মায়াজাল অতঃপর!

[উৎসর্গ- আমার অত্যান্ত আদর আর স্নেহের রোজ এর জন্য ছোট্ট উপহার ]

ছোট গল্পঃ গপ্পে- শ্যামা!

গ্রামের মেঠোপথে হাঁটছি আনমনে উদ্দেশ্য পোড়াবাড়ি, আমি বরাবরই কৌতুহলী আর প্রকৃতি প্রিয় মানুষ। অনেক দিন পর গ্রামে ফিরেছি, কৌতুহলের জন্য দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি আর ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে বেড়াই। আজ যাচ্ছি চলনবিলের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটা পোড়াবাড়িতে, সেই পোড়াবাড়ি সচারাচর কেউ যাও না, একটা ভূতুড়ে পরিবেশ টের পেলাম যখন আচমকাই একটা গরম বাতাস আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো।

আমি যখন পোড়াবাড়ি খুব কাছাকাছি হঠাৎ আমার পা আঁটকে গেলো কেউ একজন আমার পা যেন কাঁমরে ধরেছে প্রচন্দ্র বিষব্যথা অনুভব করলাম, নিচের দিকে তাকাতে পারছি না। আমার শরীর টা যেন ভারি হয়ে আসছে, অনেক চেষ্টা করছি পা টা ছুটিয়ে নিতে কিছুতেই পারছি না।  সময় টা ঠিক পড়ন্ত বিকেল, আশেপাশে সাহায্য চাওয়ার কেউ নাই। আল্লাহর নাম নিয়ে বুকে একটা ফুঁ দিয়ে দৌড়ে পালাবার চেষ্টা করছি।

অবশেষে একটা শীতল বাতাস আমাকে ছুঁয়ে দিলো, একটা হ্যাঁচকা টানে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতেই উপর হয়ে হামাগুড়ি দিয়ে পড়ে গেলাম। তারপর নিজেকে আবিষ্কার করলাম, আমার পায়ে অচেনা লতায় আঁটকে গেছে। তবে মুল সমস্যা টা ছিলো লতার সাথে অনেক ধারালো ছুরির মত কাঁটাতারের আবরণ, তাই পা আঁটকে অনেক জায়গায় কেটে রক্ত ঝড়ছে। বিষের ব্যথা সইতে আর পারছি না, সারা শরীর ঘ্রামে ভিজে গেছি। যেন নদীতে সাঁতার কেটে গোসল দিয়ে আসলাম। নিজের এই আহাম্মক নির্বুদ্ধিতায় ভয় পাওয়াটাকে অনেকটা বেকুবি মনে হওয়ায় হাসতে লাগলাম কিন্তু কাঁটার আঘাত টা খুব যন্ত্রণার, কিছুটা হতাশ হয়ে বসে পড়লাম।

হঠাৎ আমার চোখের সামনে আবিষ্কার করলাম একটা অদ্ভুত সুন্দর বিচিত্র রঙের ফুল, একটা মিষ্টি ঘ্রাণ আমাকে মুগ্ধ করে দিলো। নিজের অজান্তেই ফুল টা স্পর্শ করার জন্য হাত বাড়ালাম। ফুল টা স্পর্শ করতেই একটা আকাশী নীল রঙের মোহনায় নিমজ্জিত হলাম। এক নীল পরীর আবির্ভাব হলো। আমি চোখ দুটা ঘষতে লাগলাম, আমার সাথে কি ঘটে যাচ্ছে এটা? আবার আমার সারা শরীর ঘামতে শুরু করেছে। দেখলাম পরীটার শরীর অপরুপ সৌন্দর্য বিজলির চমক দিচ্ছে, নগ্ন পায়ে আলতা মেখে কোমল ঘ্রাসকে আলিঙ্গন করছে। কোমরে রুপার বৃছা, আগলা গাঁয়ে শাড়ি মোড়ানো, লাল লেজ ফিতার মেঘকালো চুলে বেনী বাঁধা, হাতে মেহেদীর আলপনা এঁকে ইশারা করছে, হরিণীর মত সুন্দর মায়াবী চোখ। চোখে যেন গোলাপের পাপড়ি, সে কি মায়া! সাদাসিধা ঠোঁট বিড়বিড় করে কি যেন বলছে ইশারায়, কপালে ছোট্ট করে টিপ, সব মিলিয়ে তার সৌন্দর্য ঠিক যেন অপ্সরীকেও হার মানায়।

আমার মুখের ভাষা যেন হাড়িয়ে গেছে। চারদিকে নিস্তব্ধতা আর হিমশীতল আবহাওয়া আমাকে কি এক সম্মোহনী শক্তির ধৃষ্টতা দেখিয়ে আমাকে সম্মোহিত করে রেখেছে, সে এক মায়াবী আলোর যাদুকরি মায়াবী শক্তি। যেন কতকাল কেটে গেছে এভাবে সৃষ্টিকর্তা ছাড়া তার হিসাবে কেউ জানে না।

হঠাৎ আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কে তুমি? কি চাও? দেখলাম তার মুখটা কালো আধারে ডেকে গেলো, আমি কোন সাড়া না পেয়ে দৌড়ে পালাবার চেষ্টা করছি। হঠাৎ পিছন থেকে আবার কেউ আমাকে আঁটকে দিলো, আমার হাতটা শক্ত করে ধরে ফেলেছে, এবার আমি চিৎকার করে বলে উঠলাম, কে তুমি? কি চাও? আমাকে যেতে দাও!

এবার তার মলিন মুখে একটা শব্দ বের হলো “রোজ”। তারপর ফ্যালফ্যাল করে করুণাভরে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কে রোজ? কোন রোজ? আমি কোন রোজ কে চিনি না, আমাকে যেতে দাও, বলেই হাঁকচা টানে নিজেকে ছুটিয়ে নিলাম। তখন মেয়েটির কপোল বেয়ে অশ্রু ঝরতে লাগলো। মায়াবী কন্ঠে শুধু বললো, তোমার কিশোরী পল্লীবালা, আজও তাকে ফেলে যাচ্ছো টেলিসামাদ!

হঠাৎ আমার বুকটা কেঁপে উঠলো, আমি থমকে গেলাম, শুধু অপলক দৃষ্টিতে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছি, আর নিজের অজান্তেই মুখ থেকে বের হচ্ছে, কিশোরী, পল্লীবালা, আমার রোজ।

মেয়েটি আলতো করে আঙুল দিয়ে আমার ওষ্ঠে স্পর্শ করে বললো, একটু শান্ত হও, তোমার পায়ে অনেক রক্ত ঝরছে, আমাকে একটু সেবা করতে দাও। তারপর সেই অদ্ভুত বিচিত্র সুন্দর ফুল টা ছিঁড়ে, রস বের করে আমার পায়ে মালিশ করতে লাগলো, নিমিষেই আমার পায়ের বিষাক্ত কাঁটার ব্যথা দুর হয়ে গেলো। আরও একটা ফুল তুলে রস চিপে আমাকে খাইয়ে দিলো, যেন এক অমৃত সুধা পান করলাম।

তারপর আমাকে শান্ত শিশুর মত তার কোলে শুইয়ে দিয়ে বললো, এবার দেখতো তোমার রোজ কে চিনতে পারো কিনা। আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে বিড়বিড় করে বলতে লাগলো, সখা আমি তোমার সখি গো, তোমার অত্যন্ত আদরের কিশোরী। যাকে মধুর সুরে পল্লীবালা ডেকে বুকে জরিয়ে নিতে পরম যত্নে, আর বলতে আমার বুকে তোমার নিরাপদ আশ্রয় ময়নাপাখি, আমার মনের মনিকোঠায় শুধু তুমি আত্মা, আমার চোখের নীলাকাশে নিশ্চিন্তমনে ডানা মেলে উড়ে বেড়াবে আর গেয়ে উঠবে, এমন করেই জন্মজন্মান্তরে তোমার বুকে আগলে রেখো আমায় সখা!

হঠাৎ নিজেকে আবিষ্কার করলাম মাঠের ঠিক মাঝখানে, আমি লাঙ্গল-জোয়াল গরুর কাঁধে তুলে জমিতে হালচাষ করছি মনের সুখে। আমার ক্ষেতে সোনার ফসল ফলাবো, সংসারের দায়িত্বগুলো বুঝে নেব আমার দুঃখী মায়ের মুখে হাসি ফোঁটাবো, কত স্বপ্ন মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।

দুপুর গড়িয়েছে অনেক আগে কিন্তু আমার হালচাষ শেষ হয়নি, মনে জিদ চেপে আছে শেষ না করে মায়ের ঘরে ফিরছি না।

হঠাৎ একটা আওয়াজ ভেসে আসছে। এই টেরিসামাদ এই টেলিসামাদ, হাল ছাড়ো হাল ছাড়ো। কাছে আসতেই তার কান চেপে ধরলাম, এই পাগলী তুই আমাকে এভাবে ডাকছিস কেন, কেউ দেখলে আমার মান সন্মান কিছু থাকবে?

কানটা আরও জোরে চেপে ধরে বললাম, আর এভাবে ডাকিবি হ্যাঁ, আমি তোর বড় না ছোট যে, এভাবে ডাকিস। পাগলী জোরে জোরে বলছে, কেউ তো দেখেনি টেলিসামাদ, আমি তোমার জন্য কত কষ্ট করে এই চৈত্রের খড়া রৌদ্রের মধ্যে ভাত নিয়ে আসছি আর তুমি আমাকে মারছো টেলিসামাদ। তুমি এত নিষ্ঠুর মানুষ আগে বুঝিনি।

আমি বললাম, তোকে কষ্ট করে কে ভাত নিয়ে আসছে বলছে, আমি কি বলছি হ্যাঁ?

পাগলীটা মন ভার করে বলছে, ওগো এবার ছাড়ো খুব ব্যথা পাচ্ছি। আমি বললাম, রোজ দিলি তো আমার দুর্বল জায়গায় হাত ডুকাইয়া। রোজ বলছে, আমি জানি আমার পাগলটাকে কিভাবে শান্ত করতে হয়!

আমার কল্পনায় সব সময়ই একটা শব্দ ছিলো, “ওগো”। একবার ভুল করে খাতায় লিখে রেখেছিলাম, ওগো শব্দ টা আমার অনেক ভালো লাগে, তাই আমি যতই রেগে যাইনা কেন, আমার লক্ষী বউ যদি ওগো বলে ডাকে আমার সব রাগ মাটি হয়ে শান্ত হয়ে যাব, এটা আমার প্রতিজ্ঞা।

অনেক মারামারি করছো এবার হাতমুখ ধুয়ে বসে পরো আমি ভাত দিচ্ছি, আমি পানির জগটা নিয়ে হাতমুখ ধুয়ে নিলাম, আর রোজ গামছাটা নিয়ে পরম মমতায় আমার হাত মুখ মুছে দিচ্ছে। আর বলছে আচ্ছা তুমি কি মনে করে আজ ইস্কুলে না গিয়ে সোজা লাঙ্গল-জোয়াল নিয়ে ক্ষেতে চলে আসলে। বললাম শুন রোজ বাবা চলে যাওয়ার পর মা অনেক কষ্টে আমাকে মানুষ করেছে জানিস তো, এবার আমি মার সংসারে দায়িত্ব নিতে চাই, তাই সিধান্ত নিছি, মাঠে যে কয়দিন হালচাষ করা লাগে করবো, বাকিদিন গুলো ইস্কুলে যাবো।

রোজ বলছে ইস্কুলে ঠিক মত না গেলে ফেল করবে, আর ফেল করলে কিন্তু আমাকে বিয়ে করতে পারবা না, বাবা কোন দিন মেনে নিবে না, আমি শুধু বললাম আমি কোন ক্লাসে ফাস্ট না হয়ে কোন দিন সেকেন্ড হয়েছি বল পাগলী, আমার তো একদিন পড়লে দশদিন না পড়লেও হয়, তার চেয়ে বল আমি গরীব আর ইয়াতিম তাই চাচা আমার সাথে তোকে বিয়ে দেবে না, সত্যি তো এটাই।

আমি এ নিয়ে ভাবি না রে পাগলী, আল্লাহ যদি তোকে আমার ভাগ্যে লিখে রাখে তো তুই আমার বউ হবি। না থাকলে না হবি। বলতে বলতেই রোজ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে চোখের পানি ছেড়ে দিলো। আমি রোজের চোখের পানি মুছে দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললাম, আত্মা রে আত্মা তোমাকে কষ্ট দেবার জন্য বলিনি, আমি শুধু বাস্তবতা জানাতে চাইছি, আর তাই পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের হাল ধরলাম আজ থেকে। সংসারের উন্নতি করবো তারপর মেট্রিক পাশ করলেই চাকরি, তখন চাচার কাছে তোকে চাওয়ার আগেই চাচা আমার মার কাছে তোকে আমানত হিসেবে তুলে দেবে আমার বউ করার জন্য। আর সব পরিকল্পনা আমার এই লক্ষী কিশোরী পল্লীবালার জন্য, তুই যে আমার আত্মা রে, আমার নয়নের মণি, আমার হৃদয়ে স্পন্দন রে পাগলী।

রোজ বলছে আমার টেলিসামাদ এত সুন্দর পরিকল্পনা করে রাখছে আমি তো ভাবছি, লাঙ্গল-জোয়াল নিয়ে চাষা হয়ে গেলো, আল্লাহ রে আমার কি হবে! এরপর আমার কিশোরী পল্লীবালার মুখে প্রশান্তির ছোঁয়া দেখতে পেলাম।

রোজ বলছে এবার কথা থামাও সখা, একটু শান্তিমত ভাত খাও, রোদের মধ্যে কপাল বেয়ে ঘ্রাম ঝড়ে যাচ্ছে তখন আমার পল্লীবালা তার শাড়ির আচল দিয়ে আমার কপালের ঘ্রাম মুছে দিচ্ছে পরম মমতায়। তখন চৈত্রের খড়া রৌদ্রের তাপদাহ নিমিষেই হারিয়ে গেলো, বিরাজ করলো অসীম সৌন্দর্যের এক জান্নাতি পরিবেশ। প্রশান্তির ছোঁয়ায় মনটা ভরে উঠলো, মুখ থেকে বেড় হয়ে গেলো, জান্নাতি পাপিয়া!

রোজ গোমড়ামুখে বললো, এই জান্নাতি পাপিয়া আবার কে টেলিসামাদ? আমি বললাম তোমার সতীন। রোজ রেগে আগুন হয়ে বললো, টেলিসামাদ থাক তুই, আমি চললাম। আমি পাগলিটার হাত চেপে ধরে বললাম, বলছি একটু শান্ত হও ময়না, রাগলে তোকে অনেক সুন্দর লাগে, গালটা আপেলের মত টুকটুকে লাল হয়ে যায় রে পাগলী একটু ছুয়ে দেখি। রোজ চিৎকার করে বলছে, টেলিসামাদ তোকে এক ঘুষি পারবো কিন্তুক!

আমার পাগলি টা যখন রেগে যায় তখন বেশি বেশি টেলিসামাদ আর তুইতোকারি করে, আমি তখন খুব মজা পাই, আর আনন্দের সময় বেশি বেশি করে টেলিসামাদ বলে ডাকে।

আমি বললাম, আরে পাগলী তুই যখন তোর আঁচল দিয়ে আমার কপালের ঘাম মুছে দিচ্ছিলি, তখন আমি একটা জান্নাতি সুভাস পাচ্ছিলাম, তাই তোকেই জান্নাতি পাপিয়া বলে ডাকছি।

হঠাৎ রোজ আমার বুকে ঝাপিয়ে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো আমাকে ক্ষমা করো সখা, তুমি আমাকে এত ভালোবাসো আগে বুঝতে পারিনি, আমি যে তোমার মুখে অন্য মেয়ের কথা শুনলে মরেই যাবো, আমাকে তোমার বুক থেকে দুরে ঠেলে দিও না সোনা!

আমি বললাম, আত্মা রে আত্মা, আমার লক্ষী পরীর ছাও, আমার কিশোরী পল্লীবালা তোকে ছাড়া অন্য কোন মেয়ের কথা ভাববার সময় কি তুই দিয়েছিস? তুই তো তোর মায়াবী সম্মোহনী শক্তির ধৃষ্টতা দেখিয়ে আমাকে সম্মোহিত করে রেখেছিস! তারপর আমার প্রশান্তিতে চোখের অশ্রু গড়িয়ে রোজের চুল কিছুটা ভিজিয়ে দিলো, পাগলীটা কে জানতেই দিলাম নাহ!

একদিন হাটবারে সকালে হাটে যাওয়ার জন্য বের হলাম। হঠাৎ রাস্তায় পথরোধ করে রোজ দাঁড়িয়ে গেলো। হাতে টাকা ধরিয়ে দিয়ে বললো, আমাকে না বলে হাটে যাচ্ছো টেলিসামাদ। এই নাও আমার জন্য কিছুমিছু নিয়ে আসবে। আমি বললাম আজ তোকে টাকা দিতে হবে না, আজ আমার টাকা দিয়ে তোর জন্য সব কিছু নিয়ে আসবো।

রোজ বলছে, তুমি আবার টাকা পাইছো কোথায়? মার আঁচল থেকে চুরি করছো নিঃসন্দেহে। আমার পল্লীবালার নিজের মা নাই, আর আমার মা ই রোজ কে কোলেপিঠে করে লালনপালন করেছেন, তাই আমার মাকে মা বলেই ডাকে।

রোজ বলছে, সত্যি করে বলতো টেলিসামাদ তুমি টাকা পাইছো কোথায়, বললাম আরে পাগলি আমার জমির ধান আজ হাটে বিক্রি করবো। এবার পাগলি টা বায়না ধরে বলছে, এই পাগল বলোনা আমার জন্য কি কি আনবে। আমি বললাম, বলবো নাহ, বলেই দিলাম ভোঁদৌড়। পাগলীটা রেগে গিয়ে বলছে বলে যা, না বললে এসে আমাকে আর পাবি নাহ মরে যাব কিন্তুক!

আমি দুর থেকে চিৎকার করে বললাম, মার জন্য জাম আর খয়েরী রঙের শাড়ি। রোজ চিৎকার করে বলছে, আমার জন্য কি বলে যা টেলিসামাদ, আমি চিৎকার করে বললাম, তোর জন্য লাল রেশমি চুড়ি, লাল লেজ ফিতা, আলতা আর ছোট্ট কালো টিপ। রোজ আবার চিৎকার করে বলছে এক ডজন নীল রঙের রেশমি চুড়ি অবশ্যই আনবে। ওগো শুনছো, তোমার হবু বউ তোমার উপার্জনের প্রথম উপহারের জন্য অপেক্ষায় থাকবে, তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবে কিন্তুক। আমি বললাম, আচ্ছা ঠিক আছে, আমার কিশোরী পল্লীবালাকে বউ সাজানোর জন্য সব কিছু নিয়ে এসে তাড়াতাড়ি নতুন বউ কে প্রাণ ভবে দেখবো, এবার মার কাছে যা পাগলি, মা একা আছে বাড়িতে, মার খেয়াল রাখিস।

হাটে গিয়ে মনের মত পছন্দ করে মার জন্য জাম আর খয়েরী রঙের শাড়ি কিনলাম। রোজ এর জন্য লাল রেশমি চুড়ি, লেজ ফিতা, নীল রেশমি চুড়ি, আলতা আর ছোট্ট কালো টিপ কিনে মার পছন্দের গরম গরম জিলাপি কিনে মাত্র হাতে নিয়েছি। তখনই মানুষ জন দৌড়ে পালাচ্ছে, পালাও পালাও পালাও চিৎকার করে বলছে মিলিটারি! মিলিটারি! একজন বলছে সব গ্রামে মিলিটারি ডুকছে, যাকে সামনে পাচ্ছে গুলি করে মারছে, আমি কোন দিকে না তাকিয়ে বাড়ির দিকে দৌড়াতে লাগলাম। মা আর রোজ বাড়িতে তাদের বাঁচাতে হবে।

দৌড়াচ্ছি আর আল্লাহ কে ডাকছি, আল্লাহ আমাকে শক্তি দাও, মাকে আর আমার রোজ কে বাঁচাবার শক্তি দাও আল্লাহ, দয়া করো আল্লাহ। পাগলের মত ছুটতে ছুটতে বাড়িতে পৌঁছে দেখি আমার মার কুড়ে ঘর আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছে। পাগলের মত আগুন ঠেলে মার ঘরের দিকে ছুটছি।  পিছন থেকে একজন ঝপটে ধরে বলছে, পাগলামি করিস না ভাই, তোর রোজ কে পাকিস্তানি হায়েনার দল তুলে নিয়ে গেছে পুরান জমিদার বাড়িতে, পারলে তোর রোজ কে বাঁচা।

আমি পাগলের মত পুরান জমিদার বাড়ির দিকে ছুটে চলছি, উন্মাদের মত দৌড়ে পুরান জমিদার বাড়ি কাছাকাছি পৌঁছাতেই চিৎকার করে বলছিলাম আমাকে মেরে ফেলো আমার রোজ কে ছেড়ে দাও হায়নার দল। হঠাৎ হানাদার বাহিনীর একটা বুলেট আমার বুকটা ঝাঁজরা করে দিলো। চিৎকার করে বলছিলাম আমার রোজ কে ছেড়ে দাও!

আমার বুক চিঁড়ে লাল রক্তে ভেসে গেলো আমার মায়ের ভূমি, আমার সবুজ মাতৃভূমি। রোজ – আমার কিশোরী পল্লীবালা আমাকে কক্ষণও ক্ষমা করো না, আমি তোমাকে রক্ষা করতে পারিনি, আমার যে বুকে মাথা রেখে তুমি শান্তির নীড় গড়েছো, সেই বুকে হায়নার দল বুলেট ছুঁড়ে রক্তের নদী বইয়ে দিলো। পল্লীবালা আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করুন।


 

আবার শিরোপা উৎসব মেসির আর্জেন্টিনার

স্পোর্টস ডেস্কঃ বছর না ঘুরতেই আবারও শিরোপা উৎসবে মাতলো লিওনেল মেসির দল আর্জেন্টিনা। ১৯৯৩ সালের পর আরেকটি ফাইনালিসিমায় মাঠে নেমে আবার শিরোপা জিতলো মেসির অদম্য দল। ইতালিকে দুই আন্তঃমহাদেশীয় সেরার লড়াইয়ে ৩-০ গোল ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নিলো আর্জেন্টাইনরা।

দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে গত বছর জুলাইয়ে ব্রাজিলকে ১-০ গোল ব্যবধানে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জিতে শিরোপা খরার অবসান ঘটায় লিওনেল মেসির দল।

ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ, অ্যানহেল দি মারিয়া এবং পাউলো দিবালা। গোল না করলেও আর্জেন্টিনার ফুটবল জাদুকর ছিলেন এই ম্যাচের প্রাণভোমরা। সতীর্থকে দিয়ে করিয়েছেন দুই গোল। স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টিনার জার্সিতে অ্যাসিস্টের ফিফটি।

ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইতালি এবং আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয় ফাইনালিসিমায়। যেখানে প্রতিপক্ষ ইতালিকে বলতে গেলে কোনো সুযোগই দেয়নি মেসির দল। পুরো ম্যাচেই ইতালির উপর চাপ প্রয়োগ করে খেলে গেছে টানা ৩২ ম্যাচ ধরে অপরাজিত থাকা আর্জেন্টিনা। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামও যেন এদিন হয়ে উঠেছিল এক টুকরো আর্জেন্টিনা।

এদিকে ম্যাচশেষ মেসি বলেন, জয় নিয়ে শেষ করতে পারাটা অনেক সুন্দর। আর্জেন্টিনার এই দলটা সুখ আর আনন্দ ছড়িয়ে দিতে পারে। দলের সান্নিধ্যে আসলে আমি এমনটা অনুভব করি। আমরা আরো একটি ভালো ম্যাচ খেলেছি। আমাদের উন্নতির চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এটাই করতে চাই। মনে রাখা জরুরি, আমরা বিশ্বসেরা নই।

মেসি আরও বলেন, প্রতিপক্ষ যাই হোক না কেন, নিজেদের শক্তিতে বিশ্বাসী তিনি। তিনি বলেন, আমি জানি না আসন্ন বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতির জন্য এই ম্যাচটা আমাদের দরকার ছিল কিনা। তবে আমরা আমাদের যোগ্যতা সম্পর্কে ধারণা রাখি। কোন দলের বিপক্ষে খেলছি বা প্রতিপক্ষ কারা সেটা পরোয়া করি না। প্রতি ম্যাচে আমরা একই রকম ফুটবল খেলি। তবে ইতালির বিপক্ষে ম্যাচটা একটা পরীক্ষা ছিল। কারণ ওরা দুর্দান্ত দল।

মাদক সম্রাট নিজাম গ্রেপ্তার

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : একাধিক মাদক মামলার এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে মৌলভীবাজার মডেল থানার নিয়ন্ত্রণাধীন শেরপুর ফাঁড়ি পুলিশ। বুধবার (১জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দিকে ঐ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র মতে জানা গিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেরপুর ফাঁড়ি পুলিশ জানতে পারে সিলেট মেট্টোর উপশহর এলাকায় পরোয়ানাভূক্ত একাধিক মামালার পলাতক এক আসামী অবস্থান করছে। তাৎক্ষণিক শেরপুর ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ এসআই ইফতেখার ইসলামের দিক নির্দেশনায় ফাঁড়ি পুলিশের এএসআই মোশাহিদ কামাল সঙ্গীয় পুলিশের একটি দল ঐ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে জিআর১৩৩/১৭, জিআর ৩৩৪/১৭, এবং জিআর ১৯৯/১৯ (সদর) এর পরোয়ানাভূক্ত পলাতক আসামী মৌলভীবাজার সদর উপজেলার দাউদপুর (হামরকোনা) গ্রামের মৃত. আকাব উদ্দিনের পুত্র নিজাম উদ্দিনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ব্যাপারে শেরপুর ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ এসআই ইফতেখার ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। সে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। বর্তমানে আসামীকে সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনানুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে আসামীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফুলবাড়ী পল্লী উন্নয়ন অফিসে প্রশিক্ষনের ৯ লাখ টাকা নিয়ে টালবাহনা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে উদকনিক প্রকল্পের আওতায় একটি ব্যাচের প্রশিক্ষন না হলেও প্রশিক্ষনের ৯ লাখ ১২ হাজার টাকা নিয়ে টালবাহনা চলছে। তৎকালীন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (আরডিও) এবং বর্তমান হিসাবরক্ষকের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন হলেও সরকারী কোষাগারে ফেরত দেয়ার কোন প্রমানপত্র দেখাতে পারছেন না তারা । ফলে ওই টাকার ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

সুত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের দরিদ্রদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ (উদকনিক) প্রকল্পের আওতায় ফুলবাড়ী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসের বাস্তবায়নে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ব্যাচ প্রতি ৪৮ জন করে মোট চারটি ব্যাচের প্রশিক্ষন বাবদ প্রায় ৩৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। এর মধ্যে ৩টি ব্যাচের প্রশিক্ষন সমাপ্ত হলেও করোনার কারনে একটি ব্যাচের প্রশিক্ষন সম্পন্ন হয়নি। বাদ পড়া ব্যাচের প্রশিক্ষনের ৯ লাখ ১২ হাজার টাকা অগ্রনী ব্যাংকের ৩৩৮৮০০০৫ নম্বর হিসাব থেকে তৎকালীন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ সামছুল হুদা এবং বর্তমান হিসাবরক্ষক ফিরোজ আহম্মেদ যৌথ স্বাক্ষর করে উত্তোলন করে নিজেদের কাছে রেখে দেন। কিছুদিন পর তৎকালীন আরডিও মোঃ সামছুল হুদা বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যান। ফলে সরকারী কোষাগারে টাকা জমা দেয়ার বিষয়টি অমিমাংসিতই থেকে য়ায়।

এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসের হিসাবরক্ষক ফিরোজ আহম্মেদ জানান, করোনার কারনে প্রশিক্ষন না হওয়ায় ব্যাংক থেকে সমুদয় টাকা উত্তোলন করে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) স্যারকে দেয়া হয়েছে। টাকা প্রদানের প্রমান আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাতে হাতে টাকা দেয়া হয়েছে। কোন কাগজ পত্র আমার কাছে নাই। সরকারী কোষাগারে জমা না দিয়ে পিডি স্যারকে দিলেন কেন ? এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তোর তিনি দিতে পারেন নি।

তৎকালীন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ সামছুল হুদা বলেন, টাকা উত্তোলন করে অফিস কর্মচারীদের সম্মুখে সমুদয় টাকা হিসাবরক্ষকের কাছে রাখা হয়েছে। আমি বদলী হয়ে চলে আসায় পরে কি হয়েছে জানিনা। উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোছাঃ উম্মে কুলছুম জানান, আমি যোগদান করার আগে বিষয়টি ঘটেছে। আমি এমনিতে শুনেছি, কিন্তু ও ব্যাপারে আমার কাছে কোন তথ্য নাই।

এ প্রসঙ্গে উত্তরাঞ্চলের দরিদ্রদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ (উদকনিক) প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোন টাকা কেউ আমাকে দেয়নি। তাছাড়া সরকারী টাকা হাতে হাতে নেয়ার প্রশ্নই আসেনা। বিষয়টি আমি একটু একটু শুনেছি, খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালে বন্দুকধারীর হামলায় ৪ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহামা অঙ্গরাজ্যের তুলসা শহরের একটি হাসপাতালে বন্দুকধারীর হামলায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুন) দেশটির আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাইফেল ও হ্যান্ডগান নিয়ে তুলসা শহরের একটি হাসপাতালে সশস্ত্র এক ব্যক্তি হামলা চালায়। এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এছাড়া স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ৫২ মিনিটে পুলিশ এ সংক্রান্ত একটি কল পেয়েছে এবং তিন মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারীও মারা গেছেন বলে জানায়।

তুলসার ডেপুটি পুলিশ প্রধান জোনাথন ব্রুকস বলেন, গোলাগুলির খবর পাওয়ার ৩ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ৫ মিনিটের মধ্যেই হামলাকারীকে শনাক্ত করে তারা। তিনি বলেন, বন্দুকধারীর পরিচয় বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তার বয়স ৩৫ থেকে ৪০ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন্দুকধারীর হাতে রাইফেল ও পিস্তল ছিলো।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার  লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিন্স শহরে একটি হাইস্কুলের স্নাতক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গোলাগুলির ঘটনায় বয়স্ক এক নারী নিহত হন। ওই ঘটনায় আহত হন আরও ২ জন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের উভালদে রব এলিমেন্টারি স্কুলে এক তরুণ বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ১৯ জন শিশু শিক্ষার্থীসহ ২১ জন নিহত হন।

 

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে মতবিনিময় সভা

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে বুধবার (১ জুন) নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বহৃি শিখা আশা’র সাথে সৌজন্য সাক্ষাত ও মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সকল দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা এ মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও হরিপুর উপজেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ  জিয়াউল হাসান মুকুল, উপজেলা আ.লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নগেন কুমার পাল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিবুজ্জামান, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রুবেল হোসেন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আসাদুজ্জামান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম পুষ্প, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ মোতাহার পারভীন সুমি, হরিপুর মোসলেম উদ্দিন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম রেজা তালুকদার, আ.লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন প্রমুখ।
নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বহ্নি শিখা আশা বলেন, আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতায় উপজেলার উন্নয়নক্লপে কাজ করতে চাই। আশা করি সকলের সহযোগিতা পেলে আমার অর্পিত দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে পারবো।

একনেকে অনুমোদন পেলো ২৬৬৫ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প

সিএনবিডি ডেস্কঃ প্রায় ২ হাজার ৬৬৫ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ের ৯টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। গতকাল বুধবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরে বাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুই বছরের বেশি সময় পর সরাসরি একনেক মিটিংয়ে অংশ নিলেন। করোনা সংক্রমণের কারণে তিনি এতদিন ভার্চুয়ালি এ সভায় অংশ নিয়েছেন।

অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ হলোঃ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প যথাক্রমে “রূপকল্প ২০৪১: দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্র সঞ্চয় যোজন” প্রকল্প; এবং “রংপুর জেলাধীন  পীরগঞ্জ, হারাগাছ ও বদরগঞ্জ পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন” প্রকল্প; ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের “দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসা স্থাপন ও পরিচালনা” প্রকল্প; রেলপথ মন্ত্রণালয়ের “বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ৫০টি বিজি এবং৫০টি এমজি যাত্রীবাহী ক্যারেজ পুনর্বাসন” প্রকল্প; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের “ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ (১ম সংশোধিত)” প্রকল্প; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের “বানৌজা শের-ই-বাংলা পটুয়াখালী স্থাপন (১ম সংশোধিত)” প্রকল্প; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের “রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে নেসকো’র আওতাধীন এলাকায় স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন” প্রকল্প; নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের “দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এসএএসইসি) সমন্বিত বাণিজ্য সুবিধা সেক্টর উন্নয়ন প্রকল্প: বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (বিএলপিএ) অংশ “প্রকল্প; এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের “দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এসএএসইসি)সমন্বিত বাণিজ্য সুবিধা সেক্টর উন্নয়ন প্রকল্প: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অংশ” প্রকল্প।

সভার কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান; সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের; কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক; তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম; শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন; স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম; পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা।

লোহাগাড়ায় গাড়ির চাপায় দোকানদার নিহত

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি ডাকবাংলো এলাকাস্থ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পিক-আপের চাপায় সাইফুল(২২) নামে এক দোকানদার নিহত হয়েছে। ১ জুন সকাল ১১টার এ ঘটনাটি ঘটেছে।

নিহত সাইফুল উপজেলার চুনতি আদর্শ পাড়ার বজল আলীর পুত্র। সে একজন পানের দোকানদার।

চুনতি ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন জনু কোম্পানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, সাইফুল ইসলাম চুনতি ডাকবাংলোর সামনে পানের দোকান করে আসছে। দোকান থেকে বের হয়ে মহাসড়কের দিকে রাস্তা পারাপারের সময় সবজি বোঝায় পিকআপের চাপা দিলে সে ঘটনাস্থলে প্রান হারায়।

দোহাজারি হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মাকছুদ আলম জানান,ঘটনার খবর পেয়ে এসআই বাবুল মিয়াকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। লাশ পরিবারের কাছে রয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  পিক-আপ গাড়ি আটক করে দোহাজারী থানার হেফাজতে রয়েছে। ঘাতক চালক পলাতক রয়েছে বলেও তিনি জানান।

নওগাঁয় ‘প্রশান্তির প্রহর’ পার্কের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় শিশু ও জনসাধারণের জন্য অবহেলিত এলাকার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষে পরিবেশ বান্ধব ‘প্রশান্তির প্রহর’ নামে পার্কের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়েছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শহরের পার-নওগাঁ তাজের মোড়ের পাশে প্রশান্তির প্রহর এর ফলক উন্মোচন করেন জেলা পরিষদের চেয়রারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম ফজলে রাব্বি বকু।

পরে জেলা পরিষদের আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে মুঠোফোনে যুক্ত হয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন-বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলির সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- জয়পুরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম, নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মো. শাহনেওয়াজ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজুল ইসলাম তোতা, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান ছেকার আহমেদ শিষাণ, আ’লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট সালাহউদ্দিন খান মিন্টু, ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সারওয়ার তানজিম সম্রাট, রেডক্রিসেন্ট সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য মৌলবী বাবু সহ অন্যরা।

মিতালী এক্সপ্রেসের চাকা গড়ালো চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে

মোকাদ্দেস লিটু, ডোমার, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ ৫৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আজ ১ লা জুন ২০২২ বহুল প্রতিক্ষিত মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভারতের পশ্চিম বঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ি ষ্টেশন থেকে ছেড়ে এসে প্রায় ৬৯ কিঃমিঃ ভারতীয় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বুধবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশের উত্তরের সীমান্ত জেলা নীলফামারীর চিলাহাটি রেল ষ্টেশনে পৌঁছায়।

এ সময় চিলাহাটি রেল স্টেশন ও বাজার এলাকায় উৎসুক জনতায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। ২০ মিনিট বিলম্বে আসা ট্রেনটি প্রায় ৩৫ মিনিট চিলাহাটি ষ্টেশনে যাত্রা বিরতির পর ২টা ৪৫ মিনিটে ১০টি র‌্যাক নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ১টি ইঞ্জিন ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

ট্রেনটি চিলাহাটি রেলওয়ে ষ্টেশনে আসার পর বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিম জোনের মহাব্যবস্থাপক অসিম কুমার তালুকদার ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষকে অভিবাদন জানান। এ সময় তারসাথে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিওপিএস শহিদুল ইসলাম, সিসিএম আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া, সিই কুদরত-ই-খুদা, সিএমই মনিরুজ্জামান ফিরোজ, সিইই সফিকুল ইসলাম, সিসি/ আরএনবি আসাবুল ইসলাম, ডিআরএম শহিদুল ইসলাম, ডিইএন/২ আব্দুর রহিম, ডিএমই/ লোকো তাপস কুমার।

অপরদিকে মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি জলপাইগুড়ি থেকে নিয়ে আসে ভারতীয় রেলের ট্রেন পরিচালক কৌশিক ঘোষ, লোকো মাষ্টার বিবেকানন্দ চৌধুরী ও সহকারী লোকো মাষ্টার রাকসান কুমার।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিম জোনের মহাব্যবস্থাপক অসিম কুমার জানায় মোট ১০টি র‌্যাক নিয়ে বাংলাদেশে আসে ট্রেনটি। এর মধ্যে ৪টি এসি বাথ, ৪টি এসি চেয়ার, ১টি পাওয়ার ভ্যান ও ১টি ব্রেক ভ্যান। সূত্র আরো জানায়, ঢাকা থেকে ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি রেল ষ্টেশন পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয় এসি বাথ প্রতিজন ৫ হাজার ২৫৫ টাকা, এসি সিট ৩ হাজার ৪২০ টাকা, এসি চেয়ার ২ হাজার ৭৮০ টাকা।

আজ বুধবার মোট ১৮ জন যাত্রী নিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে মিতলী এক্সপ্রেস। এদের মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশী নাগরিক ও ০৫ জন ভারতীয় নাগরিক আসেন।

বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম ও ভারতের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ভার্চুয়ালি ট্রেনটির উদ্বোধন করেন ভারতের দিল্লী থেকে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিম অঞ্চলের মহা-ব্যবস্থাপক অসিম কুমার তালুকদার বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারতের ভিসাসহ অন্যান্য জটিলতার অবসান হওয়ায় পহেলা জুন থেকে মিতালী এক্সপ্রেস যাত্রীবাহি ট্রেনটি দিনে ৪৫৬ জন রাতে ৪০৮ জন যাত্রী নিয়ে ভারত সীমান্তের নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের নীলফামারীর চিলাহাটি হয়ে ঢাকা ক্যান্টমেন্ট পর্যন্ত চলাচল করবে। এই ট্রেনটি সপ্তাহে দু’দিন রবিবার ও বুধবার চলবে জলপাইগুড়ি থেকে। আর বাংলাদেশের ঢাকা ক্যান্টমেন্ট থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার চলাচল করবে।

যাত্রীবাহি মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে রংপুর বিভাগের পাসপোর্টধারী যাত্রীর জন্য দুটি কোচ বরাদ্দ থাকলেও আপাতত চিলাহাটি ষ্টেশনের অবকাঠামো কাস্টম এমিগ্রেসন না থাকার কারনে পাসপোর্টধারী যাত্রীরা চিলাহাটি থেকে যাতাযাত করতে পারবে না। শুধু মাত্র ঢাকা ক্যান্টমেন্ট ও ভারতের নিউ জলাপাইগুড়ি (এনজেপি) থেকে যাত্রী যাতাযাত করতে পারবে। এই ট্রেনে ভ্রমণকারী যাত্রীদের অবশ্যই কোভিড-১৯’র টিকা গ্রহনের সনদ থাকতে হবে।

গত ২৭ মার্চ বাংলাদেশ-ভারত মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলাচলের ভার্চুয়াল উদ্ধোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উল্লেখ্য দীর্ঘ ৫৮ বছর ধরে বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ-ভারত রেলপথটি পুনরায় চালু হলো।