অনুমোদনহীন তিন ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের বৈধ অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মে) কুলাউড়া শহরস্থ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অবস্থিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন ছাড়া পৌর শহরের উত্তরবাজারে ইমপালস্ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, উছলাপাড়ায় ইউনি এইড হেলথ এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ব্রাহ্মণবাজারের হিউম্যান হেলথ্ কেয়ার এন্ড ফিজিওথেরাপী সেন্টারে অসুস্থ রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচলনা করে আসছিলো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম ফরহাদ চৌধুরী এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌস আক্তারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে বৈধ অনুমোদন না থাকায় সিলগালা করে দেন।

অভিযানে অংশ নেন কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. জাকির হোসেন, উপজেলা স্যানিটারি পরিদর্শক মো. জসীমসহ থানা পুলিশের একটি দল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম ফরহাদ চৌধুরী মোবাইলে বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়েছে এবং অনুমোদন ছাড়া এসব সেন্টারে কোনো কার্যক্রম যাতে পরিচালনা না করা হয় সে ব্যাপারেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, লক্ষ্মীপুরঃ দীর্ঘ ১৯ বছর পর মঙ্গলবার ৩১ই মে সকাল ১১টায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক নূরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপির চমকে প্রায় দু’দশক পর উপজেলা আওয়ামীলীগ সম্মেলন সম্পুর্ন হয়েছে সুশৃঙ্খলভাবে রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমী মাঠে। অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনকে ঘিরে উজ্জীবিত ছিলেন নেতাকর্মী ও কাউন্সিলরগণ। কে হবেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কান্ডারি এই নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা ছিলো চোখে পড়ার মতো। সম্মেলন সফল করার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিলো ব্যাপক ভাবে।

১৯ বছর পর রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মঙ্গলবার (৩১ই মে)। সম্মেলনকে ঘিরে আর নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন এ নিয়ে অন্যরকম উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভেতর। পদ প্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তৎবির, লবিং শেষে এখন নানাভাবে কাউন্সিলরদের মন জয় করতে ব্যস্ত রয়েছেন। তবে কীভাবে নির্বাচিত হবেন নতুন সভাপতি-সম্পাদক তা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক চলছিলো।

প্রার্থীদের রঙ্গিন বিল বোর্ড, ব্যানার-ফেষ্টুনে সয়লাব হয়ে গেছে পৌর শহর। ফেসবুকেও সমানতালে নেতাকর্মীরা পছন্দের প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে অন্তত ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের তৃণমূলের কাউন্সিলর তালিকায় প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত না করার অভিযোগ উঠেছে।

 সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চূয়ালি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি। সম্মেলন উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি।

বিশেষ বক্তা হিসেবে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এম আলাউদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহিম, মোহাম্মদ আলী খোকন সহ কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগ এর নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসমাইল খোকন এর সঞ্চালনায়  অনুষ্ঠানটি পরিচালনা হয়। উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সম্মেলনে অন্তত দুই ডজন নেতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন। রাজনীতিতে অবদানের কথা তুলে ধরে তারা ইতোমধ্যে কেন্দ্র, জেলা, উপজেলাসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছিলেন।

সম্মেলন উপলক্ষে রায়পুর ও সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী রবিদাসের পুল থেকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ-রায়পুর উপজেলার বোর্ডারবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে ১০ কিলোমিটার সড়কের ওপরে স্থাপন করা হয়েছে তোরণ। সড়কের দুই পাশে শত শত ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সৌন্দর্য বর্ধন করে রেখেছিলো।

উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সভাপতি পদে যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা হলেন, মামুনুর রশীদ(এম,এ) বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, উপজেলা আওয়ামীলীগ। এড. মিজানুর রহমান মুন্সী (এম,এস,সি), সদস্য, উপজেলা ও জেলা আওয়ামীলীগ তিনি সাবেক সাঃ সম্পাদক, জেলা আইনজীবী সমিতি। যিনি আগের সম্মেলনে সভাপতি পদে মরহুম দুলাল চৌধুরীর সাথে ৩ ভোটে হেরেছেন। সাইয়েদুল বাকিন ভূইয়া (এম,এ), সাবেক ছাত্রনেতা। বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী, শিক্ষানুরাগী তিনি সাবেক বিমানমন্ত্রী শাহজাহান কামাল এমপির জামাতা। মামুনুর রশীদ(বি,এ), উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি (১৯৮৯-১৯৯১)। নবী মাহেনুর করিম মান্নু চৌধুরী (বি,এ) কেন্দ্রীয় হকার্স লীগের নেতা। রায়পুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাঃ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা বকুল চৌধুরীর সহোদর। আলতাফ হোসেন হাওলাদার (বিএসসি), সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, সাবেক সভাপতি, ২ নং চরবংশী ইউনিয়ন। তবে বিদ্রোহী করে ক্ষমা পেলেও কাউন্সিলর করেনি নিজ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ কমিটি উপজেলা আওয়ামীলীগ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাষ্টার আলতাফ হোসেন হাওলাদেরকে। তার প্রার্থীতা ঘোষণা করলেও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নতুন নির্দেশনার পরে নিস্তেজ হয়ে পড়েছেন রায়পুর আওয়ামীলীগ এর ভোটব্যাংক খ্যাত আলতাফ মাষ্টার।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসমাইল খোকন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজি নাজমুল কাদের গুলজার,যুগ্ম সাধারণ  সম্পাদক হারুনুর রশিদ, বর্তমান মেয়র গিয়াস উদ্দীন রুবেল ভাট, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মারুফ বিন জাকারিয়া,যুবলীগের সাবেক আহবায়ক কামরুল হাসান রাসেল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শফিক খান ,ইউছুপ আজম সিদ্দিকী এবং সাজ্জাদুল ইসলাম তুষার  ১০ জন মাঠে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন।

উল্লেখ্য , ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিন বছরের জন্য নির্বাচনের মাধ্যমে উপজেলা কমিটি গঠন হয়েছিল। ২০০৩ সালে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হোসেন (দুলাল) চৌধুরী সভাপতি এবং রায়পুর পৌরসভার মেয়র হাজী ইসমাইল খোকন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৬৭ সদস্যের এই কমিটির সভাপতিসহ ইতিমধ্যে ২১ নেতাই মারা গেছেন।

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কেকের মাথায় ও মুখে আঘাতের চিহ্ন, চলছে পুলিশের তদন্ত

বিনোদন ডেস্কঃ ভারতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কৃষ্ণ কুমার কুন্নাথ না ফেরার দেশে চলে গেছেন। সংক্ষেপে কেকে নামেই যিনি ভারতসহ সমগ্র বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। কলকাতার গুরুদাস বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠান শেষে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এই সঙ্গীতশিল্পী। মৃত্যুকালে এই সঙ্গীতশিল্পীর বয়স হয়েছিলো ৫৪ বছর। কেকের প্রয়াণে সুরের ভুবনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ইতোমধ্যে গায়কের মৃত্যুতে কলকাতার নিউ মার্কেট থানায় মামলা হয়েছে।

কলকাতার অনুষ্ঠানে যারা কেকের সঙ্গী হয়ে এসেছিলেন, তারাই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করেছেন। প্রয়াত গায়ক যে হোটেলে উঠেছিলেন ওই হোটেলের ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও নজরুল মঞ্চে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা আগেই জানান, গায়ককে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিলো। তাদের ধারণা, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন কেকে।

পুলিশ সূত্রের খবর, কেকের মাথায় ও মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মৃত্যুর আসল কারণ জানতেই এসএসকেএম হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে স্বামীর মরদেহ নিতে এদিন (বুধবার) সকালেই কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন কেকের স্ত্রী ও পুত্র। ময়নাতদন্ত শেষ হলেই গায়কের মরদেহ নিয়ে মুম্বাই ফিরবেন তারা। তবে শেষকৃত্য কোথায় হবে সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানা যায়নি।

প্রসঙ্গত, নব্বই দশক থেকে শুরু করে বাংলা, হিন্দি, তামিল, কন্নড়, মালয়ালাম, মারাঠি, অসমীয়া ভাষায় বহু জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কেকে। তার গাওয়া গানগুলো শ্রোতামহলে এখনও বেশ জনপ্রিয়। তবে এই শিল্পীর জীবনের শেষ গানের অনুষ্ঠান স্মৃতি হয়ে রইলো কলকাতার মানুষের কাছে।

সূত্র: আনন্দবাজার।

আরআই অবসর ও জেলা গোয়েন্দা ইনচার্জের বিদায় সংবর্ধনা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ লাইন্সের আরআই ও জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (৩১মে ) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ লাইন্সের আরআই মোঃ জাকির হোসেনের অবসর জনিত ও জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ বদিউজ্জামানের বদলি জনিত বিদায় উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ লাইন্সে এক বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) এ,বি,এম মুজাহিদুল ইসলাম পিপিএমের সঞ্চালনায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার অবসরপ্রাপ্ত আরআই আর জেলা গোয়েন্দা শাখার বিদায়ী অফিসার ইনচার্জ ও তাদের পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।

অবসরপ্রাপ্ত আরআই মোঃ জাকির হোসেন তার বিদায়ী বক্তব্যে মৌলভীবাজার জেলায় দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন স্মৃতিকথা তুলে ধরেন এবং দায়িত্ব পালনকালে তাকে সার্বিকভাবে সহায়তা করায় মৌলভীবাজার জেলার সকল পুলিশ সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বদিউজ্জামান তার বিদায়ী বক্তব্যে সকলের আন্তরিকতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সফলতার জন্য সকলের কাছে দোআ প্রার্থনা করেন।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্)  সুদর্শন কুমার রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ জিয়াউর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাউসার দস্তগীর, সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মোঃ শহিদুল হক মুন্সীসহ মৌলভীবাজার জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, ইউনিট ইনচার্জগণ ও জেলা পুলিশ লাইন্সের সকল সদস্যবৃন্দ।

সংবর্ধনা শেষে জেলা পুলিশ মৌলভীবাজারের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার অবসরপ্রাপ্ত আরআই ও জেলা গোয়েন্দা শাখার বিদায়ী অফিসার ইনচার্জের হাতে ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন।

নেত্রকোণায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২২ পালিত

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ “তামাকমুক্ত পরিবেশ সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে নেত্রকোণায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২২ পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মে) সকালে নেত্রকোণা শহরের মোক্তারপাড়া মাঠ থেকে একটি র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আব্দুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সিভিল সার্জন ডাঃ সেলিম মিয়া, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ আলম, জেলা প্রেসক্লাব সম্পাদক এম মুখলেছুর রহমান খান, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষকসহ ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।

ছেলের রডের আঘাতে পিতার মৃত্যু, মা হাসপাতালে

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ছেলের রডের আঘাতে পিতার মৃত্যু হয়েছে। গেল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে কমলগঞ্জের আদমপুর ইউপি মুসলিম মণিপুরী পল্লীর কেওয়ালীঘাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ছেলে জহির ইসলাম (২৮) এর রডের আঘাতে নিহত পিতা আব্দুল গফুর (৬০) ওই গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে। এ সময় ছেলের রডের আঘাতে গুরুতর আহত হন মা হাসতন নেছা (৪৫)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছে।

জানা যায়, গেল রোববার রাতে মা বাবার সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয় ছেলে জহিরের। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ জহির ঘরে থাকা রড দিয়ে বাবা গফুরের মাথাসহ শরীরে আঘাত করে। এ সময় তার মা হাসনত নেছা স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে বাড়ির লোকজন আহতদের উদ্ধার করে রাত ১ টার দিকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করলে মৌলভীবাজার হাসপাতালে নেওয়ার পথে আব্দুল গফুরের মৃত্যু হয়। আহত মা কে রাতেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘাতক ছেলে জহির মাদকাসক্ত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পলাতক ঘাতক ছেলেকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

নবাবগঞ্জে খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

অলিউর রহমান মেরাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে মোছা. তাসলিমা নামের দুই বৎসর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গেল সোমবার সকাল ১১ টায় উপজেলার গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের হরিপুর (মন্ডবচান) গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

মোছা.তাসলিমা উপজেলার গোলাপগঞ্জ হরিপুর (মন্ডবচান) গ্রামের তারা মন্ডলের মেয়ে। গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে গ্রামের বসতবাড়ির পাশে খেলা করছিল শিশু তাসলিমা। একপর্যায়ে সবার অজান্তে পুকুরে পড়ে নিখোঁজ হয় সে। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। পরে স্থানীয়রা পুকুরে নেমে খোঁজাখুঁজি করে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: আরো একজন কারাগারে

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনায় মো. রায়হান হোসেন (২৫) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাতে তাকে কমলগঞ্জ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সোমবার দুপুরে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে মুকিদ মিয়া ও আ. সত্তার নামে আরো দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রায়হান কমলগঞ্জ উপজেলার সতীঝীরগাঁও গ্রামের মৃত ছমির আলীর ছেলে।

জানা গেছে, গত ২৫ মে বিকেল ৪টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী স্কুল শেষে তার এক বন্ধুর সাথে হিংগাজিয়া রাবার বাগানে বেড়াতে যায়। সেখানে যাওয়ার পর তাদেরকে লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘিরে ফেলে মুকিদ, সত্তার, রায়হানসহ ৫ যুবক। পরে ওই ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাগানের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা। পরে বিষয়টি ওই ছাত্রী তার পরিবারকে জানালে ২৬ মে বিকেলে ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- ব্রাহ্মণবাজারের বাসুদেবপুরের মৃত মাহমুদ মিয়ার ছেলে মুকিদ মিয়া (৩৫), হিংগাজিয়া চা বাগানের জামাল মিয়ার ছেলে জসিম মিয়া (২৮), লংলা খাস নতুন বস্তির মো.শমশের মিয়ার ছেলে আ.সত্তার (১৯), হিংগাজিয়া চা বাগানের বড় লাইন এলাকার মছদ্দর আলীর ছেলে মোস্তফা (২৫)‌ ও কমলগঞ্জ উপজেলার সতীঝীরগাঁও গ্রামের মৃত ছমির আলীর ছেলে মো. রায়হান হোসেন (২৫)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে কমলগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ মামলার অজ্ঞাত আসামি রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, এই মামলায় অভিযুক্ত মুকিদ ও সত্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, পলাতক আরও ২ আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

পদুয়া বাজারে ইউ.পি চেয়ারম্যান এর নলকূপ স্থাপন

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হচ্ছে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া তেওয়ারীহাট বাজার। উপজেলার অনন্য এলাকার মত এই বাজারেও পানির সংকট ছিল তীব্র। ফলে বাজারের সকল ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সাধারণ মানুষ পানির জন্য চরম ভোগান্তিতে পড়ছিল। অনেক দূর থেকে পানি এনে ব্যবহার করছিল বাজারের ব্যবসায়ীরা। মানুষের এই ভোগান্তি নজরে আসে পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদ এর নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান হারুনর রশিদ এর।  তাদের ভোগান্তি দূর করতে এগিয়ে আসলেন তিনি। অল্প সময়ে ব্যবস্থা করলেন একটি গভীর নলকূপের।

তারই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন পরিষদ এবং (এনজিও) ওয়াফা চ্যারিটি অর্গনাইজেশনের যৌথ অর্থায়নে পদুয়া তেওয়ারীহাটের কাঁচা বাজার সংলগ্ন একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের শুভ উদ্বোধন করেন তিনি।

এসময় পদুয়া ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. এহসান, পদুয়া তেওয়ারীহাটের ইজারাদার মো. আলমগীর, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা এসএম মোজাম্মেল, আবদুর নুরসহ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

চেয়ারম্যান হারুনর রশিদ বলেন, নির্বাচনের পর আমি পানি জন্য পদুয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি দেখে ওয়াফা চ্যারিটি অর্গনাইজেশনের চেয়ারম্যান, পদুয়া সমদআলী মুন্সির বাড়ির কৃতি সন্তান মুজিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করে  ওনার সংগঠন ওয়াফা চ্যারিটি অর্গনাইজেশন ও পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ অর্থায়নে গভীর নলকূপটি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। ভবিষ্যতেও আমি এবং পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদ জনকল্যাণে এ ধরণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও বলেন তিনি।

বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে টিউবওয়েল এবং মোটরে পানি না উঠার কারণে তাদের দোকান চালাতে খুবই কষ্ট হয়েছে। অনেক দূর থেকে গাড়ি করে পানি এনে তারা দোকান চালিয়েছে। এখন এই গভীর নলকূপটি হয়ে গেলে তাদের অনেক উপকার হবে। ব্যবসায়ীরা চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কুড়িগ্রামে কাজ ভাগাভাগি নিয়ে বিড়ি শ্রমিক খুন

অলিউর রহমান নয়ন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম শহরের জলিল বিড়ি কারখানায় কাজ ভাগাভাগির জেরে বাঈজিদ ইসলাম বাপ্পী (২৪) নামে এক যুবক অপর শ্রমিকের কাঁচির আঘাতে খুন হয়েছেন। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাপ্পীর সহকর্মী খোকন মিয়ার (৩২) সাথে কথা কাটাকাটির জেরে এ খুনের ঘটনা ঘটে।

নিহত বাপ্পী কুড়িগ্রাম পুরাতন রেল স্টেশন সংলগ্ন চৌধুরীপাড়া এলাকার খাদেম আলীর ছেলে। বাপ্পী কুড়িগ্রাম মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র।

কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খান মো. শাহরিয়ার জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পৌরসভাধীন জলিল বিড়ি কারখানার অভ্যন্তরে কাজ ভাগাভাগি নিয়ে দুই শ্রমিকের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরই জেরে বিড়ি শ্রমিক খোকন মিয়া টিস্যু কাটার কাঁচি দিয়ে বাঈজিদ ইসলাম বাপ্পীর ঘাড়ে আঘাত করে। এতে গুরুতরভাবে জখম হয় বাপ্পী। পরে তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর পলাতক আসামী খোকন মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান চলছে। সে পৌরসভাধীন সওদাগরপাড়া মাটিকাটা মোড়ের বোবা নজরুল ওরফে নজির হোসেনের ছেলে। বাপ্পীর মরদেহ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মরচুয়ারীতে সুরৎহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে নেয়া হয়েছে।