর দিলে পুলিশ বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় ঘাতক ছেলে সোলেমান মিয়া (২৯) ও অটো চালক সাহাব উদ্দীন মিয়াকে (২৫) আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানিার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আটককৃত ছেলে সোলেমানকে বৃস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার রহস্য উৎঘাটনের জন্য  কাজ করছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার ১৬ জুন দুপুরে ঠাকুরগাঁও কোর্ট চত্বর জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে সংগঠনের জেলা ইউনিটের সভাপতি এ্যাড. সৈয়দ আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাড. আব্দুল হালিম, সংগঠনের জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. এনতাজুল হক, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মো: গোলাম রব্বানী প্রমুখ।

এ সময় সংগঠনের সহ সভাপতি এ্যাড. মহসিন ভুইয়া, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. জয়নাল আবেদীনসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে নি:শর্ত মুক্তি দিয়ে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় আরও বড় আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন।

সৌদি জোটের হাতে ইয়েমেনের আরো একটি তেল ট্যাংকার আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট ইয়েমেনের আরো একটি তেল ট্যাংকার আটক করেছে। ট্যাংকারটিতে কয়েক হাজার টন তেল রয়েছে। এ নিয়ে সৌদি জোট দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করল। ‘ফস পাওয়ার’ নামের এ তেল ট্যাংকারটি জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে ইয়েমেনে জ্বালানির নিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু হুদায়দা বন্দরের কাছে পৌঁছানোর পর সৌদি জোট জাহাজটিকে বন্দরে ভিড়তে বাধা দেয়।

ইয়েমেনের জাতীয় তেল কোম্পানির মুখপাত্র ইসাম আল-মুতাওয়াকিল এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি ইয়েমেনের আল অহেদ নিউজ ওয়েবসাইটকে বলেন, ” সৌদি জোট যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছেন, তারা ইয়েমেনের আরো একটি তেল ট্যাংকার আটক করেছে যাতে ৩০ হাজার ১৪৮ টন জ্বালানি তেল বহন করা হচ্ছিল। জাতিসংঘের অনুমোদন থাকার পরও জাহাজটিকে সৌদি জোট হুদায়দা বন্দরে প্রবেশ করতে দেয় নি।”

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারও ঠিক একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ওই দিন ২৩ হাজার ৯২০ টন জ্বালানি তেল নিয়ে হুদায়দা বন্দরের দিকে যাওয়া প্রিন্সেস হালিমা নামের একটি ট্যাংকারকে বন্দরে ভিড়তে দেয়নি সৌদি জোট। অথচ জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাতে জাহাজের মাধ্যমে ইয়েমেনে জ্বালানি তেল সরবরাহের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে।

তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে

মোঃ মোশফিকুর ইসলাম, নীলফামারীঃ ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। এই নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমায় পৌঁছায়।

এর আগে এদিন সকাল ৬টায় এই পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার নিচে ছিলো। ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ৬০ মিটার।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফা উদ দৌলা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পানি আরও বাড়ছে। তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা অববাহিকা ব্যারাজ এলাকায় ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

অপর দিকে ভারতের দো-মহনী পয়েন্টে তিস্তার পানি ৮৫ দশমিক ৭৮ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই, পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবড়ি, খালিশাচাঁপানী ও ঝুনাগাছ চাঁপানী ও জলঢাকা উপজেলা গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, কৈইমারী, শৌলমারী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চর  ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে বলে সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা জানান। তারা নদী সংলগ্ন এলাকার বসবাসকারীদের নিরপদে সরে যেতে বলেন।

সিলেট-সুনামগঞ্জে ফের দেখা দিয়েছে বন্যা

সিএনবিডি ডেস্কঃ আগের বন্যার ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই সিলেটে ও সুনামগঞ্জ জেলায় আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। এরইমধ্যে দুটি উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। নগরের সাতটি ওয়ার্ডের বাসাবাড়িতে পানি ঢুকেছে।

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলের কারণে আবারও সুরমার পানি উপচে সিলেট নগরীতে পানি প্রবেশ করেছে। সুনামগঞ্জের সদর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সুরমা নদীর তীর উপচে হু-হু করে পানি ঢুকেছে লোকালয়ে। বানের পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

বৃহস্পতিবার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি নদীর পাঁচ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ফলে বিভিন্ন হাওরে বাড়ছে পানির উচ্চতা। পানি বাড়তে থাকায় গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এক মাসের ব্যবধানে আবারও বন্যায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ।

দ্বিতীয় দফার বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা। ছাতকের সর্বত্র পানি থাকায় সড়ক-যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ছাতক ও দোয়ারাবাজারের প্রায় সব ইউনিয়নেই বন্যায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি। এখন পর্যন্ত ১০টি আশ্রয়কেন্দ্রে চার শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। একইভাবে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার প্রধান সড়কে পানি থাকায় ওই দুই উপজেলার সঙ্গেও সড়ক-যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এদিকে, সিলেট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমদ বলেন, সিলেটের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালের পর থেকে লুভা ও সারী নদীর পানি কিছুটা কমেছে। কানাইঘাটে সুরমার পানি কয়েক সেন্টিমিটার কমলেও শহরের দিকে সুরমার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে নগরীতে পানি বাড়ছে। টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বন্যার পানি আরও বাড়বে।

জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলায় আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যায় বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বন্যা দেখা দেওয়ায় বিদ্যালয়গুলোতে বন্যার্তেরা আশ্রয় নেওয়ায় পাঠদানও বন্ধ রয়েছে।

কক্সবাজাররের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গার মৃত্যু

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজার জেলার উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের গোলাগুলির ঘটনায় এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) ভোরে ২ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. সলিমুল্লাহ (৩০) কুতুপালং ২ নম্বর ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৩/২ ব্লকের বাসিন্দা আব্দুস শুক্কুরের ছেলে।

রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার নাঈমুল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বালুর মাঠ আর নৌকার মাঠের মাঝামাঝি স্থানে গোলাগুলির সময় আসরা ও মুন্না গ্রুপের গোলাগুলির সময় সলিমুল্লাহর গায়ে গুলি লাগে। আহতাবস্থায় তাকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ৩টায় তিনি মারা যান।

তিনি আরো জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। তবে কারা এর সঙ্গে জড়িত তা জানাতে পারেনি পুলিশ। জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের গোলাগুলির ঘটনায় মো. সলিমুল্লাহ (৩০) নামে নিহত হয়েছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মৌলভীবাজারে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মানহানিকর তথ্য প্রচার; ১জন গ্রেফতার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে কটুক্তি ও বিদ্রুপাত্মক তথ্য প্রচারের দায়ে তোফায়েল আহমেদ ওরফে হুমায়ূন (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।

SK Tufayel Ahmed নামের একটি ফেসবুক আইডি ইচ্ছাকৃতভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিদ্রুপাত্মক ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করে আসছিল । বিষয়টি মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মহোদয়ের নজরে আসলে উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারে মাঠে নামে সদর মডেল থানা পুলিশের দল। সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জিয়াউর রহমানের তত্ত্বাবধানে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে গত মঙ্গলবার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের কালার বাজার নামক স্থান থেকে উক্ত ফেসবুক আইডির মালিক তোফায়েল আহমেদ ওরফে হুমায়ূনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত তোফায়েল আহমেদ ওরফে হুমায়ূনকে জিজ্ঞাসাবাদে SK Tufayel Ahmed নামক আইডি নিজের বলে স্বীকার করে। সে সদর উপজেলা একাটুনা ইউনিয়নের খোজারগাঁও গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে।

সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়াছিনুল হক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।