বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সিএনবিডি ডেস্কঃ দেশে ফের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার (১৩ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কোভিড কিছুটা বেড়েছে। কয়েক মাস আমরা দেখেছি দৈনিক ৩১ থেকে ৩৫ জন সংক্রমিত হত। গতকাল ১০৯ জন সংক্রমিত হয়েছে, সেই তুলনায় বেশ বেড়েছে। আমাদের সতর্ক হতে হবে, মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে না। মাস্ক পরা ভুলে গেলে চলবে না, আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাই।

তিনি বলেন, কোভিড এখনো নির্মূল হয়নি, আছে। আমরা একটা স্বাভাবিক অবস্থায় আছি, আমরা যেন অস্বাভাবিক অবস্থায় না যাই, সেই বিষয়ে সকলের প্রচেষ্টা দরকার। ইতোমধ্যে মন্ত্রীরা আক্রান্ত হচ্ছেন, বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আক্রান্ত হচ্ছেন, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাই সবাইকে অনুরোধ করছি মাস্ক পড়বেন, হাত স‌্যানিটাইজ করবেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন, টিকা না নিয়ে থাকলে টিকা নেবেন।

তিনি আরো বলেন, কোভিড এখনো নির্মূল হয়নি, আছে। আমরা একটা স্বাভাবিক অবস্থায় আছি, আমরা যদি অস্বাভাবিক অবস্থায় না যাই, সেই বিষয়ে সবার প্রচেষ্টা দরকার।

সৌদিতে এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

জাতীয় ডেস্কঃ হজ পালন করতে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর মো. জাহাঙ্গীর কবির নামের এক বাংলাদেশি গত শনিবার মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ৫৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। শনিবার মক্কা আল-মুকাররমায় তিনি ইন্তেকাল করেন বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবে নিযুক্ত হজ অফিসার মোহাম্মদ মাহবুব আলম।

এর আগে, গত ৫ জুন থেকে সর্বমোট ৭,৫৭৩ জন হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন। সৌদি পৌঁছানোর পর এই প্রথম কোন বাংলাদেশি ইন্তেকাল করলেন।

জানা গেছে, সৌদিতে হজযাত্রী পরিবহনে ১২ জুন পর্যন্ত ১৯টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১১টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৫টি ও ফ্লাইনাস ৩টি ফ্লাইটে হজযাত্রী নিয়ে গেছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৮ জুলাই সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এবার বাংলাদেশ থেকে ৫৭ হাজার ৫৮৫ জন হজ পালনের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৩ হাজার ৫৮৫ জন হজে যেতে পারবেন।

উল্লেখ্য, গত ৩ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের হজ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এরপর ৫ জুন থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট আগামী ১৪ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হবে ৪ আগস্ট।

দেশের চার মোবাইল অপারেটরকে ৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা জরিমানা

সিএনবিডি ডেস্কঃ অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল) কাজে সিম ব্যবহার হওয়ার অভিযোগে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম অপারেটর টেলিটকসহ চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরকে ৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বিটিআরসির অভিযানে উদ্ধারকৃত অবৈধ ভিওআইপিতে ব্যবহৃত সিম নিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরদের আবেদন, শুনানী ও পর্যবেক্ষণ শেষে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এ জরিমানা করে।

এক বিজ্ঞপ্তিতে বিটিআরসি জানিয়েছে, কমিশনের নির্দেশনা ও লাইসেন্সের শর্ত অমান্য করায় বিটিআরসি টেলিটককে ৫ কোটি টাকা, রবিকে ২ কোটি টাকা এবং গ্রামীণফোন ও বাংলালিংককে যথাক্রমে ৫০ লাখ ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এসব অপারেটরকে ৩০ জুনের মধ্যে প্রশাসনিক জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে অপারেটরদের সতর্কও করেছে বিটিআরসি।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিটিআরসির সহযোগিতায় বিভিন্ন অভিযানে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভিওআইপি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন অপারেটরের ৫২ হাজার ৩৪৪টি সিম কার্ড জব্দ করেছে। এর মধ্যে টেলিটকের ৩২ হাজার ৮৪৫টি, রবির ১৬ হাজার ৩৯০টি, গ্রামীণফোনের ২ হাজার ৩৫৬টি ও বাংলালিংকের ৭৫৩টি সিম জব্দ করেছে কমিশন।

বিটিআরসি বলছে, এর দায়ভার কোনোভাবেই অপারেটরগুলো এড়াতে পারে না। কেননা, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ ও এনআইডি নম্বর যাচাই সাপেক্ষে সিম বিক্রি করতে হয়। অথচ, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা টেলিকম অপারেটরদের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে হাজার হাজার সিম সংগ্রহ করে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

প্রসঙ্গত, বিটিআরসির নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পরও অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা থামানো যাচ্ছে। অভিযানে উদ্ধারকৃত সিমের মধ্যে টেলিটকের সিমই সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এছাড়াও রবি, গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের সিমও ব্যবহৃত হয়।

রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের আরেক বিদেশী কর্মচারীর মৃত্যু

সিএনবিডি ডেস্কঃ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার গ্রিন সিটি আবাসিক এলাকায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে কাজ করা আরেক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে আজ সোমবার (১৩ জুন) জানিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে চলতি বছর পরমাণু কেন্দ্রের আট বিদেশি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

মৃত ব্যক্তির নাম ইভানভ আন্তন (৩৩)। সে প্রকল্পের রাশিয়ান ঠিকাদার রোসেম কোম্পানির কর্মচারী হিসেবে কাজ করছিলো।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অরবিন্দ সরকার জানান, উপজেলার সাহাপুরের নতুন হাটে বিদেশিদের আবাসন প্রকল্পের গ্রিন সিটি আবাসিক এলাকার ২ নম্বর বিল্ডিংয়ের ১২ তলায় ১২৬ নম্বর কক্ষে থাকতেন ইভানভ আন্তন। রবিবার রাতে গ্রিন সিটির কাছে একটি রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে ঘরে ফেরার পথে লিফটের সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়েন ইভানভ। পরে রূপপুর প্রকল্পের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ  ইতোমধ্যে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর আসল কারন জানা যাবে।

তবে ধারণা করা হচ্ছে ইভানভ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যেতে পারেন বলেও জানিয়েছেন অরবিন্দ সরকার।

উল্লেখ্য, চলতি বছর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্লান্ট সাইটে ইভানভকে নিয়ে ৬ রাশিয়ান কর্মচারী, ১ জন বেলারুশিয়ান এবং ১ জন কাজাকিস্তানের নাগরিক মারা গেছেন।

পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে প্রোটিয়ারা

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, স্পোর্টস ডেস্কঃ পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের দেওয়া ১৪৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেট আর ১০ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য টপকে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে গেল প্রোটিয়ারা।

হেনরিখ ক্লাসেনের দুর্দান্ত ৪৬ বলে ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটিই এই জয় এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। ১৪৯ রান তাড়া করতে গিয়ে ভুবনেশ্বর কুমারের দুর্দান্ত ওপেনিং স্পেলের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা শুরুতেই তিনটি উইকেট হারিয়েছে। তবে, ক্লাসেন এবং টেম্বা বাভুমা দক্ষিণ আফ্রিকাকে লক্ষ্যে স্থির রাখেন। হ্যানরিক ক্লাসেনকে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি বাঁধেন টেম্বা ভাবুমা। দুজনের জুটি ভাঙে যুজবেন্দ্র চাহালের বলে বোল্ড হয়ে বাভুমার ৩৫ (৩০) রানে বিদায়ের মধ্য দিয়ে।

তবে ক্লাসেন একের পর এক বাউন্ডারি আর ওভার বাউন্ডারিতে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান দলকে। দলীয় ১৪৪ রানের মাথায় ক্লাসেন ৪৬ বলে সাতটি চার ও পাঁচ ছক্কায় ৮১ রান করে বিদায় নেয়ার পর ডেভিড মিলার ১৫ বলে ২০ রান করে ১০ বল বাকি রেখেই তুলে নেন জয়।

অন্যদিকে, আগে কোটাকের বারাবাতি স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে বেশ বিপাকে পড়ে ভারত। ওপেনার ঋতুরাজ গায়কোয়াডের ১ রানে বিদায়ের পর অবশ্য ৪৫ রানের জুটি বাঁধেন শ্রেয়াস আইয়ার ও ঈশান কিষান। শ্রেয়াস করেন ৩৫ বলে ৪০ রান, কিষানের ব্যাটে আসে ২১ বলে ৩৪ রান। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার পর দীনেশ কার্তিকের ২১ বলে ৩০ রানের ইনিংসে কোনোমতে ৬ উইকেটে ১৪৮ রান তোলে ভারত।

উজানের ঢলে উত্তরাঞ্চলে বন্যায় ৫৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানঃ উজানের ঢলে দেশের নদ-নদীর পানি বেড়ে উত্তরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যায় প্রায় ৫৬ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্রসহ বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও নীলফামারী জেলার ছয়টি স্থানে বন্যা রক্ষা বাঁধ ধসে পড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববারের বন্যায় অসংখ্য বাড়ি-ঘর ভেসে গেছে। পরিস্থিতির বেশি অবনতি হয়েছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায়। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৩২টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। রৌমারীর ২১টি বিদ্যালয়ে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। ডুবেছে ১০৭ হেক্টর জমির ফসলও। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় দুর্ভােগে পড়েছে মানুষ। ডুবেছে রংপুর-লালমনিরহাট-গাইবান্ধাসহ তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চলও। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বহু মানুষ। বেড়েছে যমুনার পানিও।

এছাড়া তিস্তার পানি এখন বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই। রোববার সকাল ছয়টায় লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তার পানি ছিল বিপদসীমার মাত্র ৩ সেন্টিমিটার নিচে। যেকোনো মুহূর্তে তা বিপদসীমা ছারিয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি বৃদ্ধি হওয়ায় এই নীলফামারীর ডিমলার ছাতনা এলাকা থেকে জলঢাকা, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম হাতীবান্ধা, কালিগঞ্জ, আদিতমারি, সদর, রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, উলিপুর, চিলমারি, এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের হরিপুরের ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত অববাহিকার ৩৫২ কিলোমিটার এলাকার চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে এই সব এলাকার উঠতি বাদাম, আমনের চারা, পাট, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল প্লাবিত হয়েছে। বড় বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তিস্তা পাড়ের মানুষ।

রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে গত ৪ জুন সকাল ছয়টা থেকে ১২ জুন সকাল ছয়টা পর্যন্ত ১৬৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এই অঞ্চলে। এর মধ্যে রোববার সকাল ছয়টার আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪৮ মিলিমিটার। এখনও বৃষ্টি অব্যাহত আছে।

এদিকে শেরপুরের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বেড়েছে নদ-নদীর পানি। এতে ডুবছে নতুন নতুন এলাকা। ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ি উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ২৫ গ্রামের মানুষ এখন পর্যন্ত পানিবন্দি। এসব জায়গায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট, বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি।

অন্যদিকে নেত্রকোনার কোমলাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র রোববার জানিয়েছে, মেঘনা নদী ছাড়া দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা, ধরলা, পদ্মা এবং যমুনা নদীগুলো মঙ্গলবার পর্যন্ত ফুলে উঠতে পারে। কুড়িগ্রাম, সিলেট ও ​​শেরপুরে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ দেশের সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সুনামগঞ্জের লাউরেরগড়ে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত আসাম এবং মেঘালয়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পাবে। যার প্রভাব বাংলাদেশেও ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে সদর উপজেলায় রবিবার (১২ জুন) মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে আল আমীন (২৮) নামে এক কৃষকের বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদিন দুপুরে উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের কহরপাড়া এলাকার উত্তর মন্ডলপাড়া গ্রামে

এ দুর্ঘটনা ঘটে।  আল আমিন কহরপাড়া এলাকার উত্তর মন্ডলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। এবং  তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম বলেন, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় আল আমিন ফাঁকা মাঠে ঘাস কাটছিল। এক পর্যায়ে সে পাশের একটি খালের পানিতে মাছ ধরার জন্য জাল ফেলতে গেলে ওই সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের লোকজন আল আমিনের মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।

ওসি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট নারগুন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেরেকুল ইসলামের লিখিত আবেদনের মাধ্যমে আল আমিনের মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এনিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিতে তার পরিচয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ফাঁস দিয়ে কিশোরীর আত্মহত্যা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে তানিয়া আক্তার তন্নি (১৫) নামে এক কিশোরী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রবিবার (১২ জুন) সন্ধ্যার পরের দিকে উপজেলার টিলাগাঁও ইউপির ডরিতাজপুর গ্রামে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে ওই কিশোরী আত্মহত্যা করে। তন্নি ওই এলাকার তাহির উদ্দিনের মেয়ে।

জানা গেছে, তন্নির বাবা তাহির উদ্দিন দীর্ঘদিন থেকে প্রবাসে থাকেন। গত তিনদিন আগে তন্নির মা তার বাবার সাথে মোবাইল ফোনে ঝগড়া করে তন্নির নানা বাড়িতে চলে যান। তখন থেকে তন্নি ঐ বিষয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে।

রবিবার সন্ধ্যার দিকে তন্নির বড় ভাই নজরুল ইসলাম তাকে বাড়িতে রেখে দোকানে গেলে তন্নি খালি বাড়ি পেয়ে এই সুযোগে ঘরের দরজা লাগিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

দোকান থেকে ফিরে ঘরের দরজা লাগানো দেখে তন্নি’কে তার ভাই ডাকাডাকি করার পরও তন্নির কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় তিনি দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে দেখতে পান তন্নি আত্মহত্যা করেছে।

পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান’কে অবহিত করলে চেয়ারম্যান কুলাউড়া পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তন্নির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি সাপেক্ষে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রতিবেদক’কে জানান, প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত জেনে ধারনা করছি তন্নি তার পরিবারের সঙ্গে অভিমান করেই আত্মহত্যা করেছে।

নাগেশ্বরীতে ২৭০ টি হতদরিদ্র পরিবারকে গরু দিলো বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমী

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ নাগেশ্বরী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হতদরিদ্র ২৭০ টি পরিবারকে গরু দিলো বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমী। রোববার (১২জুন) বিকালে নাগেশ্বরী দয়াময়ী পাইলট একাডেমী ফুটবল মাঠে অস্থায়ী হাট বসিয়ে সেখান থেকে গরু কিনে ওই পরিবারগুলোকে এ সহায়তা দেয়া হয়।

কুড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠির দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের অধীনে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর দেয়া এ গরু সুবিধাভোগিদের হাতে তুলে দেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আহমেদ মাছুম, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক জাহেদুল হক চৌধুরী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী কবির হোসেন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর এ সহযোগিতা পেয়েছে পর্যায়ক্রমে উপজেলার ১ টি পৌরসভা ও ১৪ টি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৭শত হতদরিদ্র পরিবার। তাদের প্রত্যেককে ৪০ হাজার টাকার একটি বকনা গরুর পাশাপাশি পরবর্তী  ৬ মাস পর্যন্ত পরিচর্যার জন্য আরো ৫শত টাকা করে দেয়া হয়েছে।

সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ কর্তৃক দেশ ব্যাপি নাট্য প্রতিযোগিতার রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের প্রতিযোগিতা সম্পূর্ণ

সাবিক ওমর সবুজ : “নাটক হোক সমাজ দর্পনের হাতিয়ার ”এই স্লোগানকে সামনে রেখে সসাস কর্তৃক আয়োজিত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের নাট্য প্রতিযোগিতা’২২ এর প্রাথমিক বাছাই পর্ব গত ১০ জুন বগুড়ায় সম্পূর্ণ হয়েছে।

সারাদেশ ব্যাপী ইসলামি সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে কাজ করছে সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস)। এরই ধারাবাহিকতায় সসাস আয়োজন করেছে দেশব্যাপী জাতীয় নাট্য প্রতিযোগিতা ” ২২ ইং। উক্ত প্রতিযোগিতা সারাদেশের শিল্পীগোষ্ঠী ও নাট্য সংগঠনের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে প্রাথমিক বাছাইপর্ব শুরু হয়েছে।

উক্ত প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি ছিলেন সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদের (সসাস) নির্বাহী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল নোমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন সসাসের সহকারী নির্বাহী পরিচালক রেজাউল ইসলাম, সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সসাসের আবৃত্তি ও উপস্থাপনা সম্পাদক শাফায়েত উল্লাহ, শিশু-কিশোর বিষয়ক সম্পাদক জাকির হোসাইন।প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্য অভিনেতা মাহ্দী হাসান ও রাকিব রাশেদ।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, বিশ্বায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের সংস্কৃতি ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং গেমস সংস্কৃতির কালো থাবায় আটকে গেছে আমাদের সংস্কৃতির স্বকীয়তা। আমাদের ধর্মবিশ্বাসের ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা আবহমান কালের চিরায়ত সংস্কৃতি থেকে  সুকৌশলে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এমন ভয়াবহ আগ্রাসন রোধে বিশ্বাসী চেতনা ও নৈতিক মূল্যবোধের সংস্কৃতি নাট্য আন্দোলনের মাধ্যমে পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে এই প্রতিযোগিতা শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে বলে  প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সসাসের সহকারী নির্বাহী পরিচালক  হাফেজ রেজাউল ইসলাম বলেন, বাংলা সাহিত্যে বাংলা নাটক এর উদ্ভব ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে। নাটক সমাজ দর্পণের হাতিয়ার। জীবনকে প্রত্যক্ষত দেখতে, জানতে, বুঝতে নাটকের বিকল্প নেই। দেশ কাল-সমাজ ও সমাজ-আশ্রিত জীবন নাটকে প্রতিফলিত হয়। নাটক মিশ্রকলা একাধারে যেমন পাঠ্য আবার অভিনয়েও বটে। প্রাচ্য নাট্যশাস্ত্রী ভরত-এর মতে, নাটক হল সর্ব শাস্ত্র, শিল্প, কর্ম ও বিদ্যার সমন্বয়ে রচিত। নাটক জীবন নিয়ে রচিত। তাই সমাজের জীবনের নানা সমস্যা ও সংকটের শিল্পীত রূপ নাটকে প্রতিফলিত হয়। বাংলাদেশে মঞ্চ নাটক আবারো ফিরিয়ে আনতে সসাসের নাট্য প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সসাসের আবৃত্তি ও উপস্থাপক সম্পাদক শাফায়েত উল্লাহ বলেন,ইসলাম একপ্রকার পরিপূর্ণ জীবন বিধান হিসাবে শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় জীবন পরিচালনা করে তা নয়, বরং সামগ্রিক জীবন ব্যবস্থার এক অনিবার্য প্রভাব বিস্তার করে। ব্যক্তিগত, সামাজিক আচার অনুষ্ঠান, শিক্ষা-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক জীবনাচারন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে ইসলাম। ইসলামের নাট্যর গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়া  শিল্পীদের নাট্যর যত্বের বিষয়ে আলোচনা করেন।

সসাসের শিশু কিশোর সম্পাদক জাকির হোসাইন বলেন, বিশ্বায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের সংস্কৃতি ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং গেমস সংস্কৃতির কালো থাবায় আটকে গেছে আমাদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা। আমাদের ধর্মবিশ্বাসের ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা আবহমান কালের চিরায়ত সংস্কৃতি থেকে সুকৌশলে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এমন ভয়াবহ আগ্রাসন রোধে বিশ্বাসী চেতনা ও নৈতিক মূল্যবোধের সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তরুণ প্রজন্মের সংস্কৃতিকর্মীদের আরো আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। এমন সময় সসাসের সুন্দর আয়োজন নাট্য উৎসব দেশের  নাটককে আরো সামনে দিকে নিয়ে।

উক্ত প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন সসাসের নাট্য ও মিডিয়া সম্পাদক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম মাসুম।