সিরাজগঞ্জে ২০ লাখ টাকার হেরোইনসহ মাদক কারবারী আটক

রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় অভিযান চালিয়ে ২১৫ গ্রাম হেরোইনসহ মো. হামিম হোসেন (৩৩) নামে এক মাদক কারবারীকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-১২) সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুন) ভোরে সলঙ্গা থানার রামারচর এলাকায় হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কে এ অভিযান চালানো হয়।

আটককৃত হামিম রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার মাদারপুর গ্রামের সুরমানুল হকের ছেলে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১২ এর মিডিয়া অফিসার মেজর রিফাত-বিন-আসাদ।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামারচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হামিম হোসেনকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২১৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত হেরোইনের মূল্য ২১ লাখ টাকারও বেশি। রিফাত-বিন-আসাদ বলেন, এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের পর আসামিকে সলঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জে ইউনিয়ন পর্যায়ে (সার্বক্ষণিক) স্বাভাবিক প্রসব সেবা জোরদার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

অলিউর রহমান মেরাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক স্বাভাবিক প্রসব সেবা জোরদারকরণ বিষয়ক দিনব্যাপী অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের আয়েজানে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ সোম এর সভাপতিত্বে এই অবহিতকরণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন রংপুর পরিবার পরিকল্পনার পরিচালক দেওয়ান মোর্শেদ কামাল।

এতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ ১৪৮ জন অংশ নেন এই কর্মশালায়।

কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, দিনাজপুর পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক মমতাজ বেগম, ঢাকা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের (এমসিএইচ) উপ-পরিচালক ডা: জাহাঙ্গীর আলম প্রধান,দিনাজপুর  ডিস্ট্রিক কনসালটেন্ট ও (সিসি) সহকারী-পরিচালক ডা: খাদিজা নাহিদ ইভাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

পুনরায় বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক সাকিব, সহ-অধিনায়ক লিটন

স্পোর্টস ডেস্কঃ মুমিনুল হক সরে দাঁড়ানোর পর পুনরায় বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে সাকিব আল হাসানকে ফেরাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুন) বোর্ড সভা শেষে এমনটা জানিয়েছেন বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ৩ জনের নাম এসেছিল। আমরা অধিনায়কের সঙ্গে একজন সহ-অধিনায়ক রাখব এমন সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিলাম। তাই আমরা মিটিংয়ে অধিনায়ক হিসেবে সাকিব এবং সহ-অধিনায়ক হিসেবে লিটন দাসকে বেছে নিয়েছি।

৩ বছর পর আবারও টেস্টের নেতৃত্ব ফিরে পেলেন সাকিব। এর আগে দুই মেয়াদে বাংলাদেশ দলকে ১৪টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারকা অলরাউন্ডার, যাতে জয় ৩টি ও হার ১১ ম্যাচে। আগামী ১৬ জুন থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন সংস্করণের সিরিজে অংশ নেবে বাংলাদেশ। আর এই সফরে আগে মাঠে গড়াবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। অ্যান্টিগায় প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৬ জুন। ২৪ জুন দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে সেন্ট লুসিয়ায়। এই সিরিজ দিয়েই টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু হবে সাকিবের।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ফিক্সিং বিতর্কে জড়িয়ে ১ বছর নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তখনকার টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব। পরে তার জায়গায় টেস্টে মুমিনুলকে আর টি-টুয়েন্টিতে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে অধিনায়ক করা হয়। টেস্টে এতদিন সহ-অধিনায়ক ছিলেন না কেউ।

বাবা ভ্যানচালক, মা চা বিক্রেতা আর মেয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণে যাচ্ছে পর্তুগাল

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রাঙাটুঙ্গী ইউনাইটেড মহিলা ফুটবল একাডেমির খেলোয়ার কাকলী আক্তার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে  বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিন মাস উন্নত ফুটবল প্রশিক্ষণের জন্য পর্তুগাল যাচ্ছেন কাকলী। বুধবার ১ জুন বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এ সংবাদে এলাকাজুড়ে তার পরিবার ও এলাকাবাসির মধ্যে অনেক আনন্দ বিরাজ করছে। উপজেলার  পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কাশেম ও বানেসার মেয়ে কাকলী আক্তার (১৬)। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট কাকলী।

নিজস্ব বসতভিটা ছাড়া আবাদি কোনো জমি নেই কাকলীদের। ঋণের টাকায় একটি ভ্যান কেনেন তার বাবা। সেই ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে ভরণপোষণ। আয়ের তুলনায় পরিবারের চাহিদা বেশি তাদের। তবে কিছুই করার নেই। উপার্জন আসার কোনো রাস্তা ছিল না তাদের। কষ্ট করে সংসার চালিয়ে নিতেন কাকলীর মা বানেসা। দিন আসে দিন যায়, অভাব দূর হয় না তাদের। মাঝখানে কাকলীর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে বসেন। যেন আকাশ ভেঙে পড়ল কাকলীর মায়ের ওপর। একে তো অভাবের সংসার, তার ওপর অশান্তি, দুটো যুক্ত হয়ে জীবন হলো বিষময়। তবে বাস্তবতাকে মেনে নিতে সংকোচ বোধ করেননি তার মা। নিজের কাছে জমানো কিছু টাকা দিয়ে শুরু করেন চা বিক্রি। রাস্তার ধারে ছোট একটি দোকানে চা বিক্রি করেই পরিবার ও কাকলীর অর্থের জোগান দিয়েছেন তিনি।

কয়েক বছর পর কাকলীর বাবা নিজ ভুল বুঝতে পেরে দ্বিতীয় সংসার ছেড়ে আবার ফিরে আসেন তাদের কাছে। পরে সব মেনে নিয়ে আবার সংসার চলা শুরু হয় তাদের। বর্তমানে অসুস্থ বয়োবৃদ্ধ বাবা চালান ভ্যান আর মা করছেন চা বিক্রি। তবে মেয়ের ভিনদেশে যাওয়ার কথা যেন সব কষ্ট ভুলিয়ে রেখেছে তাদের।

কাকলীর মা বানেসা বলেন, ‘মেয়েডা আমার ফুটবল খেলে। নানান জনে নানা ধরনের খারাপ কথা কহে। খারাপ লাগিলেও মেয়েডা কান্নাকাটি করত আবার যাইত খেলতে। হামার থাকবার জায়গা ছাড়া আর কিছু নাই। স্বামী ভ্যান চালায় আর আমি চা বিক্রি করি। এখন আমার মেয়েডা বাইরের দেশত যাছে, এটা গর্বের বিষয়। সবাই দোয়া করবেন তার জন্য।’

কাকলীর বাবা আবুল কাশেম বলেন, ‘আমি দিনমজুরি করে সংসার চালাতাম। পরে একটা ভ্যান নিয়ে চালানো শুরু করি। এখনো ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। আর কাকলীর মা চা বিক্রি করে। আমি বয়সের কারণে নানা রোগে ভুগতেছি। পায়ের সমস্যা লেগেই আছে। মেয়েটা পর্তুগাল যাচ্ছে প্রশিক্ষণে, এটি আমার কাছে অনেক আনন্দের। যেখানে যাই সেখানকার লোকজন খোঁজখবর নেই। চা খাওয়ায় আর কাকলীর গল্প করে। তখন বুকটা ভরে উঠে। আমার মেয়ের জন্য সকলে দোয়া রাখবেন।

কাকলী আক্তার  বলেন, ‘স্কুল পর্যায়ে যে বঙ্গমাতা ফুটবল খেলাগুলো হতো, সেখান থেকেই আমার শুরু। পরে আমার এক স্যার বললেন, আমি ফুটবলার হবো কি না। আমি বলেছিলাম, যদি ভালো সুযোগ পাওয়া যায় তাহলে হব। পরে তিনি আমাকে রাঙাটুঙ্গিতে যোগাযোগ করিয়ে দেন। আমি বাবা-মাকে বিষয়টি বলি। তারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন এবং ফুটবল কিনে দিয়েছেন। এখন দেশের বাইরে যাচ্ছি আরও উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য। এটি আসলে অনেক বড় আনন্দের খবর আমার কাছে। তবে এ আনন্দের পেছনে অনেক পরিশ্রম রয়েছে। মেয়ে হিসেবে ফুটবল খেলতে এসে নানা ধরনের কটু কথা শুনতে হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে রাঙাটুঙ্গি ইউনাইটেড মহিলা ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১১ জন ছেলে ব্রাজিলে ও ১১ জন মেয়ে পর্তুগালে ফুটবল প্রশিক্ষণের জন্য যাচ্ছে। সেরা এগারোর মধ্যে আমাদের ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে একজন নির্বাচিত হয়েছেন। কাকলী নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে। তার বাবা বয়োবৃদ্ধ মানুষ। ভ্যান চালান। কিন্তু এ বয়সে ঠিকমতো চালাতে পারেন না। ভ্যানই একমাত্র আয়ের উৎস তাদের। আর তার মা চা বিক্রি করেন। তাদের জন্য এ ঘটনা অনেক বড় কিছু।’

এমন খুশির খবর শুনে রাণীশংকৈল পৌরসভার মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার পৌরসভার এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান কাকলী। কাকলীর মা-বাবা কষ্ট করে তাদের সংসারের খরচ চালায়। আজ সে ফুটবলের উচ্চ প্রশিক্ষণের জন্য পর্তুগাল যাচ্ছে, বিষয়টি আমাদের পৌরসভার জন্য খুবই খুশির খবর।

তুরস্ক সামরিক অভিযান চালাবে সিরিয়ায় : এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত দুটি শহরকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানো হবে বলে গতকাল বুধবার (১ জুন) তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান জানিয়েছেন। তুরস্ক অভিযান শুরু করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করবে না বলেও জানান তিনি।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বরাত দিয়ে এরদোগান বলেন, আসন্ন এই সামরিক অভিযানে তুরস্ক উত্তর সিরিয়ার দুটি শহরে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের দক্ষিণ সীমান্তে ৩০ কিলোমিটার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য আরেকটি পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা তাল রিফাত এবং মানবিজ পরিষ্কার করব। তিনি উত্তর সিরিয়ার দুটি শহর উল্লেখ করেই এই কথা বলেন। এরদোগানের মতে, তখন তুর্কি বাহিনী ধাপে ধাপে অন্যান্য অঞ্চলে অগ্রসর হবে।

গত এক সপ্তাহ ধরে তুরস্কের নেতা কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর হুমকি দিচ্ছেন। তিনি ওয়াইপিজি কেও টার্গেট করছেন। আর আঙ্কারা ওয়াইপিজিকে একটি সন্ত্রাস গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে এবং তাদের মতে এটি কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) এর অন্তর্গত। পিকেকে ১৯৮৪ সাল থেকে তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালায় এবং সেই সংঘর্ষে কয়েক হাজার মানুষ মারা যায়। এদিকে সিরিয়ায় তুর্কি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ওয়াইপিজি হামলার অভিযোগ এনেছে তুর্কি সরকার।

এরদোগান বলেন, আমরা দেখব কে তুরস্কের বৈধ নিরাপত্তা অভিযানকে সমর্থন করে এবং কারা তাদের বিরোধিতা করার চেষ্টা করে।

সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) সতর্ক করেছে যে আঙ্কারার একটি সামরিক অভিযান উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় আইএসআইএস সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করবে।

কুর্দি-নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মুখপাত্র ফরহাদ শামি বলেছেন, এসডিএফ একটি সম্ভাব্য যুদ্ধের আশা করছে। আক্রমণের ক্ষেত্রে আমরা ইসলামিক স্টেট গ্রুপ আইএসআইএলএর বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ থামিয়ে দেব এবং তুর্কি আক্রমণের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ শুরু করব।

গত মঙ্গলবার এরদোগান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেছিলেন দুই দেশের মধ্যে ২০১৯ সালের স্বাক্ষরিত একটি  চুক্তি তুর্কি-সিরিয়ান সীমান্তে একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরির অনুমতি দিয়েছে। তিনি কুর্দি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির প্রতি তাদের নম্রতা বিবেচনা করে ন্যাটো সদস্যতার জন্য ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনের সাম্প্রতিক আবেদনেরও বিরোধিতা করেন।

উল্লেখ্য, মানবিজ এবং তাল রিফাত উভয়ই কুর্দি জনসংখ্যার একটি বড় দল এবং সিরিয়ার সাথে তুরস্কের সীমান্তের কাছে অবস্থিত।

 

কনকপুর ইউনিয়নের ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৮নং কনকপুন ইউনিয়নের ২০২২ – ২০২৩ অর্থ বছরের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১ জুন) ৮নং কনকপুর ইউনিয়ন পরিষদ মিলতায়ন কক্ষে উক্ত বাজেট ঘোষনা অনুষ্ঠানে ৮নং কনকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুবেল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও ইউনিয়নের সচিব মুজাক্কির হুসেনের সঞ্চালনায় উক্ত বাজেট সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আলমগীর হোসেন উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি মৌলভীবাজার সদর।

এছাড়াও স্থানীয়দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহবন্দর যুব সংস্থার প্রধান পৃষ্ঠপোষক খালেদ চৌধুরী,বিশিষ্ট সমাজ সেবক লন্ডন প্রবাসী শাহাবুদ্দিন আহমদ শাবুল, শাহবন্দর যুব সংস্থার পৃষ্ঠপোষক সদস্য ও জেলা আওয়ামী সেচ্ছা সেবকলীগ সভাপতি নজমুল হক,বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী পারভজ আহমদ, বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল ইসলাম জাকির, শাহবন্দর যুব সংস্থার সভাপতি সাংবাদিক শাহ মোহাম্মদ রাজুল আলী প্রমুখ।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের প্রত্যেক ওয়ার্ডের সদস্য, মহিলা ইউপি সদস্যসহ সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার জনসাধারণ।

উন্মুক্ত বাজেট সভায় ২০২২ ২০২৩ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষনা করা হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লক্ষ ৩৪ হাজার ৭৬৪ টাকা। অনুষ্ঠান শুরুতেই এই বাজেট পেশ করেন কনকপুর ইউনিয়নের সচিব মুজাক্কির হোসেন। চেয়ারম্যান রুবেল উদ্দিন উনার বক্তব্যে বলেন, আজকে যে বাজেট পেশ করা হয়েছে সেই বাজেট সরকার থেকে বরাদ্ধ দেওয়া। এর একটা টাকাও এদিক সেদিক হবে না, আপনারা নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন, আপনাদের স্বার্থে এবং ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্যই টাকা গুলো ব্যায় করা হবে।

এছাড়াও সরকার থেকে বরাদ্ধকৃত আজকের এই বাজেট ই” শেষ নয় আমার ব্যক্তিগত ফাউন্ডেশন থেকে ও বিগত দিনের মতো সাহায্য সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব চেয়ারম্যান রুবেল উদ্দিন।

কুড়িগ্রামে স্বামীর পারিবারিক কলহের জেরে বিষপানে গৃহবধুর আত্মহত্যা

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে স্বামীর পারিবারিক কলহের জেরে রুমী বেগম (২০) নামের এক গৃহবধু বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার দুপুর দেড়টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐ গৃহবধুর মৃত্যু হয়। নিহত গৃহবধু উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের জেলে পাড়া এলাকার লোকমান মিয়ার স্ত্রী।

এলাকাবাসী ও ফুলবাড়ী থানার এস আই রাহাত আলম জানান, কয়েক দিন থেকে ঐ পরিবারের মধ্যে পারিবারিক কলহের কারণে দুই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই মান-অভিমান চলছে। এক পর্যায়ে সংসারে অশান্তির মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গত ৩০ মে স্বামী ও পরিবারের সকল সদস্যদের অজান্তে বিষপান করেন তিনি। পরে তার আত্মচিৎকারে স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত সময়ে ফুলবাড়ী হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফজলুর রহমান বুধবার সন্ধায় গৃহবধুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নেত্রকোণায় এই প্রথম নারী জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের যোগদান

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি: নেত্রকোণায় এই প্রথম নারী জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ যোগদান করেছেন। অঞ্জনা খান মজলিশ ১৯৭৭ সালের ০৯ অক্টোবর ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার সম্ভ্রান্ত “খান মজলিশ” পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রেজাউর রহমান খান মজলিশ (অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা) এবং মাতা শামীমা খান মজলিশ (গৃহিনী)।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি সাভার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৯২ সালে স্টার মার্কসহ ১ম বিভাগে এস.এস.সি পাশ করেন । ১৯৯৪ সালে  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজ হতে স্টার মার্কসহ ১ম বিভাগে এইচ.এস.সি পাস করেন একই সাথে উক্ত কলেজে মেধার স্বাক্ষর রাখার জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যের নিকট হতে উপচার্য পুরস্কার লাভ করেন।

পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ২০০৩ সালে বি.সি.এস (প্রশাসন) ক্যাডারে যোগদান করেন। প্রশাসন ক্যাডারে যোগদানের পর থেকে তিনি অত্যন্ত সততা, সুনাম ও দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বগুড়া ও চট্টগ্রাম জেলায় ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আমলী আদালত ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

তিনি চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় তিনি জনপ্রতিনিধি, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন প্রশাসনে কাজ করার বাস্তব দক্ষতা অর্জন করেন। ফটিকছড়ি উপজেলায় কর্মকালীন সময়ে তিনি নবগঠিত ফটিকছড়ি পৌরসভায় ১ম পৌর প্রশাসক ছিলেন। তার সময়ই ফটিকছড়ি পৌরসভার সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণসহ সফল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বাংলাদেশ চা বোর্ডে উপ-সচিব হিসেবে প্রেষণে কর্মরত ছিলেন।

পরবর্তীতে তিনি মানিকগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করেছেন। অতঃপর উপসচিব হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে কাজ করেছেন।  তিনি গত ০৩ জানুয়ার ২০২১  তারিখ থেকে ৩১ মে ২০২২ তারিখ পর্যন্ত চাঁদপুর জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গতকাল ১ জুন ২০২২ নেত্রকোণা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছেন। বাংলাদেশের যে এলাকায় তিনি কাজ করেছেন সেই এলাকার জন-মানুষের মনে তিনি সততা ও উদার মানবিকবোধ সম্পন্ন প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি দেশে ও দেশের বাইরে (জাপান,চীন ও ভারত) প্রশাসনিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত কাজে থাইল্যান্ড, চীন, জাপান, ভারত, তুরস্ক, ইন্দোনিশয়া ও সৌদিআরব ভ্রমন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিতা। তার স্বামী আবুল কাশেম মুহাম্মদ জহুরুল হক একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি দু’সন্তানের জননী। তার একটি ছেলে সন্তান ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

মামলায় হারলেন অ্যাম্বার হার্ড, ক্ষতিপূরণ পাবেন জনি ডেপ

বিনোদন ডেস্কঃ সাবেক স্ত্রী অ্যাম্বার হার্ডের বিরুদ্ধে করা মানহানির মামলা জিতলেন মার্কিন অভিনেতা জনি ডেপ। গত বুধবার (১ জুন) ভার্জিনিয়ার একটি আদালতের জুরি সদস্যদের মাধ্যমে জানা যায়, অ্যাম্বার হার্ড তার প্রাক্তন স্বামী জনি ডেপের বিরুদ্ধে যে সহিংসতার অভিযোগ এনেছিলেন তা মিথ্যা এবং অবমাননাকর।

বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, আদালত অ্যাম্বার হার্ডকে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ডেপের বিরুদ্ধে ঘরোয়া সহিংসতার অভিযোগ আনার পেছনে হার্ডের অসৎ উদ্দেশ্য ছিল বলেও মন্তব্য করেছেন আদালত।

তবে ডেপের বিরুদ্ধে আনা কিছু অভিযোগের রায় হার্ডের পক্ষেও গেছে। জুরিরা প্রমাণ পেয়েছেন, ডেপের আইনজীবীও হার্ডের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অবমাননাকর বিবৃতি দিয়েছেন। আর তাই হার্ডকে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বহু আমেরিকানের কাছে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ বা মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাশিত গর্ভপাতের সম্ভাব্য ঐতিহাসিক রায়ের চেয়ে সাবেক এই তারকা দম্পতির আইনি নাটকে বেশি মনোযোগ ছিল। এই মামলার বিচার কার্যক্রম টেলিভিশন এবং সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয় যা বিলিয়ন বার দেখা হয়েছে।

মামলার রা এর পর জনি ডেপ বলেন, জুরি আমাকে জীবন ফিরিয়ে দিয়েছেন। সত্য কখনো ধ্বংস হয় না। তিনি আরো বলেন, আমি আশা করি সত্য বলার জন্য আমার এই প্রচেষ্টা অন্যদের সাহায্য করবে, বিশেষ করে যারা আমার মতো পরিস্থিতিতে পড়েছেন। এটি তাদের সমর্থন জোগাবে যেন তারা কখনোই হাল না ছাড়ে।

অন্যদিকে, অভিনেত্রী অ্যাম্বার হার্ড রায় পড়ার সময় স্তব্ধ হয়ে বসেছিলেন। তিনি তার বিবৃতিতে বলেন, এ রায়ে তার হৃদয় ভেঙে গেছে। জুরি তার অভিযোগের পক্ষে থাকা প্রমাণগুলো উপেক্ষা করেছেন বলে অভিযোগ তার।

অ্যাম্বার হার্ড আরো বলেন, আমি দুঃখিত যে আমি এই মামলা হেরে গেছি। কিন্তু আমি এখনও এরচেয়ে বেশি দুঃখিত। কারণ আমি একটি অধিকার হারিয়েছি বলে মনে হচ্ছে। আমি ভেবেছিলাম একজন আমেরিকান হিসেবে আমার স্বাধীনভাবে এবং খোলামেলা কথা বলার অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, অন্য নারীদের জন্য এই রায়ের অর্থ কী, তা নিয়ে আমি আরও বেশি হতাশ। এটি অবস্থার অবনতি। যা আমাদের অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, যখন একজন নারী স্বাধীনভাবে কথা বলায় প্রকাশ্যে লজ্জিত এবং অপমানিত হতেন।

হার্ডের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছেন।

উল্লেখ্য, ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ খ্যাত অভিনেতা জনি ডেপ এর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে ঘরোয়া সহিংসতার অভিযোগে মামলা করেন তার প্রাক্তন স্ত্রী অ্যাম্বার হার্ড। এরপরেই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন জনি। অভিনেতা মিথ্যা বলছেন দাবি করে পাল্টা মামলা করেন অ্যাম্বারও। আর সেই মামলারই শেষ হতে যাচ্ছে এবার।

 

বগুড়ার ধুনটে অবৈধভাবে চাল মজুদ করায় অর্থ জরিমানা

সাবিক ওমর সবুজঃ বগুড়ার ধুনটে অবৈধভাবে ১ টনের অধিক চাল মজুদ করার দায়ে মেসার্স বর্ণ ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যামান আদালত। বুধবার বেলা ১২টায় ধুনট বাজার ও অফিসারপাড়া এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয় কুমার মহন্ত।

অভিযানকালে অফিসারপাড়া এলাকায় লাইসেন্স বিহীন ভাবে অবৈধ ভাবে চাল মজুদ করায় মের্সাস বর্ণ ট্রেডার্সের মালিক সাহা সঞ্জিব কুমার কে অত্যাবশকীয় পন্য নিয়ন্ত্রন আইন ১৯৫৬ এর ৬ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম, ভারপাপ্ত অসি এলএসডি নুরে আলম সিদ্দিকী।

এসময় উপেজলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, লাইসেন্স বিহীনভাবে যে কোন ব্যক্তি ১ টন পর্যন্ত চাল মজুদ করে রাখতে পারবে তবে এর বেশি কেউ মজুদ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।